বিরূপাক্ষ বটব্যাল দুঁদে সরকারি উকিল। তার প্রখর বুদ্ধির কাছে প্রতিপক্ষেরা গড়াগড়ি খায়। সাক্ষীরা বিরূপাক্ষকে দেখে থরহরিকম্প হয়ে সাক্ষ্যদান থেকে বিরত হয়ে কোনওমতে নিজের প্রাণ বাঁচায়। সে দিন যেমন একটা কেসে শুধুমাত্র সাদা কাগজ দেখিয়ে প্রধান সাক্ষীকে এমন ভড়কে দিয়েছিল বিরূপাক্ষ, সে সাক্ষী বেচারি পালাতে পথ পায় না। তাই নবীন উকিলেরা বিরূপাক্ষের স্নেহধন্য হওয়ার প্রয়াসে তার গায়ে এঁটুলির মতো আটকে থাকে। 

অনিকেত ওকালতি পাশ করার পরে ভীষণ উৎসাহ নিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করেছিল। কিন্তু তিন মাস যেতে না যেতেই তার উৎসাহে ভাটা পড়তে শুরু করল। এই তিন মাসে তার হাতে গুটিকয়েক এফিডেভিট ছাড়া আর কিছুই আসেনি। বিরূপাক্ষ বটব্যালকে তত দিনে অনিকেত চিনে ফেলেছে। কিন্তু তোষামোদি ধাতে নেই বলে বিরূপাক্ষের পরিমণ্ডলে ঢোকার চেষ্টা করেনি সে। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কোর্টে আসার সময় হঠাৎ একটা বাইক ঘচাং করে এসে অনিকেতের পায়ে দিল গুঁতো। সেই রামগুঁতুনিতে অনিকেত ডিগবাজি খেয়ে পপাত ধরণীতল। সে পায়ে হাত বুলোতে বুলোতে উঠে বসে দেখতে পেল এক তন্বী, দিঘল আঁখি, মুক্তবেণী তার সামনে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটি বাইক থেকে নেমে এসে অনিকেতকে বলে ‘‘স্যরি বস, রামখিলনের চক্করে কেসটা খেয়ে গেলাম, তুমি মাইন্ডে নিও না বস, এখন একদম সময় নেই, রামখিলনকে পুলিশে তুলে নিয়েছে। মুন্নিটা একা রয়েছে, তুমি আজ বিকেল পাঁচটার সময় ‘কফি সেন্টারে’ চলে এস, তখন দোস্তি আর মাফি চেয়ে নেব।’’ কথা শেষ করে বাইকে স্টার্ট দিতে দিতে সে বলে, ‘‘একটা কথা বলে যাই বস, দেরি করবে না, দেরি হলে আমার মাথাটা কেমন হয়ে যায়। তখন হয়তো চাকাটা বুকেই…’’ অনিকেতকে কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ভোঁ করে বাইক চালিয়ে দেয় মেয়েটি।

কিছুটা কৌতূহলবশত অনিকেত পাঁচটার সময় কফি সেন্টারে হাজির হয়, দূর থেকে মেয়েটিকে বাইকে চেপে আসতে দেখে। মেয়েটি এসে বাইকটা দাঁড় করিয়ে অনিকেতকে বলে, ‘‘এই তো ঠিক সময়ে এসে পড়েছ দেখছি, এ বার আমার জন্য লক্ষ্মী ছেলের মতো কফি আর দু’প্লেট চিকেন পকোড়ার অর্ডার দাও দেখি, নাড়িভুঁড়ি জ্বলে যাচ্ছে, আরশোলা পেলে খেয়ে দেব।’’ অনিকেত গোমড়া মুখে অর্ডার দেয়। বেয়ারা এসে প্লেটগুলো টেবিলে নামাতেই একপ্রকার ছিনিয়ে নিয়ে খেতে শুরু করে দেয় মেয়েটি।

