নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন/ মহামহোপাধ্যায় পদ্মনাথ ভট্টাচার্য বিদ্যাবিনোদ
সম্পাদক: প্রসূন বর্মণ
৩০০.০০  
বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন, শিলচর (পরি: দে’জ) 

বাংলা ভাষায় কামরূপ তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথাগত ইতিহাস চর্চার সূচনা করেছিলেন পদ্মনাথ ভট্টাচার্য (১৮৬৮-১৯৩৮)। উনিশ শতকের শেষ লগ্ন থেকে বিশ শতকের তৃতীয় দশক পর্যন্ত জ্ঞান সাধনায় তিনি যে মৌলিক ভাবনা ও উদার চেতনার পরিচয় দিয়েছেন তা আদৌ উপেক্ষণীয় নয়। ইতিহাস লোকসংস্কৃতি ভ্রমণসাহিত্য জীবনচরিত ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর রচনাগুলি গবেষণার মূল্যবান উপকরণ। অসমের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বৃহত্তর বঙ্গসমাজকে অবহিত করতে ১৯০৯ সালে তিনি গুয়াহাটিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বঙ্গ সাহিত্যানুশীলনী সভা’। ১৯১২-য় স্থাপিত ‘কামরূপ অনুসন্ধান সমিতি’-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি, যুক্ত ছিলেন কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গেও। অধ্যাপনা করেছেন গুয়াহাটি কটন কলেজে। ‘কামরূপ শাসনাবলী’ (১৯৩১) তাঁর প্রধান কীর্তি। অচ্যুতচরণ চৌধুরীর ‘শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত’ প্রকাশে নিজের সংগৃহীত তথ্য এবং অর্থসাহায্য দিতে কার্পণ্য করেননি পদ্মনাথ। আপসহীন মানুষটি সারা জীবনই নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। এ যুগে বিস্মৃত এই গবেষক বারোটি গ্রন্থ ও তিনশোরও বেশি প্রবন্ধ লিখেছেন। দুর্লভ সেই সব প্রবন্ধ থেকে ইতিহাস পুরাবৃত্ত, ভাষা-সাহিত্য, জীবনালেখ্য ও বিবিধ শীর্ষকে ১৮টি সঙ্কলিত হয়েছে আলোচ্য বইয়ে। আছে স্মরণলেখ ও জীবনপঞ্জি। তাঁর সার্ধশতজন্মবর্ষে এই গ্রন্থের প্রকাশ জরুরি ছিল। 

 

কবিতাসমগ্র ১/ অমিতেশ মাইতি
সম্পাদক: সুমিতা সামন্ত
৪০০.০০  
   ঋত প্রকাশন

     

ক্রমে আলো কমে-আসা শীতকালের মায়াবি বিকেলের মতো নাম তাঁর কোনও কোনও কবিতার বইয়ের... মায়াশিকলের গান, অতল করতল, মেঘ স্তূপ ব্যথা, ভাঙা হারমোনিয়াম... এমন অনেক কাব্যগ্রন্থই প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর জীবদ্দশায়। অকালপ্রয়াত অমিতেশ মাইতিকে সমুদ্র টেনে নিয়ে গিয়েছিল, তাঁর মৃত্যুর উচ্ছ্বাস (দ্বিতীয় খণ্ডে প্রকাশ পাবে) কাব্যনাট্যেই ছিল: ‘‘আমি এই সমুদ্রের তীরে কিছুক্ষণ/ শুই জল বালি মেখে, আর/ একটু পরেই আসবে জোয়ার/ দেখি ভেসে যেতে পারি কিনা।/ না, আত্মহত্যা নয়— দিগন্ত থেকে/ ছুটে আসা ওই জলে দেখতে চাই/ আছে কি নেই আমার বিছানা...’’। ডুব দেওয়ার একটা অভ্যাস বরাবরই ছিল তাঁর, ‘‘প্রায়শই শব্দ, ছন্দ, প্রচুর চিত্রকল্প ভাষাশৈলীর ভেতরে ডুব দেবার জন্য বদ্ধ পরিকর।’’ লিখেছেন তাঁর কবিতা সম্পর্কে যশোধরা রায়চৌধুরী। আর প্রয়াত রবিশংকর বল লিখেছিলেন তাঁর কবিতার সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে, ‘‘ওর কবিতায় বারে বারেই কেন ফিরে আসে সমুদ্র, নদী আর জল, অপার জল, ঢেউ? আর জলের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে মিশে আছে মৃত্যু। কবি অমিতেশ মাইতির রচনায় জল ও মৃত্যুচেতনা সমার্থক।’’ এই দুই কবি ও ঔপন্যাসিকের রচনা ও গ্রন্থ পরিচিতি-সহ, অমিতেশের স্ত্রী অর্পিতার সহযোগিতায় কবিতাসমগ্র-এর যে প্রথম খণ্ডটি প্রকাশ পেল, তাতে কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের নাতিদীর্ঘ প্রাক্‌কথনটি চমৎকৃত করবে পাঠককে: ‘‘তার কবিতায় এক ধরনের বিষাদযোগ অনুরণিত হয়ে চলেছিল যেন। সংবাদপত্রে সপ্রতিভ কর্মযোগে সে ছিল সর্বাগ্রণী... কিন্তু স্বরচিত কবিতার চর্যায় কেমন যেন একা।’’

শম্ভু মিত্র/ উৎপল দত্ত/ অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়
অশোক মুখোপাধ্যায়
১৫০.০০  

সপ্তর্ষি প্রকাশন

                      

শুরুতেই জানিয়েছেন অশোক মুখোপাধ্যায়: ‘‘বলতে চাই এমন কিছু মানুষের কথা, যাঁরা প্রয়াত এবং প্রণম্য।... এঁদের কয়েক জনের সঙ্গে নানা সময়ে দেখা হওয়ার ও নানা রকমের অভিজ্ঞতার গল্প...।’’ সাহিত্যে স্নাত ও থিয়েটারে নিবিষ্ট অশোকবাবু তাঁর এই স্মৃতিগদ্যে নাটকের এমন এক ইতিহাস বুনে গিয়েছেন যেখানে জীবন্ত হয়ে উঠেছেন কালজয়ী প্রতিভা-ত্রয়ী। যেমন শম্ভু মিত্র: ‘‘মঞ্চে চলা-ফেরা করতেন যেন অরণ্যে শার্দুল। মঞ্চ যেন তাঁর স্বাভাবিক বিচরণভূমি।’’ আবার উৎপল দত্তের সঙ্গে সত্তর দশকের মাঝামাঝি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের ঘরে গিয়েছেন অশোকবাবু, কার্জন পার্কে তাঁদের প্রতিবাদী সভা যাতে নির্বিঘ্নে হতে পারে, লিখছেন ‘‘এসে ঢুকলেন দীর্ঘদেহী সিদ্ধার্থশঙ্কর। প্রথমেই উৎপলদার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, কেমন আছ, টিন রেভোলিউশনারি অফ ওয়েস্টবেঙ্গল?... উৎপলদা ততোধিক মোলায়েম ভঙ্গিতে বললেন, আপনি কেমন আছেন, ক্রিকেট চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্টবেঙ্গল?’’ আর অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়? ‘‘নাটকের থেকেও আমাকে আকর্ষণ করলেন নাট্যকার। ছিপছিপে, কালো, লম্বা, একমাথা কোঁকড়া চুল, বড়ো-বড়ো চোখে কৌতুক-বিস্ময়-ভালোবাসা। গমগমে গলা। হো-হো হাসি।... মনে হল, এমন মানুষ যদি থিয়েটার করেন, তবে তো সেটা একটা দারুণ কাজ হবে। জুটে গেলাম অজিতেশের দলে।’’ এক অর্থে এ-বই আত্মজৈবনিকও বটে।