ভুট্টা পুড়িয়ে দুব, চা খাবে?’’ আসিয়া বিবি রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে জানতে চায়।

‘‘কেনে, মুড়ি নেই?’’  শাজিরুল জিজ্ঞেস করে। 

‘‘আছে ক’টা, বাদলকে দুবো। কবে মুড়ি এনেচিলে মনে আছে?’’ 

‘‘ধুস, সব সময় প্যানপ্যান করিসনে। মন ভাল নেই।’’

‘‘কেনে আবার কী হল?’’ রান্নাঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আসিয়া বলে, ‘‘তুমি তো কাজ ছেড়ে দিয়েচ।’’  

‘‘আমি ছাড়লে কি হবে? যেই ডাকাতি করুক সেই শালা আমারই দোষ, মানতি চায় না বড়বাবু। এখুন কত সেয়ানা পাকুড়-ফারাক্কা থেকেও চলে আসে।’’   

‘‘কেনে, এর মধ্যে কি কুনু কাজ হয়েচে? সেই যে দিন তুমি ফারাক্কা গেলে কার্তিকের কাচে?’’ 

প্রশ্ন এড়িয়ে শাজিরুল বলে, ‘‘একটা সাইকেল আসছে না কি রে? ওই দূরে?’’  

আসিয়া দূরে তাকায় ভ্রু কুঁচকে, ‘‘হ্যাঁ, আসচে তো।’’ 

‘‘থানা থেকে হলে বলবি আমি পাকুড়ে থাকি এখন,’’ বলেই চকিতে বাড়ির পিছনে ভুট্টা খেতে সরে যায় শাজিরুল।  

সাইকেল এসে দাঁড়ায় বাড়ির সামনে, ‘‘শাঁজু কই রে?’’ হাঁক দেয়   মনা দারোগা।  

ভাল করে গায়ে কাপড় জড়িয়ে বেরিয়ে এসে  রান্নাঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে আসিয়া বলে, ‘‘নাকো সাহেব, সে নেইকো, সে একুন পাকুড়ে।’’   

‘‘নাকো! ন্যাকা...’’ মুখ ভেঙায় দারোগা। ‘‘নেই তো তোর শরীরে এমন জোয়ার কী করে? কে তড়কা লাগাচ্ছে? কার্তিক না কি রে? ওই শালাকে পেলে টুঁটি ছিঁড়ে ফারাক্কা ব্যারেজ থেকে ফেলে দেব, বলে দিস, শালা মায়ের ভোগে চলে যাবে!’’   

কাপড়টাকে ভাল করে জড়িয়ে নেয় আসিয়া। 

‘‘এই শুন, নতুন বড়বাবু এসেছে থানায়, মহাদেব কর্মকার। বহুত কড়া। এর আগে নাকাশিপাড়া থানায় ছিল। কত সেয়ানাকে এনকাউন্টার করেছে তার ইয়ত্তা নেই। গুনতি করতে একটা লোক রাখবে বলছে। শাঁজুকে দিয়ে বউনি করবে এখানে। বাঁচতে চাইলে এখনই দেখা করতে বল,’’ দারোগা মনা এবার রান্নাঘরের দরজার কাছে এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে যায় আসিয়াকে। আসিয়া একটু পিছিয়ে যায় দরজার পিছন দিকে।  

‘‘লজ্জা পাচ্চিস? তোর মানচিত্র আমার অজানা!’’ কোমর জড়িয়ে ধরে ঘাড়ের কাছে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলে, ‘‘তোর এই লাউডগা সাপের মতো লম্বা গলা আমার চরিত্রটাই শালা খারাপ করে দিল! আজ সময় নেই। এক দিন ঘণ্টা দুই হাতে নিয়ে আসব। তুই কিন্তু বলে দিস, নামটা মনে আছে তো? মহাদেব কর্মকার। পাথরের মতো শক্ত শালার মুখ, চামচিকের মতো চোখ।’’   

মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে চাপে আছে মনাবাবু নিজেই। স্বগতোক্তির মতো করে বলে, ‘‘শালা আমাকে বলে কি না, এনকাউন্টারে নিয়ে যাবে। পিছন থেকে ঝেড়ে দিলেই হল। এ সব লোককে বিশ্বাস নেই। বাপ রে কী হাড়হিম চাউনি মাইরি!’’ 

