লঞ্চ তখনও আসেনি। যাত্রীরা চায়ের দোকানে, প্রতীক্ষালয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। প্রশাসন নিয়ম করে দিয়েছে, লঞ্চে একশো জনের বেশি যাত্রী তোলা যাবে না। বেশি যাত্রী এলে প্রথম একশো জনকে নেওয়া হবে। পাছে ফিরে যেতে হয়, তাই অনেকে ভোরে চলে এসেছেন। যদিও টিকিট কাটার জন্য কেউ দাঁড়িয়ে নেই। সেই জায়গায় সঙ্গের ব্যাগটি রাখা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগের লাইনও বেড়ে চলল। মাস দুয়েক হল এই ‘একশো জনের নিয়ম’ চালু হয়েছে।

কাউন্টারের গায়ে ভাড়ার তালিকা সাঁটা। পড়ে জানা গেল, শুধু মানুষ নয়, লঞ্চে গরু-বাছুর, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, শাক-আনাজ, গুড়ের কলসি, কাঁকড়ার ঝুড়ি, চারাপোনার হাঁড়ি, ডিমের ঝুড়ি, ‘শুকা’ বস্তা (শুঁটকির বস্তা), মুড়ির বস্তা, পশুখাদ্য নিয়েও ওঠা যেতে পারে। মোটরবাইক, স্কুটার, সাইকেল, দু’চাকার গাড়ি, যন্ত্রাংশ, মেশিনও যেতে পারে। চাল, চিনি, ধান, গম, আটা, ময়দা, আলুর বস্তা তো আছেই। সহযাত্রী হিসেবে গরু-বাছুর, ছাগল-ভেড়া যদি বা মানা যায়, কিন্তু শুঁটকি? পরে জানা গেল, নতুন নিয়মে এ সব নিয়ে যাওয়া বন্ধ।

যাব রসুলপুর। গন্তব্য সাগরসঙ্গম নয়, অন্য দিকে। অনেক দিন আগে, এ রকমই শীত-ভোরে গঙ্গাসাগর থেকে ফেরার সময় ঘন কুয়াশায় পথ হারিয়ে ফেলেছিল এক নৌকা। এসেছিল সপ্তগ্রাম থেকে। নৌকার যাত্রী এক যুবক সংস্কৃত জানতেন। পুণ্যের মোহ ছিল না তাঁর। নেহাত সমুদ্র দেখবেন, তাই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন। নাম নবকুমার।

একুশ শতকের শীতে আজও নদীতে জমাট বাঁধা কুয়াশা, পঞ্চাশ হাত দূরেও দৃষ্টি যায় না। বসে আছি মায়াগোয়ালিনীর ঘাটে। এ পথে রোজ লঞ্চ চলে। সাগরদ্বীপের মায়াগোয়ালিনী ঘাট থেকে মেদিনীপুরের রসুলপুর। আগে দু’টি লঞ্চ চলত। একটি সারাইয়ের জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে। অন্যটি রসুলপুর থেকে যাত্রী নিয়ে সাগরে যায়। সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে ফের রসুলপুর। নবকুমারের নৌকো এমনই কুয়াশায় পথ হারিয়ে, হুগলি নদীর পশ্চিম পাড়ে, রসুলপুরের নদীর মোহনায় গিয়ে ভিড়েছিল। তখনও মোহনার কাছে দরিয়াপুর ও দৌলতপুর গ্রাম দু’টি গড়ে ওঠেনি। এখন মোহনার কাছে জুনপুট মৎস্যবন্দর। শয়ে শয়ে মেছো ট্রলারের ভিড়।

 

সাগরদ্বীপের এখানে হরেক গ্রাম, নদীর নামও হরেক। ছোট্ট গ্রাম রাধাকৃষ্ণপুরকে চিরে বেরিয়ে গিয়েছে নদী। নদীর পশ্চিম দিকের নাম বাহির প্লট, পুব দিকে রাধাকৃষ্ণপুর। মায়াগোয়ালিনীর ঘাট রাধাকৃষ্ণপুরে।

এগারোটা নাগাদ রসুলপুর থেকে লঞ্চ এল। কাঠের তৈরি, সাদা রঙের। ও পারের যাত্রীদের নামতে দেখে সকলে টিকিট কাটতে ছুটলেন। ব্যাগ ঝাড়ার চোটে ধুলো উড়ল খানিক। টিকিটঘরের দেওয়ালে ভাড়ার তালিকায় যাত্রী-পিছু ৬৫ টাকা ভাড়া লেখা। তবে নেওয়া হল ৫০ টাকা।

টিকিট পেয়ে সকলে লঞ্চমুখো। সেখানেও লাইন। এক জন সাইকেল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন। সাইকেল নিয়েই লাইনে দাঁড়িয়েছেন।

