সম্প্রতি অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত হল উমা বর্ধনের একক ছবির প্রদর্শনী ‘সোল অব মাই কান্ট্রি’। তাঁর আঁকা ছবি আখ্যানভিত্তিক এবং যথেষ্ট রঙিন। আধ্যাত্মিক মনোভাবাপন্ন বলেই বোধহয় শিল্পীর ছবিতে পুরাণের নানা রকম গল্প, দেবদেবীর প্রাচীন কালের বৃত্তান্ত ইত্যাদি দেখতে পাওয়া যায়। তাঁর ছবির বিশেষ নৈপুণ্য হল সিল্কের উপরে জলরঙের ব্যবহার।

উমা পৃথিবীর উৎসকালেরও আগে বিষ্ণুর যোগনিদ্রা, সমুদ্রমন্থন, শ্রীকৃষ্ণের গিরি গোবর্ধন ধারণ ইত্যাদি নানা গল্প এবং ভাগবতপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ অবলম্বনে সংকলিত গল্প থেকে ছবির রস, বিষয় ইত্যাদি গ্রহণ করেছেন। প্রদর্শনীর বেশির ভাগ ছবিই ক্যানভাসে করা এবং তেলরঙের। বিবাহের আগে নদীর পুজো বাঙালি সমাজের একটি বিশেষ লোকাচার। শিল্পীর এই ছবিটি খুব মনোরম। সারিবদ্ধভাবে মহিলার দল চলেছেন নদী বা পুকুরের দিকে। হাতে শঙ্খ, ঘণ্টা, মঙ্গলঘট ইত্যাদি উপচার। পরনে নানা রঙের বস্ত্র। এ ছাড়াও চিতোর কেল্লার দখল এবং রানি পদ্মিনীকে নিয়ে আলাউদ্দিন খিলজি এবং চিতোর রানার সৈন্যদের যে যুদ্ধ এবং তার পরবর্তীকালে রাজপুত মহিলাদের আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ, আলাউদ্দিন খিলজির রানি পদ্মিনীর আয়নায় দর্শনলাভ ইত্যাদিকে বিষয় করে উমা অনেক ছবি এঁকেছেন। এই সব ছবি এবং রাবণের সীতাহরণের দৃশ্য রচনাশৈলীতে বাস্তবধর্মী।

শিল্পী চেয়েছেন ভারতবর্ষের অন্তরের ভাবধর্মী ছবি আঁকতে। যে ছবিতে ভারতের বিশাল ও বিচিত্র ইতিহাসের একটু ছোঁয়া আছে। যেখানে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও। বাস্তুপূজা, বটবৃক্ষের সামনে নানা দেবদেবীর আরাধনা তারই প্রমাণ রাখে। গঙ্গা ভারতীয়দের জীবনে এক বিশাল উপস্থিতি।

গোমুখ থেকে গঙ্গার অবতরণ এবং যমুনা সরস্বতীর সঙ্গে হরিদ্বারে সঙ্গম ও গঙ্গার জলধারার যাত্রা বহু নগর-নগরীর পাশ ঘেঁষে ইলাহাবাদ ও কাশীর ঘাট ছুঁয়ে আরও নানা শহরের স্পর্শ নিয়ে আছড়ে পড়ে বঙ্গোপসাগরে। নদীর প্রতি শিল্পী উমা বর্ধনের ভালবাসা, শ্রদ্ধা এবং আকর্ষণ উল্লেখযোগ্য। যা সুন্দর ভাবে ক্যানভাসে তেলরঙের সাহায্যে তুলে ধরেছেন।