কফি খেতে খেতে মেয়েটি অর্থাৎ নন্দিনী অনিকেতকে যা বলে তার সারমর্ম হল, রামখিলন নামক এক মাদারিওয়ালা একটা বাঁদরিকে দিয়ে মাদারির খেলা দেখাত। অকৃতদার রামখিলন বাঁদরিটিকে কন্যাবৎ মানুষ করেছিল। খেলা দেখিয়ে বাপ-বেটির কোনও রকমে গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছিল। সম্প্রতি তাদের খেলা দেখার ‘কদর দান’ পাওয়া যাচ্ছিল না। গোল বাধল তাই নিয়েই। কারণ মুন্নি অর্থাৎ রামখিলনের কন্যাটি পাড়ার লোকের বাড়িতে ঢুকে খাবার তুলে নিয়ে আসছিল, বাধা দিতে গেলে ঠাসঠাস করে চড় মারছিল, তাই পাড়ার লোকেরা একযোগে রামখিলনকে পাততাড়ি গোটাতে বলেছে। কাল এই নিয়ে হুলস্থূল কাণ্ড রামখিলনের বাড়িতে। নন্দিনী না গেলে উত্তেজিত জনতা বাপ-বেটিকে আড়ংধোলাই দিতে দিতে ভবলীলাই সাঙ্গ করে দিত। আজ ওরা রামখিলনকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। মুন্নি হাবিলদারের হাতে কামড়ে দিয়ে গাছে উঠে বসেছিল। নন্দিনী ওকে সেফ জায়গায় রেখে এসেছে। নন্দিনী বলে, ‘‘বস, তোমার কালো কোট দেখে বুঝেছিলাম তুমি একটা খচ্চরের ভায়রাভাই!’’ অনিকেত ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে নন্দিনীর দিকে তাকায়। ‘‘যাই হোক, সাত দিন সময় দিলাম, আমার কেসটা যেন রফাদফা হয়ে যায়,’’ এই বলে সে তিনটে দু’হাজার টাকার নোট অনিকেতকে দেয়। অনিকেত ভয়ে ভয়ে বলে, ‘‘আমায় কী করতে হবে?’’ নন্দিনী খেঁকিয়ে বলে, ‘‘রামখিলনকে ছাড়াতে হবে, আর মুন্নিকে উপযুক্ত বাসস্থান দিতে হবে। আমার এক চেনা কালো কোট আছে, তার কাছে গেলেই কেসটা তিন দিনে সালটে দেবে, কিন্তু ওখানে গেলে কিচাইন হয়ে যাবে, মুন্নিটা ওকেও ঠাস করে এক চড় কষিয়ে দিয়েছে।’’ অনিকেত জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে নন্দিনীর দিকে তাকায়, সে বলে ‘‘ওর নাম বিরূপাক্ষ বটব্যাল। আমার বাবা!’’

অনিকেতের কাছে যে একটা সুবর্ণসুযোগ এসেছে তা সে বুঝতে পারে, কারণ এমন অদ্ভুত কেস যদি কোর্টে ওঠে, তা হলে বিরূপাক্ষের সঙ্গে দ্বৈরথে নামার সুযোগ পাবে সে। সে নন্দিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে আসে, আর তার কাছে যত বই ছিল সব এক জায়গায় জড়ো করে।

নির্ধারিত দিনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়, জজসাহেব বাদী-বিবাদী পক্ষের নাম দেখে অনিকেতের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘‘আপনি মামলাটি লড়ছেন?’’ অনিকেত বলে, ‘‘হ্যাঁ স্যর।’’ জজসাহেব অনিকেতকে বলেন, ‘‘বলুন, আপনার কী বক্তব্য?’’ অনিকেত গম্ভীর মুখে বইয়ের স্তূপ থেকে একটা ঢাউস বই বের করে কিছু দেখে নিয়ে বলে, ‘‘আমার মক্কেলকে সমাজ শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করছে, তার জন্য তারা দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আমার মক্কেল রামখিলন তার পোষ্যপুত্রীকে নিয়ে সুখে ঘরকন্না করছিল, কিন্তু সমাজের তা সহ্য হল না, তারা রামখিলনকে অত্যাচার করে ভয় দেখিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’’ সরকারি উকিল রমাপদ দাস বলে উঠল, ‘‘তা সমাজেরই বা কী দায় পড়েছে রামখিলন এবং তার কন্যাকে ভয় দেখানোর?’’ অনিকেত বলে, ‘‘সেটা তাদের প্রশ্ন করুন, কেন তারা বৃদ্ধ রামখিলনকে এবং মুন্নিকে মেরেছিল।’’ রমাপদ বলে ওঠে, ‘‘কে বলেছে মেরেছে? ওরা আইনের আশ্রয় নিয়েছে। মুন্নি বাড়ি ঢুকে চুরি করছিল, বাধা দিলে চড় মারছিল। তা ছাড়া জন্তুদের ঘর তো জঙ্গলে, তাকে জঙ্গলে ছেড়ে দিলেই হয়, বরং রামখিলনই ওকে আটকে রেখে আইন ভেঙেছে।’’ অনিকেত বলে ওঠে, ‘‘মিথ্যে অভিযোগ, কারণ রামখিলন মুন্নিকে খাঁচার মধ্যে আটকে রাখেনি বা গলায় বকলস পরায়নি, মুন্নি স্বাধীন ভাবেই চলাফেরা করত, তা ছাড়া রামখিলন এক বার মুন্নিকে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে এসেছিল, কারণ সে মুন্নিকে তার খোরাকি দিতে পারছিল না। কিন্তু মুন্নি আবার রামখিলনের কাছে ফিরে আসে। এর সাক্ষীও রয়েছে। আর ক’টা পেয়ারা, আলু, কলার তস্করির জন্য মুন্নিকে অভিযুক্ত করা কি ভুল হবে না ধর্মাবতার, আসলে ওরা গরিব তাই মার খেয়েও রামখিলনকে জেলে যেতে হবে, বিচার হবে, আর যারা কোটি কোটি টাকা তছরুপ করবে তাদের সমাজ বরণ করবে।’’ বিচারক মামলার শুনানি রাখলেন বুধবারে।

বুধবার আদালত চত্বরে থিকথিকে ভিড়, কারণ সবাই এই অভূতপূর্ব মামলার কথা মিডিয়া মারফত জেনে গিয়েছে। জজসাহেব বিরূপাক্ষকে হায়ার করেছেন, রামখিলনের পাড়ার লোকেদেরও ডাকা হয়েছে। টানটান একটা উত্তেজনাময় পরিবেশ, বিরূপাক্ষ উঠে দাঁড়িয়ে অনিকেতকে চশমার ফাঁক দিয়ে দেখে বলতে শুরু করল, ‘‘স্যর এই কেসটায় মহামান্য আদালতের সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছু নেই, একটা মানুষ যদি পাগল হয়ে গিয়ে থাকে তাকে আমরা সমাজের বৃহত্তর প্রয়োজনে আদর করে বাবা-বাছা বলে কাছে ডাকি না, ঠিক তেমনই এই বাঁদরিটির ক্ষেত্রেও একই জিনিস প্রযোজ্য। ওই পাড়ার কয়েকজনকে আমি সাক্ষী হিসাবে কাঠগড়ায় ডাকতে চাই।’’ জজসাহেবের অনুমতি নিয়ে পরপর তারা তাদের বক্তব্য পেশ করে। বিরূপাক্ষ এ বার অনিকেতের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘‘কি হে আর কিছু বলার আছে তোমার? এ তো স্পষ্ট, বাঁদরিটি বর্তমানে পাগল হয়ে গিয়েছে, পাগল হলে মানুষকেও অ্যাসাইলামে যেতে হয়।’’ অনিকেত নিজের কাছে রাখা ঢাউস বইটা দেখে নেয় কিছু ক্ষণ, তার পর দাঁড়িয়ে বলে, ‘‘মহামান্য আদালতকে আজ একটা কথা বলতে চাই, পিতা সন্তানের সাবালকত্ব হওয়ার আগে পর্যন্ত ভরণপোষণ করেন, রক্ষা করেন, পিতা বৃদ্ধ হয়ে গেলে সন্তানের দায়িত্ব তাকে প্রতিপালন করা। আমরা মনুষ্য প্রজাতি হয়তো এ কথা ভুলে যাই, কিন্তু মুন্নি ভোলেনি। রামখিলন তাকে জন্ম থেকে প্রতিপালন করে বড় করে তুলেছে। আজ রামখিলন উপার্জনে সক্ষম নয়, তাই মুন্নি পাড়াপড়শির বাড়ি থেকে খাদ্য নিয়ে পিতাকে ক্ষুধার অন্ন জোগাত। এটা কি পাগলামির লক্ষণ? এটা যদি পাগলামি হয় আমি এ রকম পাগলামি করতে রাজি আছি।’’ বিরূপাক্ষ পাল্টা বলে, ‘‘তা হলে মারত কেন?’’ অনিকেত হঠাৎ তার ঢাউস বইটা দু’হাতে তুলে মারমুখী হয়ে বিরূপাক্ষের দিকে তেড়ে যায়, বিরূপাক্ষ তুতলে উঠে বলে ‘‘কক...কী হচ্ছে! একে ধরো!’’ এই বলে নিকটস্থ হাবিলদারের ডান্ডাটি নিয়ে অনিকেতকে মারতে যায়। অনিকেত এ বার স্বাভাবিক হয়ে বলে ‘‘মহামান্য আদালত, আপনারা দেখুন, বিপদের আঁচ পেলে মনুষ্য প্রজাতি আত্মরক্ষার নিমিত্তে আক্রমণকারীকে মারতে উদ্যত হয়, মুন্নিও আত্মরক্ষার নিমিত্তে মারত।’’ বিরূপাক্ষ এই জবাবে অভ্যস্ত নয়। সে রেগে গিয়ে বলল ‘‘থামো হে ছোকরা, বাঁদরিটা যে লোকের বাড়ির সামনে মলত্যাগ করে আসে তার বেলা?’’ 

অনিকেত বলে, ‘‘ওকে ছোটবেলা থেকে শেখান হয়েছে ওই কর্মটি বাড়ির বাইরে করতে হয়। আর রামখিলনের বাড়িতে শৌচালয় নেই। তাই সে বাইরে গিয়ে মলত্যাগে অভ্যস্ত।  আচ্ছা আমরা কী করি? বাড়িতে শৌচালয় থাকতেও বাইরে ফাঁকা দেওয়াল দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়ি, সে দিনই দেখলাম জজসাহেবের বাড়ির দেওয়ালে লেখা ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’, সেটা কি অন্য প্রাণীদের উদ্দেশ্যে লিখিত না কি মনুষ্য প্রজাতির উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপিত?’’ জজসাহেব এ বার নড়েচড়ে বসেন। বিরূপাক্ষ উকিল এ বার ফাঁপরে পড়ে বলে, ‘‘রামখিলনের উচিত ছিল বাঁদরিটির হাত বেঁধে দিয়ে তার পর বাইরে বেরোতে দেওয়া।’’ অনিকেত বলে, ‘‘তা হলে তো যারা গুন্ডামি করে রাস্তায় মারপিট করে তাদের সব সময় হাতকড়া পরিয়ে রাখা উচিত। এ রকম আইন করলে ধর্ষকদের বেলায় কী করবেন?’’ অনিকেত এ বার জজসাহেবের উদ্দেশে বলে, ‘‘স্যর একটু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বাঁদরির আচরণগুলিকে দেখা উচিত। সব কিছু কি আইন মোতাবেক হওয়া সম্ভব? না কি হয়? দেখুন মুন্নি আজ সকাল থেকে কোর্টরুমে বসে আছে, কেউ সাড়াশব্দ পায়নি।’’

জজসাহেব আর বিরূপাক্ষ আঁতকে উঠে বলল, ‘‘কই!’’ নন্দিনী তখন প্যান্ট-শার্ট আর টুপি পরিহিত মুন্নিকে কোলে করে সামনে নিয়ে আসে, জজসাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে বলেন ‘‘ঠিক আছে, ঠিক আছে, দেখে নিয়েছি।’’ বিরূপাক্ষ বলে, ‘‘কী আপদ, এ তো ঘরশত্রু বিভীষণ!’’

কিন্তু এই দিনের পরে পাড়ার পরিবেশটাও পাল্টে যায়। লোকেরা যারা কিনা মুন্নিকে দেখলেই রেগে উঠত, তারাই চাঁদা তুলে পাড়ায় একটি হনুমান মন্দির করে দেয়। রামখিলনকে মন্দিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুন্নির ঠাঁই হয় মন্দিরের হরিতকী তলায়, ও এখন সেলেব্রিটি। লোকে আসে ওকে দেখার জন্য। প্রণামীর টাকায় বাপ-বেটির কষ্ট দূর হয়েছে।

অনিকেত সে দিন রোজকার মতো কোর্টের দিকে যাচ্ছিল, এমন সময় একটি গাড়ি তার সামনে এসে দাঁড়ায়। অনিকেত দেখতে পায়, বিরূপাক্ষ আর নন্দিনী গাড়ি থেকে নামছে। বিরূপাক্ষ এসে বলে, ‘‘শোনো হে ছোকরা, আজ নন্দিনী একটা আবদার করেছে, সে বলেছে যে আমি যদি অনুমতি দিই তা হলে সে একটা জম্পেশ করে প্রেম করবে। আমি বললাম, মূর্তিমানটি কে? সে তখন তোমার নাম বলল। আমি তাকে সটান শুনিয়ে দিয়েছি কখনও নয়, ওকে প্রেম নয় ওকে বিয়ে করে ফেল দেখি, ও স্বয়ং রামচন্দ্র! দেখলি না ভক্তের বিপদে কী ভাবে বাঁচাল!’’ অনিকেত বিরূপাক্ষকে প্রণাম করে। বিরূপাক্ষ নন্দিনী এবং অনিকেতকে বলে, ‘‘আচ্ছা বাপু তোমরা আমার খটকা দূর করো দেখি, অনিকেতের ঢাউস বইটায় কী ছিল?’’ 

অনিকেত মুচকি হেসে বলে, ‘‘আজ্ঞে ওই ঢাউস বইটা আসলে একটা অভিধান। বুদ্ধিটা এসেছে গোপাল ভাঁড়ের ‘খট্টাঙ্গপুরাণ’ পড়ে। যেখানে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় দেশ-বিদেশ থেকে আসা পণ্ডিতদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য তিনি পুঁথির বদলে কাঠের পাটাতন লাল শালুতে মুড়ে নিয়ে আসেন। তাই দেখে পণ্ডিতেরা ঘাবড়ে গিয়ে ভাবেন,  বাপ রে, না জানি সে কত বড় পণ্ডিত।’’

অনিকেতের কথা শুনে স্তম্ভিত বিরূপাক্ষ। তার পরে ঘোর কাটতে বলে, ‘‘আয় বাবা বুকে আয়, আমার উত্তরাধিকারী চলে এসেছে।’’