• অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বাঙালির লেনিন

রুশ বিপ্লবেরও দশ বছর আগে বাংলার বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দেখা করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। তাঁকে চিঠি লিখতেন ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। আজও বাঙালির রাজনীতি থেকে কবিতা, নাটক, যাত্রা, সব কিছুতেই জড়িয়ে আছেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ। আগামী বুধবার দেড়শো বছরে পা দেবেন লেনিন।

Vladimir Lenin

রথীন্দ্রনাথকে জমিদারি দেখতে পতিসরে পাঠিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। চণ্ডীমণ্ডপে তাঁকে ঘিরে গোল করে বসে গ্রামের মাথারা। এ-হাত ও-হাতে ঘুরতে থাকা হুঁকোয় টান দিচ্ছেন সকলে। এমন সময়ে সাদা দাড়িওয়ালা এক চাষি উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, ‘‘বাবুমশায়, স্বদেশি ছোঁড়ারা দেশের উন্নতি নিয়ে লম্বা-চওড়া বক্তৃতা দেয় শুধু। আসল কাজের বেলা কারও টিকিটুকু দেখবার জো নেই। হ্যাঁ, লেনিনের মতো একজন লোক দেশে জন্মাত, দেখতেন সব ঠিক হয়ে যেত।’’ চাষির কথা এক ঝটকায় ‘রূঢ় বাস্তবের মধ্যে’ ফেরাল রথীন্দ্রনাথকে।

বাঙালির স্মৃতি সত্তায় ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ এবং ওই চাষির বলা ‘বাস্তব’, পাশাপাশি বহমান। সেই বহমানতার মধ্যেই বাঙালির লেনিন (বা উচ্চারণ বিভ্রমে ‘লেলিন’) তাই লোকায়ত। এই ‘লোক মন’-এর হদিস দেয় যাত্রা মাধ্যমটি। তা বুঝলেন এক ডাকসাইটে বাম নেতাও। কলকাতার বাগবাজারের বনেদি পরিবারের সন্তান শান্তিরাম পাল তথা শান্তিগোপাল করলেন যাত্রাপালা ‘লেনিন’। যাত্রা দেখলেন নেতা। অভিনয় শেষে বললেন, ‘‘আমাদের দু’শোটা বক্তৃতায় যা হয় না, আপনার একটা নাটকে এক দিনে তা হয়।’ বক্তার নাম, হরেকৃষ্ণ কোঙার। কৃষক সম্মেলনে বৃষ্টিতে ভিজে এই যাত্রা দেখেছেন জ্যোতি বসুও।

এই পালার এগারোটি গান বাঙালির মুখে-মুখে ফিরতে শুরু করল। ১৯৭০-এ বারাসতের কাছারি ময়দানে সর্বভারতীয় কৃষক সম্মেলনে হয়েছিল ‘লেনিন’ যাত্রা। তা দেখতে তুমুল ভিড় হয়, মঞ্চস্থলের চারপাশের গাছেও লোকজন উঠে পড়েন। এই যাত্রার জনপ্রিয়তার খবর আগেই পৌঁছেছে সোভিয়েট দেশেও। দ্রুত ‘লেনিন’-এর কয়েক হাজার ‘এলপি রেকর্ড’ পৌঁছল লেনিন-ভূমে!

যাত্রার পাশাপাশি, রমেন লাহিড়ীর ‘আমিই লেনিন’, উৎপল দত্তের ‘লেনিন কোথায়’, উমানাথ ভট্টাচার্যের ‘দিন বদলায়’ নাটকের মধ্য দিয়েও মঞ্চে লেনিন এসেছেন বার বার। মনে পড়বে ঋত্বিক ঘটকের তথ্যচিত্র ‘আমার লেনিন’।  

গোড়া থেকেই বাংলার সঙ্গে লেনিন-যোগ এমন মসৃণ নয়। তা হাড়ে-হাড়ে টের পান বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জমিদারির সদর নায়েব যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য। নায়েবমশায়ের কাব্যচর্চার শখ, সেই সঙ্গে বিপ্লবী দলের সংস্পর্শে এসে লেনিন তাঁর কাছে মহামতি। ১৯২৪-এর এপ্রিল, কয়েক মাস আগে লেনিনের মৃত্যুসংবাদ এসে পৌঁছেছে দেশে। শোকে অধীর যতীন্দ্রপ্রসাদ লিখলেন ‘লেনিন’ কবিতা। প্রকাশিত হল ‘বঙ্গবাণী’-তে। আচমকা এক দিন দরজায় কড়া নাড়া। দেখলেন, দাঁড়িয়ে থানার আধিকারিক পূর্ণচন্দ্র ঘোষাল।

পূর্ণচন্দ্র সুহৃদ মানুষ। কিন্তু তাঁর মুখখানা থমথমে। যতীন্দ্রপ্রসাদকে দেখালেন জেলাশাসকের হুকুমনামা। সঙ্গে লেপ্টে থাকা ‘লেনিন’ কবিতায় লাল পেন্সিল দিয়ে দাগিয়েছেন জেলাশাসক। তদন্ত করতে হবে, প্রয়োজনে কবিকে গারদে পুরতে হবে। খবর ছড়িয়ে গেল। কবির মা, স্ত্রী কান্নাকাটি করছেন। জমিদার তথা সম্পর্কিত কাকা ব্রজেন্দ্রকিশোর তীব্র ভর্ৎসনা করলেন ভাইপো যতীন্দ্রপ্রসাদকে। বন্ধু-বান্ধব এড়িয়ে চলতে থাকল। শেষে পূর্ণচন্দ্রেরই বুদ্ধিতে একটা উপায় হল।

কবি লিখলেন ‘ব্রিটন বীর্য্য’ নামে এক কবিতা। ‘সংবর্তক’ লেনিন বিশেষ সংখ্যায় পুনর্মুদ্রিত সরোজ দত্তের প্রবন্ধ জানাচ্ছে, ‘রামধনু’ কাব্যগ্রন্থে এই কবিতাটি ও ‘লেনিন’ পাশাপাশি প্রকাশিত হল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রকাশকালের নিরিখে এগিয়ে ‘ব্রিটন বীর্য্য’। আসলে এ  ছিল হাকিমকে ধাপ্পা দেওয়ার কৌশল। 

১৯০৭-এর অগস্টে সপ্তাহব্যাপী সপ্তম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক কংগ্রেস বসেছে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে। সেখানে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত লেনিন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (‘চট্টো’)। লেনিন আদতে কে সে বিষয়ে তখনও কোনও ধারণা ছিল না সরোজিনী নায়ডুর ভাই বীরেন্দ্রনাথের। কিন্তু যেটা দাগ কাটল, লেনিন তাঁর রিপোর্টে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করলেন ভারতের কথা।

‘চট্টো’-র লেনিন-প্রীতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ল। পাল্লা দিয়ে বাড়ল ব্রিটিশের সন্দেহও। ভারতীয় মহাফেজখানা ঘেঁটে লেখা গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ জানাচ্ছে, ১৯১৭-র গোড়ায় বার্লিন কমিটি জার্মানি থেকে সরে এল সুইডেনের স্টকহলমে। সুইডেনে ইংরেজ সরকারের রাষ্ট্রদূত লন্ডনে তার করলেন, ‘এদের মূল উদ্দেশ্য, লেনিন ও অন্য ইংরেজ-বিরোধী চরমপন্থী রুশ বিপ্লবীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে জোরদার করা।’

অবশ্য এ খবরেও বিশেষ লাভ হয়নি ইংরেজের। লেনিন-চট্টো সাক্ষাৎও হয় পরে। লেনিনের মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রী নাদেঝদা ক্রুপস্কায়ার সঙ্গে পত্রালাপও ছিল তাঁর। তবে এই সোভিয়েট রাশিয়াতেই জোসেফ স্তালিনের আমলে চট্টোর মৃত্যু হয়। চট্টোর পাশাপাশি, ভারতবর্ষে বাম-মনীষার আদিপর্বের ব্যক্তিত্ব মানবেন্দ্রনাথ রায়, অবনী মুখোপাধ্যায় প্রমুখের সঙ্গেও লেনিনের যোগাযোগ তৈরি হয়। অবনীবাবুর বইও পড়েছিলেন লেনিন। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের কাছে লেনিন-সাক্ষাৎ তাঁর জীবনের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা’।

লেনিন ও বাঙালির যোগাযোগের আরও একটি সূত্র ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। তাঁকে সোভিয়েট রাশিয়ায় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গতিপ্রকৃতি আলোচনার জন্য আহ্বানও জানানো হয়। ভূপেন্দ্রনাথ ১৯২১-এর অগস্টের শেষ দিকে একটি গবেষণাপত্র ও একটি চিঠি পাঠান লেনিনকে। উত্তরে লেনিন জানান, সামজিক শ্রেণি নিয়ে আলোচনার সময় এ নয়। বরং, ভারতবর্ষে কোনও কৃষক সঙ্ঘ থাকলে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ ভূপেন্দ্রনাথকে দেন লেনিন।

লেনিন ও বাঙালির যোগাযোগ মোটামুটি ভাবে বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকেই শুরু হয়ে ক্রমে জোরদার হয়েছে। লেনিনের মৃত্যুর পরে শোকযাত্রাতেও বাঙালির পতাকা উড়েছে। সোভিয়েট সম্পর্কে খানিক সন্দিগ্ধ, কিন্তু লেনিনে গভীর ভাবে অনুরক্ত যুগান্তর দলের শিবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। হিন্দুকুশ পর্বত পেরিয়ে তিনি-সহ দশ জন সোভিয়েট দেশে পৌঁছন। অন্যতম উদ্দেশ্য, লেনিনের সঙ্গে দেখা করা। তিনি তখন অসুস্থ, তাই দেখা হল না। কিন্তু ১৯২৪-এ লেনিনের মৃত্যুর পরে তাঁর শেষযাত্রায় লাখো মানুষের ভিড়ে ছিলেন শিবনাথও।

লেনিনকে বাঙালি কাছ থেকে দেখেছে, তাঁর পথের সহযাত্রীও হয়েছে। বাঙালির মনোজগতেও প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। এ বিষয়ে বলা যেতে পারে সুভাষচন্দ্র বসুর কথাও। ১৯৪০-এর ১৯-২০ মার্চ সাবেক বিহারের রামগড়ে আয়োজিত হয় ‘অল ইন্ডিয়া অ্যান্টি কম্প্রোমাইজ় কনফারেন্স’। সেখানে সুভাষচন্দ্র পুরনো সামাজিক কাঠামোর ভেঙে পড়া কিন্তু তা থেকে নতুনের উত্থান না হওয়ার মতো সমাজ-ইতিহাসের এক কঠিন সময়পর্বে বিশ্বাস না হারানোর পরামর্শ দেন। এ প্রসঙ্গেই তিনি সামনে আনেন ১৯১৭-র পূর্বের রাশিয়া ও লেনিনের ভূমিকার কথা। তাঁর মতে, সেই অস্থির সময়ে লেনিনের নেতৃত্বই রাশিয়াকে বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছিল।

লেনিন ও বাংলা সাহিত্যের যোগাযোগও একটা সময় পর্যন্ত বড়ই নিবিড়। সেই সম্পর্কের জন্ম সম্ভবত ১৯২১-এ। মোটামুটি ভাবে ওই সময়পর্ব থেকেই মার্ক্সীয় ভাবধারার সঙ্গে শিক্ষিত বাঙালি পরিচিত হতে শুরু করল। ব্রিটিশের শত বাধা সত্ত্বেও মুজফ্ফর আহমেদের মতো কয়েক জন মার্ক্সীয় সাহিত্যের প্রচার শুরু করলেন। কিন্তু এই সময়ের সব থেকে চমকপ্রদ ঘটনা, ধর্মীয় পত্রিকা ‘সৎসঙ্গী’-তে পাঁচ কিস্তিতে এক অজ্ঞাতনামা লেখকের লেনিনের জীবনকাহিনি প্রকাশ। ওই বছরই প্রকাশিত হয় বাংলায় প্রথম লেনিন-জীবনী, লেখক ফণীভূষণ ঘোষ। লেনিন-জীবন প্রচারে ক্রমে বিশেষ ভূমিকা নেয় ‘বিজলী’, ‘ধুমকেতু’, ‘লাঙ্গল’, ‘প্রবাসী’, ‘পরিচয়’ পত্রিকা।

বাঙালি সাহিত্যিকরাও লেনিনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে সর্বাগ্রে যাঁর নাম আসে, তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৪৮-এর ১৮ জানুয়ারি ডায়েরির পাতায় দেখা যাচ্ছে, মানিক লেনিনের একটি বিখ্যাত চিন্তা লিখে রাখছেন: ‘লার্ন ফ্রম দ্য মাসেস, ট্রাই টু কম্প্রিহেন্ড দেয়ার অ্যাকশনস, কেয়ারফুলি স্টাডি দ্য প্র্যাকটিক্যাল এক্সপিরিয়েন্স অব দ্য স্ট্রাগল অব দ্য মাসেস।’ বামপন্থী লেখকদের লেখার যুক্তিকেও সমৃদ্ধ করেন লেনিন, যেমন দেখা যায় দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শোকমিছিল’ গল্পে। ১৯৬৪-তে সিপিএম-এর আত্মপ্রকাশ অর্থাৎ কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে গল্পে বলা হচ্ছে, ‘আলাদা পার্টি তো করিনি, সংশোধনবাদীদের বহিষ্কার করেছি। লেনিন যেমন মেনশেভিকদের দল থেকে বার করে দিয়েছিলেন। পরে বলশেভিক পার্টির মধ্যেও অনেক মতবিরোধ ঘটেছে, কিন্তু দল ভাঙেনি। যারা বেরিয়ে গেছে, বহিষ্কৃত হয়েছে— ইতিহাসের ডাস্টবিনেও তাদের ঠাঁই মেলেনি।’

তবে মানিক বা দীপেন্দ্রনাথ মার্ক্সবাদে দীক্ষিত সাহিত্যিক ছিলেন। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের আর এক বন্দ্যোপাধ্যায় তারাশঙ্করের এ দর্শনে দীক্ষা না থাকার পরেও তিনি বিশেষ ভাবে লেনিন প্রভাবিত। তাই ‘লেনিন শতবার্ষিকী বক্তৃতা’য় তিনি জানান, জনজীবনে মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর আবির্ভাবের আগে পর্যন্ত ‘একমাত্র লেনিনই ছিলেন আমার জীবনের নায়ক।’ একই ভাবে, দীক্ষিত না হয়েও লেনিন সম্পর্কে অত্যন্ত শ্রদ্ধার মনোভাব রেখে গিয়েছেন শিবরাম চক্রবর্তী। তবে সেটা খানিকটা ‘অন্ধ’ লেনিন-বিরোধিতার প্রতিবাদও বটে।

কিন্তু বাংলা কথাসাহিত্য বা প্রবন্ধ, অনুবাদ নয়, লেনিনের সঙ্গে সাহিত্যিক বাঙালির হৃদয়ের যোগ কবিতার সূত্রে। যতীন্দ্রপ্রসাদ যে ধারাটির সূত্রপাত করেছিলেন, কাজি নজরুল ইসলাম, বিষ্ণু দে, অরুণ মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দিনেশ দাস, সুকান্ত ভট্টাচার্য-সহ বহু দিকপাল কবির হাতে তা পুষ্ট হয়। বাঙালি কবিরা তাই লেনিনের হাত ধরেই বলতে পারেন, ‘গঙ্গায় পাই ভলগার প্রতিমান’! এ ভাবেই বাংলা কবিতাও ‘একটু পা চালিয়ে ভাই’ বলতে বলতে রচনা করে সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। ধর্মতলায় ‘দাঁড় করিয়ে রাখা’ লেনিনও বাঙালির কবিতায় তাই বড্ড বাঙালি।

বাঙালির কথা যাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, সেই রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গে শেষে ফিরতেই হয়। ‘রাশিয়ার চিঠি’ নিয়ে বাম-অবাম, সব পক্ষেরই স্ব-কারণ মাতামাতি আছে। কিন্তু, রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া যাত্রার নেপথ্যেও রয়েছেন এক লেনিনপ্রেমী বাঙালি। তিনি রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথের নাতি, লেনিনের জীবনী রচয়িতা সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৩০-এ রবীন্দ্রনাথ বার্লিন পৌঁছলেন, নাতি সৌম্যেন্দ্রনাথও তখন সেখানেই। ‘রবিদা’কে সোভিয়েট সম্পর্কে আগ্রহী করে তুললেন তিনি। এমনকি, সোভিয়েটের প্রথম শিক্ষা বিভাগীয় ‘পিপলস কমিশনার’ আনাতোলি লুনাচারস্কির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎও করিয়ে দেন তিনি। এই লুনাচারস্কির আমন্ত্রণে নাতিকে সঙ্গে নিয়েই রাশিয়া পৌঁছন রবীন্দ্রনাথ। বাকিটা ইতিহাস।

সেই ইতিহাসের ঐতিহ্যকে সঙ্গে করেই বুঝি বহু বাঙালি আজও বলে ওঠেন, ‘বিপ্লব স্পন্দিত বুকে, মনে হয় আমিই লেনিন।’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন