জানুয়ারি, ১৯৯৪। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জন্মশতবর্ষ। কলকাতার ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্স সেই উপলক্ষে আয়োজন করেছে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আলোচিত হবে সত্যেন্দ্রনাথের গবেষণার বিষয়— কণা পদার্থবিদ্যা। ও ব্যাপারে বিশ্বের প্রথম সারির গবেষকরা আমন্ত্রিত। আছেন তাঁদের মধ্যে বিশেষ এক জন। হার্ভার্ড এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড গ্রস। যিনি পরে নোবেল প্রাইজ পাবেন ফিজিক্সে। সম্মেলন চলাকালীন উদ্যোক্তারা এক দিন আয়োজন করেছিলেন প্রেস কনফারেন্সের। আর সেখানে অন্য বিশিষ্টজনের পাশে বসেছিলেন গ্রস। সাংবাদিকদের প্রশ্নপর্ব শেষ হলে তিনি বললেন, ‘‘এ বার আপনারা আমার একটা প্রশ্নের জবাব দেবেন?’’ এক জন প্রথম সারির বিজ্ঞানীর সাংবাদিকদের কাছে কী জানার থাকতে পারে? এটা ভেবে কাগজ-টিভির রিপোর্টার যখন ধন্দে, তখন গ্রসের প্রশ্ন: যে দেশে শূন্য (০)-এর মতো সাংঘাতিক একটা জিনিস আবিষ্কৃত হয়েছিল, সে দেশ পরে আর জ্ঞানবিজ্ঞানে তেমন এগোয়নি কেন?

বিজ্ঞানীর প্রশ্নে প্রেস কনফারেন্সে নেমে এল নীরবতা। প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের সহজাত অভ্যেস। উত্তর দেওয়া নয়। ইতিহাস বা সমাজতত্ত্বের যে গভীর জ্ঞান দাবি করে ওই প্রশ্নের উত্তর, তা ওখানে উপস্থিত সাংবাদিকের নেই। তাই গ্রস পেলেন না তাঁর কাঙ্ক্ষিত ব্যাখ্যা। তবে নিশ্চুপ সাংবাদিকরা বুঝলেন, বিজ্ঞানীর মন শুধু ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য খোঁজে না, সমাজ-সংসারের ইতিবৃত্তও জানতে চায়।

গ্রসের জিজ্ঞাসার জবাব জানা নেই, তবু প্রসঙ্গটা মনে পড়ল এক খবরে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বোদলেয়ান লাইব্রেরি জানিয়ে দিল, ভারতে ০ চিহ্নের ব্যবহার এত দিন যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রাচীন। প্রায় পাঁচশো বছর আগেকার। ভারতে ০ চিহ্নের প্রাচীনতম নিদর্শন বলতে জানা ছিল গ্বালিয়র শহরের কাছে ছোট্ট এক মন্দিরের গায়ে খোদাই করা লিপি। যা জানাচ্ছে, মন্দিরের সীমানা ২৭০ হাতx১৮৭ হাত এবং মন্দিরে দৈনিক পূজা উপচার ৫০টি মালা। ২৭০ এবং ৫০— এই দুটি সংখ্যায় জ্বলজ্বল করছে দুটি ০। মন্দিরের গায়ে এক ফলক। যা থেকে বোঝা যায় তার স্থাপনকাল ৮৭৫-৮৭৬ খ্রিস্টাব্দ। বিশেষজ্ঞরা ধরে নিয়েছিলেন, ওই নবম শতাব্দীই ভারতে ০ চিহ্নের প্রচলনের সময়। বোদলেয়ান লাইব্রেরি খবর দিল, ভারতে ০-এর ব্যবহার চালু ছিল তৃতীয় কিংবা চতুর্থ শতাব্দীতেও।

কী ভাবে মিলল সে খবর? তা হলে বলতে হয় সংস্কৃত ভাষায় লেখা এক পাণ্ডুলিপির কথা। নাম যার বাখশালী। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে পেশওয়ারের কাছে বাখশালী গ্রামে মাটির নীচে মেলে ওই পাণ্ডুলিপি। পেয়েছিলেন এক চাষি। তার কাছ থেকে সেটি হস্তগত করার পর প্রাচ্যবিদ অগস্টাস ফ্রেডেরিখ রুডলফ হর্নলি ১৯০২ সালে তা দিয়ে দেন বোদলেয়ান লাইব্রেরিকে। ১১৬ বছর ধরে বাখশালী পাণ্ডুলিপি ওই গ্রন্থাগারের তত্ত্বাবধানে। পাণ্ডুলিপি বলতে গাছের বাকলে নানা সময়ে নানা রকম লেখা। ৭০টা এ রকম ‘পৃষ্ঠা’। ও রকম পৃষ্ঠায় লেখা শয়ে শয়ে শূন্য। আধুনিক শূন্যের মতো বৃত্তাকার গোল চিহ্ন (০) নয়, বরং এক একটা ফুটকি বা বিন্দু (.)। তা হোক, তবু বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন, ওই বিন্দুই আধুনিক শূন্য চিহ্নের আদি রূপ। ওই ফুটকি থেকে শূন্য এসেছে।

কিন্তু বাখশালী পাণ্ডুলিপির বয়স কত? গাছের ছাল শুকিয়ে ঝুরঝুরে হয়ে গেছে, হাত দিলে গুঁড়ো-গুঁড়ো হয়ে যাবে, তাই বোদলেয়ান লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ ওই পাণ্ডুলিপি নাড়াঘাঁটা করতে দেননি। বয়স বিচারে বিশেষজ্ঞরা কেবল নির্ভর করেছেন তাকিয়ে দেখার উপরে। লিপির স্টাইল, ভাষারীতি ইত্যাদি থেকে বয়স অনুমান। সে সব দেখে জাপানি বিশেষজ্ঞ ড. হায়াশি তাকাও একদা বলেছিলেন, বাখশালী পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছিল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝে কোনও এক সময়।

হিসেবে এতখানি এ দিক-ও দিক! এ কেমনতর অনুমান? তাকাও সাহেবের মতামতে তাই খুশি ছিলেন না অনেকেই। অবশেষে প্রত্নবস্তুর বয়স নির্ণয়ের সেই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। রেডিয়োকার্বন ডেটিং। মানুষের হাড় বা গাছের টুকরোর ফসিলের মতো প্রত্নবস্তুতে থাকে বিশেষ জাতের কার্বন পরমাণু। যা তেজষ্ক্রিয়। অর্থাৎ, আলো বিকিরণ করে তিলে তিলে ক্ষয়ে যায়। সুতরাং, ও রকম প্রত্নবস্তুতে কী পরিমাণ তেজষ্ক্রিয় কার্বন অবশিষ্ট আছে, তা মেপে কত কাল ধরে তা ক্ষয়ে চলেছে— প্রত্নবস্তুর বয়স— বলে দেওয়া যায়। ওই পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, বাখশালী পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছিল তৃতীয় এবং চতুর্থ শতাব্দীতে। অর্থাৎ, এত দিন যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে অন্তত পাঁচশো বছর আগেও ভারতে চালু ছিল ০-এর ব্যবহার। বাখশালী পাণ্ডুলিপির সঠিক বয়স নির্ণয়ে গর্বিত বোদলেয়ান লাইব্রেরির প্রধান রিচার্ড ওভেনডেন। তাঁর মন্তব্য: ‘‘বাখশালী পাণ্ডুলিপির কালনির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের পক্ষে তো বটেই, গণিতের ইতিহাসের পক্ষেও।’’

ডেভিড গ্রস: জ়িরো, কিন্তু তার পর?

ঠিক বলেছেন ওভেনডেন। সংখ্যা আবিষ্কারের ইতিহাস মানবজাতির ইতিহাসেরও অনেকখানি। আর, আমাদের জীবনে সংখ্যার মহিমা? তা যে বলে শেষ করা যায় না। সকালে ঘুম ভেঙে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় পর্যন্ত জাগরণের প্রতিটি মুহূর্তে সংখ্যা মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত। বিশেষজ্ঞ বা পণ্ডিতদের জটিল কাজ বাদ দিলেও, আমজনতার প্রতি পদক্ষেপ সংখ্যা-নির্ভর। পাঠক, ভাবুন তো সংখ্যা বিনে আপনার একটা দিন। আর দিন বলছি কেন, কল্পনা করুন একটা মাত্র ঘণ্টা। ঘুম থেকে উঠলেন আপনি। ঘড়ি নেই, তারিখ নেই, স্টক মার্কেট রিপোর্ট নেই, খবরের কাগজে খেলাধুলোর রিপোর্ট নেই, অফিস যাওয়ার বাস নেই। সংখ্যা না থাকলে ও সব কোথায়! হ্যাঁ, ঠিক এইখানে জীবকুলে মানুষ একেবারে আলাদা সদস্য। তার ‘মানুষ’ হয়ে ওঠার পিছনে ওই সংখ্যা-জ্ঞান এবং সংখ্যা নাড়াচাড়ার ক্ষমতার বিবর্তন যেন দেবতার বর হিসেবে কাজে লেগেছে। ওই জ্ঞান এবং ক্ষমতা বিনে চারপাশের দুনিয়া অন্ধকার।

এ বার ভাবা যাক সংখ্যা আবিষ্কারের ইতিহাস। সংখ্যা নিশ্চয়ই এসেছে গণনার প্রয়োজনে। গোনার প্রধান সমস্যা সংখ্যার এক নাগাড়ে বেড়ে চলা। ওই বৃদ্ধি সামলাতে সংখ্যাকে টুকরোয় ভাগ করা জরুরি। মানে, কিছু দূর পর্যন্ত গুনে ফের নতুন করে শুরু। যত দূর পর্যন্ত এক নাগাড়ে গুনে ফের নতুন করে গণনা শুরু করা যায়, তাকে বলে ‘বেস’। হাজার হাজার বছর আগে ব্যাবিলনের মানুষ যে গণনাপদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন, তার বেস ছিল ষাট। ওই পদ্ধতির রেশ এখনও রয়ে গেছে কোনও কোনও ক্ষেত্রে। ৬০ সেকেন্ডে এক মিনিট। ৬০ মিনিটে এক ঘণ্টা। ৭৭ সেকেন্ড মানে ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ড। ৭৭ মিনিট মানে ১ ঘণ্টা ১৭ মিনিট। ৬০-এর পর থেকে নতুন করে গোনা। সুতরাং, ৭৭=১+১৭। ওই সিস্টেমে অসুবিধে ঢের। ৭৭ নাহয় ১+১৭ হল, ৩৬১৭ কত হবে? ৩৬১৭ যে ৬০x৬০+১৭। তা হলে ৩৬১৭-কে লিখতে হয় ১x১+১৭। পদ্ধতিটা নেহাতই জবরজং।

ব্যাবিলনের পরে রোম। ওই সভ্যতার গণনাপদ্ধতিও চালু ছিল হাজার হাজার বছর। সেও কম জটিল নয়। রোমানরা সংখ্যার বিভিন্ন ধাপের জন্য ব্যবহার করত ল্যাটিন বর্ণমালার বিভিন্ন অক্ষর। ১ হল I, ৫-এর বদলে V,  ১০=X, ৫০=L, ১০০=C, ১০০০=M। সংখ্যা লেখার কায়দাও জটিল। ৩ হল III বা ১১১, কিন্তু ৪ হল IV বা ১-কম ৫। ৮=VIII বা ৫১১১, কিন্তু ৯=IX বা ১-কম ১০। এ পদ্ধতিতে বড় সংখ্যা লেখা এক ঝকমারি ব্যাপার। ৩২৭৮ হবে MMMCCLXXVIII; কেন? ৩২৭৮=১০০০+১০০০+১০০০+১০০+১০০+৫০+১০+১০+৫+১+১+১= M+M+M+C+C+L+X+X+V+I+I+I

তিন হাজার দুশো আটাত্তরকে বোঝাতে ৩২৭৮-এর বদলে MMMCCLXXVIII লেখা কি সহজ কাজ? তা ছাড়া, সংখ্যা তো কেবল লেখার জিনিস নয়। নাড়াচাড়ারও জিনিস। ছোট একটা সংখ্যা যদি অত বড় আকারে লিখতে হয়, তা হলে তা দিয়ে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ কী ভাবে করা যায়? এ সমস্যা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয় ০ জিনিসটা। ৩২৭৮ যে ৩০০০+২০০+৭০+৮ (আসলে ৩ x১০০০+২x১০০+৭x১০+৮x১), তা আমাদের জানা। তাই তিন হাজার দুশো আটাত্তর বোঝাতে ৩,২,৭ এবং ৮ এই চারটে ডিজিট বা অঙ্ক পর পর লিখলেই হল।

রোমান পদ্ধতির বদলে, ১, ২, ৩,... এবং ০— এই দশ চিহ্ন দিয়ে সংখ্যা লেখায় মস্ত সুবিধে যেখানে, তা হল স্থানিক মান। রোমান পদ্ধতিতে M মানে সব সময় ১০০০। এর অন্যথা হয় না। অথচ, ৩২৭৮-এর মধ্যে কিন্তু ৮ মানে শুধু ৮ হলেও, ৭ মানে শুধু ৭ নয়। ৭ ওখানে আসলে ৭০ বোঝাচ্ছে। তেমনই ৩ বোঝাচ্ছে ৩০০০, ২ বোঝাচ্ছে ২০০। এক পদ্ধতি জবরজং, আর এক পদ্ধতি নমনীয়। এবং সে কারণে স্মার্ট। চলবে কোনটা?

অবশ্যই যেটা স্মার্ট। যা সদরে বরণ করল ওই পদ্ধতি, তা হল ব্যবসা। যেখানে প্রতি পদক্ষেপে হিসেব-কিতেব। মানে, সংখ্যা নাড়াচাড়া। গণিত-গবেষক কিথ ডেভলিন তাঁর ‘দি ম্যান অব নাম্বার্স: ফিবোনাচ্চি’স অ্যারিথমেটিক রিভলিউশন’ বইতে জানিয়েছেন এক ‘বিপ্লব’-এর কাহিনি। যুগান্তকারী সে ঘটনা ১২০২ খ্রিস্টাব্দের। ওই বছর প্রকাশিত হয় একটি বই। ‘লিবের আব্বাচি’। ভাষা ল্যাটিন। পৃষ্ঠা ছ’শো। লেখক ইতালির পিসা শহরের অধিবাসী এক লিয়োনার্দো। পরে যিনি পরিচিত হন ফিবোনাচ্চি নামে। ইতালীয় শুল্ক বিভাগের এক কর্মচারীর সন্তান লিয়োনার্দো তাঁর বাবার সঙ্গে ঘোরেন উত্তর আফ্রিকার নানা জায়গায়। সংস্পর্শে আসেন মুসলমান ব্যবসায়ীদের। লক্ষ করেন তাঁদের হিসেব-কিতেব। দশটি চিহ্ন দিয়ে অতি সহজে সংখ্যা নাড়াচাড়া। ওই পদ্ধতিতে সহজে গণনায় কৌশল ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে ফিবোনাচ্চি লিখলেন ‘লিবের আব্বাচি’। বাংলায় যার অর্থ ‘গণনার বই’। প্রকাশনার পর বইখানি বেস্টসেলার। ইউরোপের ব্যবসায়ীরা লুফে নিলেন তা। হিসেব-কিতেব যে এত সহজে করা যায়, তা তো আগে জানা ছিল না!

উত্তর আফ্রিকায় মাল কেনাবেচায় ব্যস্ত মুসলমান ব্যবসায়ীরা গণনার ওই সহজ এবং স্মার্ট কৌশল শিখলেন কোথায়? কৌশলের মূলে চিহ্ন বা অঙ্কের স্থানিক মান। ০-এর আবিষ্কার বিনে যা কল্পনা করা যেত না। তো সেই ০-এর আবিষ্কার হল কোথায়?

এ প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক জারি ছিল ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। ব্রিটিশ পণ্ডিতরা— বিশেষত জর্জ রাশবি কে— আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন এটা প্রমাণ করতে যে, ০ জিনিসটা আবিষ্কৃত হয়েছিল ইউরোপে। এবং তা ভারতে পৌঁছেছিল আরব ব্যবসায়ীদের মারফত। ওই দাবির বিরুদ্ধে জুতসই আপত্তি তেমন খাড়া করা যাচ্ছিল না। গ্বালিয়র মন্দিরে উৎকীর্ণ ০ যদি নবম শতাব্দীর শেষের দিকের ব্যাপার হয়, তা হলে তো আরব ব্যবসায়ীরা তার আগে ভারত এসেছে। ০-এর ধারণা তারা বয়ে আনতেই পারে।

১৯৩১। কে-র দাবি নস্যাৎ করে দিলেন ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক জর্জ কোদে, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বুলেটিন অব দ্য স্কুল অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ়’ জার্নালে এক পেপার লিখে। প্রবন্ধে কোদে জানালেন, ০ ভারতীয় আবিষ্কার। প্রমাণ? কম্বোডিয়ায় মেকং নদীর পাশে সাম্বর নামে একটা জায়গায় এক মন্দিরে মিলেছে এক পাথরখণ্ড। তার গায়ে পুরনো খেমের ভাষায় লেখা একটা বাক্য। যার অর্থ: ‘প়ঞ্চমী তিথির দিন শক যুগ ৬০৫ বছরে পড়ল। ৬ এবং ৫-এর মাঝে ওই ০ বলে দিচ্ছে ওর কাল। জানা আছে, শক যুগ শুরু হয়েছিল ৭৮ খ্রিস্টাব্দে। ৬০৫ বছর মানে ৬০৫+৭৮= ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে। ৬০৫-এর ০, অতএব সপ্তম শতাব্দীর ব্যাপার। ওই সময় তো আরব ব্যবসায়ীরা ভারতে আসেনি। কম্বোডিয়ার ০ ভারতের হল কী করে? কোদে-র যুক্তি, ভারতীয় সংস্কৃতিই তখন পাখা মেলেছিল গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।

ভারতে কখন কোথায় আর কার মাথায় প্রথম এসেছিল ০-এর ধারণা? না, ইতিহাসে এ সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই। আছে অনেক দাবি। যেমন, এক দাবি এই যে, ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং গণিতজ্ঞ ব্রহ্মগুপ্তের লেখা ‘ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত’ নাকি পেশ করছে ০-কে ডিজিট বা অঙ্ক হিসেবে ব্যবহারের প্রথম নমুনা।

ঊনবিংশ শতাব্দীর ফরাসি গণিতজ্ঞ পিয়ের-সিমো লাপ্লা বলেছিলেন, ‘‘সব সংখ্যা মাত্র দশটা চিহ্ন দিয়ে প্রকাশের বুদ্ধিমান কৌশল ভারত আমাদের শিখিয়েছে। এ এক বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। অথচ এত সরল যে, আমরা এর তাৎপর্য ভুলে থাকি। এটা দরকারি উদ্ভাবনের প্রথম সারিতে পড়ে। এর বিশালতা বেশি করে উপলব্ধি করা যায় এটা ভাবলে যে, আদিকালের দুই দিকপাল আর্কিমিদিস এবং অ্যাপোলোনিয়াসের মাথায়ও এটা আসেনি।’’ গণিতের ইতিহাসবিদ জর্জ ইফরা-র মন্তব্য আরও গভীর, আরও প্রশংসাসূচক। ‘দি ইউনিভার্সাল হিস্ট্রি অব নাম্বার্স: ফ্রম প্রিহিস্ট্রি টু দি ইনভেনশন অব কমপিউটার্স’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ‘এখন যেহেতু আমরা কাহিনিটার বাইরে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে তাকাতে পারি, তাই আমাদের মনে হয় সংখ্যা লেখার ওই পদ্ধতি মানুষের ইতিহাসে এক বিরাট ব্যাপার। এত বড় ব্যাপার যে, তার তুলনা হতে পারে আগুন আবিষ্কার, কৃষিকাজ প্রবর্তন, লেখা উদ্ভাবন, চাকা বানানো এবং স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কারের সঙ্গে।’

হোয়াট হ্যাজ় ইন্ডিয়া গিভেন টু দি ওয়ার্ল্ড? নাথিং। মন্তব্যটি যিনি করেছেন, তিনি হলেন গণিত বিষয়ে একাধিক বইয়ের লেখক অ্যালেক্স বেলোস। মন্তব্য সত্যিই যথার্থ। ভারত পৃথিবীকে যা দিয়েছে, তা ‘কিছু নয়’। হ্যাঁ, ওই ‘কিছু নয়’— বা শূন্য— সে আবার যে এক সাংঘাতিক আইডিয়া। কী করে ভারতের উর্বর মাটিতে জন্মাল ওই মহামূল্যবান ধারণা? তা প্রসব করল না কেন চিন বা ব্যাবিলনের সভ্যতা? উত্তর দিয়েছেন বেলোস। অনুমান করেছেন গণিতে শূন্য ধারণার উৎস। কী তা? নির্বাণ। চেতনার সেই বিশেষ দশা, যখন মন কষ্ট কিংবা লোভের ঊর্ধ্বে। নাথিং রাদার দ্যান সামথিং। ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ইতিহাসের অধ্যাপক জর্জ ঘিভার্গিস জোসেফ মনে করেন, আজ থেকে দু’হাজার বছর আগে যখন কোনও এক নাম-না-জানা ভারতীয় গণিতজ্ঞ ভেবেছিলেন যে, ওই দার্শনিক এবং সাংস্কৃতিক আইডিয়াটিকে গণিতে চালান করে দেওয়া যায়, তখনই আবিষ্কৃত হয়েছিল ০।

মূল্য নেই, তবু অমূল্য। শুধু মানুষের চিন্তাপ্রসূত গণিতে নয়, ব্রহ্মাণ্ডেও শূন্যের মহিমা যে অসীম। আর সে মহিমার থই পেতে বিজ্ঞানীদের যেন খাবি খাওয়ার দশা। হ্যাঁ, এইখানে গণিতের শূন্যের চেয়ে যেন ব্রহ্মাণ্ডের শূন্য বেশি এগিয়ে। কী রকম?  বলা যাক।

গণিতজ্ঞ এবং দার্শনিক গটফ্রিড উইলহেল্‌ম লিবনিৎজ প্রশ্ন তুলেছিলেন, হোয়াই ইজ় দেয়ার সামথিং রাদার দ্যান নাথিং? ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে এত সব পদার্থ— এ সব এল কোথা থেকে? এল কেন? প্রশ্নগুলো এক দার্শনিকের মুখে শোনা গেলেও, ওগুলো আসলে বিজ্ঞানের। উত্তর দেওয়ার দায় যেহেতু বিজ্ঞানীদের, তাই তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন তা খুঁজে বের করার। পাচ্ছেন না।

এত প্রকাণ্ড এই ব্রহ্মাণ্ড, এর জন্ম নাকি শূন্যতা থেকে। শুধু এই তথ্যটুকু জানলেই ফিজিক্সে শূন্যতার মহিমা আন্দাজ করা যায়। ঠাট্টা করে বলা হয়, এই ইউনিভার্স নাকি আল্টিমেট ফ্রি লাঞ্চ। সবার সেরা বিনে পয়সার ভোজ। সে নাহয় জন্মবৃত্তান্ত, জন্মের পরেও এই বিশ্বে শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম যে ভেল্কি দেখাচ্ছে, তা বুঝে উঠতে বিজ্ঞানীরা হিমশিম খাচ্ছেন। আর সেই সঙ্গে জানতে পারছেন অদ্ভুতুড়ে সব ব্যাপার-স্যাপার।

১৯৩০-এর দশক। প্রথমে বিজ্ঞানী পল অ্যাড্রিয়েন মরিস ডিরাক এবং পরে রিচার্ড ফাইনম্যান, জুলিয়ান শুইঙ্গার ও শিনিচিরো তোমোনাগা চেষ্টা করলেন আলবার্ট আইনস্টাইনের স্পেশাল রিলেটিভিটির সঙ্গে পদার্থবিদ্যার শাখা কোয়ান্টাম মেকানিক্স মিশিয়ে একটা তত্ত্বে পৌঁছনোর। যে তত্ত্বে ওঁরা পৌঁছলেন, তা সন্ধান দিল অবিশ্বাস্য এক সত্যের। জানা গেল, শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়াম মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। তার মধ্যে ঘটে চলেছে অনেক ঘটনা। অনেক কণা আপনা থেকে জন্মাচ্ছে, আবার আপনা-আপনি মিলিয়েও যাচ্ছে। এই জন্মানো থেকে মিলিয়ে যাওয়ার আগে এত কম সময় ওই কণাগুলো টিকে থাকছে যে, ওরা কোনও ভাবে শনাক্ত হচ্ছে না। তাই ও সব কণার নাম ‘ভার্চুয়াল পার্টিক্‌ল’। বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘মায়া কণা’। শূন্যস্থানে ও রকম কণার প্রসব ও সংহারের অবিরাম খেলা। সে খেলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে চমৎকার মন্তব্য করেছিলেন রসিক বিজ্ঞানী ফাইনম্যান। বলেছিলেন, ‘‘এ ভাবে সমানে কণা প্রসব ও সংহার করে চলা, অবিরাম এবং ক্লান্তিহীন, প্রকৃতির আর কোনও কাজ নেই না কি রে বাবা।’’

ধরা যাক, প্রকৃতিতে কোনও একটা জায়গা একেবারে খালি করে ফেলা হল। খালি মানে একেবারে শূন্য। তার মধ্যে একটা কণাও নেই। বিজ্ঞানের নিয়ম বলছে, কিচ্ছু না থাকলেও সেই শূন্যস্থানে সামান্য একটু এনার্জি পড়ে থাকবে। ওই পড়ে-থাকা এনার্জির নাম ‘জিরো পয়েন্ট এনার্জি’। শূন্যস্থান বা ভ্যাকুয়ামে লুকানো ওই শক্তি কি গণিতের কচকচি, না কি তা বাস্তবে উপস্থিত? কী করে জানা যায়? ১৯৪৮ সালে বিজ্ঞানী হেনড্রিক কাশিমির বললেন, কী ভাবে ওই জিরো পয়েন্ট এনার্জির প্রভাব শনাক্ত করা যায়। আটচল্লিশ বছর ধরে চেষ্টার পরে ১৯৯৬ সালে শনাক্ত হয়েছে সে প্রভাব। জিরো-পয়েন্ট এনার্জি দুটো ক্ষেত্রে খুব জনপ্রিয়। এক, কল্পবিজ্ঞান কাহিনিতে। গল্পে প্রায়ই জিরো পয়েন্ট এনার্জি ব্যবহার করে মহাশূন্যে দূরাভিযানে যাওয়া হয়, অথবা বোমা বানিয়ে শত্রু ধ্বংস করা হয়। দুই, জিরো পয়েন্ট এনার্জি বেশ প্রিয় কনস্পিরেসি থিয়োরিস্টদের। ওই যাঁরা সব কিছুর পেছনে চক্রান্ত খোঁজেন। ওঁদের দাবি, আমেরিকা রাশিয়া নাকি গোপনে বিলিয়ন-ডলার প্রকল্পে কাজ চালাচ্ছে জিরো পয়েন্ট এনার্জি দিয়ে সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটাতে। ও সব গাঁজাখুরি গপ্পো বাদ দিলেও জিরো পয়েন্ট এনার্জি কিন্তু বাস্তব সত্য।

শূন্যস্থানের কথা বলতে আইনস্টাইনের প্রসঙ্গ টানতে হবেই। বিশ্ব চরাচরে সর্বত্র নাকি উপস্থিত এক পদার্থ। ইথার। ব্রহ্মাণ্ড নাকি ইথারের সমুদ্রে ভাসছে। এই ছিল এক সময়ের ধারণা। সে ধারণা যে ভ্রান্ত, ইথার নামে কোনও পদার্থ যে কোত্থাও নেই, তা যাঁরা প্রমাণ করলেন, তাঁদের অন্যতম আইনস্টাইন। ইথারকে বিজ্ঞানে বাতিল আইডিয়ার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করলেও শূন্যস্থানের গভীরে লুকানো আর এক ব্যাপারের আইনস্টাইনই হদিস দিয়েছিলেন। সে এক সাংঘাতিক ব্যাপার। তার তাৎপর্য বিশাল।

জেনারেল রিলেটিভিটি হল গ্রাভিটির থিয়োরি। আর গ্রাভিটির চৌহদ্দি ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে বিস্তৃত। বিশ্বে আর কোনও বল দূরদুরান্তে কাজ করে না। জেনারেল রিলেটিভিটি আবিষ্কারের পর তার ফর্মুলার দিকে তাকিয়ে আইনস্টাইনের মনে হয়েছিল তা অ-স্থির বিশ্বের (হয় প্রসারণ অথবা সঙ্কোচনশীল) ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ দিকে তাঁর বিশ্বাস ছিল, ব্রহ্মাণ্ডে পরিবর্তন নেই। তা যে আছে, তেমন কোনও প্রমাণও ছিল না জেনারেল রিলেটিভিটি আবিষ্কারের সময়। অথচ বিশ্ব জুড়ে এত পদার্থ, সবাই এ ওকে গ্রাভিটি দিয়ে কাছে টানার ফলে ব্রহ্মাণ্ড সঙ্কুচিত হওয়ার কথা। সে প্রবণতা ঠেকিয়ে ব্রহ্মাণ্ডের আয়তন স্থির রাখা যায় কী ভাবে? অনেক ভেবে আইনস্টাইন পাল্টে ফেললেন জেনারেল রিলেটিভিটির ফর্মুলা। তাতে ঢোকালেন এমন একটা ফোর্স বা বল, যা কাজ করে গ্রাভিটির বিপরীতে। মানে, তা সব কিছু কাছে টানার বদলে দূরে ঠেলে দেয়। বিশ্ব জুড়ে গ্রাভিটি যখন ব্রহ্মাণ্ডকে সঙ্কুচিত করতে চায়, তখন সেই বল তাকে ফুলিয়ে বড় করে। নিট ফল ব্রহ্মাণ্ডের আয়তন স্থির। আইনস্টাইনের কল্পিত সেই বল স্পেস বা শূন্যস্থানের নিজস্ব গুণ।

তেমন বল কি নেহাত আইনস্টাইনের কল্পনা, না কি তা সত্যিই আছে? জবাব মিলেছে ১৯৯৮ সালে। দু’দল জ্যোতির্বিজ্ঞানী পরীক্ষা করে প্রমাণ পেয়েছেন, তেমন বল বাস্তবে বিদ্যমান। পরীক্ষার ফল দেখে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিস্মিত। বিগ ব্যাং নামে এক বিস্ফোরণে এই ব্রহ্মাণ্ড জন্মানোর পর থেকে সেই বিস্ফোরণের রেশ হিসেবে বিশ্ব ফুলে-ফেঁপে বড় হচ্ছে। অথচ ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে এত সব পদার্থের গ্রাভিটির টানে বর্হিমুখী ধাক্কায় লাগাম পড়ার কথা। জন্মের ১৩৭০ কোটি বছর পরে এখন কমে আসা উচিত ব্রহ্মাণ্ডের প্রসারণের হার। তা কতটা কমেছে, সেটা মাপতে গিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চক্ষু চড়কগাছ। দেখলেন, প্রসারণের হার তো কমছেই না, বরং তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মানে, ব্রহ্মাণ্ডে এত সব পদার্থের গ্রাভিটির টানকে পরাজিত করে এগিয়ে চলেছে শূন্যস্থানের নিজস্ব শক্তি। সে শক্তির উৎস যে কী, তা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। উৎস জানা নেই, তাই ওই শক্তির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডার্ক এনার্জি’।

তাঁর আবিষ্কৃত E=mc2 ফর্মুলায় আইনস্টাইন প্রমাণ করেছিলেন, পদার্থ আর এনার্জি একই জিনিস। পয়সার এ পিঠ-ও পিঠ। তো বিশ্বের মোট পদার্থ বা এনার্জির হিসেব কষতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা ধন্দে পড়েছেন। দেখেছেন, ওই পরিমাণটার উপাদান তিন। প্রথম, গ্রহ তারা গ্যালাক্সি মিলে যে রকম পদার্থ আমরা চিনি, তা। দ্বিতীয় উপাদান হল ও সবের বাইরে এমন এক জাতের পদার্থ, যার স্বরূপ আমরা এখনও বুঝিনি। বুঝিনি, তাই ও রকম পদার্থের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডার্ক ম্যাটার’। ব্রহ্মাণ্ডের তৃতীয় উপাদান হল ওই ডার্ক এনার্জি। এই তিন উপাদানের কার পরিমাণ কত? বিস্ময় সেখানেই। দেখা গেছে, গ্রহ তারা গ্যালাক্সি এই ব্রহ্মাণ্ডের মোট উপাদানের মাত্র ৪ শতাংশ। ২৬ শতাংশ হল ডার্ক ম্যাটার। বাকি ৭০ শতাংশ? হ্যাঁ, তা হল ওই ডার্ক এনার্জি। ব্রহ্মাণ্ডের প্রায় বারো আনাই তা হলে শূন্যস্থানে লুকানো এনার্জি।

সেই এনার্জিরও আবার কী অপার মহিমা! শূন্যস্থানের নিজস্ব এনার্জি গণনা করতে বসে বিজ্ঞানীরা তার যে পরিমাণ খাতায়-কলমে পাচ্ছেন, তা বিশাল। অথচ, পরীক্ষা ওই এনার্জির যে পরিমাণ দেখাচ্ছে, তা একরত্তি। দ্বিতীয়টা প্রথমটার কত ভগ্নাংশ? ১-এর পর ১২০টা ০ বসালে যে সংখ্যা হয়, তত ভাগের এক ভাগ মাত্র! তাত্ত্বিক গণনা আর পরীক্ষালব্ধ ফলের এ হেন বৈষম্য, নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী স্টিভেন ওয়েনবার্গের মতে, ‘গবেষকদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা’।

বৈষম্যের কারণ খুঁজতে বিজ্ঞানীরা হিমশিম। কারও কাছে সদুত্তর নেই। না থাক, একটা ব্যাপার কিন্তু বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট বুঝছেন। শূন্যস্থানের এনার্জির অত কম মান— যে মান দেখা যাচ্ছে পরীক্ষায়— তা ভীষণ জরুরি। ওই এনার্জি যেহেতু কাজ করে গ্রাভিটির বিপরীতে, তাই ওই এনার্জির পরিমাণ এক চুল বেশি হলেও বিপদ ছিল। গ্রাভিটি তা হলে ব্রহ্মাণ্ডে হাজির পদার্থ কাছে টেনে বানাতে পারত না গ্রহ তারা গ্যালাক্সি। ব্রহ্মাণ্ডে থাকত না প্রাণ। থাকতাম না মানুষ আমরা। শূন্যস্থানের এনার্জি খুব— খু-উ-ব— কম বলেই আমরা মানুষেরা রয়েছি এই বিশ্বে। আমাদের অস্তিত্ব, সুতরাং, নির্ভর করছে শূন্যস্থানের এনার্জির ওই মাত্রার ওপর।

শূন্যস্থান, বা শূন্য, ব্যাপারটা তা হলে এত গুরুত্বপূর্ণ!