সত্যি বলতে, গোষ্ঠীবদ্ধ লড়াইয়ের প্রতি আমার কোনও দিনও আস্থা ছিল না; আজও নেই। এই লড়াই হয়তো সহজে জেতা যায়, কিন্তু পরে মানুষে মানুষে মতান্তর হয়, মতান্তর পরিণত হয় কলহে। ফলে লড়াইয়ের অন্তর্নিহিত আদর্শবোধও হারিয়ে যায়। দেশে কিংবা বিদেশে বিংশ শতাব্দীর ইতিহাস এই সাক্ষ্য দেয়। অনেকে হয়তো আমার সঙ্গে একমত হবেন না, পাল্টা যুক্তি ও দৃষ্টান্ত দেখাবেন; তাতে ব্যক্তির গরিমা, সাহস, সততা সম্পর্কে আমার ধারণা পাল্টাবে না।’
এই হলেন এক জন চলচ্চিত্র পরিচালক। তপন সিংহ।

ওঁর সঙ্গে যোগ করুন ওঁর এক বন্ধুকে। যিনি সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তপনের মতো তিনি নিজের কথা লিখে রাখেননি। রবীন্দ্রনাথের কথা ধার করে বলতে হয়, নিজের কথা তিনি বলে দিয়েছেন লেখাপত্রে। ‘ওকে যেমন দেখেছি’ শীর্ষক রচনায় ওঁর বন্ধু অম্লান দত্ত লিখেছিলেন, ‘প্রেম, সদিচ্ছা, কৌতুকবোধ, নির্ভীকতা, এই ছিল ওর ব্যক্তিত্বের মূল উপাদান। এই গুণসমূহই প্রধান বস্তু, রক্ষার যোগ্য। সমাজের স্বীকৃত আচার অনুশাসন নয়। এই বিশ্বাস নিয়েই ও বাঁচতে চেয়েছে, বেঁচেছে। এই বোধ নিয়েই ও চলমান জগতের নানা ঘটনার দিকে তাকিয়েছে, জীবনকে দেখেছে, যা দেখেছে যা বুঝেছে সেই সবই নির্ভীকভাবে, প্রায়শ কৌতুকের ভঙ্গিতে, বলে গেছে। বলবার সেই ভঙ্গি অনুকরণ করা কঠিন।’ এই হলেন সাংবাদিক সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষ।

এ হেন দুই ব্যক্তিত্ব মেশালে কী হয়? ‘সাগিনা মাহাতো’ ফিল্ম। গত ২১ অগস্ট যা ৫০ বছরে পা দিয়েছে। অর্ধশতাব্দী আগে তৈরি ওই চলচ্চিত্র আদ্যন্ত পলিটিকাল। যা সে কালে বেশি দেখা যেত না। এবং পলিটিকাল বলে আজও সমান প্রাসঙ্গিক। যে কোনও পরিচালকই তাঁর পছন্দের কাহিনি চিত্রায়িত করেন। ‘সাগিনা মাহাতো’ কাহিনি কেন তপনের ভাল লেগেছিল, তার আভাস দিয়েছি। এ বার বলা যাক ওই কাহিনি কালির আঁচড়ে লিখতে গেলে, লেখকটিকে কেমন হতে হয়। মজা করে এক বার গৌরকিশোর লিখেছিলেন, ‘রবিঠাকুর এই কলকাতারই বাসিন্দে ছিলেন। কলকাতার নাড়িনক্ষত্রের সঙ্গে ছিল অষ্টপাকের বাঁধন। তিনি কলকাতার এমন একজন ঘুঘু বাসিন্দে হয়েও ইলেক্‌টিরির দোকানে তিন পয়সা রোজে অন্ততপক্ষে তিনমাস কাল একটিনি করেননি, একথা আর যেই বিশ্বাস করুক আমি করছিনে।... দাও ফিরে সে অরণ্য লও হে নগর— এই প্রার্থনা সুস্থ সবল লোকের মুখ দিয়ে একমাত্র তখনই বেরুতে পারে, যখন দেড় ঠ্যাঙা একটা নড়বড়ে কাঠের মই সম্বল করে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোঁতা ছেনি দিয়ে দ্যাল ফুটো করতে বাধ্য হতে হয়। তখনই— একমাত্র তখনই ইঁট কাঠ লৌহ ও প্রস্তরের উপর চিরজীবনের মত ঘেন্না ধরে যায়।’

ঠিকানা: পালচৌধুরী ভিলা। ছবির শুটিং চলাকালীন এখানেই থাকতেন দিলীপকুমার-সায়রাবানু।

অধ্যাপক অলোক রায়ের মতে, লেখালিখি শুরু করার আগে জীবনকে গৌরকিশোর যে ভাবে দেখেছেন, দেখার সুযোগ পেয়েছেন, তা কম লেখকের ভাগ্যেই জোটে। আই এসসি পাশ করার পর অর্থাভাবে কলেজে পড়ার সুযোগ মেলেনি। শুধু বেঁচে থাকার জন্য, পরিবার প্রতিপালনের জন্য হেন কাজ নেই যা তিনি করেননি, সেই ইলেকট্রিক মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে দেওয়ালে গুলি ঠোকা থেকে শুরু করে, এআরপি রেসকিউ সার্ভিসে ফিটার, রেস্তরাঁয় বেয়ারা, কাঠের কনট্রাক্টর, কখনও ওষুধ কোম্পানি, কখনও বালতির কারখানার এজেন্ট, কার্ডবোর্ড ও বিমা কোম্পানির দালাল, ল্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিংয়ে কেরানি, এয়ারোড্রোম নির্মাণ সংস্থায় রোড-সরকার, প্রুফরিডার পর্যন্ত— কী নয়! কোথাও যে বেশি দিন টিকেছিলেন তা নয়, দারিদ্র কাকে বলে তা তিনি হাড়ে হাড়ে জানতেন। আর তাই অল্প বয়স থেকে জীবনসংগ্রাম শুরু হয়ে গিয়েছিল। আপসহীন আদর্শবাদী সত্যনিষ্ঠ মানুষ এবং লেখক।

সেই লেখকেরই ছোটগল্প ‘সাগিনা মাহাতো’। অনেকে এটিকে উপন্যাস বলে ভুল করেন। ভুলের কারণ, ওই নামে গৌরকিশোরের একটি গল্প সঙ্কলন প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। তার আগে ১৯৫৮ সালে ছাপা ‘চেনামুখ’ বইয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল গল্পটি। ১৮ জানুয়ারি ১৯৫৮ তারিখের ‘দেশ’ সাপ্তাহিকে ওই ছোটগল্পের প্রথম মুদ্রণ। ‘সাগিনা মাহাতো’ বইতে মোট ছ’টি গল্প। ‘বসন্দা’, ‘দিন্দা’, ‘করবীদি’, ‘শরৎদা’, ‘কমরেড নির্মলা সেন’ এবং ‘সাগিনা মাহাতো’। সব কাহিনি রাজনৈতিক। বলা ভাল বাম রাজনীতির। তার মধ্যে সাগিনা উপাখ্যানই সরাসরি তার মর্মমূলে প্রবেশ।

গল্প বলা উত্তম পুরুষে। যেন লেখক বর্ণনা করছেন নিজের অভিজ্ঞতা। তা কেমন? উত্তর দেওয়ার আগে জানানো ভাল এই তথ্য যে, এক সময় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে গৌরকিশোর লালমনিরহাটে রেলকর্মী ইউনিয়ন পরিচালনা করেছেন। সাগিনা তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা।

লেখকের জবানিতে: ‘আমরা এদেশে যতই শ্রমিকের নেতৃত্ব বলে চেঁচাই না কেন, বরাবর দেখেছি, নেতৃত্বটি মধ্যজীবীদের হাতের মুঠোয় শেষ পর্যন্ত থেকে যায়। আর মজদুর ভাইরা কলে কারখানায় যেমন মনিববাবুর হুকুম তামিল করে, তেমনি ইউনিয়নে তামিল করে কমরেডবাবুর হুকুম। ‘বই পড়ে কত কি শিখেছিলাম। সর্বহারাই পারে বিপ্লবকে ডেকে আনতে, কারণ সে মরিয়া, তার হারাবার কিছু নেই। শ্রেণী-সংগ্রামের সেরা সৈনিক তাই মজদুর। ওদের নেতৃত্বেই একদিন সারা দুনিয়ায় পতপত করে উড়বে লাল ঝান্ডা।

‘কিন্তু লেবার ফ্রন্টে কাজ করতে এসে দেখি নেতৃত্বের উপর একচেটিয়া অধিকার রয়েছে শুধু মধ্যবিত্তের। যে পাতি বুর্জোয়া শ্রেণীর উপর আস্থা না রাখবারই তামিল পেয়ে এসেছি পার্টি সাহিত্যে— কারণ পাতি বুর্জোয়া নাকি সব চেয়ে সুবিধাবাদী, শিবির বদলাতে তারা মুহূর্তের বেশি সময় নেয় না, বিপ্লবকালে এরাই দল ত্যাগ করে মালিকের পা-চাটা গোলাম বনে যায়— যাদেরকে ঘৃণা করতে শিখেছি, এখন দেখি লেবর মুভমেন্টের তাবৎ লীডার তারাই।’

মূল ব্যাকড্রপ অবশ্যই বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন। তবে, অনেক পরত। ঘটনাকাল ১৯৪৪-৪৫। মানে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ বলে ভারতে বামপন্থীরা তখন অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকের প্রতি সহৃদয়। এমত অবস্থায় কার্শিয়াঙে তিনধারিয়া এলাকায় রেল শ্রমিকদের বারোমাস্যা। দীনহীন মানুষগুলোর বরাদ্দ রেলবাবুদের লাথিঝাঁটা। অত্যাচার আরও। বাবুদের লালসায় বলি দিতে হয় ঘরের বউ-বেটিদের। কথার অবাধ্য হলে কারখানায় মজদুরি খতম। খিদের জ্বালায় শ্রমিক সব মুখে বুজে সয়। এই পরিস্থিতিতে ওদের মসিহা হয়ে ওঠে সাগিনা মাহাতো। শ্রমিক বটে, তবে তাগড়া জোয়ান, যে কোনও অজুহাতে মদ খায়, বিশ্বাস করে— মরদ যখন, তখন আওরত এক গেলে আর এক আসবে। এই সাগিনা চালু করে নতুন জমানা। লাথিঝাঁটার বদলা বাবুদের আড়ংধোলাই। অত্যাচারের বদলা কাম বন্‌ধ। অচিরে সাগিনা পদদলিত শ্রমিকদের লিডার।

এ বার আসল খেল। রাজনীতির ভানুমতী। কলকাতার বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন নিজের দখলে আনতে চাইল তিনধারিয়ার রেল শ্রমিকদের। সহজ পথ কী? সাগিনাকে দলে টানা। পার্টি নেতা চতুর বিজন দত্ত এ কাজ সমাধা করতে কলকাতা থেকে পাঠালেন হোলটাইমার লেখককে। এমনকি নিজের বোন ও পার্টি কর্মী বিশাখাকে লেলিয়ে দিলেন সাগিনাকে আকৃষ্ট করতে। এর পর সাগিনা দাবার ঘুঁটি। শেষ চাল দিলেন বিজন। গোরা রেল কোম্পানির যোগসাজশে সাগিনাকে বানিয়ে দিলেন লেবার ওয়েলফেয়ার অফিসার। গাঁওয়ার সাগিনা এ বার স্যুট-টাই পরা ‘সাহাব’! ঘোষিত উদ্দেশ্য, সাগিনা শ্রমিকদের ওয়েলফেয়ার দেখবে। যাদের চোখের মণি ছিল সাগিনা, তাদের থেকেই তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হল। পার্টির দামি (!) নেতা সাগিনা। তার কি তিনধারিয়ায় পড়ে থাকলে চলে? যেতে হল বোম্বাই, মাদ্রাজের শ্রমিকদের ওয়েলফেয়ার দেখতে।

আর তিনধারিয়া? সেখানকার শ্রমিকরা যে তিমিরে সে তিমিরেই। রেল কোম্পানির অত্যাচার যথাপূর্বম। মজুররা বিক্ষুব্ধ, বহুধাবিভক্ত। পার্টির নির্দেশ, শ্রমিকদের সাগিনার বদলে এ বার পার্টির অনুগত করে তুলতে হবে। সে আশায় ছাই। ভুখা-পেট মজুররা কারও দাস হতে চায় না। তাদের বিশ্বাস, আবার কষ্টের মূলে সাগিনা। ব্যাটা কোম্পানি কা কুত্তা বন গিয়া।

বিক্ষোভ অসন্তোষ যখন চরমে, তখন পার্টির চাল বুঝতে পেরে সাগিনার তিনধারিয়া প্রত্যাবর্তন। সামনে মারমুখী জনতা। সাগিনাকে বেদম প্রহার তাদেরই, যারা এক দিন ছিল তার অনুগত। আলুথালু বেশ, মারের চোটে সংজ্ঞাহীন সাগিনা। জ্ঞান ফিরতে তার মন্তব্য, পুরনো সঙ্গীরা ঠিক কাজ করেছে। গল্পের শেষ তিন লাইন: ‘পরদিন শুকনা ফরেস্টে তার রেলে কাটা দেহটা পাওয়া যায়। রেল লাইনের পাশেই উপুড় হয়ে পড়ে ছিল। কেউ বলে— সে খুন হয়েছে; কেউ বলে— আত্মহত্যা করেছে।’

দল না ব্যক্তি? আন্তর্জাতিকতাবাদ না আঞ্চলিকতাবাদ? রাজনীতি আসলে কী? এই সব প্রশ্ন ঘিরে ‘সাগিনা মাহাতো’ গল্প। মোটেই আশ্চর্যের নয় যে, এর লেখককে একদা নকশালরা চিহ্নিত করবেন প্রতিবিপ্লবী। সাজা? মৃত্যুদণ্ড। এই মর্মে চিঠি গেল গৌরকিশোরের হাতে। তিনি নির্বিকার। চিঠিটি পকেটস্থ করে সোজা হাজির ওদের অফিসে। বললেন, এই চিঠি পেয়েছি আপনাদের থেকে, তাই দেখা করতে এলাম। নকশাল যুবকেরা স্তম্ভিত! এই মানুষটাকে হত্যা? অনেকে ওঁর বন্ধু হয়ে যান পরে। আশির দশকে যখন ওঁকে দেওয়া হল রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার, তখন কতিপয় নিন্দুক রটাল এই তথ্য যে, যাঁর নামে ওই প্রাইজ়, ফিলিপিন্সের সেই প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র মদতে একদা বহু স্বদেশি কমিউনিস্টকে হত্যা করেছিলেন। এবং ওই পুরস্কারও দেওয়া হয় আমেরিকা থেকেই। দুয়ে দুয়ে, সুতরাং... গৌরকিশোর সিআইএ-র দালাল। ঠিক? জিজ্ঞাসা করেছিলাম অগ্রজ সাংবাদিক তীর্থঙ্কর মুখোপাধ্যায়কে। বিচক্ষণ এই মানুষটি স্বল্পবাক। চোখা মন্তব্যের জন্য বিখ্যাত। থাকতেন গৌরকিশোরের হাউজ়িং কমপ্লেক্সেই। আমার প্রশ্নে তাঁর জবাব: ‘‘গৌরকিশোরের বাথরুমের বেসিন দেখেছি। সিআইএ থেকে টাকা পেলে, কারও বেসিন ও রকম থাকে না।’’

এ হেন সাংবাদিক-লেখকের সঙ্গে তপন সিংহের সখ্য বহু দিনের। দু’জনে এক সঙ্গে ঘুরেছেন বহু জায়গা। এমনকি, ‘হাটেবাজারে’ ছবির লোকেশন খুঁজতে গিয়েও। সেখানে সাপের উপদ্রব। তপন ভয় পেলে ত্রাতার ভূমিকায় গৌরকিশোর। ভুটানের শামচিতে শুটিং। জনমানবশূন্য এলাকা। তাই তপন ভিড় সামলাতে পুলিশের ব্যবস্থা করেননি। গৌরকিশোরের সতর্কবাণী, আপনি বৈজয়ন্তীমালাকে নাচাবেন, আর তা দেখতে মানুষ আসবে না? ভাগ্যিস! শুটিংয়ের সময় হাজার হাজার মানুষ, ভিড় সামলাল পুলিশ।

বন্ধুর লেখা ‘সাগিনা মাহাতো’ পড়ে মুগ্ধ তপন। অনেক দিনের সাধ ছবি করবেন। টাকা? সুযোগ এল হঠাৎ। তপনের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছবির প্রযোজক হেমেন গঙ্গোপাধ্যায় রাঁচি-নিবাসী বিরাট ধনী। ছাত্রজীবনে সংস্কৃত ও ইংরেজি এম এ-তে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। বাড়িতে বিরাট লাইব্রেরি। খুবই সংস্কৃতিমনস্ক। ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছবি করতে টাকা ঢেলেছিলেন শুধু এই মিথ ভাঙতে যে, রবীন্দ্রনাথের কাহিনি পর্দায় দর্শক নেয় না। তাঁর গোঁ, তপন ছাড়া অন্য পরিচালককে দিয়ে ছবি বানাবেন না। ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর পর প্রায় দশ বছর অপেক্ষা, ‘ভাল’ গল্পের জন্য। তপন ‘সাগিনা মাহাতো’-য় আগ্রহী জেনে এক কথায় রাজি। তপনের পরামর্শ, সাগিনা চরিত্রে বলিউডের এক নম্বর (পারিশ্রমিকের হিসেবে) অভিনেতা দিলীপকুমার। তপনকে অনেক বার জানিয়েছেন, বাংলা ছবিতে অভিনয় তাঁর সাধ। হেমেন উৎসাহী।

দিলীপ-সায়রাবানুর শুটিং চলছে মাদ্রাজে। হেমেন যোগাযোগ করলেন। তপন পরিচালক শুনে দিলীপ আগ্রহী। ওঁদের আসতে বললেন মাদ্রাজ। তপনকে সঙ্গে নিয়ে হেমেন মাদ্রাজের ফ্লাইটে। পৌঁছে দু’জনে বিরক্ত। শোনা গেল, দিলীপ-সায়রা নাকি শুটিং শেষ করে বোম্বাই চলে গেছেন। হেমেন আর তপন ঠিক করলেন, স্বামী-স্ত্রী জুটি বাদ। কলকাতা থেকে কাকে নেওয়া যায় তা নিয়ে যখন আলোচনা, তখন হোটেলের ঘরে দরজায় টোকা। দিলীপ হাজির। চোখে দুষ্টুমি। কেমন মজা করলাম!

এই ইউসুফ খান মানুষটি বিচিত্র। জন্ম লাহৌরে। ভাগ্যান্বেষণে পরিবার আসে বোম্বাই। সেখানে ফল বিক্রি। এই বাড়ির ছেলে কলেজে দাবা চ্যাম্পিয়ন। ফুটবলে রোভার্স কাপ খেলেছেন। এ দিকে আবার কামু-কাফকা পড়েন। উর্দু ও ইংরেজিতে বক্তৃতা শোনার মতো। ‘সাগিনা মাহাতো’ মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত। ওঁরা তখন মস্কো শহরে। টেলিভিশন এল ইন্টারভিউ নিতে। দিলীপ অল্প কথায় ওদের বোঝালেন ভারতে ফিল্ম তৈরির প্রেক্ষিত। যে দেশে কোটি কোটি মানুষ গরিব ও অশিক্ষিত, সেখানে প্রযোজকেরা তো অলীক ও সস্তা ছবির পিছনেই টাকা ঢালবেন! ব্যতিক্রম তাই হাতে-গোনা।

দিলীপ বাংলা পড়তে পারেন না। মাদ্রাজ যাওয়ার আগে তপন ‘সাগিনা মাহাতো’-র কাহিনি ইংরেজিতে দু’পাতার মধ্যে লিখেছিলেন। পড়ে দিলীপ তৎক্ষণাৎ অভিনয়ে রাজি। জানানো হল, পারিশ্রমিক বোম্বের মতো দেওয়া মুশকিল। শুনে দিলীপ খাপ্পা। কে বলল আমি শুধু টাকার জন্য অভিনয় করি?

স্ক্রিপ্ট লিখলেন তপন। গল্পটাকে একটু পাল্টালেন। সাগিনার খুন বা আত্মহত্যা নয়, ছবির ক্লাইম্যাক্সে খুন হলেন ভিলেন বিজন দত্ত। খুনি তারই কমরেড। ফিল্ম এগোয় ফ্ল্যাশব্যাকে। শুরু হয় গেরিলা কমিউনিস্ট কায়দায় সামারি ট্রায়াল দিয়ে। শ্রমিকদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধে জনতার আদালতে সাগিনার বিচার। তাঁর জন্য গাছে ঝোলানো ফাঁসির দড়ি। বিজন (ছবিতে নাম অনিরুদ্ধ) দত্তের পাশা। চাল উল্টে গেল। দিলীপ-সায়রা ছাড়াও এ ছবিতে ছিলেন স্বরূপ দত্ত, অনিল চট্টোপাধ্যায়, সুমিতা সান্যাল, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, চিন্ময় রায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।

দিলীপকুমার অভিনেতাটি দারুণ মেজাজি। বলিউডের প্রথা মানেন না, এক সঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন না। যে দিন কাজ করার ইচ্ছে থাকে না, সে দিন ওঁকে দিয়ে কাজ করানো মুশকিল। এক দিন। ‘সাগিনা মাহাতো’র শুটিং চলছে। দিলীপের দেখা নেই। জানা গেল, শরীর ভাল নেই। আসবেন, তবে শুটিং করবেন না। এলেন। এসেই আরামকেদারায় শুয়ে পড়লেন।

বললেন, কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা। তপনও কম যান না। বললেন, ব্যথা তো একটু হবেই। নার্গিস, মীনাকুমারী, বৈজয়ন্তীমালা প্রমুখ কত নায়িকা ওই কাঁধে মাথা রেখে অভিনয় করেছে যে! ব্যঙ্গ শুনে তড়াক করে উঠে দাঁড়ালেন অভিনেতা। চলো বাবা শুটিং করবে চলো। আমি এক্ষুনি মেক-আপ করে আসছি। বাঙালিদের সঙ্গে পেরে ওঠা দায়! আধ ঘণ্টার মধ্যে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন।

ছবির শুটিং যখন চলছে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল। রাজ্যে দ্বিতীয় অ-কংগ্রেসি যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে গেছে, বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই (এম)-এর কাজিয়ার ফলে। মন্ত্রিসভার দুই নেতা অজয় মুখোপাধ্যায় এবং জ্যোতি বসু কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছিলেন না। পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। কলেজে কলেজে নকশালপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন। এলাকা দখল নিয়ে সিপিআই (এম), নকশাল ও নব কংগ্রেসিদের মধ্যে কলকাতার অলিগলিতে বোমা এবং গুলি। খুনোখুনি। বাস-ট্রাম পোড়ানো। গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এ পার বাংলায় লক্ষ লক্ষ শরণার্থী। এর চেয়ে বড় পলিটিকাল মিক্স বুঝি আর কিছু হয় না।

শুটিং চলাকালীনই তপনকে রাজনৈতিক হুমকি, বামপন্থীদের তরফে। সে সব তোয়াক্কা না করে ছবি তৈরি। তা সেন্সর সার্টিফিকেটও পেল। এ বার অন্য হুমকি। ‘সাগিনা মাহাতো’ রিলিজ় করতে দেওয়া হবে না। হলের সামনে পিকেটিং হবে। তপন আয়োজন করলেন ছবির স্পেশাল শো। শুধু রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের জন্য। দেখে নকশাল যুবকদের আপত্তি দূর হল। তাদের রায়: এ ছবি ট্রেড ইউনিয়ন মুভমেন্টের মুখোশ খুলে দিয়েছে।

২১ অগস্ট ১৯৭০, মুক্তি পেল ‘সাগিনা মাহাতো’। মুক্তির দিনেও নকশাল যুবকেরা ঘিরে রাখল তপনকে। কেউ পাছে অ্যাটাক করে! ‘‘ছবিটা বাবার খুব ভাল লেগেছিল,’’ বললেন গৌর-কন্যা সাহানা নাগচৌধুরী। অভিনয় করে ভাল লেগেছিল দিলীপকুমারেরও। তাঁর অনুরোধে হিন্দিতে রিমেক। ‘সাগিনা’। ছবি করে তপন বকুনি খেলেন এক জনের কাছে। সত্যজিৎ রায়। বললেন, জীবনের এত মূল্যবান সময় কেউ একই ছবি দু’বার করে নষ্ট করে! ‘সাগিনা মাহাতো’ চলেছিল দারুণ, ‘সাগিনা’ চলেনি। তখন কলকাতা যতটা রাজনীতিতে ডুবে ছিল, বোম্বাই ততটা ছিল না।

অর্ধ শতাব্দী আগের ওই আদ্যন্ত রাজনৈতিক ফিল্ম কতটা মনে রেখেছে আজকের দিন? খোঁজ নিলাম। গেলাম পাহাড়ের কোলে তিনধারিয়া। যেখানকার রেল কারখানা গৌরকিশোরের গল্পে। শুটিংও হয়েছিল ওখানে। ঘুরছি কারখানায়। সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির ছাত্র সুমেন্দ্র তামাং। কারখানায় অর্ধ শতাব্দী আগের কেউ নেই। বেরিয়ে আসছি, পথে এক বৃদ্ধ। হরিপ্রসাদ ছেত্রী। বয়স ৭৫। তিনধারিয়া হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক। গড়গড়িয়ে বলে গেলেন শুটিং দেখার স্মৃতি। কারখানার ভিতরে মারপিটের দৃশ্য। দিলীপকুমার পেটাচ্ছেন কারখানার ফোরম্যানকে। কয়েক বার তোলা হল দৃশ্যটা। দিলীপ ক্লান্ত। হরিপ্রসাদের এখনও মনে আছে, শট দিয়েই দিলীপকুমার দূরে বসে পড়লেন একটা চেয়ারে। গভীর মনোযোগে পড়তে লাগলেন একটা বই।

তিনধারিয়ায় শুটিংয়ের আবছা স্মৃতি এখনও ছবির ভিলেন অনিরুদ্ধরূপী অনিল চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র অরূপের মনে। বললেন, ‘‘আমি তখন পাহাড়ি কনভেন্ট স্কুলের ছাত্র। শুটিং দেখানোর ব্যাপারে বাবার উৎসাহ ছিল না। তবু, বোর্ডিংয়ের কাছাকাছি লোকেশনে শুটিং হবে জেনে স্কুলের কয়েক জন বন্ধু ও আমি তা দেখতে চেয়েছিলাম। বাবা আপত্তি করেননি। একটা মাঠে জনসভায় বাবার বক্তৃতার দৃশ্য। ওই যে ভাষণের শেষে সাগিনারূপী দিলীপকুমারকে সবাই কাঁধে তুলে নেবে।’’

বাংলা এবং হিন্দি ভার্সনের শুটিং একই জায়গায়। দু’বারই তপন ইউনিটের প্রায় পঞ্চাশ জন লোক নিয়ে তিনধারিয়ায়। সদলবলে থাকতেন গয়াবাড়িতে। ইলা পালচৌধুরীদের বিরাট বাড়িতে। বাড়ির মালিক এখন তাঁর নাতি আদিত্য পালচৌধুরী। তাঁর নির্দেশে ম্যানশনের কেয়ারটেকার দিলপ্রসাদ শর্মা সব কিছু ঘুরে দেখালেন। দিলীপ-সায়রা তো ছিলেনই, সঙ্গে থাকতেন সায়রার মা নাসিমবানু। তিন জন কাঁপতেন পাহাড়ের ঠান্ডায়। স্নানের জন্য চাই গরম জল। গিজ়ার তখন আসেনি। কাঠকয়লা পুড়িয়ে বয়লারে জল গরম হত। সেই জল পাইপে করে বাথরুমে। শুটিংয়ের সময় দিলপ্রসাদের বয়স ২৫। ছেলেকে কোলে নিয়ে সামনে থেকে দিলীপের অভিনয় দেখেছেন।

রোমন্থন: তিনধারিয়ায় শুটিংয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা কল্যাণ ছেত্রী, দিলপ্রসাদ শর্মা, শাকিলা গুরুং, মনোহর প্রধানের মতো মানুষের কাছে।

গল্পের আসরে ফিরে ফিরে আসে ‘সাগিনা মাহাতো’র প্রসঙ্গ  গয়াবাড়িতে অনেক দিন করে দু’দফায় থাকার সূত্রে স্থানীয় মানুষদের আবদার-আর্জিও মেটাতে হত নায়ক-নায়িকাকে। যেমন, স্কুলে নাচের অনুষ্ঠান। শিশুদের সঙ্গে ছবি তুলতে হবে দিলীপ-সায়রাকে। নেতাজি হাই স্কুলের সংস্কারে অর্থ চাই। দিলীপকুমার দিলেন দু’হাজার টাকা। এ সব কাহিনি শোনালেন সে দিন এগারো বছরের বালিকা শাকিলা গুরুং। আর এলেন সে দিন দিলীপের সঙ্গে দুটো দৃশ্যের অভিনেতা, মনোহর প্রধান এবং কল্যাণ ছেত্রী। সে দিনের শিশুশিল্পীদের বয়স এখন ৫২ ও ৬০।

শুটিংয়ের অনেক গল্প শোনালেন অভিনেতা এবং অনিল চট্টোপাধ্যায়ের ভ্রাতুষ্পুত্র কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়। পুণে ফিল্ম ইন্সটিটিউটে ঋত্বিক ঘটকের এই ছাত্রটি ‘সাগিনা মাহাতো’ এবং ‘সাগিনা’ দুটো ভার্সনেই ছিলেন। গল্পে বাহাদুর এবং ফিল্মে বাদল-এর চরিত্রে। বললেন, ‘‘পালচৌধুরী ভিলার পিছনে খোলা জায়গায় আমরা খেলতাম ক্রিকেট। ইউসুফ ভাই যোগ দিতেন আমাদের সঙ্গে। অন্তরঙ্গ হওয়ার পর প্রায়ই নানা ছবিতে ওঁর অভিনয় নকল করে দেখাতাম। বিশেষ করে ইমোশনাল সিনগুলো। এক দিন আমাকে বললেন, আমি কি ফিল্মে শুধুই কাঁদি না কি? পিছনে লাগার জন্য আমি বললাম, দিলীপকুমার তো সে জন্যই বিখ্যাত! সময় কাটানোর জন্য ওঁকে তাস খেলা শেখালাম। কনট্র্যাক্ট ব্রিজ। ওঁর নেশা ধরে গেল। পরে আমাকে বলেছিলেন, বোম্বাই জিমখানা ক্লাবে পুরনো দিনের ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠতেন। এক বার সায়রাজিকে নিয়ে ইউসুফ ভাই এসেছেন কলকাতায়। উঠেছেন গ্র্যান্ড হোটেলে। খবর পেয়ে আমি গেছি। বাথরুম থেকে বেরোলেন। তোয়ালে লুঙ্গির মতো জড়ানো। ওই অবস্থায় বসে গেলেন ব্রিজ খেলতে। সে দিনই বোম্বে ফেরার ফ্লাইট। খেলা যখন শেষ হল, ফ্লাইট চলে গেছে!’’

জাত অভিনেতা। আগেই খোঁজ নিয়েছিলেন ভিলেন অনিরুদ্ধের চরিত্রে তপন কাকে বেছেছেন। কল্যাণ বললেন, ‘‘কাকা ওই রোলে আছেন শুনেই বলেছিলেন, তা হলে তো ভাল করে তৈরি হতে হবে। এক দিন। ইউনিটের সবাই লোকেশনে পৌঁছে গেছি। ইউসুফ ভাইও। হঠাৎ ওঁর হুঁশ হল, স্ক্রিপ্ট ফেলে এসেছেন পালচৌধুরী ভিলায়। গাড়ি পাঠিয়ে আনতে শুটিংয়ে দেরি হয়ে যাবে। ইউসুফ ভাই হিন্দি লিখতে পারেন না বলে ডায়লগ লিখে রেখেছিলেন উর্দু হরফে। সেই খাতা নেই। কী করা! হঠাৎ এগিয়ে এলেন কাকা। বাড়িয়ে দিলেন নিজের খাতা। দেখুন তো, এতে চলবে কি না! ইউসুফ ভাইয়ের চোখ কপালে। কাকার মুক্তাক্ষরে উর্দুতে লেখা সংলাপ। করেছ কী অনিল! আমার উর্দুতে বানান ভুল হয় দু-একটা। তোমার দেখছি তাও নেই! আসলে কাকা এক সময় উর্দু শিখেছিলেন। সেটা ইউসুফ ভাই জানতেন। খাতার সেই পাতাগুলো উনি কাকাকে ফেরত দেননি, নিজের সংগ্রহে রাখবেন বলে।’’ 

পালচৌধুরী ভিলায় দিন কাটানোর স্মৃতি ভোলেননি তপন-পুত্র অনিন্দ্য সিংহ। এখন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্সের এই অধ্যাপক বললেন, ‘‘আমার বয়স তখন নয়। মনে আছে, প্রতি সন্ধ্যায় খুব মজা হত। ইউনিট ফিরেছে শুটিং সেরে। শিঙাড়া-পকোড়া ভাজা হচ্ছে। শুরু হত জলসা। আবৃত্তি, গান, অভিনয়। এক সন্ধ্যা। সবাইকে অবাক করে সুমিতা সান্যাল এলেন জলসায়। ফিল্মের মেক-আপে। চশমা এবং গেরিলা কমিউনিস্টের ফ্যাটিগসুদ্ধ। তিনি তখন বিশাখা। গড়গড় করে বলে গেলেন তাঁর ডায়লগ। সবাই থ।’’ পরিচালক তপনের কথা উঠতে অনিন্দ্যর মন্তব্য, ‘‘সাগিনা মাহাতো শুধু একটা ফিল্ম নয়, ওটা বাবার পলিটিকাল স্টেটমেন্ট। জানেন তো, ওই ফিল্মের পর থেকে বামপন্থীদের সঙ্গে ওঁর সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। সেটা আর ভাল হয়নি।’’

মনে মনে বললাম, ‘সাগিনা মাহাতো’ শুধু তপন সিংহের নয়, গৌরকিশোর ঘোষেরও পলিটিকাল স্টেটমেন্ট। আর, বামপন্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ? সেটা তপন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বাকি জীবন। ১৯৮৮-তে মুক্তি পায় শিশুদের জন্য তাঁর ছবি ‘আজ কা রবিনহুড’। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে পায় ইউনিসেফ পুরস্কার। বহু দেশে চিলড্রেন’স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়। জ্যোতি বসু দেখে মাত্র আট সপ্তাহের জন্য করমুক্ত করেন। তথ্য সংস্কৃতি দফতরকে তপন অনুরোধ করেন, ছাত্রছাত্রীদের ছবিটা দেখার জন্য সার্কুলার পাঠানো হোক। আবেদন পত্রপাঠ নাকচ।