দেরি হয়ে গিয়েছে। আরও আগেই বেরিয়ে পড়া উচিত ছিল। যেটুকু নিজে বওয়া যায়, কেবল সেটুকু নিয়ে। বাড়িঘর, চেম্বার-ডিসপেন্সারি তালাবন্ধ করে, জমজমাট ডাক্তারি প্র্যাকটিসের পাট চুকিয়ে, প্রতিবেশী-বন্ধুদের নীরবে বিদায় জানিয়ে। সে কি সোজা কাজ? আট বছর আগে এই বিভুঁইতে যখন পা রাখেন, কে চিনত ন্যাশনাল মেডিক্যালের সেরা ছাত্র, হেমাঙ্গিনী স্কলার সুবোধকুমার ভদ্রকে? চেনা বলতে মেডিক্যাল কলেজের এক সহপাঠী, সে-ও আর এ দেশে নেই। একা হাতে ডাক্তার ভদ্র গড়ে তুলেছেন পসার। প্লেগ মহামারীর সময়ে তাঁর সেবা আরও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে মান্দালয়ের এই শহরটিতে।

তাই ছেড়ে যেতে মন চায় না। অথচ থাকাও নিরাপদ নয়। ২৩ ডিসেম্বর ১৯৪১ জাপানিরা প্রথম বোমা ফেলেছে রেঙ্গুনে। তার পর থেকে বোমায় গুঁড়িয়ে যাচ্ছে একের পর এক শহর। দক্ষিণ থেকে উত্তরে এগোচ্ছে জাপানি সৈন্য। পিছু হঠছে ব্রিটিশ আর্মি। যদি ব্রিটিশ বর্মা ছাড়ে, ভারতীয়দের কী হবে? বর্মার বহু লোক ‘কালা’ ইন্ডিয়ানদের দেখতে পারে না। তাদেরই দেশে ভারতীয়েরা এসে ছড়ি ঘোরাচ্ছে! বছর দশেক আগে ভয়ানক দাঙ্গায় বহু ভারতীয় কচুকাটা হয়েছে।

শিউরে ওঠেন ডাক্তার ভদ্র। ইরাবতীর পাড়ে এই ছোট্ট লেনয়া শহরও বদলে যাচ্ছে। এয়ার রেডের সাইরেন বাজলেই শূন্য রাস্তায় ঘোরে কিছু লোক, হাতে ধারালো দা। গত দাঙ্গার সময়ে এমন একটা দল তাড়া করেছিল এক ভারতীয় রিকশাওলাকে। প্রাণপণে ছুটছিল লোকটা। দায়ের কোপে মাথাটা ছিন্ন হওয়ার পরেও ধড়টার মরণদৌড় থামেনি। সেই কবন্ধের পদধ্বনি ফের যেন শোনা যাচ্ছে। মার্চের মধ্যে রেঙ্গুন, মৌলমীন, পেগু, টাঙ্গু, সব বড় শহর প্রায় ভারতীয়-শূন্য।

গোড়ায় তবু মিলছিল যানবাহন। দুশো আশি টাকা খসালে প্লেনেও জায়গা মিলছিল। হাজার চারেক ভারতীয় এ ভাবে নিষ্কৃতি পেয়েছে। আরও সত্তর হাজার জাহাজে চড়ে কলকাতা বা চেন্নাই, কিংবা স্টিমারে চট্টগ্রাম। কিন্তু সে সব চলে গিয়েছে ভারতীয়দের ধরাছোঁয়ার বাইরে। পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে অচেনা রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হবে দিনের পর দিন। খাবার, বিশ্রাম, চিকিৎসার ব্যবস্থা নামমাত্র, কিংবা শূন্য। হয় আরাকান পাহাড় পেরিয়ে চট্টগ্রাম। নইলে উত্তরে মিচিনা হয়ে মণিপুরের ইম্ফল। না হলে আরও উত্তরে, অচেনা গিরিপথ দিয়ে লেডো রোড হয়ে গুয়াহাটিতে।

এই তিন রুটে বর্মা থেকে, প্রধানত পায়ে হেঁটে ভারতে এসেছেন প্রায় পাঁচ লক্ষ ভারতীয়, যাদের বড় অংশই বাঙালি। পথে আরও কত মারা গিয়েছে অনাহারে, অতি-পরিশ্রমে, সাপের কামড়ে, কলেরা-ম্যালেরিয়া-বসন্তে? কেউ বলে দশ হাজার, কেউ বলে এক লক্ষ। বাঙালিরা যা লিখে গিয়েছেন, তাতে মেলে পাহাড়ি পথের পাশে ছড়ানো আধপচা, আধ-খাওয়া দেহ। ইরাবতী নদীতে অগণিত শবের জলযাত্রা। এর পরে পরিসংখ্যান অর্থহীন।

মৃত্যু সেই যাত্রার কতখানি জুড়ে ছিল, তার আভাস মেলে আর এক স্মৃতিকথায়। আট বছরের বালিকা, মিচিনা থেকে বাবা আর মেজদির সঙ্গে রওনা দিয়েছে। ইরাবতীর ধারে রান্না হবে, বালিকা উনুন তৈরির জন্য মাটি খুঁড়ছে। এক টুকরো কাঠ দিয়ে কিছুটা মাটি ওঠাতেই হঠাৎ চোটে সংজ্ঞাহীন। পরে জানল, মাটি-চাপা একটা দেহ ছিল ওখানে। তার পা স্প্রিং-এর মতো উঠে এসে লেগেছিল তার কপালে। আর এক দিন নদীতে নেমে মেজদি ভর দিয়েছেন পাথরে। পরে বুঝেছেন, পাথর নয়, মড়া। আতঙ্কে কাঠ, বালিকা বেণু হাত ধরে পারে আনল দিদি ছায়াকে। দুই বোন ফিরেছিল দেশে, বাঙালি পেয়েছিল অভিনেত্রী সুপ্রিয়া চৌধুরীকে।   

বালিকা সুপ্রিয়া বুঝেছিলেন, প্রাণের মায়া কী। তাঁদের সঙ্গে ফিরছিলেন এক পড়শি পরিবার। স্বামী বসন্তে মারা যেতে স্ত্রী চোখের জলও ফেলেননি, কন্যার হাত ধরে চললেন সবার সঙ্গে। মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে চেনা মানুষও অচেনা হয়। সুবোধ ভদ্রের পরিবারও তার সাক্ষী। প্রাণপ্রিয় ডিসপেন্সারি ‘নলিনী মেডিক্যাল হল’ তালা দিয়ে তাঁদের যাত্রা শুরু ১৭ এপ্রিল ১৯৪২। সঙ্গে গর্ভবতী স্ত্রী, বৃদ্ধা শাশুড়ি, চার শিশুসন্তান, এবং কম্পাউন্ডার প্রসন্নবাবু।  রিফিউজি পাশ পেলেন, নম্বর ৪৫/১৩৭, ইম্ফলে পৌঁছে পুলিশকে দেখাতে হবে।

নদীর ও পারে পকোখু জেলা পেরিয়ে পাহাড়ি রাস্তা ধরে হাঁটা। জঙ্গলের কাঠকুটো দিয়ে উনুনে রান্না। চাল-ডালের লপসি, নইলে শুধু মাড়-ভাত, বুনো সব্জি। জামায় ধুলোর পরত, জুতো ফালাফালা। সেই জঙ্গলে শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়ল। জ্বর যখন খুব চড়া, মেয়ের মাথায় জল দিতে নদীতে যেতে উদ্যত হলেন সুবোধবাবু। প্রাণপণে বাধা দিলেন স্ত্রী আর শাশুড়ি। তাঁদের ভয়, বাচ্চাটাকে নদীতে ভাসিয়ে দেবেন তিনি। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এই রিফিউজি-অভিজ্ঞতা থেকে রসদ সংগ্রহ করে লেখেন ছোট গল্প ‘পলাতক।’ রেঙ্গুন থেকে প্রোম হয়ে পাহাড় পেরিয়ে চট্টগ্রাম যাত্রা। এক প্রতিবন্ধী সঙ্গীকে ইচ্ছে করে খাদে ঠেলে দেয় অন্যরা, যাতে দ্রুত এগোয় তারা। সুবোধবাবুর কন্যা অবশ্য অসুস্থতায়, পথশ্রমে মারা যায়। কোনও এক পাহাড়ি পথের ধুলোয় মিশে আছে সেই বালিকা।

‘উদ্বাস্তু’ বললে ভেসে ওঠে দেশভাগ, পুব সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষ, রিফিউজি ক্যাম্প। তার পাঁচ বছর আগে বর্মা থেকে ফেরা মানুষগুলো তেমন ছাপ ফেলেনি বঙ্গস্মৃতিতে। বর্মা থেকে ভারতে ফেরার কঠিন যাত্রাকে এক গবেষক বলেছেন ‘দ্য ফরগটেন লং মার্চ।’ বিশেষত টামু থেকে নাগা পর্বত পেরিয়ে ইম্ফলে প্রবেশের পঞ্চাশ কিলোমিটারের পথ ছিল প্রাণঘাতী। যন্ত্রণার সঙ্গে যোগ হয়েছিল অপমান। কৃষ্ণাঙ্গের প্রতি শ্বেতাঙ্গের, বিজিত জাতির প্রতি ঔপনিবেশিক মালিকের। প্রথম দফায় (জানুয়ারি-মার্চ) ইংরেজ আর ইউরেশীয় লোকেরা পালায় ভারতে। যে ভারতীয়দের জাহাজে টিকিট কাটা ছিল, তাদেরও উঠতে দেওয়া হয় না। প্লেনে করে ডিনার সেট, পিয়ানো তুলে নিয়ে যায় সাদা চামড়ারা, কিন্তু কালা আদমিদের নো এন্ট্রি। সহজ রুটগুলোও আটকানো হয়। সুপ্রিয়া দেবীর স্মৃতিতে পাওয়া যায়, তাঁর আইনজীবী পিতা এমন অন্যায় বাধার সামনে পড়ে রাস্তা অবরোধ করেন, সঙ্গী প্রায় দুশো লোক। বাধ্য হয়ে পথ ছেড়ে দেয় ইংরেজ। 

দ্বিতীয় দফায় (এপ্রিল-জুন) সমস্ত রাস্তা, খাবার, পরিষেবা দখল করে পলায়নরত ব্রিটিশ আর্মি। মাত্র পনেরো দিনের জন্য সমস্ত যানবাহন উদ্বাস্তুদের সীমান্তে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হোক, আবেদন করেন বর্মার কর্তারা। খারিজ করে দেয় দিল্লি। মিলিটারি ট্রাকে একটু জায়গার জন্য অগণিত মানুষের ঝাঁপিয়ে পড়া, আত্মীয়দের ছাড়াছাড়ি, সর্বস্ব খোয়ানো, দুর্বলদের ফেলে আসার বিবরণ মেলে ইংরেজ সামরিক অফিসার হিউ টিংকার-এর লেখায়। ব্রিটিশ বাহিনীর সে এক কলঙ্কিত অধ্যায়।

তবু জাপানিদের বোমা-বেয়নেটে যত না ভারতীয় মরেছে, তার চাইতে ঢের বেশি মরেছে ব্রিটিশদের তাচ্ছিল্যে। হুকুম এল, দিনে পাঁচশোর বেশি ভারতীয়ের ইম্ফলে ঢোকা চলবে না। মান্দালয়ের ক্যাম্পে  লাখখানেক উদ্বাস্তু জমে গেলে। গুড ফ্রাইডের দিনে বোমা ফেলল জাপানিরা। কত যে শেষ হয়ে গেল এক দিনে, কে হিসেব রাখে।

মোটরে-চড়া সাহেবরা সবাই যে সরকারি হোমরা-চোমরা, তা-ও নয়। বর্মা অয়েল কোম্পানির বাবুও সওয়ার। মানে, সাদা-চামড়া হলেই হল। অবশ্য বর্ণবিদ্বেষ যে সাহেবদের একচেটিয়া, তা-ও নয়। গোড়ার দিকে যে সব জাহাজ ভারতীয়দের জায়গা দেয়, তারা কেন কুলি-মজুর আর কেরানিবাবু-মাস্টারমশাইদের একসঙ্গে থাকতে দিয়েছে, রাগ করেছিলেন ‘রাজাজি’ (চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী)। মনে পড়বে ‘টাইটানিক’ ছবির সংলাপ, ‘ফার্স্ট ক্লাসের লাইফ বোট কোনগুলো?’

ঝড় উঠলে তেঁতুলগাছ আর আমগাছ, সব এক। যারা নিকটজনের অন্ত্যেষ্টি-অশৌচ করতে পারে না, লাইন দিয়ে খিচুড়ি খায়, তাদের আবার জাতধর্ম, সোশ্যাল স্টেটাস। গয়না-টাকা লুট হয়ে গিয়েছে, জামাকাপড় ফর্দাফাঁই, চুলে জট, এই দশায় ইম্ফলে ‌এল সুপ্রিয়া দেবীর পরিবার। দুই মেয়েকে নিয়ে বিখ্যাত আইনজীবী গোপালচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লাইন দিলেন বিলি-করা জামাকাপড়ের জন্য। ক’দিন আগে যিনি মিচিনার বাড়িতে মস্ত পার্টি দিয়েছিলেন। সে দিন বালিকা বেণু পরেছিল সাদা ফ্রিল-দেওয়া ফ্রক, তার মেজদি গোলাপি সিল্কের শাড়ি, তাদের পিতা ঘন নীল স্যুট, হালকা নীল শার্ট, মানানসই টাই।

এত উদ্বেগ, এত ভয়, তবু কি বাজেনি মোহনবাঁশি? বর্মা-ফেরত উদ্বাস্তুদের স্মৃতিকথার সমীক্ষা করেছেন সাহিত্যের গবেষক পার্থসারথি ভৌমিক। বলছেন, পুরুষদের লেখায় যাত্রার কষ্ট, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বেশি, দু-এক জন থ্রিলার লেখার ঢঙেও লিখেছেন। কিন্তু মেয়েদের লেখায় মেলে বর্মার অপরূপ প্রকৃতির কথা। মানসী মুখোপাধ্যায় দুই কন্যা আর স্বামীর সঙ্গে ঘর ছাড়েন। অসুস্থ শরীরে খাড়াই পথে ওঠার যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ছেন। তারই মধ্যে দেখছেন, আদিগন্ত সবুজ গালিচা, সূর্যরশ্মি ঝর্ণার মতো ঝরছে পাহাড়ের মাথায়, ঘন নীল আকাশের বুকে সাদা ফুলের তোড়ার মতো মেঘ। ‘বিদায় বর্মা’ বইতে মানসী লিখছেন, সব  হারিয়েছেন ভাগ্যের দোষে, কিন্তু  না হারালে কি এমন জায়গায় আসা হত?

নীলিমা দত্ত তখন তেরো বছরের বালিকা। স্মৃতিকথায় (‘উজান স্রোতে’) লিখছেন, নদীর কালো জলে ডিঙির আলো তিরতির করে কাঁপছে, চারপাশের জঙ্গল যেন ঘন হয়ে কাছে সরে আসছে, উপরে তারাভরা আকাশ। সেই মুহূর্তে দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা, ফেলে-আসা জীবনের জন্য শোক, কোথায় চলে গেল। মিলিয়ে গেল সব ভয়। পার্থসারথি বলছেন, বর্মা থেকে ফেরার যাত্রা ছিল ভয়ঙ্কর, তবু তা হয়তো মেয়েদের দিয়েছিল বিরল মুক্তি, অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ।

কয়েক লক্ষ মানুষ, মাত্র কয়েকটি স্মৃতিকথা মেলে। কেন? কোথায় বাঙালির বর্মা-নিষ্ক্রমণের ইতিহাস? ইতিহাসের গবেষকরাও সামান্যই খুঁজে পেয়েছেন। হয়তো এ নীরবতা আশ্চর্য নয়। দেশভাগে উদ্বাস্তুরাও সে সব দিনের কথা লিখতে, এমনকি অন্যের কাছে বলতেও অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। কী দরকার, আবার কেন সে সব কথা? আন্দাজ হয়, প্রাণভয়ে পালানো, অন্যকে ফেলে আসা, অনাহার বা অখাদ্য-ভক্ষণ, মেয়েদের অমর্যাদার গ্লানি সেই সব স্মৃতিকে মস্তিষ্কের পিছনে ঠেলতে চায়। ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনির কাছে বলা ছোট ছোট গল্পে কেবল বেঁচে থাকে কিছু মুহূর্ত, কিছু ঘটনা। গ্রাম থেকে লাউ চেয়ে এনে তরকারি, খোসা চচ্চড়ি খাওয়া। আকাশের নীচে ঘুম, মাঝরাতে বৃষ্টি এসে সব সপসপে। প্যাসেঞ্জার ট্রেনে উঠতে না পেরে মালগাড়িতে কয়লার কামরায় লুকিয়ে পাড়ি দেওয়া। সেই টুকরো টুকরো ছবি জুড়ে পরের প্রজন্ম আবার তৈরি করতে চায় ন্যারেটিভ।

সুবোধ ভদ্রের পুত্র সুব্রতশঙ্কর যেমন ভাবে শোনা কথা আর পড়া তথ্য মিলিয়ে লিখছেন তাঁর বাবার জীবন। দেশে ফেরার গল্প তিনি শুনেছেন তাঁর মায়ের কাছে। সন্তানশোকগ্রস্তা, পূর্ণগর্ভা মা পাহাড়ি পথে হাঁটার শ্রম, রিফিউজিদের ‘তুলে নিয়ে ঢেলে দেওয়া’ ট্রাকের ঝাঁকানি কী করে সয়েছিলেন, তিনিই জানেন। যাত্রার শুরুতে এক কন্যাকে হারান, ইম্ফলের রিফিউজি ক্যাম্পে তিনি জন্ম দেন আর এক শিশুকন্যার। সেই কন্যা আজও জীবিতা।

অমিতাভ ঘোষ ‘দ্য গ্লাস প্যালেস’ লেখার সময়ে বর্মা নিষ্ক্রমণের অভিজ্ঞতা জানানোর আহ্বান করেছিলেন সকলকে। কেউ শৈশবের স্মৃতি লিখেছেন, কেউ শোনা কথা। অনেকে অমিতাভ ঘোষের কাছেই সাহায্য চেয়েছেন। আমার বাবার মৃত্যু হয় রেঙ্গুনে, বোমার আঘাতে। তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট কী করে মিলতে পারে? আমার ঠাকুরদার সমাধিটা কোথায় জানাতে পারেন? অমুক বিল্ডিং-এ আমার কাকা আশ্রয় পেয়েছিলেন, বাড়িটার একটা ছবি পাঠাবেন প্লিজ?

উদ্বাস্তু হয় এক জন, পরের কয়েক প্রজন্ম তাঁর পেরিয়ে-আসা পথ ধরে হাঁটে। আজ যারা বর্মা থেকে মৃতপ্রায় দশায় পৌঁছচ্ছে বাংলাদেশে, আজ যারা তুর্ক কিংবা কানাডা থেকে সাগর পেরিয়ে ইউরোপ আসছে, তাদের অজাত সন্তানেরাও তাদের সঙ্গেই পাড়ি দিচ্ছে সেই বিপদসঙ্কুল, অপমানবিদ্ধ পথ। দেশের ইতিহাসে পঁচাত্তর বছর কী আর এমন বেশি সময়!