লঞ্চের খোলে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা। মাঝ বরাবর কাঠের দেওয়াল। ও পারে ইঞ্জিন। দেওয়ালে যাত্রাপালার পোস্টার সাঁটা: ‘সতীর দেহত্যাগ’। পোস্টারের উপর দিকটা দখল করেছেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। নীচের দিকে এক মহিলার ছবি। তিনিই ‘সতী’ হবেন বোধহয়। ঠাঁই হয়েছে নারদেরও।

ইঞ্জিনের উপরে টাঙানো দড়িতে কয়েকটা কমলারঙা লাইফ জ্যাকেট ঝুলছে। খোলের গা ঘেঁষে এক সারি কাঠের বেঞ্চ। কিন্তু যাত্রীদের অনেকেই কাঠের মেঝেতে শাড়ি, শতরঞ্চি, খবরের কাগজ বিছিয়ে বসে পড়লেন। ছোট্ট, দুরন্ত একটি ছেলে লঞ্চের মধ্যে খেলাধুলোর বন্দোবস্ত করছিল। কুমির আর হাঙরের ভয় দেখিয়ে তাকে নিরস্ত করা হল।

সব যাত্রী ঠিকমতো উঠতে পারলেন কি না, তদারক করতে গিয়েছিলেন জনা দুই যাত্রী। লঞ্চকর্মীদের ধমক খেয়ে ফিরে এলেন। নতুন নিয়মে, যাত্রীদের খোলেই বসতে হবে। তা দেখার জন্যে রয়েছে ‘জলসাথী’। বুকে ব্যাজ এঁটে গোটা দুই যুবককে ঘাটে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল। তাঁরাই জলসাথী। খানিক আগে লঞ্চে বাড়তি জিনিসপত্র নেওয়া হয়েছে কি না দেখে গিয়েছেন। এখন তাঁদের নজর লঞ্চের ছাদে। সেখানে কোনও যাত্রী উঠলে লঞ্চ মালিককে জরিমানা করা হবে। যাতে জরিমানার মুখে পড়তে না হয়, তাই ওই ধমক।

সারেঙ ঘণ্টি বাজাতে নীচে ড্রাইভার ইঞ্জিন চালু করলেন। বুকে কাঁপন ধরিয়ে চালু হল ইঞ্জিন। দড়িদড়া খুলে নেওয়া হল। তুলে নেওয়া হল কাঠের পাটাতন। লঞ্চ ছেড়ে দিল। লঞ্চের জানলা দিয়ে দেখা গেল একটি করুণ মুখ, নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে। পাশেই বসে ছিলেন এক বৃদ্ধা। বললেন, “আমার মেয়ে।” সাগরদ্বীপে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দিন চারেক আগে মেয়েকে দেখতে এসেছিলেন। এখন মেদিনীপুরে, নিজের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।

লঞ্চ এখন ছোট্ট নদীর বুকে। দু’পাশে ঘন গাছ। ডান দিকে, নদীর চরে গোটা দুয়েক নৌকো উল্টোনো। সেগুলো সারাই হবে। আর একটু এগোতে দেখা গেল, এক নৌকোর গায়ে আলকাতরা মাখাচ্ছেন জনা কয়েক লোক। মিনিট পাঁচ-সাতেক লাগল নদী পেরোতে। লঞ্চ পড়ল ‘বাহার গাঙ’-এ।  নদীতে ডুবে যাওয়া গাছগুলোর মাথা দেখা যাচ্ছিল। তা দেখে যাত্রীরা অনুমান করলেন, ভাটায় এখানে ডাঙা জেগে ওঠে।

সমুদ্র দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন নবকুমার। বলেছিলেন, সমুদ্রের যে রূপ তিনি দেখেছেন, জন্মজন্মান্তরে ভুলবেন না। নবকুমারেরা কুয়াশায় দিগভ্রান্ত হয়েছিলেন। জায়গাটা বোঝাতে বঙ্কিম অবশ্য রসুলপুরের নদীর কথা লিখে গিয়েছেন। এটি তার মোহনা। ফলে জলবিস্তার অনেক।

গন্তব্যে: যাত্রা শেষে রসুলপুরে পৌঁছেছে লঞ্চ

কুয়াশায় আজও দৃষ্টি খুব দূরে যায় না। যে দিকে তাকানো যায়, শুধুই জল। নিস্তরঙ্গ, উচ্ছ্বাসহীন। যাত্রীরা স্বস্তি পেলেন। ‘মৌজা’র (প্রকাণ্ড ঢেউ) ধকল সইতে হবে না।

দরিয়ায় নিয়ম নাস্তি। লঞ্চকর্মীরাও আর বাধা দিলেন না, যাত্রীদের অনেকেই ছাদে গেলেন। সহযাত্রীদের এক জনের চার মেয়ে। প্রথম জনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তার একটি ছেলেও হয়েছে। ডাকনাম গুড্ডু। বাকি মেয়েদের মধ্যে এক জনের বয়স দশ-এগারো হবে। বাকি দু’জন অনূঢ়া। সকলেই বাবার কাছে আবদার করল, ছাদে যাবে। ভদ্রলোক খানিক ইতস্তত করলেন, মেয়েদের ছাদে নিয়ে গিয়ে যদি বিব্রত হতে হয়। নিজে আগে পরিস্থিতি বুঝতে ছাদে গেলেন। ছাদ থেকে মোবাইল ফোনে বড় মেয়েকে জানালেন, তারা যেতে পারে। মেয়েদের খুশি আর ধরে না।  সুশ্রী মুখগুলো অদৃশ্য হতে লঞ্চের নীচতলা খানিক নিষ্প্রভ হয়ে পড়ল।

লঞ্চের এক কোণে খাবারের দোকান। বেশির ভাগই ছোটদের মন-ভোলানো টুকটাক। রয়েছে পানের বন্দোবস্তও। চাইলেই যে কেউ তিনটে টাকা ফেলে মুখ রাঙা করতে পারেন। এক জন ঘুরে ঘুরে সেদ্ধ মটর বিক্রি করছিলেন। মটরগুলি মশলা দিয়ে বেশ করে মাখানো। তবে জিরে আর লঙ্কার স্বাদই জিভে ঠেকছিল বেশি। নীচে বিক্রিবাটা সেরে লোকটি ছাদে গেলেন। ছাদের উপরটা অ্যালুমিনিয়ামের চাদর দিয়ে মোড়া। লঞ্চের দু’পাশে কাঠের রেলিং। মাঝখানে যাত্রীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছেন।

ডাঙায় তবু গাছপালা আছে। নদীতে তো আর সে সবের বালাই নেই। ফলে দিক নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এক-এক দিন এমন কুয়াশা হয়, নৌকার মাথাটুকুও দেখা যায় না। নবকুমারেরা যে দিন ফিরে যাচ্ছিলেন, সে দিন এমনই ঘন কুয়াশায় নদী ছেয়ে গিয়েছিল। মাঝিরা আশঙ্কা করেছিলেন, মরতে না হয়। আমাদের সারেঙের ভাবলেশহীন মুখে অবশ্য তেমন আশঙ্কা দেখা গেল না। মাঝে মাঝে কাঠের হাতল দেওয়া স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে দেন। তাতে হাল হয়তো ঘোরে। লঞ্চের দিক বদল খুব একটা হয় না। তাঁর সামনে একটা কম্পাস খোলা। দড়িতে ঝোলানো একটা রোদচশমা। খানিক পরে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বার করে স্কুলে না যাওয়ার জন্য কাকে একটা বকুনি দিলেন।

নদীর জল একেবারে শান্ত। মনে হচ্ছে কে যেন তেলের বাটি জলে উপুড় করে দিয়েছে। লঞ্চ জল কেটে এগিয়ে যাওয়ায় সামান্য যে ঢেউ ওঠে, সেটাই খেলে যাচ্ছে।

রোজ নোঙর ফেলে জাল পাততে অনেক ঝক্কি। তাই জেলেরা ভাটার সময় নদীতে খুঁটি পুঁতে দেন। একটা লম্বা দড়ির এক দিক সেই খুঁটিতে বাঁধা থাকে। আর এক দিকে বাঁধা থাকে প্লাস্টিকের ড্রাম বা শোলার বস্তা। চলতি কথায় তাকে ‘বয়া’ বলে। এত ক্ষণ তবু দু’একটা বয়া দেখা যাচ্ছিল। মাঝনদীতে শুধু জল আর জল। কুয়াশার কারণে আকাশ আর দরিয়ার মাঝে ভেদরেখাটি ক্ষীণ। যেন এক গোলকের ভেতর দিয়ে এই যাত্রা। লঞ্চ যত সরে, গোলকটিও সরে যায়।

গলুইয়ে বসে গল্প করছিলেন ক’জন যাত্রী। চাদর মুড়ি দিয়ে গুটিসুটি বসেছেন। এ বারে শুঁটকির কী দর নিয়ে তাই নিয়ে আলোচনা। এত ক্ষণে দূরে একটা জাহাজ দেখা গেল। অন্তহীন জলের মাঝে দর্শনীয় এক বস্তু দেখে তাঁরা পুলকিত। এক বার মাছ ধরতে এসে কী ভাবে আচমকা জাহাজের সামনে পড়েছিলেন, তা নিয়ে গল্প জুড়লেন এক যাত্রী। বাকিরা সাগ্রহে শুনতে লাগলেন।

লঞ্চের মেঝেতে অনেকে সঙ্গের ব্যাগটিতে মাথা রেখে ঘুমোচ্ছিলেন। ছোটরা যারা জেগে ছিল, তাদের দু’এক জনের হাতে ‘মকা’-র (পপকর্ন) প্যাকেট। যত খায়, ছড়ায় তার বেশি। এক যুবক পান কিনছিলেন। এক বৃদ্ধা তাঁকে ডেকে জানতে চাইলেন, ডাঙা কত দূর। যুবক বললেন, “কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না। আরও ঘণ্টাখানেক যাক।” ঘণ্টা অবশ্য কাটল না, ছাদের যাত্রীদের এক জন নীচে এসে জানালেন, ডাঙা দেখা গিয়েছে। যাঁরা ঢুলছিলেন, সঙ্গীরা তাঁদের ঠেলে জাগিয়ে দিলেন। সত্যিই ডাঙা কাছে। পাড়ের গাছগুলো দেখা যাচ্ছে। মিনিট দশেক এগোতেই রসুলপুরের নদীর মোহনায় এসে পড়ল লঞ্চ। সেই রসুলপুরের নদী, যেখানে নবকুমারদের নৌকা ভাসতে ভাসতে চলে এসেছিল!

বাঁ দিকে দরিয়াপুর ও দৌলতপুর গ্রাম। তখন অবশ্য কোনও জনপদ ছিল না। বন শুধু। বন্যপশুর অবাধ বিচরণক্ষেত্র। এখনকার পাকা ইমারত, জুনপুট মৎস্যবন্দর দেখে সে দিনের জঙ্গলের আন্দাজ পাওয়া কঠিন। তবু গ্রাম দু’টি থেকে সবুজ একেবারে মুছে যায়নি।

প্রবীণ সহযাত্রীর অনুরোধে একটি কুঠার নিয়ে বনে রান্নার কাঠ জোগাড় করতে গিয়েছিলেন নবকুমার। ফিরে এসে দেখেন নৌকা নেই। ফিরতে দেরি হওয়ায়, তাঁকে বাঘে খেয়েছে ভেবে সঙ্গীরা নৌকা নিয়ে চলে যান। সমুদ্রতীরে বনবাসে বিসর্জিত হন নবকুমার। অবশ্য বেশি দিন বনবাস করতে হয়নি। বেরোবার পথ দেখিয়েছিলেন এক তরুণী, ‘‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’’

রসুলপুরের ঘাটটি নদীর একটু ভেতরে। লঞ্চ যখন পৌঁছল, তখন ভাটা চলছে। নদীর জল ঘোলা। বাঁ দিকে জুনপুট মৎস্য বন্দর। যে লোকটি মটরসেদ্ধ বিক্রি করছিলেন, তিনি এখন গাইডের ভূমিকায়। তাঁর থেকে জানা গেল, মৎস্য বন্দর লাগোয়া জমির দাম লাফিয়ে বাড়ছে। পাড়ের ডান দিকে একটি লোক ছাগল চরাচ্ছিলেন। তাঁর বাৎসরিক আয়ের হিসাবও পাওয়া গেল। দূর থেকে রসুলপুরের ঘাট দেখা যাচ্ছিল। সে খবর ছড়িয়ে পড়তে খোলে যাঁরা ছিলেন বোঁচকা-বুঁচকি বেঁধে নামার জন্য প্রস্তুত হলেন। লঞ্চ মায়াগোয়ালিনীর ঘাট ছেড়েছিল এগারোটার পরে, ঘণ্টা আড়াই পরে এসে ভিড়ল রসুলপুরের ঘাটে।

নবকুমারকে নিয়ে কপালকুণ্ডলা গিয়েছিলেন দরিয়াপুরের এক কালীমন্দিরের অধিকারীর কাছে। অনিষ্টাশঙ্কায় অধিকারী আর কপালকুণ্ডলাকে বনে ফিরে যেতে দেননি। নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দু’জনকে মেদিনীপুরের পথে রেখে এসেছিলেন। সেই মেদিনীপুরের পথে এখন প্রচুর বাস, ট্রেকার। ঘাটেই হাজির সব। কোনওটা যাবে কাঁথি, কোনওটি হেড়িয়া। ট্রেকার-বাসকর্মীরাই এখন অধিকারীর ভূমিকায়; জানালেন, গন্তব্যে এগিয়ে দেবেন ঠিক। এ বার আর কালবিলম্ব না করে ট্রেকারে উঠে বসা।