• Painting
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আলোচনা

স্বপ্নে ভাসমান এক নারী

Painting
প্রতিকৃতি: অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত দলীয় প্রদর্শনীর একটি ছবি
  • Painting

দলীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হল অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর গ্যালারিতে। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন পার্থপ্রতিম মল্লিক, রাকেশ সাধক, সুমিতা মাইতি, তিলোত্তমা ভৌমিক, পার্থপ্রতিম গায়েন, অর্পিতা চন্দ এবং অঞ্জনকুমার। পার্থপ্রতিম মল্লিকের শিরোনামবিহীন ছবিগুলি অ্যাক্রিলিকে করা কাগজের উপর। দৈনন্দিন জীবনের নানা জিনিসের ব্যবহার পাওয়া যায় তাঁর ছবিতে। অবশ্য ছবির উপরের দিকে রয়েছে নিসর্গ বা প্রকৃতির ছোঁয়া। এই শিল্পীর ছবিগুলি দর্শকদের খুবই আকৃষ্ট করেছে। শিল্পকর্মের গঠনের ব্যাপারে অ্যাক্রিলিক ব্যবহারে শিল্পীর নিয়ন্ত্রণ লক্ষণীয়। বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় যে, ছবির মাথার উপরে জল, নৌকো, পাহাড় এবং আকাশের ব্যবহার। বর্ণের ব্যবহার নেই বিন্দুমাত্র, কিন্তু সে অভাব উপলব্ধি করা যায় না। অঞ্জনকুমারের কিছু ক্যানভাসের উপর তেলরঙের ছবি এবং কিছু কালি-কলমের। শিল্পী অঞ্জনের বক্তব্য হল, সাধারণ জীবনযাত্রার বাইরেও কোথাও কোথাও স্পর্শ পাওয়া যায় বুদ্ধের, ঐশ্বরিকতার, দেবশক্তির। সীমার মাঝে অসীমকেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন। শিল্পীর অন্য একটি ছবির শিরোনাম ‘সুরধ্বনি’। একটি মৃতদেহের সামনে বসে আছে বিলাপরতা রমণী, আর চারপাশে বহু মানুষ যেন অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় আছে। বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির আশায় মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে, যেন ভবিষ্যৎ দৈবশক্তির অপেক্ষায়।

ভাস্কর পার্থপ্রতিম গায়েনের শিল্পকর্মগুলি প্রশংসার দাবি রাখে। শিল্পীর ‘স্বপ্ন’ ব্রোঞ্জের কাজটি বেশ চিত্তাকর্ষক। সুমিতা মাইতির একটি ছবি শিরোনামবিহীন। স্বপ্নজগতে বিচরণকারী নারীর প্রতিকৃতি। সুন্দর কাজ। রাকেশ সাধকের ছবির শিরোনাম ‘উত্তরাধিকার’। দুটি পায়ের উপর একটি টাইপ রাইটার এবং মানুষটি—যার কোনও অবয়ব নেই। তিনি টাইপ করে চলেছেন। কৌতূহলোদ্দীপক কাজ। অর্পিতা চন্দ ক্যানভাসে এঁকেছেন ‘নকশা’। আনন্দে আত্মহারা একটি মেয়ের চারপাশে গাছ, পাখি, বাড়িঘর ইত্যাদি নানা রঙে সাজানো।

বাংলাদেশের শিল্পী তিলোত্তমা ভৌমিক তাঁর শিল্পকর্মটির নাম দিয়েছেন ‘বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের দুর্বোধ্য বাস্তবিকতা’। যা শিল্পীর ভাষায়, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যে সব খেলা চলে, তা সাধারণ মানুষের বুদ্ধি এবং বিবেচনার বাইরে।

শমিতা বসু

 

সম্পর্ক যেখানে সীমাবদ্ধ

পিয়ালী দাস   

প্রেম, বন্ধুত্ব, দাম্পত্য—সম্পর্কের এই স্তরগুলোর মধ্য দিয়ে কমবেশি প্রতিটি মানুষকেই যেতে হয়। কিন্তু এই যাত্রাপথে সামাজিক, সাংসারিক, বৈষয়িক কারণে সম্পর্কগুলো কেমন যেন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। নিজেদের জীবন দিয়ে দেখা এ সমস্ত বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তথ্যচিত্রের আদলে নাটকটি নির্মাণ করেছেন অভিনেতা দম্পতি তিতাস দত্ত এবং বিবেক কুমার। তাঁদের দ্বৈত অভিনয়ে এবং দ্য কোলাবোরেটরস-এর নিবেদনে, কলকাতার পদাতিক থিয়েটারে সম্প্রতি মঞ্চস্থ হল ‘হ্যাপিলি এভার আফটার’ নাটকটি।

