জালিয়ানওয়ালা বাগ, ১৯১৯/ দ্য রিয়্যাল স্টোরি
কিশোয়ার দেশাই
৬৯৯.০০, কনটেক্সট (ওয়েস্টল্যান্ড পাবলিকেশনস)

১৯১৯ সালের এপ্রিলের গোড়ায় অমৃতসরে রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সভা, সর্বাত্মক হরতাল, হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির আবহ ব্রিটিশ শাসকদের ক্রমশই বেশি বিচলিত করে তুলছিল। ডেপুটি কমিশনার আরভিং ৮ এপ্রিল লেফটেনান্ট গভর্নর মাইকেল ও’ডোয়্যারকে চিঠি লিখে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, একটা বড় কিছু ঘটতে চলেছে। কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটার আগেই আরভিং লাহৌর থেকে মেশিনগান, সাঁজোয়া গাড়ি আর বাড়তি সেনা চেয়ে পাঠালেন। ১০ এপ্রিল প্রথম গুলি চলল নিরস্ত্র জনতার উপর। ২০-৩০ জনের মৃত্যু হল। ক্ষুব্ধ জনতার হাতে নিহত হলেন পাঁচ জন ইউরোপীয়। প্রশাসন ধরেই নিল, এ এক বিরাট ষড়যন্ত্রের অংশ, বিদ্রোহ লাগল বলে। নামল সেনা। বোমা ফেলে অমৃতসর গুঁড়িয়ে দেওয়া, শোকমিছিলে নির্বিচার গুলি চালিয়ে উপযুক্ত ‘শিক্ষা’ দেওয়া— এমন নানা পরিকল্পনার শেষে হাজির হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ার। কে ঠিক তাঁকে অমৃতসরের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, স্পষ্ট জানা যায়নি। কেউ যুদ্ধে নামেনি, তবু সারা অমৃতসরের মানুষ রাতারাতি ‘শত্রুপক্ষ’ হয়ে গেলেন। সামরিক শাসন জারি হওয়ার আগেই তা লঙ্ঘনের দায়ে গুলিতে প্রাণ দিলেন বালক ও শিশু-সহ কয়েকশো নিরপরাধ মানুষ। হান্টার কমিটি ও কংগ্রেসের তদন্ত রিপোর্ট ছেঁকে কিশোয়ার দেশাই যে ছবি তুলে ধরেছেন, তা এক দিকে যেমন অনেক নতুন তথ্যের সন্ধান দিয়েছে, তেমনই অবসান ঘটিয়েছে বেশ কিছু মিথেরও। পাশাপাশি তিনি দেখিয়েছেন পঞ্জাবের অন্যান্য অঞ্চলেও কী ভয়ঙ্কর অত্যাচার চলেছিল। 

 

দ্য পেশেন্ট অ্যাসাসিন/ আ ট্রু টেল অব ম্যাসাকার, রিভেঞ্জ অ্যান্ড দ্য রাজ
অনিতা আনন্দ
৫৯৯.০০ , সাইমন অ্যান্ড শুস্টার

লোকশ্রুতি, হত্যাকাণ্ডের দিন জালিয়ানওয়ালা বাগের সভায় ছিলেন অনাথ কিশোর উধম সিংহ। আহত অবস্থায় সারা রাত পড়ে থেকে পর দিন সকালে কোনও মতে ফিরে আসার আগে এক মুঠো রক্তাক্ত মাটি তুলে নিয়ে তিনি নাকি শপথ নিয়েছিলেন, যত দিনই লাগুক, আর যত দূরেই যেতে হোক, এর প্রতিশোধ তিনি নেবেনই। একুশ বছর পরে সেই শপথ তিনি আংশিক ভাবে পূর্ণ করতে পেরেছিলেন— খোদ লন্ডনের বুকে সামনে থেকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন পঞ্জাবের তৎকালীন লেফটেনান্ট গভর্নর মাইকেল ও’ডোয়্যারকে। জালিয়ানওয়ালা বাগের ঘাতক ডায়ার তার অনেক আগেই মৃত। দ্রুত বিচারের পর উধম সিংহের ফাঁসি হয়। স্বাধীনতার পর তাঁর দেহাবশেষ ভারতে নিয়ে আসা হয়েছে, চিতাভস্ম রাখা হয়েছে জালিয়ানওয়ালা বাগে, সেখানে সম্প্রতি তাঁর মূর্তিও বসেছে। কিন্তু উধম সিংহের জীবনবৃত্ত এত দিন প্রায় অজানাই ছিল। জালিয়ানওয়ালা বাগ থেকে বেঁচে ফেরা ঈশ্বরদাস আনন্দের নাতনি অনিতা আনন্দ বিশ্বের নানা প্রান্তে লেখ্যাগারে সন্ধান করে বিপুল পরিশ্রমে উদ্ধার করেছেন কী ভাবে নাম পাল্টে পাল্টে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপ ঘুরে উধম সিংহ লন্ডনে পৌঁছন, কী ভাবে জার্মানি ও রাশিয়ার গোপন ভারতীয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়, কী ভাবেই বা লন্ডনে নাৎসি ও রুশ গুপ্তচরদের সহায়তায় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য অর্থ সংগৃহীত হয় তার বিবরণ। রোমাঞ্চকর গোয়েন্দা কাহিনির মতো বইটি মিথের আড়ালে মানুষটিকে চিনিয়ে দেয়।

 

খুনি বৈশাখী/ আ পোয়েম ফ্রম দ্য জালিয়ানওয়ালা বাগ ম্যাসাকার ১৯১৯
নানক সিংহ (অনু: নভদীপ সুরি)
৩৯৯.০০, হারপার পেরেনিয়াল

‘‘উইথ দেয়ার ওন ব্লাড, দে ওয়ান্টেড টু ব্লুম/ দ্য পার্চড সয়েল অব দ্য বাগ, মাই ফ্রেন্ডস।’’ ১৩ এপ্রিল ১৯১৯, জালিয়ানওয়ালা বাগে উপস্থিত ছিলেন বাইশ বছরের যুবক নানক সিংহ। পলাতকদের পায়ের তলায় পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি, আহতও হন। মৃতের স্তূপে কয়েক ঘণ্টা চাপা পড়ে থাকার পর জ্ঞান এলে বাড়ি ফেরেন, সঙ্গের বন্ধুরা আর ফেরেননি। পরবর্তী জীবনে তিনি এ প্রসঙ্গে কিছু বলতেই চাইতেন না। ১৯১৮-য় শিখগুরুদের নিয়ে লেখা সদ্‌গুরু মহিমা থেকেই তাঁর রচনা বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯২০-র মে মাসে জালিয়ানওয়ালা বাগের অভিজ্ঞতা থেকে পঞ্জাবি ভাষায় লেখেন দীর্ঘ কবিতা খুনী বৈশাখী। বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই নিষিদ্ধ হয়ে যায়, নষ্ট করে ফেলা হয় সব কপি। ১৯২৩-এ নিষিদ্ধ হয় তাঁর অপর কাব্যসঙ্কলন জখমী দিল। একের পর এক উপন্যাসে তিনি পঞ্জাবি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাকারের স্বীকৃতি পান, পেয়েছেন অকাদেমি সম্মানও। ১৯৭১-এ প্রয়াত হন তিনি। ১৯৮০-তে মূল বইটি উদ্ধার করে নতুন করে ছাপা হয় খুনী বৈশাখী। এ বার তাঁর নাতি নভদীপ সুরি সেটি অনুবাদ করেছেন ইংরেজি কাব্যভাষায়, আছে মূল পঞ্জাবি বয়ানও। নভদীপ দীর্ঘ একটি লেখায় তুলে ধরেছেন রচনার পরিপ্রেক্ষিত, তাঁর ঠাকুরদার কথা। এইচ এস ভাটিয়া আলোচনা করেছেন সাহিত্যমূল্য। আর জাস্টিন রাওলাট কুখ্যাত আইনের জন্য তাঁর প্রপিতামহের তীব্র সমালোচনা করেছেন।  সব মিলিয়ে সমসময়ের এ এক আশ্চর্য দলিল।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