পথচারী ঐতিহাসিক যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত

উত্তরা চক্রবর্তী

২৫০.০০ 

সম্পর্ক

 

যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত (১৮৮২-১৯৬৪) আজ একটি প্রায়-বিস্মৃত নাম। অথচ বিশ শতকের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় জুড়ে তাঁর ধারাবাহিক সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন ফসল বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ক্ষেত্রানুসন্ধানের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ঘেঁটে ইতিহাস-রচনায় তিনি ছিলেন অন্যতম পথিকৃৎ— বিক্রমপুরের ইতিহাস (প্রথম খণ্ড প্রথম সং ১৯০৯) তাঁর প্রথম প্রয়াস, আর তাতেই তিনি বুধমণ্ডলীর স্বীকৃতি আদায় করে নেন। পরের অর্ধশতকে বঙ্গের মহিলা কবি, বাংলার ডাকাত, সাধক কমলাকান্ত, মহাপুরুষ বিজয়কৃষ্ণ, সাধককবি রামপ্রসাদ, কেশবচন্দ্র ও বঙ্গ সাহিত্য, কেশবচন্দ্র ও সেকালের সমাজ-এর মতো তথ্যভিত্তিক গ্রন্থ রচনা, ‘বিক্রমপুর’, ‘ঐতিহাসিক চিত্র’, ‘কৈশোরক’ পত্রিকা ও ‘শিশুভারতী’ সংকলন সম্পাদনার পাশাপাশি ছাত্রপাঠ্য ও কিশোরপাঠ্য অনেক বই লিখেছেন যোগেন্দ্রনাথ। গুরুত্ব দিয়েছিলেন স্ত্রীশিক্ষায়। সংগ্রহ করে বিভিন্ন সংগ্রহশালার হাতে তুলে দিয়েছেন অমূল্য পুরাবস্তু। বাঙালি পাঠকসমাজের কাছে তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনলেন তাঁরই দৌহিত্রী উত্তরা চক্রবর্তী। বিপুল পরিশ্রমে যোগেন্দ্রনাথের জীবনীর সঙ্গে রচনাবলি নিয়ে বিশ্লেষণমূলক আলোচনা, বিস্তারিত গ্রন্থপঞ্জি তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। আছে অশোক উপাধ্যায়-কৃত দীর্ঘ রচনাপঞ্জিও।       

 

 

স্টেজ অ্যান্ড স্ক্রিন/ রিপ্রেজ়েন্টেশন্‌স অ্যান্ড সেল্‌ফ-ডিসকভারিজ়

সম্পা: চিন্ময় গুহ ও শিঞ্জিনী বন্দ্যোপাধ্যায়

৭৫০.০০ 

 দাশগুপ্ত অ্যান্ড কোং

                      

হেনরিক ইবসেন-এর মৃত্যুশতবার্ষিকীতে সারা পৃথিবী থেকে ‘ইবসেন উওম্যান’দের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল নরওয়ে-তে। ইবসেনের রচনা থেকে নির্মিত নাটক এবং চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রীদের সংবর্ধিত করা হয় সেখানে। ছিলেন যেমন বিবি অ্যান্ডারসন, ইসাবেল হুপার্ট, বা লিভ উলম্যান, তেমনই এশিয়া থেকে একমাত্র শাঁওলী মিত্র। ‘আ ডলস হাউজ়’-এর নোরা-কে নিয়ে অভিনেত্রীর দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করতে হয়েছিল শাঁওলীকে। এ-বইয়ে অন্তর্ভুক্ত সে আলোচনা পড়লে পাঠক ধাপে ধাপে পৌঁছতে পারবেন নাটকটির মূল পাঠ থেকে মঞ্চপ্রয়োগে। আলোচনার শেষে শাঁওলী সমাজকর্তৃপক্ষ যে ঠিক-ভুল, সত্য-মিথ্যা, শুদ্ধ-অশুদ্ধ নিয়ে বিধান দিয়ে থাকেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আসলে ‘আ রিজিডলি অর্গানাইজ়ড সেক্টর ডাজ়ন্‌ট রিলাই অন দ্য ইনডিভিজুয়াল সেল্ফ...’, মনে করেন তিনি। অন্য দিকে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত চলচ্চিত্রের বহুমাত্রিক জটিলতার প্রসঙ্গে লিখছেন, ‘রিয়েলিটি’ ও ‘এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি’-র মধ্যে দেওয়াল তোলা অসম্ভব এবং তা কাম্যও নয়, তাঁর প্রশ্ন ‘হোয়াই শুড উই নট ট্রাই টু ব্রিং দিজ় শেড্‌স ইন আওয়ার সেলুলয়েড?’ এ ভাবেই নিজের ভাবনা ও কাজকে জড়িয়ে নাটক এবং চলচ্চিত্র নিয়ে লিখেছেন স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় সৌম্যেন্দু রায় বরুণ চন্দ আনন্দ লাল মৈনাক বিশ্বাস দেবাশিস দেব সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় মধুজা মুখোপাধ্যায় তপতী গুপ্ত সংযুক্তা দাশগুপ্ত সুদেষ্ণা চক্রবর্তী নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী প্রমুখ শিল্পী ও শিল্পতাত্ত্বিক। কোন চিহ্নে চিনব ফিল্ম আর থিয়েটারকে, এ-দুই শিল্পমাধ্যমের আন্তঃসম্পর্কই বা কী, কোনও নাট্যনির্মাতা কিংবা চলচ্চিত্রকার কী ভাবে প্রাপ্ত ‘টেক্সট’টিকে স্বকীয় শিল্পরূপে প্রবাহিত করেন, এমন বহুবিধ মনোজ্ঞ আলোচনা গোটা বই জুড়ে।

 

বাংলা অভিধানের দুশো বছর ও তথ্যপঞ্জি ১৮১৭-২০১৭

অসিতাভ দাশ ও প্রদোষকুমার বাগ্‌চী

২৬০.০০ 

       পত্রলেখা   

    

সপ্তদশ শতকের বাংলায় পর্তুগিজ জেসুইট সম্প্রদায়ের মিশনারিরা ধর্মপ্রচারের সঙ্গে বাংলা ভাষায় ধর্মপুস্তক রচনা ছাড়াও বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান সঙ্কলন করেন। পাদ্রি মানোএল দ্য আস্‌সুম্পসাম রচিত এমনই এক বাংলা-পর্তুগিজ ও পর্তুগিজ-বাংলা শব্দসংগ্রহ ১৭৪৩-এ লিসবনে ছাপা হয়। ওগুস্ত্যাঁ ওসাঁ-র বাংলা-ফরাসি শব্দকোষের পাণ্ডুলিপি পাওয়া গিয়েছে (১৭৮৫)। ১৭৯৩-এ আপজন, ১৭৯৯-এ ফরস্টার আর ১৮১৫-য় কেরির বাংলা-ইংরেজি অভিধান প্রকাশিত হয়। বাংলা ভাষায় মুদ্রিত সম্পূর্ণ বাংলা অভিধান তৈরির কৃতিত্ব রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের (বঙ্গভাষাভিধান, ১৮১৭/ ১৮১৮)। গঙ্গাকিশোর  ভট্টাচার্য ১২৩২ বঙ্গাব্দে বর্ধমানের বহরা থেকে প্রকাশ করেন শব্দার্ণব। ১৮১৯ থেকে ১৮৫৮-র মধ্যে রাজা রাধাকান্ত দেব আট খণ্ডে সঙ্কলন করেন সংস্কৃত শব্দকোষ শব্দকল্পদ্রুম। উনিশ শতকে আরও কয়েকটি বাংলা অভিধান সঙ্কলিত হলেও বিশ শতকের প্রথমার্ধেই প্রকাশ পায় যোগেশচন্দ্র রায়, জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস, রাজশেখর বসু ও হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিধান। এর পরে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি ও ঢাকা বাংলা একাডেমি-র বিভিন্ন উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য, আছে জনপ্রিয় সংসদ বাংলা অভিধান। এরই ধারাবাহিক ইতিহাস এই বইয়ে সঙ্কলিত, আছে কালানুক্রমিক পঞ্জিও।