মহেন্দ্রলাল সরকার ভারতবর্ষে জনজীবনের উন্নয়নের বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেন ১৮৭৬ সালে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ (আইএসিএস) প্রতিষ্ঠা করে। তাঁর পথ ছিল রীতিমতো বৈপ্লবিক। তিনি বললেন, এই প্রতিষ্ঠান দুই রকমের কাজে লিপ্ত হবে— একটি ‘সব রকমের বিজ্ঞান’-এর ব্যাপারে গবেষণা করা এবং অন্যটি জনসাধারণকে বিজ্ঞানের ব্যাপারে সচেতন করা। ১৮৭৬ সালে ‘সব রকমের বিজ্ঞান’ ব্যাপারটি কেন বৈপ্লবিক, সেটা বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন আছে।

আমাদের দেশে একটি সফল বৈজ্ঞানিক ধারা চলে আসছিল। কিন্তু সেটা ছিল সম্পূর্ণ গণিতভিত্তিক এবং পরিকল্পিত ভাবে জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন। বেদের মতো এই শাস্ত্রও সীমাবদ্ধ ছিল একটি ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে— সম্পূর্ণ মুখে মুখে না হলেও স্বল্প লেখার মাধ্যমে। যাঁরা এই গোষ্ঠীর বাইরে, তাঁদের কাছে সে লেখা হেঁয়ালিমাত্র। নিউটনোত্তর পৃথিবীতে বিজ্ঞানচিন্তায় যে একটি আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, তার খবর ভারতবর্ষে কেউ রাখত না।

নিউটনের আগে পৃথিবী জুড়ে গণিতের প্রতিষ্ঠাই প্রধান ছিল। সবচেয়ে ভাল উদাহরণ আকাশে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারার কক্ষপথ। প্রাচীন গ্রিকদের থেকে শুরু করে পরবর্তী সকলের কাছেই এটি ছিল নিছক জ্যামিতির খেলা। অসীম ধৈর্য ও যত্ন সহকারে কক্ষপথ নিরীক্ষণ করা ও সেই পথের আনুষঙ্গিক জ্যামিতিই ছিল গবেষণার বিষয়। নিউটন বললেন, সমস্ত বস্তুর গতির পিছনে যে কতিপয় অমোঘ নিয়ম রয়েছে, সেই নিয়মগুলিকে প্রথমে বুঝে নিতে হবে এবং তার পর গণিতের সাহায্যে কক্ষপথ নিজে থেকেই নির্ধারিত হবে। দূরবিন দিয়ে দেখে সেই কক্ষপথই চোখে পড়বে— যদি না পড়ে তা হলে তা চিন্তার বিষয় ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির সুযোগ।

এই বার গ্রহতারা ছেড়ে বিজ্ঞান এসে পড়ল দৈনন্দিন জীবনে। ফুটবলের ক্ষেত্রে এর চমৎকার উদাহরণ হল ফ্রি কিক। ফ্রি কিকের পর বলের কক্ষপথ অনেক সময়ই চমকপ্রদ। কিন্তু আজকে এই জ্যামিতিটা সবচেয়ে বড় কথা নয়। যিনি কিক-টা নিলেন, তাঁর পা বলকে কোন বিন্দুতে, কত অ্যাঙ্গেল-এ, কী গতিতে ধাক্কা মারল, সেগুলি যদি জানা থাকে, তা হলে সহজেই বলের গতিপথ কী হবে, সেটা বলে দেওয়া যাবে এবং সাধারণ লোককে এ ব্যাপারে সচেতনও করা যাবে। তা হলে বুঝতেই পারছেন যে, বিজ্ঞান ও জীবনের বাকি আনুষঙ্গিক কত গভীর ভাবে জড়িয়ে আছে। একটিকে অবহেলা করে অন্যটিকে গ্রহণ করা ঠিক পথ নয়। এই জন্য মহেন্দ্রলাল সরকারের ‘সব রকমের বিজ্ঞান’ কথাটি ছিল যথার্থরূপে বৈপ্লবিক।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে নিঃসন্দেহে আইএসিএস ভারতবর্ষের বিজ্ঞান গবেষণায় যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল। তার পরের চার দশকে ভারতবর্ষে বিজ্ঞান গবেষণা বহুলাংশে স্তব্ধ হয়ে যায়। একটি-দুটি অসামান্য পদক্ষেপ যে এই সময় হয়নি, তা নয়। কিন্তু যে সব ছোট ছোট পদক্ষেপের উপরে ভিত্তি করে বিজ্ঞানের বড় আবিষ্কার আসে, সেই ছোট ছোট পদক্ষেপে ভারতবর্ষের অবদান ছিল যৎসামান্য। এর মূলে ছিল দেশের স্কুল ও কলেজের শিক্ষাব্যবস্থার ক্রমশ বেহাল হয়ে পড়া। ২০০২-এর গোড়ায় এল বিশ্বায়ন। বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থা নিজেকে সফল প্রমাণ করতে মুড়ি-মুড়কির মতো নম্বর বিলি করল পরীক্ষার খাতায়। স্কুল জোরগলায় বলল, আমাদের এখানে শতকরা আশির কম নম্বর কেউ পায় না। কলেজ আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করল, আমাদের অ্যাডমিশন স্ট্যান্ডার্ড বছরের পর বছর বাড়ছে। কিন্তু ছেলেমেয়েরা বিজ্ঞানকে পেশা হিসেবে নেবে কী করে? তারা বিজ্ঞান সম্বন্ধে অল্পবিস্তর শিখে থাকলেও বাইরের জগৎটার সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্বন্ধে তো কার্যত অন্ধ। জীবনের প্রতিটি অংশ সম্বন্ধে চিন্তা না করতে পারলে বিজ্ঞানে সৃজনশীলতা আসবে না।

এই অবস্থায় গত শতাব্দীর শেষে আইএসিএস-এর কিছু সহধর্মী ও সহমর্মী শিক্ষক ঠিক করলেন, বারো ক্লাসের শেষে যখন ছাত্রছাত্রীদের জীবনে দুই মাস শান্তি থাকে (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাডমিশনের দুটি পরীক্ষা আইআইটি-জেইই এবং ডব্লিউবি-জেইই মে মাসের প্রথমেই শেষ এবং উচ্চমাধ্যমিকের ফল বেরোতে জুলাই মাসের মাঝামাঝি), সেই সময় তাদেরকে খেলাচ্ছলে কিছুটা চিন্তা করতে প্ররোচিত করবেন। দিনে তিনটে বিষয় এক ঘণ্টা করে আলোচনা হবে— পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত অথবা জীববিজ্ঞান এবং তার সঙ্গে সঙ্গে চলবে সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি, সঙ্গীত, ছবি আঁকা, খেলাধূলা, সাংবাদিকতা, সিনেমা, থিয়েটার ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা। ঠিক হল, এখানে ভর্তি হওয়ার জন্য কোনও বাধা থাকবে না, কোনও টাকা জমা দিতে হবে না, মেরিট লিস্ট তৈরি হবে না, পড়ানো হবে কেবল বাংলায় এবং ভর্তি হয়ে ভাল না লাগলে আসা বন্ধ করে দিলে কেউ শাস্তি পাবে না— এই দুই মাসের শিক্ষাব্যবস্থা হবে সব ধরনের জঞ্জালমুক্ত।

কলকাতার সমস্ত শিক্ষায়তনের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এখানে বক্তৃতা দিতে রাজি হয়েছিলেন। আইএসিএস-এর উলটো দিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের অনেক অধ্যাপক এখানে অনেক ঘণ্টা ব্যয় করেছেন, এসেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও অর্থনীতির অধ্যাপকরা। সর্বোপরি, শিক্ষাজগতের বাইরে থেকে অন্যান্য লব্ধপ্রতিষ্ঠ ব্যক্তিরা তাঁদের নিজের নিজের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে এক বাক্যে রাজি হয়েছিলেন। আইএসিএস-এর প্রশাসন উৎসাহভরে সাহায্য করেছিল। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের অফিস কর্মচারীদের ওপর এই স্কুলচালনার সমস্ত দায়িত্ব পড়েছিল— তাঁরা হাসিমুখে এবং উৎসাহভরে এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই বাধাও ছিল। ক্লাস শুরু হওয়ার বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কমপক্ষে একশো স্কুলের প্রিন্সিপালদের আমাদের উদ্যোগের কথা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি এবং ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করার ফরম্যাট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনুরোধ করা হয়েছিল স্কুলের নোটিস বোর্ডে লাগিয়ে দিতে, যাতে উৎসুক ছেলেমেয়েরা ফরম্যাটটি দেখে হাতে-লেখা আবেদনপত্র আইএসিএস-এ জমা দিতে পারে। কয়েকটি স্কুলে, যেখানে আমাদের পরিচিত শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন, সেখানে জানলাম নোটিস বোর্ডে কিছুই লাগানো হয়নি ও তাঁরা এ বিষয়ে একেবারেই অবগত নন। ঠিক হল, খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে এবং স্কুলে স্কুলে গিয়ে হেডমাস্টারদের সঙ্গে দেখা করা হবে। বিজ্ঞাপন তো বেরোলো, কিন্তু অন্যটি তো প্রায় অসম্ভব কাজ। যাঁরা সবচেয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রিন্সিপাল, তাঁরা অফিসে ঢুকতে দিয়ে বললেন, কাগজটা ট্রে-তে রেখে যেতে, পরে দেখবেন। যা-ই হোক, খবরের কাগজের কল্যাণে এবং পরিচিত লোকেদের সাহায্যে স্কুল শুরু হয়ে গেল।

এই বারে অভিভাবকদের সন্দেহের পালা। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, অথচ এই ক্লাসের জন্য কোনও মাইনে দিতে হয় না— এর মধ্যে নিশ্চয়ই কোনও গোলমাল আছে। এক দিন এক জন প্রশ্ন করলেন, এই ক্লাস নেওয়ার জন্য আপনারা বক্তাদের কত পারিশ্রমিক দেন। জানানো হল, কিছুই দেওয়া হয় না— আসা-যাওয়ার ট্যাক্সিভাড়াই কেবল দেওয়া হয়। ওঁরা উপদেশ দিলেন, তা হলে ছেলেমেয়েদের থেকে একটা ফি নিন এবং তা থেকে বক্তাদের পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করুন। নইলে ওই কর্পোরেশন স্কুলের অবস্থা হবে! টাকা আনা পাইয়ের মানদণ্ডে... তাও এই শতাব্দীর একেবারে শুরুতে। আরও দশ বছর পরে অবস্থা কোথায় দাঁড়াবে, সেটা সে দিন সত্যিই বুঝতে পারিনি।

বুঝতে পারিনি, কারণ যারা শিখতে এসেছিল এবং যাঁরা শেখাতে এসেছিলেন, তাঁদেরকে নিয়ে খুব ভাল ভাবে ওই দুই মাস কেটে যেত। ভিন্ন চোখে চেনা জিনিস দেখা অথবা সম্পূর্ণ অজানা জিনিস এক জন বিশেষজ্ঞ সহজ-সরল ভাষায় চোখের সামনে তুলে ধরেছেন— এটা ছিল নির্ভেজাল আনন্দের উৎস। গ্রীষ্মকালীন ওই স্কুলে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, ম্যাথমেটিক্সের পাশাপাশি চলেছে ইতালির রেনেসাঁসের সময়কার আঁকা ছবির বিশেষত্ব বোঝা, ‘রক্তকরবী’ কী করে বুঝতে হয় জানা, ম্যাক্রোইকনমিক্স কাকে বলে, সেই সময় সদ্য তৈরি ডাকওয়র্থ-লুইস রুল দিয়ে কী ভাবে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় টার্গেট ঠিক করা হয়, চার-পাঁচশো বছর আগে লন্ডন শহরের চেহারাটা কেমন ছিল এবং সেখানে বিভিন্ন শ্রেণির দর্শকদের জন্য কী ভাবে শেক্সপিয়র তাঁর নাটকগুলি উপভোগ্য করে তুলেছিলেন, ফুটবল খেলায় কোচের কাজ কী, ডিকনস্ট্রাকশন কাকে বলে, নাট্যমঞ্চে আলো কী ভাবে ফেলতে হয়, বাংলা বানানের জটিলতা, আধুনিক ছবি কী করে বুঝতে হবে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের কাঠামো, রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতা, চিকিৎসকের জন্য লজিক কেন অপরিহার্য— এই সব কিছুই। কঠিন জিনিস সহজ ভাষায়, কিন্তু তার কাঠিন্য বর্জন করে নয়।

বিভিন্ন বছরে বিভিন্ন বিষয়ে বলতে আইএসিএস-এর এই স্কুলে এসেছিলেন সুকান্ত চৌধুরী, স্বপন চক্রবর্তী, সুপ্রিয়া চৌধুরী, অম্লান দাশগুপ্ত, তপোব্রত ঘোষ, অরূপ মল্লিক, জয় গোস্বামী, প্রকাশ কর্মকার, খালেদ চৌধুরী, অশোক মুখোপাধ্যায়, জ্যোতিভূষণ চাকী, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, অজয় চক্রবর্তী, শ্রীকান্ত আচার্য, রণবীর দত্ত, সমীর গুপ্ত, গৌতম ভট্টাচার্য, পথিক গুহ, যুধাজিৎ দাশগুপ্ত প্রমুখ।

কিন্তু অন্য দিকে পট পরিবর্তন হচ্ছিল।
বেড়ে উঠছিল বিভিন্ন প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দাপট, প্রত্যেক মে মাসের রবিবার রবিবার নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিশন টেস্ট, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ফলাও করে খবরের কাগজে বেরোচ্ছে বিদেশি কোম্পানিরা বি টেক পাশ করা ছেলেমেয়েদের কত কোটি টাকার চাকরি দিচ্ছে। ঘরে ঘরে অভিভাবকরা ভাবছেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের কপালেও এটা নাচছে। এক বার শুধু কোনও ভাবে অ্যাডমিশন টেস্টটা পার হলেই হল। সারা মে মাস যদি স্বপ্নের চাকরির আশায় অ্যাডমিশন টেস্ট দিতে হয়, তা হলে ছেলেমেয়েরা অদরকারি লেখাপড়া শিখে সময় নষ্ট করবে কেন? তার পর এল কোর্টের নির্দেশ— জুন মাসের মাঝামাঝি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করতে হবে। দু’মাসের বিশ্রাম কমে হল দু’সপ্তাহ।

কিন্তু শুধু সময়ের অভাব নয়, টাকার দুর্নিবার আকর্ষণ ও শিক্ষার ব্যাপারে শিক্ষাদাতাদের অনীহা আইএসিএস-এর এই নতুন প্রচেষ্টার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায় কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আর অজানা নয়। স্কুলের শিক্ষকরাই বলে দেন কোন কোন কোচিং ক্লাসে যেতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান কোন অ্যাডমিশন টেস্ট-এর (টাকার খনির সন্ধানে প্রথম পদক্ষেপ) জন্য সবচেয়ে ভাল। বোঝার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু পরীক্ষা পাশের স্ট্র্যাটেজি। কোনও ভাবে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়ে গেলে ম্যানেজমেন্ট পড়ার পাঠশালায় ভর্তি হওয়ার পথ খানিকটা সুগম হয়— সেখানেই তো অর্ধেক রাজত্ব ও রাজকন্যা। নিউটনের সূত্র কব্জা না করে মানুষ কব্জা করার পদ্ধতি শেখা অনেক বেশি চিত্তপ্রফুল্লকর। অভিভাবকরাও প্রস্তুত বিনা দ্বিধায় অর্থব্যয় করে এই নতুন ‘শিক্ষাব্যবস্থা’কে বলবৎ রাখতে। এটা আজ অধিকাংশ বাবা-মায়ের কাছে অকল্পনীয় যে, একটি প্রতিষ্ঠান কোনও পয়সা না নিয়ে তাঁদের ছেলেমেয়েদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা করবে। তাই বিভিন্ন স্কুলের হেডমাস্টারমশাইদের কাছে ‘আইএসিএস-এর সামার স্কুল করে ছাত্রছাত্রীরা কী পাবে’ প্রশ্নের কোনও সদুত্তর নেই।

বিগত চার-পাঁচশো বছরে পৃথিবীতে জ্ঞানের অগ্রগতি হয় মূলত এক শতাব্দী থেকে আর এক শতাব্দীতে। একটা নতুন চিন্তাধারা জনজীবনের অংশ হওয়ার সময় পেয়েছে। তার পর প্রয়োজন মতো তার বিকাশ অথবা পরিবর্তন ঘটেছে— সব কিছু চলেছে মন্থর গতিতে। ভারতবর্ষ ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে একবিংশ শতাব্দীতে ডবল প্রমোশন পেয়েছে— চিন্তাশক্তি ব্যবহার করে আনন্দলাভের অভ্যাস তাই হয়নি। হয়েছে শিক্ষালাভের আগে বিপুল অর্থলাভের নেশা। আইএসিএস-এর নতুন প্রজন্ম এত বাধা সত্ত্বেও স্কুলটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ‘তবু আশা জেগে রয়...।’