বন্ধুত্ব বেঁচে থাকলে দাম্পত্য সম্পর্কের রূপটা কেমন হতে পারে, তা এই নাটকে প্রত্যক্ষ করা যায়। পাশাপাশি লিঙ্গ বৈষম্যের কথাও উঠে আসে। আসলে আমাদের সমাজে মেয়েদের ভূমিকাগুলো ছোট থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, মেয়ে-ভোলানো ছড়াতেও (দোল দোল দুলুনি/বর আসবে এখুনি...)। অন্য দিকে দাম্পত্য যে শুধুমাত্র যৌন ক্রিয়াকলাপেই সীমাবদ্ধ নয়—মানুষের জীবনে একটা সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিসরও থাকে, সেই অনুষঙ্গও উঠে আসে। এই ঘটনা পরম্পরার সঙ্গে দর্শকরা সহজেই নিজেদের রিলেট করতে পারে। সে কারণেই এই ঘটনাগুলি দুটি মানুষের জীবনের পরিসর ছাড়িয়ে ইউনিভার্সাল হয়ে ওঠে। ইংরেজি হিন্দি ছাড়াও নাটকে আংশিক বাংলা ভাষাও ব্যবহৃত হয়েছে। নাটকে এক গৃহবধূর মনের কথা, দুঃখ-যন্ত্রণার অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে সংলাপ ছাড়াও শারীরিক ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে। যে মুভমেন্টের মধ্যে মিশেছে ছৌ, ব্যালে, পাশ্চাত্য নৃত্যের উপাদানও।

নাটকে থার্ড-আই হিসেবে লাইভ ক্যামেরার ব্যবহার বক্তব্যগুলিকে আরও জোরালো করে তোলে। আবহ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সানাই, ফোক, ইলেকট্রনিক মিউজিক ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয় এবং প্রযোজনার অভিনবত্বে নাটকটি মন ছুঁয়ে যায়।

 

সুরপিয়াসী

শ্রীনন্দা মুখোপাধ্যায়

সম্প্রতি শিশির মঞ্চে সুরপিয়াসী আয়োজন করেছিল একটি সুন্দর অনুষ্ঠান। শুরুতেই সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় কল্যাণ সেন বরাটকে। সুস্মিতা গোস্বামীর পরিচালনায় সমবেত সঙ্গীত শোনান সংস্থার ছাত্রছাত্রীরা। সু-চর্চিত সুন্দর পরিবেশনা। মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় সুস্মিতা গোস্বামীর আগমনী গান দিয়ে। সুরের মূর্ছনায় মেতে ওঠে পুরো প্রেক্ষাগৃহ। গান ও নিবেদনের ভঙ্গি পরিচয় করায় যেন পরিণত এক শিল্পীর সঙ্গে।

শিল্পীর গাওয়া ‘পলাশ মঞ্জরী’ মনে দাগ কাটে। ‘তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি’ বা নজরুলের টপ্পা অঙ্গের গান ‘আমার শ্যামা মায়ের’ শিল্পীর সাঙ্গীতিক দক্ষতার পরিচয় দেয়। অনুষ্ঠানে আরও এক প্রাপ্তি সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের সঞ্চালনা ও আবৃত্তি। বিজ্ঞাপনের জন্য নজরুলের লেখা ছোট ছোট কবিতা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘যদি নীরব কবির’ সতীনাথের কণ্ঠে অন্য মাত্রা পায়। এই রেশ ফিরে আসে সুস্মিতার ‘আজকে না হয়’ গজলে। শুধু নজরুলগীতি নয়, আধুনিক গানেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন শিল্পী। সহ শিল্পীরা প্রত্যেকেই শিল্পীকে সহযোগিতা করেছেন।

 

অনুষ্ঠান

ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট মঞ্চে গল্পে-কথায়-গানে নির্মলেন্দু চৌধুরীকে স্মরণ করা হল থিয়েলাইট সংস্থার আয়োজনে ও প্রতীক সরকারের পরিচালনায়। বেশ কয়েকটি লোকগান শোনালেন অভিজিৎ আচার্য। পাঠে ছিলেন সুকৃতি লহরি।

 

সম্প্রতি গিরিশ মঞ্চে অভিনীত হল বাগুইআটি গুরুকুল অদ্বিতীয়া প্রযোজিত দুটি নাটক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ (নাট্যরূপ ও পরিচালনায় কাজল সুর) ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘চন্দ্রগুপ্ত’ (পরিচালনায় সতীনাথ মুখোপাধ্যায়)। মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন দেবশঙ্কর হালদার, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, কাজল সুর, সুমিত অধিকারী, প্রীতিশেখর প্রমুখ।

 

শৌনক মিউজিক্যাল ট্রুপ মৌলালি যুবকেন্দ্রে আয়োজন করেছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘কি আশায় বাঁধি খেলাঘর’। একই সঙ্গে মহানায়ক উত্তমকুমার ও সঙ্গীত- নক্ষত্র কিশোরকুমারকে বিভিন্ন গানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শুরুতেই সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে উজান সঙ্গীত চক্র। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন গোপাল দত্ত।

 

বিদূষক নাট্যসংস্থার উদ্যোগে ইন্দুমতী সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হল শ্রুতিনাটক সন্ধ্যা। অনেকগুলি নাটক পরিবেশিত হলেও নজর কেড়েছে ‘চাঁদপাহাড়ি’। বাসবদত্তা মজুমদারের সাবলীল উপস্থাপনা প্রশংসার দাবি রাখে। পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়।

 

উত্তম মঞ্চে ‘কেবল তুমি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে একক রবীন্দ্রগান শোনালেন অনিন্দ্যনারায়ণ বিশ্বাস। এ দিন বিভিন্ন পর্যায়ের অনেকগুলি রবীন্দ্রগান শোনালেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রমিতা মল্লিক, অভিরূপ গুহঠাকুরতা, শ্রাবণী সেন প্রমুখ। আয়োজক ভাবনা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন