ইস্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়— ভক্তি আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পাঠে কোথাও অসমের বৈষ্ণব সন্ত শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের নাম পাইনি। নাম পাইনি কনকলতার, রানি গাইদিনলিউ, রাজা টিকেন্দ্রজিৎ, তরুণরাম ফুকন, শম্ভুধন ফংলো-র। অসম প্রায় পূর্ব পাকিস্তানে ঢুকে পড়ছিল, গোপীনাথ বরদলৈরা বুদ্ধি করে তা ঠেকালেন, সেই কাহিনিই বা কোথায়? মইরাংয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম পতাকা তুললেন নেতাজি, শেষ জনসভা করলেন নাগাল্যান্ডের গ্রামে। পাইনি তা-ও। এই অবহেলাকে সঙ্গী করেই আর চার দিন পরে আসতে চলেছে আর একটা স্বাধীনতা দিবস।

কয়েক দশক ধরে চলা জঙ্গি সন্ত্রাসের জেরে অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ডে স্বাধীনতা দিবস সে ভাবে পালিত হত না। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অসমের ধেমাজিতে স্কুলে বিস্ফোরণে অনেক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষিকাকে হত্যাও করেছিল আলফা। সন্ত্রাস বন্ধ হয়েছে। কিন্তু মানচিত্রের ডান দিকে জঙ্গি আর জঙ্গলে ভরা এই রাজ্যগুলোয় যে আজ ধুমধাম করে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়, অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না। অনেকেরই ধারণা, বাকি ভারত খেটেখুটে রক্ত ঝরিয়ে স্বাধীনতা এনে দিল, এরা তার মূল্য দিচ্ছে না।

কিন্তু জিজ্ঞেস করুন, ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম সংগঠিত মহিলা বিদ্রোহ কোথায় হয়েছিল? ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম কৃষক বিদ্রোহ কোথায়? কেউ জানে না। মাতঙ্গিনী হাজরার পাশাপাশি কনকলতা, ভোগেশ্বরীর কথা ‘মেনস্ট্রিম ভারত’-এর ইতিহাস বইয়ে পাওয়া যাবে না। ঝাঁসির রানিকে নিয়ে বই, সিনেমা, সিরিয়ালের ছড়াছড়ি, কিন্তু টেঙফাখরি তেহসিলদারের নাম কেউ জানে না। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অসমের নবীনচন্দ্র বরদলৈ, চন্দ্রনাথ শর্মা, হেমচন্দ্র বরুয়া, তরুণরাম ফুকন, প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈ-এর নাম অন্তত অসমবাসী জানেন। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাকি উত্তর-পূর্ব কতটা জড়িত ছিল, কারা অস্ত্র ধরেছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে—তার ইতিহাস খোদ অসমের মানুষও ভুলতে বসেছেন। আসলে সেই আন্দোলন কতটা ভারতকে মুক্ত করার আর কতটাই বা নিজের জমিকে দখলমুক্ত করা বা নিজের জনগোষ্ঠীকে স্বাধীন করার জন্য ছিল, সেই বিতর্কের আবর্তেই আটকে পড়েছেন টিরট সিংহ, গাইদিনলিউ, টেঙফাখরি বা নেতাজির সঙ্গী আঙ্গামি জাপু ফিজো-রা। 

ভারতের তথাকথিত মূল ভূখণ্ডে তখনও অহিংস অসহযোগ আন্দোলন দূর অস্ত। আন্দোলনের পুরোভাগে মেয়েদের আসতে তখনও কয়েক দশক বাকি। মণিপুরে কৃষিভিত্তিক সমাজে মহিলাদেরই কিন্তু অগ্রণী ভূমিকা ছিল। ১৯০৪ সালে ইংরেজদের বসিয়ে দেওয়া রাজা চূড়াচাঁদ সিংহ ও ব্রিটিশদের চাপিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক শ্রম আইনের বিরুদ্ধে ‘নুপি লান’ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন মণিপুরের মহিলারা। এই আন্দোলনেরই দ্বিতীয় পর্যায় ১৯৩৯-৪০’এ। মণিপুরের মানুষকে অভুক্ত রেখে ইংরেজরা রাজ্যের চাল বাইরে পাঠানোর নীতি নিলে ফের আন্দোলনে নামেন মহিলারা। নিরস্ত্র মহিলাদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে সশস্ত্র বাহিনী। মারা যান বহু নারী। আন্দোলন কিন্তু থামেনি। চলেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত।

তারও অনেক আগে, ১৮৯১ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন মণিপুরের রাজা টিকেন্দ্রজিৎ সিংহ। কিন্তু রাজপরিবারের বিশ্বাসঘাতকেরা হাত মেলায় ইংরেজদের সঙ্গে। কাংলা প্রাসাদের মাঠে রাসলীলার সন্ধ্যায় আক্রমণ চালিয়ে বহু মহিলা ও শিশুকে হত্যা করলেও মণিপুরি সেনার প্রবল প্রতিরোধে পিছোতে বাধ্য হয় ইংরেজ সেনা। স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে পাঁচ ইংরেজ কর্তাকে হত্যা করে মণিপুরি বাহিনী। এর পরেই কোহিমা, শিলচর ও তামু থেকে ইংরেজদের তিন বাহিনী মণিপুর আক্রমণ করে কাংলা প্রাসাদ দখল করে। প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো হয় টিকেন্দ্রজিৎ ও তাঁর সেনাপতিকে। থৌবাল জেলার খোংজামে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়ে প্রাণ দেন বীর পাওনা ব্রজবাসী।

মেঘালয়ের খাসি পাহাড় আগে ১৬ জন গোষ্ঠীপতির হাতে বিভক্ত ছিল। গুয়াহাটি দখল করে শ্রীহট্টের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপনের সময় ইংরেজরা বুঝল, স্বাধীন খাসি এলাকার নেতার সাহায্য ছাড়া তা সম্ভব নয়। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে গোষ্ঠীপতি ইউ টিরট সিংহের সঙ্গে সন্ধি করে ইংরেজরা। কিন্তু তাদের আগ্রাসন আঁচ করে রুখে দাঁড়ান স্বাধীনতাপ্রিয় টিরট। শুরু হয় কামান-বন্দুকধারী বাহিনীর সঙ্গে তির-ধনুক, তলোয়ার, বর্শাধারী জনজাতি সেনার লড়াই। টিরট-বাহিনীর গেরিলা যুদ্ধের সামনে নাস্তানাবুদ হয় ইংরেজরা। চার বছর এ ভাবেই ইংরেজদের ঠেকিয়ে রাখার পর ধরা পড়েন টিরট। মারা হয় তাঁর সব সঙ্গীকে। ঢাকা জেলে আমৃত্যু বন্দি রাখা হয়েছিল টিরটকে।

এর পর পালা মিজোরামের। ইংরেজরা লুসাই পাহাড় দখল করতে এলে ১৮৯০ সালে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ে প্রাণ দেন পাসালথা খুয়াংচেরা। মরণোত্তর ভারতরত্ন পাওয়া খুয়াংচেরার নাম ক’জন জানে! অবশ্য মিজোরা খুয়াংচেরাকে ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, জো গোষ্ঠীর রক্ষায় প্রাণ দিয়েছিলেন তিনি।

মণিপুরের স্বশাসিত নাগা এলাকা থেকে ব্রিটিশ বাহিনীকে তাড়াতে তেরো বছর বয়সে লড়াই শুরু করেছিলেন রংমেই নাগা জনজাতির রানি গাইদিনলিউ। কিশোরী নেত্রী গাইদিনলিউ ইংরেজদের কর না দিতে জনগণকে রাজি করান। দলে দলে জেলিয়াংগ্র, রংমেই, জেমি নাগারা যোগ দেন তাঁর সঙ্গে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, অসমের গভর্নর ‘আসাম রাইফেলস’-এর দু’টি ব্যাটালিয়ন পাঠান তাঁকে ধরতে। অসম, মণিপুর, নাগাল্যান্ডে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন গাইদিনলিউ। চলতে থাকে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ। শেষে কাঠের কেল্লা বানিয়ে ইংরেজদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময়ে বছর ষোলোর গাইদিনলিউ ও তাঁর বাহিনীর উপরে আচমকা হামলা চালায় ‘আসাম রাইফেলস’-এর বিরাট বাহিনী। ১৯৩৩ থেকে গুয়াহাটি, শিলং, আইজল, তুরার জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পরে তাঁর সঙ্গে শিলং জেলে দেখা করেন জওহরলাল নেহরু। তিনিই গাইদিনলিউকে ‘রানি’ খেতাব দেন। মেলে মুক্তিও। পদ্মভূষণ পেয়েছিলেন রানি। বাকি জীবন কাটান সমাজসেবায়।

অরুণাচল প্রদেশের আদি জনজাতির নেতা মাতমুর জামোকে গ্রামে সবার সামনে চড় মেরেছিলেন ইংরেজ অফিসার উইলিয়ামসন নোয়েল। সে অপমান ভুলতে পারেননি তিনি। ১৯১১-১২ সালে নোয়েল ফের পাসিঘাট আসার সময় সিসেন ও কোমসিংয়ে আদি জনগোষ্ঠীর সেনাদের মোতায়েন করেন জামো। অতর্কিতে হানা দিয়ে উইলিয়ামসন ও মেডিক্যাল অফিসার গ্রেগরসনকে হত্যা করে জামোর বাহিনী। তাঁদের ধরতে বিরাট অভিযান শুরু করে ইংরেজরা। কয়েক মাস লুকোচুরির পরে নিজেদের পরিবারকে অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচাতে আত্মসমর্পণ করেন জামো ও অন্যেরা। আন্দামানের সেলুলার জেলে মৃত্যু হয়েছিল জামোর। কিন্তু সেলুলার জেলের আলোছায়ার অনু্ষ্ঠানে আজ বীর সাভারকরেরাই থাকেন, জামোরা নয়।

অরুণাচলেরই পশ্চিম সিয়াং জেলার বেত ব্যবসায়ী মোজে রিবা ডিব্রুগড়ে ব্যবসা করতে এসে কংগ্রেসের সংগ্রামের আঁচ পান। স্বাধীনতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ তিনি দেখা করেন গোপীনাথ বরদলৈয়ের সঙ্গে। নিজের এলাকায় ফিরে গড়ে তোলেন ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলন। তিনিই অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি। অরুণাচলে (তখন নেফা) স্বাধীন ভারতের প্রথম পতাকাও উড়িয়েছিলেন তিনিই।

কাছাড় দখল করে ১৮৬৪-৬৬ সালের মধ্যে তার পার্বত্য অংশকে আলাদা করে উত্তর কাছাড় তৈরি করে ইংরেজরা। ইংরেজদের এই বিভাজন নীতি, জনজাতিদের উপরে আধিপত্য মেনে নেননি মাহুরের যুবক শম্ভুধন ফংলো। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা ছড়াতে থাকেন তিনি। শম্ভুধনের ডাকে সাড়া দেন অসংখ্য যুবক। মাইবংয়ে বিরাট ছাউনি গড়ে যুববাহিনীকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন শম্ভু। খবর পেয়ে গুঞ্জুং শিবির থেকে মাত্র পাঁচ জন কনস্টেবল নিয়ে এক পুলিশ অফিসার শম্ভুধনকে ধরতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের না মেরে শম্ভুধন ইংরেজদের এলাকা ছাড়ার বার্তা দিয়ে পাঠান। শম্ভু-বাহিনীকে শেষ করতে ইংরেজরা মাইবং আক্রমণ করে। কিন্তু ডিমাসা-কছারি সেনার হাতে পর্যুদস্ত হয় তারা। এক জন সেনাও বেঁচে ফেরেনি। পাল্টা আক্রমণে গুঞ্জুং সদর নিশ্চিহ্ন করে দেয় শম্ভু-বাহিনী। সোজা পথে তাঁকে ঘায়েল করা যাবে না বুঝতে পেরে ইংরেজরা কয়েক জন মেয়েকে কাজে লাগায়। তারা শম্ভুর স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতায়। স্ত্রীর ডাকে শম্ভু বাড়ি ফিরলে ওই মেয়েরা গোপনে তাঁর তলোয়ার লুকিয়ে ফেলে। তার পর ইংরেজ বাহিনী বাড়ি ঘিরে ফেললে তলোয়ারের অভাবে রান্নাঘরে রাখা মরচে-ধরা দা নিয়েই লড়তে থাকেন শম্ভু। শেষে ব্রিটিশ সেনার হাতে প্রাণ দেন তিনি।

অসম তো বটেই, সম্ভবত গোটা দেশেও প্রথম মহিলা তেহসিলদার ছিলেন বড়ো কন্যা টেঙফাখরি। ঘোড়ায় চড়া, দ্রুত ও নিখুঁত লক্ষ্যে বন্দুক চালানো টেঙফাখরিকে দেখে মুগ্ধ হন ম্যাকলিনসন সাহেব। ১৮৫০ সালে টেঙফাখরিকে ইংরেজদের হয়ে কর আদায়ের ভার দেওয়া হয়েছিল। তখন টেঙফাখরি সাহেবদের সঙ্গে সমান তালে চলেন, ঘোড়ায় চড়েন, দরকারে বলপ্রয়োগ করে কর আদায় করেন। ভুটান সেনার হাতে বড়োভূমি দখল হওয়া রুখতে ইংরেজ সেনার সাহায্য পেয়েছিলেন টেঙফাখরি। তাই তাঁর কৃতজ্ঞতা ছিল তাদের প্রতি। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, ইংরেজরা দরিদ্র বড়োদের রক্ত শোষণ করাচ্ছে তাঁকে দিয়েই। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন তিনি।

নাম না-জানা বীরদের গাথা শেষ হওয়ার নয়। গারো জনজাতির পাটোগান এন সাংমা, মেইতেইদের হিজাম ইরাবত, কুকি নেতা খোতিংথাং শিলথৌ, নাগা হাইপৌ জাডোনাং, বড়ো স্বাধীনতা সংগ্রামী যুধিষ্ঠির হাজোয়ারি— তালিকা সুদীর্ঘ।

মাতঙ্গিনী হাজরার নাম জানে সবাই। কিন্তু কনকলতা বরুয়া? ১৯৪২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ১৭ বছরের কিশোরী কনকলতা অসমের বিশ্বনাথে জাতীয় পতাকা হাতে থানা ঘেরাওয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পুলিশের রাইফেলের সামনেও অকুতোভয় মেয়ে তেরঙা হাতে এগিয়ে যেতে থাকেন। একের পর এক গুলিতে লুটিয়ে পড়েও পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি। তাঁর হাত থেকে পতাকা নিয়ে থানায় ওড়াতে যান মুকুন্দ কাকতি। তাঁকেও গুলি করে মারে পুলিশ।

ওই একই সময়ে, একই দিনে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আট সন্তানের মা, নগাঁওয়ের ভোগেশ্বরী ফুকনানিকেও ফুঁড়ে দেয় ইংরেজ অফিসারের গুলি। বেরহামপুরে কংগ্রেস দফতর বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বিরাট বাহিনী পাঠিয়েছিল পুলিশ। ভোগেশ্বরী ও তাঁর পুত্র স্থানীয় জনতার সঙ্গে ইংরেজদের আটকাতে পতাকা নিয়ে দেওয়াল গড়েন। এক ইংরেজ অফিসার জনৈক মহিলার হাত থেকে তেরঙা ছিনিয়ে পদদলিত করার চেষ্টা করছিল। দেখে পতাকার লাঠি দিয়েই ওই অফিসারকে পেটাতে থাকেন ভোগেশ্বরী। পাল্টা গুলিতে মৃত্যু।

১৯৪২ সালে লক্ষ্মীপ্রসাদ গোস্বামীর পরিকল্পনায় ও ভিবিরাম বোরার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ১১ সদস্যের ‘মৃত্যু বাহিনী’। সদস্যদের মধ্যে মহদানন্দ দেব গোস্বামীর বয়স ৪০, বাকিরা তরুণ। খবর আসে, ৬০০ ইংরেজ সেনা নিয়ে মণিপুর-নাগাল্যান্ডের দিকে যাবে একটি ট্রেন। ঠিক হয়, কামরূপের কাছে সেই ট্রেন উল্টে দেবে মৃত্যু বাহিনী। ২৪ নভেম্বর পানিখাইতির কাছে পানবাড়িতে রেললাইনের ফিশপ্লেট খোলেন ধনপুর লস্কর, ভিবিরাম বোরা। রিভলভার হাতে পাহারায় থাকেন মধু ও লইরামরা। রাতে লাইন পেরোবার সময়ে ছিটকে পড়ে ট্রেন। মারা যান ট্রেনের চালক, ফায়ারম্যান, চার ভারতীয় সেনা; গুরুতর জখম হন আরও ৪১ জন সৈন্য। ১৯৪৩ সালে পাটিয়াগাঁও ও গোঁসাইগাঁও সেকশন ও রঙিয়া সেকশনে আরও দুটি ট্রেন বেলাইনের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন মৃত্যু বাহিনীর সদস্যেরা। পরে মহদানন্দ বাদে সকলকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু তাঁদের অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। এঁদের কথাও ভুলতে বসেছেন সবাই। এমনকি ওই বাহিনীর সদস্য কামেশ্বর বরদলৈয়ের পরিবারের নামটাও বাদ পড়েছে এনআরসি-র তালিকা থেকে।

সম্মেলন: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে কংগ্রেস নেতা বিষ্ণুরাম মেধি ও অন্যান্যরা। 

দেশের প্রথম ভারতীয় চা-বাগান মালিক মণিরাম দেওয়ান প্রথমে ব্রিটিশদের পক্ষেই ছিলেন। পরে ইংরেজ বিরোধিতার কারণে ১৮৫৮ সালে তাঁকে ও সহযোগী পিয়ালি বরুয়াকে ফাঁসি দেয় ব্রিটিশরা। তারও আগে, ইয়ান্দাবু সন্ধির পরে আহোম অভিজাতরা যখন ইংরেজদের কাছে মাথা নত করছে, তখনই পঙ্গু পিয়লি ফুকন ক্রাচে ভর দিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে থাকেন। ইংরাজদের অস্ত্রাগার ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিলেন ফুকন। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকদের গোপন খবরের ভিত্তিতে ইংরেজরা ধরে ফেলে তাঁকে। ১৮৩০ সালে তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

ভারতের সিভিলিয়ানদের জন্য তৈরি একমাত্র সেনা স্মৃতিসৌধের হদিশ মিলবে অসমের নগাঁওয়ে— ফুলগুড়ি কৃষক বিদ্রোহের স্মৃতিতে। ১৮৬১ সালে স্থানীয় টিওয়া, কছারি, কোচ, কৈবর্ত চাষিরা নানান দাবিতে জেলাশাসককে চিঠি দেন। তাঁদের তাড়িয়ে দেন জেলাশাসক। প্রতিবাদে সমাবেশ ডাকেন কৃষকরা। তা থামাতে দলবল নিয়ে হাজির হন লেফটেন্যান্ট সিঙ্গার। ক্ষিপ্ত কৃষকদের লাঠির আঘাতে তাঁর মৃত্যু হলে ব্রিটিশ বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে লাঠিধারী কৃষকদের উপরে। ৩৯ জন কৃষক মারা যান। জখম হন অনেকে। গ্রেফতার হন ৪১ জন। পরবর্তী বিদ্রোহ দরং জেলায়। প্রায় ৮০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির প্রতিবাদে কামরূপ ও দরং জেলায় ১৮৯২-৯৪ সালে তীব্র কৃষক আন্দোলন হয়। দরং জেলার পথারুঘাটে কর দিতে না পারা কৃষকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে এলে রুখে দাঁড়ান কৃষকরা। জেলাশাসকের নেতৃত্বে বন্দুকধারী পুলিশ কৃষক বিদ্রোহ দমনে নামে। সরকারি হিসেবেই মৃত কৃষকের সংখ্যা ছিল ১৪০। জখম ১৫০। 

পরবর্তী কালে অসমের মধ্যবিত্ত শ্রেণি যে সার্বজনিক সভা গড়েছিল, তার হাত ধরেই ১৯০৩ সালে ‘আসাম অ্যাসোসিয়েশন’ তৈরি হয়। হোমরুল আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পরে অ্যাসোসিয়েশনের দুই সদস্য নবীনচন্দ্র বরদলৈ ও প্রসম্মকুমার বরুয়া লন্ডনে গিয়ে অসমকে ‘গভর্নর্স প্রভিন্স’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন, জালিয়ানওয়ালাবাগ ও গাঁধীর অসম সফরের পরে রাজ্যে কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা বাড়ে। কটন কলেজের ছাত্ররা গ্রামে গ্রামে ঘুরে অসহযোগের আদর্শ ছড়াতে থাকেন। চলতে থাকে বিদেশি দ্রব্য বর্জন, হরতাল। তৈরি হয় জাতীয় স্কুল। নেতৃত্বে ছিলেন নবীনচন্দ্র বরদলৈ, তরুণরাম ফুকন, চন্দ্রনাথ শর্মা, ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ, গোপীনাথ বরদলৈরা।

আলোকপ্রাপ্ত অসম ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যে ভাবে অংশ নিয়েছিল, উত্তর-পূর্বের অন্যান্য প্রান্ত কিন্তু সে ভাবে অংশ নেয়নি। কারণ তখন তো ভারতের বর্তমান ধারণাটাই নেই। অসমের এ পাশে-ও পাশে সবই দেশীয় রাজ্য। স্বাধীন। তাঁদের লড়াইও ইংরেজের বিরুদ্ধে। কিন্তু তা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম নয়। আজও যখন কেন্দ্রীয় সরকার লুসাই পাহাড়ের খুয়াংচেরাকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী বলে সম্মান দেখাতে যায়, তীব্র আপত্তি তোলে মিজো সমাজ। আরোপিত স্বীকৃতির লোভে ইতিহাস বিকৃত হতে দেন না তাঁরা। তা বলে তাঁদের স্বাধীনতার স্পৃহা, ব্রিটিশ আগ্রাসন ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টাও মিথ্যে নয় কখনওই। 

মূল ভূখণ্ডের নেতারা তাঁদের দলে টানার তেমন চেষ্টাও করেননি। নেতাজি মেঘালয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু কংগ্রেসের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে খাসি বা গারোরা তেমন ভাবে যোগ দেননি। নেতাজি পাশে পেয়েছিলেন নাগা ও মণিপুরিদের। তাঁকে ‘মসিহা’র চোখে দেখা ওই দুই রাজ্যকেই স্বাধীনতার দ্বন্দ্ব এখনও কুরে কুরে খাচ্ছে। স্বাধীনতা নাগাদের রক্তে। ইংরেজদের অধীনে সবার শেষে এসেছিল নাগাল্যান্ড। ৪৮ বছর নাগারা ব্রিটিশদের ঠেকিয়ে রেখেছিল। ১৮৫১-তে কিকরুমার যুদ্ধের পরে ডালহৌসি সিদ্ধান্ত নেন, নাগা এলাকায় ইংরেজরা নাক গলাবে না। ১৮৮০ সালে খোনোমার যুদ্ধের পরে নাগাল্যান্ডে শাসন প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশরা। কিন্তু নাগাদের বেশি ঘাঁটায়নি তারা। ১৯১৮ সালে গঠিত ‘নাগা ক্লাব’ সাইমন কমিশনকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছিল, ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক সংস্কারের আওতা থেকে যেন নাগাদের বাদ রাখা হয়। পরবর্তী কালে নাগা নেতা আঙ্গামি জাপু ফিজো নেতাজির সঙ্গে আজাদ হিন্দ ও জাপ বাহিনীর হয়ে লড়াইয়ে নামেন।

কোহিমা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে চেসেজু গ্রামে নেতাজি যখন ঘাঁটি গেড়েছিলেন, স্থানীয় মানুষ তাঁকে চিনতেন ‘সাবো বোস’ নামে। প্রতিদিন বিকেলে গ্রামের মানুষদের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। আশ্বাস দিতেন, যুদ্ধে জিতলে সেখানে ভাল স্কুল, রাস্তা, হাসপাতাল তৈরি করবেন। মূল ভূখণ্ডের কাউকে আগে এত আপন করে পায়নি নাগারা। নাগা ক্লাবের আঙ্গামি ফিজো তখন আজাদ হিন্দ বাহিনীর সদস্য। আইবি বাংলোর কাছে বাঁশ দিয়ে গড়া নেতাজির তাঁবু। আশেপাশে বাঙ্কার। ভারতীয় সৈন্যরা ছিল বাংলোয়। জাপানি বাহিনী থাকত সামনের মাঠে শিবির তৈরি করে। এর পর মণিপুরে ঢুকল আজাদি সেনা। মেয়েরা মালা-চন্দনে বরণ করলেন নেতাজিদের। স্বাধীন ভারতের প্রথম তেরঙা পতাকা উড়ল বিষ্ণুপুর জেলার মইরাংয়ে। অবশ্য বিভিন্ন প্রতিকূলতার সামনে বেশি দিন যুঝতে পারেনি নেতাজির বাহিনী।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে নাগাল্যান্ডের সেতুটা নেতাজিতেই শুরু ও শেষ। নাগা ক্লাব ভেঙে নাগাল্যান্ড ন্যাশনাল কাউন্সিল (এনএনসি) গড়েন স্বাধীনতাপ্রিয় ফিজো। ইংরেজদের অধীনতা মানতে পারেননি, আবার ভারতের অধীনেও থাকতে নারাজ ছিলেন তিনি। নাগা-অধ্যুষিত নাগাল্যান্ড, অসম, মণিপুর, অরুণাচল ও মায়ানমারের অংশগুলিকে এক করে স্বশাসিত বৃহৎ ‘নাগালিম’-এর দাবি করে এনএনসি। তা আদায়ের জন্য এক সুদীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সূচনা হয়। ১৯৪৭-এর ১৪ অগস্ট ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি এনএনসি ও ফিজো ‘স্বাধীন নাগাল্যান্ড’-এরও ঘোষণা করেন। নাগাল্যান্ডের স্বতন্ত্র পতাকা ওড়ানো হয়। দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার দায়ে গ্রেফতার হন ফিজো। মুক্তি পান ১৯৫০-এ। স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচন বয়কট করে এনএনসি। নেহরুর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় নাগাল্যান্ডে। পরে বারবার ভাঙন ধরেছে এনএনসিতে, তৈরি হয়েছে এনএসসিএন। সেও পরে দফায়-দফায় টুকরো হয়েছে। স্বাধীন নাগালিম-এর জন্য এখনও মায়ানমারে বসে লড়াই চালাচ্ছে খাপলাংরা। আর স্বশাসনের দাবিতে ভারত সরকারের সঙ্গে গত তিরিশ বছর ধরে আলোচনার টেবিলে দর কষছেন আইজ্যাক মুইভা। মণিপুরেও এনএসসিএন-এর পথ অনুসরণ করে বিভিন্ন সংগঠন স্বাধীনতার লড়াইয়ে নামে। ভারতের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখতে মণিপুরি জঙ্গিরা অনেক কাল ধরেই হিন্দি গান, সিনেমা নিষিদ্ধ করে রেখেছে রাজ্যে। 

সাহসিনী: মণিপুরের রানি গাইদিনলিউ ও অসমের কনকলতা বরুয়া।

দিন ক্রমে বদলেছে। উত্তর-পূর্বের আট রাজ্যের ভারতীয়করণ অনেকটাই সম্পূর্ণ। স্বাধীনতা দিবসে ছুটি থাকে, জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়, অনুষ্ঠান হয়। তবু বারবার প্রশ্ন ওঠে, স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও কেন বাকি ভারতের কারও কাছে পৌঁছয় না উত্তর-পূর্বের সাত বোনের সংগ্রামের গল্প। চৈতন্যদেবেরও আগে জন্মানো শঙ্করদেবের আদর্শ ও প্রভাব এখনও অসমিয়া সমাজের ধারক-বাহক। এখানে ধ্রুপদী সত্রীয় নৃত্য বা নাটকের ইতিহাসই হোক বা পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, সবই ওই মানুষটির অবদান। তাঁর শেষ জীবনের অনেকটা কেটেছে কোচবিহারে। অথচ শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের নাম ভক্তি আন্দোলনে স্থান পায় না। অসহযোগ, ‘ভারত ছাড়ো’ থেকে আজাদ হিন্দের লড়াই, সবই যেন শেষ হয়েছে শিলিগুড়ির এ পারেই। অওরঙ্গজেবের ‘দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ যে ভাবে পড়ানো হয়, সরাইঘাট যুদ্ধে সুদক্ষ আহোম সেনাপতি লাচিত বরফুকনের হাতে মুঘল বাহিনীর হেরে যাওয়াটাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না কখনওই। ইতিহাস বলছে, ভাষা ও সংস্কৃতিগত কারণে অসমের বাইরে অন্য কোথাও মূল ভূখণ্ডের নেতারা তাঁদের প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। দীর্ঘকাল ধরে মিশনারি প্রভাবে বিকশিত এবং খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত মেঘালয় ও মিজোরাম হিন্দুপ্রধান ভারতীয় নেতাদের আপন করে নেয়নি। ইতিহাস তো রচয়িতাদের হয়েই কথা বলে। তাতে মিশে যায় পৃষ্ঠপোষকের মত, দৃষ্টিভঙ্গি। তাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে উত্তর-পূর্বের সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে বিক্ষিপ্ত গবেষণা থাকলেও দেশের ইতিহাসের বীরগাথায় তার স্থান হয়নি। হয়তো সেই অভিমানেই জাতীয় সঙ্গীতে অসম তথা উত্তর-পূর্বের উল্লেখ না থাকায় তাকে মন থেকে মেনে নিতে পারেন না উত্তর-পূর্ববাসী।

এমনিতেই অসমে এনআরসি-র ধাক্কায় সব গুলিয়ে যাচ্ছিল। তার উপরে সদ্য ৩৭০, ৩৫এ ধারা লোপ, কাশ্মীর-লাদাখ বিভাজনের পরে উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন সংগঠন স্বশাসিত এলাকার দাবি আরও জোরদার করছে। অসমের বড়ো, ডিমাসা, কোচ-রাজবংশী, কার্বি, মণিপুরে কুকি, ত্রিপুরায় তুইপ্রা, মেঘালয়ে গারোরা দীর্ঘ দিন ধরে স্বশাসিত রাজ্যের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়েছে। নাগাল্যান্ডে স্বাধীনতার পর থেকেই চলছে পৃথক স্বশাসিত বৃহত্তর নাগালিমের দাবিতে সংগ্রাম। 

শান্তি চুক্তির জেরে সংগঠনগুলির অধিকাংশই অবশ্য এখন সংঘর্ষবিরতিতে। অনেকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির শরিক হয়ে স্বশাসিত পরিষদের সদস্য। কেন্দ্র লাদাখকে পৃথক করে দেওয়ার পরে বড়োল্যান্ড, গোর্খাল্যান্ড, গারোল্যান্ড, তুইপ্রাল্যান্ড, নাগালিম, স্বশাসিত কার্বি ও ডিমাসাভূমির দাবি করা সংগঠনগুলি বলছে, তা হলে তো ইচ্ছে করলেই কেন্দ্র জনজাতি কাঠামো ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে পৃথক রাজ্য গড়তে পারে! পাশাপাশি ৩৭১এ ও ৩৭১জি ধারার অধীনে সুরক্ষিত পার্বত্য ও জনজাতিপ্রধান রাজ্যগুলির হুমকি, ৩৭০ নিয়ে যা হয়েছে তার আঁচ যেন ৩৭১-এ না পড়ে। তা হলে নিজেদের অধিকার রক্ষায় শুরু হবে আরও জোরদার আন্দোলন। 

এত দাবিদাওয়া ও বিদ্রোহের পশ্চাৎপটও দীর্ঘ, জটিল। কিন্তু বাকি ভারত তা বোঝার চেষ্টা করে না। উত্তর-পূর্বের তাৎক্ষণিক ও প্রতীকী ছবি হয়ে দাঁড়ায় হাতি কেটে গোটা গ্রামে ভোজ খাওয়া মানুষের ছবি, বা একে-৫৬-এর নল। বন্যার কোমরজলে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকাকে স্যালুট ঠোকা অসমের ছাত্রকে হাততালি দেয় বাকি ভারত। ‘সোনার মেয়ে’ হিমা দাস তেরঙা উড়িয়ে দৌড়লে তার জাতের খোঁজ করে। আলাদা দেশ চাওয়া নাগা জঙ্গিদের গালি দেয়। বেড়াতে এসে গন্ডারের সঙ্গে সেলফি তোলে, বিহু দেখে। আবার রাস্তায় ‘নর্থ-ইস্ট’দের দেখে ‘চিংকি’ বলেও ডাকে। এত অবজ্ঞা আর উপেক্ষার তির বিঁধে আছে উত্তর-পূর্বের গায়ে, স্বাধীনতার ধারণাটাই রক্তাক্ত মনে না করে পারা যায় না।