‘‘হ্যাঁ, দেকা হলে বুলে দিব’’, মনার অবস্থা দেখে মনে মনে 

হাসে আসিয়া। 

‘‘দেখা হলে মানে? দিল্লাগি করিস না, কালকের মধ্যে পাঠিয়ে দে নইলে নিকেশ হয়ে গেলে আমায় দোষ দিস না। আমার অবশ্য ভাল হবে, একাই আঙুর খাব, পার্টনার থাকবে না।’’

সাইকেল চালিয়ে বেরিয়ে যায় মনোরঞ্জন দারোগা। ভুট্টার খেত থেকে ফিরে আসে শাঁজু, ‘‘কে? ওই শালা মনা দারোগা না? শালাকে বাগে পেলে গলায় ক্ষুর টেনে দুব 

এক দিন।’’   

‘‘নতুন বড়বাবু এয়েছে থানায়। তমাকে ডেকেছে। কাল যেও। এখুন ভুট্টা খাও, আমি চা করচি।’’   

শাঁজুর মনে হয় সময় মতো মনা দারোগা এসে ভাল হল, ক’দিন আগে কার্তিকের কাছে যাওয়ার প্রসঙ্গটা ভুলে গেল আসিয়া। আসলে ভয়টা কার্তিকের কাছে যাওয়া নিয়ে নয়, মাস চার আগে দিন সাত বাড়ি যায়নি, ইচ্ছে করে নয়, পাকুড়ে একটা বড় কাজ হল। তার পর পড়ল রানির খপ্পরে। খুঁজতে খুঁজতে ফারাক্কায় এসে রানির ঘরে এক বার হাতেনাতে ধরে ফেলে যা হুলুস্থুল বাধিয়েছিল আসিয়া! অনেক বার তোবা করেছে, কিন্তু সব ভুলে যায় রানির কথা মনে পড়লে। রানি ওকে চুম্বকের মতো টানে। জড়িয়ে ধরলে মনে হয় জলে ডুবছে নয়তো আকাশে উড়ছে। চরম এক তৃপ্তি, হয় জন্নত নয় তখনই দোজখে  নিয়ে যাবে! 

আসিয়া চা দিতেই রানির কথা ভুলে দারোগার কথা মনে পড়ে শাঁজুর। মনটা খারাপ হয়, না গেলে আবার মনা দারোগা এসে পড়ে থাকবে ওর বাড়িতেই। চরিত্রহীন লোকটা! আসিয়া স্বীকার করে না বটে, তবে ওর বিশ্বাস মনা দারোগা ওকে ভোগ করেছে, জিভ একেবারে লকলক করে শালার।    

দশটা নাগাদ থানায় পৌঁছতেই মনা ওকে ডেকে নিয়ে যায় বড়বাবুর কামরায়। মুখ হাত সব তামাটে রঙের, মাথাটা শরীরের তুলনায় ছোট। বিশাল পাথরের খোদাই করা চেহারা। হাতে হেলে সাপের মতো মোটা মোটা শিরা। ধূসর লোম আর ইয়া চওড়া কব্জি। হাতজোড় করে শাঁজু দাঁড়ায় টেবিলের সামনে। বড়বাবু মুখ নিচু করে কিছু লিখছে। তাকায় শাঁজুর দিকে। মুখে হাসি, ‘‘তুমি শাজিরুল?’’ 

গলা শুকিয়ে কাঠ শাঁজুর। এমন নিষ্ঠুর হাসি মানুষের হয়? কথা বেরোচ্ছে না মুখ দিয়ে। বড়বাবু তাকিয়ে আছে ওরই দিকে। খুব চেষ্টা করার পর এক সঙ্গে অনেকগুলো কথা ছিটকে বিশ্রী ভাবে বেরিয়ে আসে, ‘‘হ্যাঁয় আজ্ঞে ছার।’’  

মুচকি হাসি মুখে ঝুলিয়ে রেখে বড়বাবু জিজ্ঞেস করে, ‘‘এত নার্ভাস, তার পর এই রেংটি চেহারায় ডাকাতি! অবিশ্বাস্য! আমি বিশ্বাস করি না তোমার পক্ষে এ সব সম্ভব, 

তুমি বিশ্বাস করো তুমি ডাকাতি করতে পারো?’’ 

এর কী উত্তর দেবে? বুঝে উঠতে পারে না সে। ঘামতে থাকে শাঁজু। বড়বাবু বিশাল চেহারা নিয়ে তড়াক করে উঠে দাঁড়ান। শাঁজুর বগলের তলা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে অদ্ভুত কায়দায় খপ করে ঘাড়টা ধরেন। বুড়ো আঙুলটা কানের নীচে চেপে বসেছে। শরীরে অদ্ভুত এক তরঙ্গ, শিরশির করে শরীর, ঘাড় বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে এ বার কষ্ট হয়, মনে হয় পা দুটো কেউ কেটে নিয়েছে, ভয় পেয়ে বলে, ‘‘ছার মুতবো, পেচ্ছাপ বেরিয়ে যাচ্ছে ছার।’’ 

দুই পা দিয়ে গড়িয়ে পড়ে জল। ‘‘ব্যস? এইটুকু দম, এইটুকুতেই জল ছেড়ে দিলি? এই দম নিয়ে ডাকাতি করিস? তোর হাড় ক’টা ভাঙব এবার। এই মনা, একটা হাতুড়ি নিয়ে আয়,’’ শাঁজুকে ছেড়ে দরজার কাছে গিয়ে হাঁক পাড়ে বড়বাবু। 

‘‘না ছার, এমনিতেই আমার শরীলের সব হাড় ভাঙ্গা, এখনই হাঁটতে পারি না ভাল করে, আমাকে ছেড়ে দ্যান, বৌ-বাচ্চা আছে ছার আমার, কুনু ব্যবস্থা নেই সংসার চালাবার, আপনেই আমার মা-বাপ, আপনে যা বুলবেন আমি শুনব। আপনের কথা আমার শিরোধাজ্জ্য।’’ 

‘‘মনে থাকবে তো?’’ বড়বাবু হুঙ্কার ছাড়েন। 

‘‘হ্যাঁ ছার, করব।’’

‘‘তুই একটা চা-তেলেভাজার দোকান কর বাদশাই রোডের উপর নিমতিতা যাওয়ার রাস্তার মোড়ে। লরি দাঁড়াবে, ড্রাইভার-খালাসি চা খাবে আর তুই হবি আমাদের খবরি। যত সেয়ানা আছে ফারাক্কা-কালিয়াগঞ্জ-পাকুড় এরা সব তোর চেনা, তাদের দেখলেই আমায় খবর দে, কাজ ছাড়া তোর দোকানে শুধু চা খেতে ওরা জড় হবে না। তোর বৌকেও নিয়ে যা সঙ্গে করে। ওখানে তোকে সাহায্য করবে। তোর মনটাও ঘরে পড়ে থাকবে না।’’

‘‘না ছার, বৌয়ের উপর আমার টান নেই। আমাকে দেখতে পারে না,’’ অভিযোগের সুরে বলে শাঁজু।

‘‘বৌয়ের উপর তোর টানের কথা নয়, তোর বৌয়ের উপর অন্যের টানের কথা বলছি, সব সময় তোর মনে হবে অন্য কেউ ডুবকি লাগাচ্ছে পুকুরে। ওর থেকে সঙ্গে রাখা ভাল,’’ বড়বাবু মনার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘‘কী ঠিক বলছি তো?’’

বিষম খেয়ে মনা বলে, 

‘‘ঠিক স্যর।’’   

‘‘ছার, টাকা নেই চা দোকান খোলার’’, সাহস পেয়ে শাঁজু বলে।

‘‘মনা তোকে ধার দেবে দু’হাজার। আস্তে আস্তে শোধ করে দিস। কি মনা, তুমি দেবে তো?’’ বড়বাবু তাকান মনার দিকে, একটু থেমে বলেন, ‘‘একটু বড় করেই বানা দোকানটা, পাশে যাতে একটা শোয়ার ঘরও থাকে, ওখানেই থাক এখন। ডাকাতি যা হওয়ার রাতেই 

তো হবে।’’

শাঁজু কাঁচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে থাকে, মনে মনে বলে, আপনি মহান, কী করে যে সব খবর পেয়েছেন ক’দিনেই!  

‘‘ভেজা লুঙ্গি পরে অনেক ক্ষণ দাঁড়িয়ে আছিস, কাল থেকে তুই কাজে লেগে যা।’’

‘‘বাপ রে! তোর জন্য শালা এখন টাকা জোগাড় করতে হবে!’’ চিন্তিত দেখায় মনোরঞ্জনকে, আসিয়াকে কয়েক বার ভোগের ভালই মূল্য চোকাতে হচ্ছে। তার চাইতেও বড় কথা, বড়বাবু জানল কী করে?  

মাস তিনের মধ্যে বাদশাই রোডের উপর একটা চালা নামাল শাঁজু। এক দুপুরে বড়বাবু চালা দেখে মহা খুশি। আসিয়া ঝপ করে পা ছুয়ে প্রণাম করে বড়বাবুকে। দাঁড়িয়ে থাকে মাথা নিচু করে। 

‘‘আরে... ছিঃ! ছিঃ! মা। পুলিশকে কেউ প্রণাম করে? পুলিশরা হল মহাপাপী। আমি তোমার বাবার বয়সি। তাই তোমাকে একটা কথা বলি, অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নোয়াবে না। আর অন্য কারও পাপের বোঝা তুমি বইবে না। বাল্মীকির বৌ ছেলে অস্বীকার করেছিল, তুমি আর তোমার ছেলে বাদলও করবে।’’

বড়বাবু জিপ ছুটিয়ে চলে গেল।

 

মাস পাঁচেক বাদে বড়বাবুর জিপ এসে দাঁড়ায় এক দুপুরে। আসিয়া বাইরে এসে প্রণাম করে সামনে দাঁড়ায়। ঘোমটা আগের চাইতে অনেক ছোট। 

‘‘ছার, ও  কিন্তু যা খবর পায় সব দিয়ে দেয়।’’

‘‘না রে মা, ও সব খবর নিতে আসিনি। ওর খবরেই তো গোটা তিন বড় কাজ হল। তার পর থেকে এ দিকে ডাকাতি বন্ধ। এ দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম তাই তোদের খোঁজ নিতে নামলাম। কেমন আছিস বল। মনা জ্বালায় না তো? শাঁজু কোথায়?’’ 

‘‘হ্যাঁ ছার, শুনেছি আপনার কাজের কতা, সব সেয়ানা এখুন জব্দা। আর মনাবাবু আমার কাছে ঘেঁষে না। শুধু খবর নিতে আসে। ওর সঙ্গে কথা বলে চলে যায়। শাঁজু সামশেরগঞ্জ বাজার গেছে মাল আনতে। এখুন অনেক ভাল আছি, কুনু অভাব 

নাই। বাদলকে ইস্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি।  ও ওর নানির বাড়ি থেকে পড়াশোনা করছে। ’’

‘‘বাঃ, ঝাড়া হাত পা! আমার জন্য চা বানা তো মা! চিনি কম দিস কিন্তু।’’  

আসিয়া ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আসিয়ার কাছে বড়বাবু ভগবান। পেঁয়াজকুচি, লঙ্কাকুচি দিয়ে ডবল ডিমের ওমলেট করে দ্রুত হাতে। পরম যত্নে নামিয়ে রেখে বলে, ‘‘আপনি খান ছার, আমি চা করচি।’’

হেঁ হেঁ করে ওঠে বড়বাবু, ‘‘এ সব কেন আবার? এই না হলে মায়ের জাত, ঠিক বুঝেছে খিদে পেয়েছে।’’ 

চা-ওমলেট খেয়ে বড়বাবু চলে যায়। তার জন্য দোয়া করে আসিয়া। 

শাঁজুর দোকান জমজমাট বছর ঘুরতে না ঘুরতেই। সব গাড়ি ড্রাইভারের এক কথা, শাঁজুর  মোড়ে চপ-চায়ের জবাব নেই। দোকানে এখন চার জন কর্মচারী। 

বছর দুই বাদে আর এক নির্জন দুপুরে পুলিশের জিপ থেকে নেমে আসেন বড়বাবু, ‘‘যাইরে শাঁজু– আসিয়া, আমার বদলি হয়ে গেছে, চলে যাচ্ছি, সাবধানে থাকিস তোরা।’’ চোখে জল নিয়ে ডিম ভাজে আসিয়া। পেঁয়াজের ঝাঁঝ নয়, হৃদয় নিঙড়ে বেরিয়ে আসছে জল।   

পরের দিন এল মনা দারোগা, ‘‘শালা, বড়বাবু সাসপেন্ড হয়ে গেছে। মাথায় ভূত ছিল। ওটাই তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত এনকাউন্টার করতে। দু’বছরে বাইশ সেয়ানা ফৌত। ওদের বৌ-বাচ্চার অভিশাপ এ সব।’’ 

 

বারো বছর কেটে গিয়েছে বড়বাবু বদলি হয়ে গিয়েছে। আসিয়ার একটা মেয়ে হয়েছে। মমতাজ। খেলতে খেলতে সে বড় রাস্তায় চলে যায়। তাই দোকানে কাজ করতে করতেও আসিয়ার চোখ সব সময় রাস্তার দিকে থাকে। এই বুঝি মেয়ে চলে গেল। মমতাজ খেলছে দোকানের সামনে। গাঁ ঘেঁষে থামল একটা লরি।  চা তৈরি ছেড়ে দৌড়ে এল আসিয়া। লরি থেকে নেমে আসে এক বুড়ো। লরি চলে যায়। বুড়োটার শরীর ঝুঁকে গিয়েছে। দোকানের দিকে হেঁটে আসে ধীরে ধীরে। ঘোলাটে চোখ, ‘‘তুমি আসিয়া না? বারো বছর পরে দেখছি তোমাকে!’’ ভীষণ চেনা এই কণ্ঠস্বর! 

‘‘ছার আপনে?’’ শাঁজুও ছুটে এসেছে আসিয়ার চিৎকারে।

‘‘হ্যাঁ রে আমি। সাসপেন্ড ছিলাম অনেক দিন। রিটায়ার করেও গেলাম। মানুষ মারার ফল হাতেনাতে পাচ্ছি। যা মাইনে পাই উকিলরা সব নিয়ে নেয়। কোর্টে কেস করেছি তো। দেখি কী হয়। এক দিক থেকে ভালই হয়েছে বিয়ে করিনি। না খেতে পেয়ে মরত সব! ভাল লাগছে জানিস, সেই সিউড়ি- রামপুরহাট থেকে এক ডাকে সবাই চেনে শাঁজুর মোড়। তুই বিখ্যাত হয়ে গেছিস শাঁজু!’’  

চুপচাপ বসে তিন জন। ঘড়ঘড়ে গলায় বড়বাবু বলে, ‘‘তোদের দোকানে একটা কাজ দে না, খেয়ে পরে বাঁচি। 

‘‘জন্মাবার আগেই আব্বা মারা যায়, আল্লা আপনাকে দিল, আমাদের জীবন বদলে গেল,’’ কান্না গলায় আটকে রেখে বলে শাঁজু। 

ডিম ভাজতে হবে। উঠে যায় আসিয়া। পেঁয়াজ কাটে, দু’চোখ বেয়ে জলের ধারা। শাঁজু এসে দাঁড়ায় নিঃশব্দে। ফ্যাকাসে হাসে আসিয়া, ‘‘অনেক দিন নিজের হাতে পেঁয়াজ কাটি না তো!’’