• স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

চুয়ান্ন

পূর্বানুবৃত্তি: অনেক বুঝিয়েও পুঁটিকে স্বাভাবিক করতে পারে না রিজু। কাজকর্মে মন বসে না পুঁটির। ‘মার্চেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ়’-এর অফিসে বাগালের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে পুঁটির সঙ্গে দেখা হয় লামাদাদুর। লামাদাদু তাকে বলে বাড়িতে চোর আসার কথা, ছাদে পাখিদের খেলার জায়গা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ সব মনে দাগ কাটে না পুঁটির। সে রিজুর সঙ্গে বাগালের অফিসে পৌঁছয়।

Smaranjit Chakraborty
ছবি: অমিতাভ চন্দ্র

আমার গালাগালি খেয়ে রিজু বলল, ‘‘হ্যাঁ, সেই তো! আজকাল মনের কথা বললেই খিস্তি খেতে হয়। তুই যাবি? না আমি গিয়ে কথা বলছি!’’ কথাটা বলে আর অপেক্ষা না করে রিজু এগিয়ে গেল রিসেপশনের দিকে। আমি দূরেই দাঁড়িয়ে রইলাম। পৃথিবীর কোনও মেয়ের প্রতিই আমার আর আগ্রহ নেই। আমার কানে শুধু একটা গলার স্বরই ঘুরছে। আর খালি মনে হচ্ছে এনা এটা পারল কী করে! ধুর শালা! মনে হল নিজের কানের গোড়ায় এ বার নিজেই দিই এক ঘা।

দু’মিনিট পরে রিজু ফিরে এসে বলল, ‘‘চল, চল। বাগালে সাহেব আছেন আজ। ভিজ়িটার্স রুমে বসতে বললেন, দশ মিনিটের মধ্যে ডেকে নেবেন।’’ 

সামনের কাচের দরজার ও পারে একটা করিডর। এক জন বেয়ারা গোছের লোক আমাদের নিয়ে গিয়ে বসাল সেই করিডরের পাশের 

একটা ঘরে।

কাচের দেওয়াল ঢাকা ঘর। নরম কালো ফ’লেদারের সোফা। ঘরে আমরা ছাড়াও আর এক জন বসে রয়েছে। লোকটাকে দেখেই আমার মনটা কেমন যেন করে উঠল। একে আমি চিনি। আমাদের অফিসে এর কথা শুনেছি। নিজের কোনও কোম্পানি নেই লোকটার। কিন্তু কাজ পাইয়ে দেওয়ার দালালি করে। নাম চন্দন সিং। 

মনে পড়ল, বাবা এক বার আমাদের অফিসের ফাইন্যান্স ম্যানেজার রবিদাকে বলেছিল, ‘‘ওই লোকটা এলে একদম ঢুকতে দেবে না। ওর মতো জালিয়াত কমই আছে। বুঝলে? মহা চোর লোকটা।’’

সুজয়দার কাছে শুনেছি, এক বার আমাদের প্রায় আঠেরো লাখ টাকা চোট হয়ে গিয়েছিল। খুব আনফেয়ার আর নোংরা একটা লোক এই 

চন্দন সিং।

আমি চোয়াল শক্ত করে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। কিন্তু আমি মুখ ঘোরালেই যে জীবনও আমার থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে, তেমন তো নয়। 

দেখলাম নিজের সিট থেকে উঠে লোকটা গুটিগুটি পায়ে আমার কাছে এসে দাঁড়াল। মাংসল চওড়া মুখ। চোখে চশমা। দাড়ি-গোঁফ কামানো। চল্লিশ-বিয়াল্লিশের মতো বয়স।

আমি না দেখার ভান করলাম। আর আচমকা মোবাইলের অভাব অনুভব করলাম খুব। ইস! ওটা থাকলে জরুরি কিছু কাজ করার ভান 

