বাল্মীকিপ্রতিভা/ কালানুক্রমিক সংকলন

সম্পাদক: অমর্ত্য মুখোপাধ্যায়

১২০০.০০ 

বিশ্বভারতী

 

‘‘তেতালার ছাদের উপর পাল খাটাইয়া স্টেজ বাঁধিয়া এই বাল্মীকিপ্রতিভার অভিনয় হইল। তাহাতে আমি বাল্মীকি সাজিয়াছিলাম। রঙ্গমঞ্চে আমার এই প্রথম অবতরণ।’’ জীবনস্মৃতি-র পাণ্ডুলিপিতে লিখছেন রবীন্দ্রনাথ। বাল্মীকিপ্রতিভা গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৭ বঙ্গাব্দে (১৮৮১ খ্রি), আর প্রথম অভিনয় হয় ১৬ ফাল্গুন ১২৮৭, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে বিদ্বজ্জন সমাগম উপলক্ষে। এতে গান ছিল ২৬টি। দ্বিতীয় সংস্করণ ১৮৮৬, গানের সংখ্যা ৫৪টি। ১৯০৮ সালে গান সঙ্কলনগ্রন্থে তৃতীয় পাঠের সন্ধান মেলে, যেখানে একটি গান বাদ পড়ে। এরই স্বরলিপিযুক্ত সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯২৮-এ। বস্তুত গানসংখ্যা দিয়েই বাল্মীকিপ্রতিভা-র সংস্করণ নির্ধারণের চেষ্টা হয়েছে, কারণ ‘দ্বিতীয় সংস্করণ’ চিহ্নিত কপি পাওয়া যায়নি। বইটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে নানাবিধ। দ্বিতীয় সংস্করণের দুটি গান কি সত্যিই অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরীর লেখা, না রবীন্দ্রনাথই সে দুটির রচয়িতা? গানের স্বরলিপি নির্মাণে বিভিন্ন পর্বে ভূমিকা ছিল বিভিন্ন জনের। বস্তুত শতাধিক বর্ষে বাল্মীকিপ্রতিভা-র নাট্যপাঠ ও স্বরলিপির পাঠ দুইয়েরই বিবিধ পরিবর্তন ঘটেছে। এ বারে ‘‘এ পর্যন্ত প্রকাশিত সকল সংস্করণের পাঠ সংকলন এবং প্রকাশিত স্বরলিপিগুলির পরিবর্তন ও পার্থক্য চিহ্নিত করা’’ সম্ভব হল। প্রতিটি পাঠান্তর চিহ্নিত করা হয়েছে। আছে বিজ্ঞাপন, আলোচনা-সমালোচনা, অভিনয়-বিবরণ, স্মৃতিচারণ-সহ নানা প্রাসঙ্গিক তথ্য, দুর্লভ চিত্রাবলি।

 

 

কল্লোল কবিতা সমগ্র

সম্পাদক: অরুণ মুখোপাধ্যায়

৫০০.০০ 

                   মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স                      

সাত বছরের মতো আয়ু ছিল মাত্র, তবু বাংলা পত্রপত্রিকার ইতিহাসে স্বল্পায়ু ‘কল্লোল’ ঠাঁই করে নিয়েছে পাকাপাকি, বাধাবন্ধের বিরুদ্ধে নির্বারিত বিদ্রোহ আর স্থবিরতার বিরুদ্ধে আলোড়ন তোলার জন্য। দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগ ছিলেন পত্রিকাটির দুই সম্পাদক, দীনেশরঞ্জনের ‘কল্লোল’ নামাঙ্কিত কবিতাটি ছিল প্রথম সংখ্যায়, ১৩০০-র বৈশাখ থেকে ১৩৩৬-এর পৌষ অবধি পত্রিকাটির সময়কাল। এ ক’বছরে কে না কবিতা লিখেছেন তাতে... রবীন্দ্রনাথ নজরুল তো বটেই, লিখেছেন নরেন্দ্র দেব বনফুল অচিন্ত্য সেনগুপ্ত জসীমউদ্দীন অতুলপ্রসাদ সেন প্রেমেন্দ্র মিত্র যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত অমিয় চক্রবর্তী মোহিতলাল মজুমদার বুদ্ধদেব বসু অজিত দত্ত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিষ্ণু দে জীবনানন্দ দাশ রাধারাণী দত্ত (পরে রাধারাণী দেবী) অন্নদাশঙ্কর রায় প্রমুখ। ‘‘প্রতিষ্ঠিত কবির পাশে নতুন প্রতিভাবান কবির সহাবস্থানে ‘কল্লোল’ সর্বদা অন্যরকম আভিজাত্য নিয়ে এগিয়ে গেছে ভবিষ্যতের দিকে। রবীন্দ্রানুসারী কবি, রবীন্দ্রবিরোধী কবি কল্লোলে সকলেই জায়গা করে নিয়েছেন।’’— খেয়াল করিয়ে দিয়েছেন সম্পাদক। শুরুতেই নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী লিখেছেন ‘কল্লোল’-এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে: ‘‘বিশেষ করে এটাও নজরে পড়ে যে, কাগজখানার যাঁরা নবীন লেখক, অর্থাৎ তখনও পর্যন্ত যাঁদের খুব একটা নামডাক হয়নি, তাঁরা কেউই সাহিত্যের গতানুগতিক পন্থার ধার ধারেন না। যেমন বিষয়বস্তু নির্বাচন, তেমনি গল্পে ও কবিতায় তার উপস্থাপনার রীতি, দুটি ক্ষেত্রেই তাঁরা এক নব্যপন্থার পথিক।’’

 

 

শ্রেষ্ঠ কবিতা/ দেবদাস আচার্য

সম্পাদক: গৌতম বসু

৪৫০.০০ 

    আদম      

‘‘জলের প্রাণীরা জলে থাকে/ ডাঙার প্রাণীরা থাকে ডাঙায়/ শুধু স্বপ্নের প্রাণীরা কষ্ট পায়’— এমনই সহজ সত্যকে কবিতা করে তোলেন দেবদাস আচার্য। তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতা-র পরিচিতিপত্রে সম্পাদক লিখছেন, ‘বিশ্বাস করতে সাধ হয়, উচ্চস্বর ও আত্মঘোষণায় অতিপ্রকট আমাদের সময়েও, এমন নিরাভরণ ভাবপ্রকাশের শ্রোতা কোথাও রয়ে গেছেন।’ এ যুগে কবি হতে চান অনেকেই, শ্রোতা পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু দেবদাসের কবিতা পড়লে বোঝা যায়, দীর্ঘ কয়েক দশক ব্যাপী তাঁর কবিতাযাপন যেন প্রকৃত অর্থেই সময় ও জীবনের কথালাপ নিরন্তর শুনে যাওয়া। নদিয়ার জলাঙ্গীতীরে— কবি লিখছেন— সকাল-সন্ধ্যা বহমান জীবনে ‘শ্বাস-প্রশ্বাসের চলাচলের পথেই বেরিয়ে আসে দু-একটুকরো কবিতা’। প্রথম কাব্যগ্রন্থ কালক্রম ও প্রতিধ্বনি (১৯৭০) থেকে মৃৎশকট (১৯৭৫), মানুষের মূর্তি (১৯৭৮) হয়ে তিলকমাটি (২০১০), নাস্তিকের জপতপ (২০১৩) ছুঁয়ে তুমিও সুন্দর (২০১৬) অবধি প্রায় অর্ধশতক ছুঁই-ছুঁই কবিতাজীবনের উজ্জ্বলতম উদ্ধারগুলি স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। নিম্নমধ্যবিত্তের শ্রমলাঞ্ছিত ছবি মমতায় আঁকেন কবি: ‘ঐ, আমার বাবা হেঁটে যাচ্ছেন, ধুকড়ি গায়ে/ তাঁর হাঁটু অবধি ধুলো/ তাঁর চলার পথে বেজে উঠছে/ শঙ্খ, ঘণ্টা, খিদে, শ্রম—’ (‘বাবা’/ মানুষের মূর্তি); আবার কখনও করেন ঋষিকল্প উচ্চারণ, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া কিছু অধর্ম নয়... বর্জ্য হওয়ার আগে আমি নিষ্ফল ও নষ্ট হতে চাই।’ (‘নিষ্ফল’/ অগ্রন্থিত কবিতা-২)। কবিমনের মানচিত্র ছোঁয়া যাবে কবিতাগুলিতে।