করে মাথা নামিয়ে রাখা যেত। বুঝতে পারলাম, আমাদের শহরে এত মানুষ যে সারা ক্ষণ মোবাইলে মাথা গুঁজে থাকে, সেটা আসলে চার পাশ থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য, সরে থাকার জন্য। এখনকার দিনে মোবাইল হল নিজেকে ঢেকে রাখার মুখোশ।

‘‘এক্সকিউজ় মি, তুমি সবুজস্যরের ছেলে, না?’’ চন্দন আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।

আমি কী করব বুঝতে পারলাম না কয়েক মুহূর্তের জন্য। তার পর ভদ্রতাবশত হাত বাড়িয়ে ওর হাতটা ধরলাম।

এটা যে কত বড় ভুল হল, সেটা এই মুহূর্তে বুঝলাম না। যদি বুঝতাম তা হলে কখনওই ওর সঙ্গে কথা বলতাম না। কারণ খারাপ লোকদের সব সময় এড়িয়েই থাকতে হয়।

সাবু

ইন্দ্রদার গিটারটার রং ঘন নীল। সামান্য ভারী চেহারা ইন্দ্রদার। ফর্সা। মাথার মাঝখানে সিঁথি। চোখে কালো চৌকো ফ্রেমের চশমা। ইন্দ্রদা দারুণ গিটার বাজায়। একটা ব্যান্ডও আছে। তা ছাড়াও নানা রেকর্ডিংয়ে তো বাজায়ই।

ইন্দ্রদা মাঝে মাঝেই লামাদাদুর কাছে আসে। লামাদাদুর অনেক কাজ ইন্দ্রদা করে দেয়। কোনও কারণ নেই, ভালবাসা থেকেই করে। পাড়ার বয়স্ক লোকজনদের বহু কাজকম্ম ইন্দ্রদা করে দেয়।

আজ শনিবার। ইন্দ্রদার গিটারের টিউশন নেই। তাই এসেছে লামাদাদুর সঙ্গে দেখা করতে।

আমিও এসেছিলাম। সবে উঠতে যাব, দেখলাম ইন্দ্রদা আর লেবুদা ঢুকছে।

লেবুদাকে দেখলেই আমার হাসি পায়। তবে সঙ্গে কষ্টও হয়। খুব আপনভোলা লোক। সবাই খেপাটে বলে অনেক আওয়াজ-টাওয়াজ দেয় লেবুদাকে। তাৎক্ষণিক ভাবে আমার হাসিও পায় বটে, কিন্তু সত্যি বলতে কী, তার পর কষ্টও হয়। লেবুদার মায়ের কথা ভেবেই আসলে কষ্টটা বেশি হয়। সন্তান যদি লাফিং স্টক হয়, তা হলে বাবা-মায়ের যে কী কষ্ট সেটা আমি বুঝি।

আমি হাতে হেলমেট নিয়ে বেরিয়েই যাচ্ছিলাম, ইন্দ্রদাই জোরাজুরি করে বসাল। বলল, ‘‘বোস না। কত দিন পরে দেখা হল। একটু বসে যা।’’

আমি হেলমেটটা রেখে বসলাম। 

লেবুদা আমার হেলমেটটার দিকে তাকিয়ে রইল খানিক ক্ষণ। তার পর আচমকা বলল, ‘‘আচ্ছা, বুঝলাম আজকাল সব লুকিয়ে যাওয়া হচ্ছে!’’

আমি ঘাবড়ে গেলাম। কী কেস! কী আবার লুকিয়ে গেলাম!

ইন্দ্রদা বলল, ‘‘কী লেবুদা, সাবু কী লুকোল?’’

লেবুদা বলল, ‘‘ও যে ক্রিকেট খেলে সেটা তো আমায় বলেনি!’’

আমি হাঁ হয়ে তাকিয়ে রইলাম, তার পর বললাম, ‘‘আমি? ক্রিকেট?’’

‘‘হুঁ হুঁ বাবা! আমার চোখকে ফাঁকি দেবে! অমিতাভ বচ্চনকে আমি পুরো মনের ভিতরে নিয়ে নিয়েছি! হেলমেট নিয়ে ঘুরছ, আবার বলছ ক্রিকেট খেলো না!’’ 

আমি কিছু বলার আগেই দেখলাম ইন্দ্রদা হাসতে শুরু করে দিয়েছে।

‘‘এই তুই হাসছিস কেন? আমি হাসির পাত্র?’’ ইন্দ্রদাকে বলল লেবুদা।

ইন্দ্রদা হাসতে হাসতেই বলল, ‘‘তুমি পাত্র তো বটেই, তবে ফুটো পাত্র। কত দিন তুমি ওকে দেখেছ হেলমেট পরে স্কুটি চালাতে, তাও এ সব বললে!’’

লেবুদা থতমত খেয়ে গেল। বুঝল সত্যি গুলিয়ে ফেলেছে। আমতা আমতা করে বলল, ‘‘ইয়ে ঠিক... আমি তো মজা করছিলাম!’’

আমি দেখলাম লামাদাদুও হাসছে।

ইন্দ্রদা নিজের গিটারটা কেস থেকে বের করে লেবুদাকে বলল, ‘‘এত তো বচ্চন বচ্চন করো! একটা গানের টিউন বাজাচ্ছি, বলো তো এটা কিসের টিউন? তা হলে বুঝব, তুমি এই অঞ্চলের বচ্চন। আর না পারলে জানব তুমি কেষ্ট মুখার্জিও নও।’’

‘‘গান? একদম ইজ়ি তো!’’ লেবুদা ‘ইজ়ি’ বললেও এমন মুখ-চোখ করল যেন ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালে পেনাল্টি সেভ করার দায়িত্ব পেয়েছে।

ইন্দ্রদা গিটারে একটা টিউন একটুখানি বাজাল। তার পর বলল, ‘‘বলো তো এটা কোন সিনেমার গান? হিন্ট দিচ্ছি, বাংলা ছবি কিন্তু।’’

‘‘বাংলা? মানে বেঙ্গলি?’’ লেবুদা চোখ-মুখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করল।

ইন্দ্রদা সামান্য বিরক্ত হয়ে ঝাঁঝি মেরে বলল, ‘‘না তো কি চোলাই? বলো। না কি সাবু বলে দেবে? কি রে সাবু, তুই বলে দিতে পারবি লেবুদার আগে?’’

আমি লেবুদার দিকে তাকালাম। মুখ-চোখ লাল হয়ে উঠেছে লেবুদার। যদি ওর আগে আমি বলে দিই, তা হলে?

ইন্দ্রদা আবার বলল, ‘‘নে বল সাবু।’’

কিন্তু আমি বলার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়ল লেবুদা। বলল, ‘‘বলছি। আমি বলছি। ত্রয়ী ত্রয়ী ত্রয়ী ত্রয়ী ত্রয়ী ত্রয়ী! এটা ত্রয়ী বইয়ের গান! ত্রয়ী ত্রয়ী ত্রয়ী! আমি ঠিক জানি ত্রয়ী ত্রয়ী ত্রয়ী। ত্রয়ী বই!’’

কথাটা এত বার বলে মোটাসোটা লেবুদা জিতে যাওয়ার আনন্দে কুলকুল করে ঘামতে লাগল।

ইন্দ্রদা কিছু ক্ষণ হাঁ করে তাকিয়ে রইল, তার পর বলল, ‘‘তুমি কী? এত বার কেউ বলে? চোদ্দো বার বলে তো নামটাকে ‘বেয়াল্লিশ’ বানিয়ে দিলে! আর হয়নি ওটা। ত্রয়ী-র গান নয়। অনুসন্ধান সিনেমার ‘ওঠো ওঠো সূর্যাই রে’ গান এটা! আজ থেকে তুমি বচ্চন নও, কেষ্ট মুখার্জি, যাও!’’

লেবুদার চোখগুলো গোল হয়ে গেল, ‘‘এই প্লিজ় প্লিজ় প্লিজ়, এটা কাউকে বোলো না কিন্তু। আমার প্রেস্টিজে গ্যামাক্সিন হয়ে যাবে। প্লিজ় আমার মান-সম্মান ধুলোয় লুটোবে!’’

ইন্দ্রদা হাসতে লাগল।

আমি আর পারলাম না। হেলমেট হাতে উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘‘কী হচ্ছে লেবুদা! একটা গান পারোনি বলে এমন করে কেউ?’’

লামাদাদু বলল, ‘‘তুই চললি?’’

ইন্দ্রদা আর লেবুদাকে ঘরে রেখে, লামাদাদু আমার সঙ্গে বাইরে অবধি এল।

আমি মাথায় হেলমেটটা পরে নিয়ে স্কুটিটা স্ট্যান্ড থেকে নামাতে নামাতে বললাম, ‘‘বিপাশাদিকে পাঠাব কিন্তু তোমার কাছে। চার দিকের জঙ্গল সাফ করিয়ে ফুলের সুন্দর বাগান করে দেবে। কেমন? ভুলে যাবে না কিন্তু।’’

লামাদাদু হাসল, ‘‘এ ভাবে আর কত দিন কাটাবি পাগলি? ফিজ়িক্সে এম এসসি করেছিস। বাইরে যাওয়ার পরীক্ষায় বোস না। বিদেশ থেকে পিএইচ ডি-টা করে আয়। নতুন দেশ। নতুন মানুষজন। কত অভিজ্ঞতা হবে! কত নতুন বন্ধু হবে!’’

আমি বললাম, ‘‘কেন এখানে কি খারাপ আছি? আর কলকাতায় জল উঠেছে না কি? আমাদের এনজিও-র ‘ফুড ব্যান্ডিট’ আর্মটা আমি আর নেপালদা দেখাশোনা করি। পথে থাকা, কষ্ট করে বাঁচা মানুষদের খাবার পোঁছে দিই। কত নতুন লোকের সঙ্গে দেখা হয়। আলাপ হয়। সেটা ভাল নয়? শুধু নিজের জন্য বাঁচব? আমার দ্বারা হবে না।’’

লামাদাদু হাসল। তার পর বলল, ‘‘ও তোকে বলা হয়নি। সে দিন পার্ক স্ট্রিটের মোড়ে পুঁটিকে দেখলাম। কী একটা মিটিংয়ে যাচ্ছিল। আমি কথা বললাম। কিন্তু দেখলাম কেমন যেন পালিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে! কী ব্যাপার রে! আর ওকে দেখেও কেমন খারাপ লাগল আমার। গালে না কামানো দাড়ি। চোখ-মুখ শুকিয়ে গিয়েছে। আপ্রাণ যেন ঠিক থাকার চেষ্টা করছে। কী হয়েছে ওর?’’

আমি চুপ করে গেলাম। লামাদাদুকে তো আর বলা যায় না যে পুঁটি দেবদাসের ইমপ্রুভড ভার্সন হয়েছে! তা হলে লামাদাদু আরও অনেক কথা বলবে, আরও প্রশ্ন করবে। আমার ও সব এখন ভাল লাগছে না। মাথা আবার গরম হয়ে যাবে। কাকে কী বলে দেব! তার চেয়ে চুপ করে থাকা ভাল।

আসলে আমার মাথা গরম হয়ে গেলে কী যে করে বসি তার ঠিক নেই। এই তো কালকে রাতেই দিদির সঙ্গে লেগে গিয়েছিল আমার।

কাল বাড়িতে ফেরার পথে আমি বেশ ভিজে গিয়েছিলাম। ভাল বৃষ্টি হয়েছিল সন্ধের দিকে। তাই এসেই স্নান করে নিয়েছিলাম। তার পর হাতের কাছে যে টি-শার্টটা পড়ে ছিল সেটাই পরে নিয়েছিলাম। আর সেটাই ভুল হয়েছিল আমার। কারণ ওটা দীপ্যদা দিয়েছিল দিদিকে!

দীপ্যদা তো অনেক কিছুই দেয় দিদিকে। আমি ধরেও দেখি না। কিন্তু ভুল করে পরে ফেলেছিলাম টি-শার্টটা। তাতে যে কী মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছিল আমি জানি না। কিন্তু দিদি এমন অসভ্যের মতো চিৎকার করছিল যে বলার নয়। আমি প্রথমে কিছু বলিনি। কিন্তু যেই মা-ও এসে দিদির সুরে সুর মিলিয়েছিল, তখন আর মাথার ঠিক ছিল না আমার। আমিও দিয়েছিলাম আচ্ছা করে!

বলেছিলাম, ‘‘অতই যদি প্রিয় হয় তো এখানে ওখানে ফেলে রাখিস কেন? সামান্য একটা টি-শার্ট! এত মিন মাইন্ডেড কেন তোমরা? এটা কি আমার বাড়ি নয়! সারা ক্ষণ দু’জনে মিলে আমার পিছনে পড়ে আছ! আর জিনিস সঙ্গে করে কি নরকে যাবে? স্বর্গে তো আর ঢুকতে দেবে না!’’

মা বলেছিল, ‘‘খুব চোপা হয়েছে তোর? সারা দিন লেখাপড়া না করে ধিঙ্গিপনা করে বেড়াবার সময় খেয়াল থাকে না যে তোরও একটা বাড়ি আছে! সেখানে মা বাবা আছে! তাদের একটা আশা আকাঙ্ক্ষা আছে? এখন বড় বড় কথা বলছিস?’’

আমি বলেছিলাম, ‘‘মাস্টার্সটা কি আমার মুখ দেখে দিয়েছে না কি! ফার্স্ট ক্লাস নাম্বার আছে আমার। মোর দ্যান সেভেন্টি ফাইভ পারসেন্ট! কে লেখাপড়া করেনি! টি-শার্ট থেকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছ কথাটা?’’

মা তাও হাল ছাড়েনি। বলেছিল, ‘‘এখনও চোপা করে যাচ্ছিস! আমরা মা-বাবার সামনে মুখ তুলে তাকাতাম না পর্যন্ত! কথা পর্যন্ত বলতাম না। সেখানে তোর এত চোপা!’’

‘‘মিথ্যে কথা!’’ আমি নিজেকে আটকাতে পারিনি আর, ‘‘বাবার সঙ্গে তো পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলে। আমি জানি না না কি? ব্যারাকপুর অঞ্চলে তোমাদের প্রেমের গল্প তো রূপকথা!’’

‘‘তবে রে!’’ মা আর থাকতে না পেরে এসে আমার চুলের মুঠি ধরে গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিয়েছিল। 

দিদি বলেছিল, ‘‘এই মারটা ছোটবেলায় মারলে ও এমন ছোটলোক হত না!’’

আমি আর কিছু বলিনি। এদের সঙ্গে কথা বলার কোনও মানে হয় না। আর আমার ছোটবেলায় 

হেন সপ্তাহ নেই, যে সপ্তাহে মা আমায় মারেনি। বাড়ির সমস্ত জিনিস দিয়ে মা আমায় মেরেছে। পুরনো দিনের ফেলে রাখা ভাঙা অ্যান্টেনা 

থেকে শুরু করে, হাতপাখা, ডালের কাঁটা, হাতা-খুন্তি, চিরুনি, পর্দার রড, এমনকি রুটি বেলার বেলন দিয়ে পর্যন্ত মায়ের হাতে মার খেয়েছি আমি। 

ক্রমশ

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন