মায়াবতী জানিয়েছেন, এবার লোকসভা নির্বাচনে তিনি লড়তে পারেন। উত্তরপ্রদেশে এখনই বিধানসভা নির্বাচন নেই। তাই তিনিও লোকসভা লড়তে চাইছেন।

এর আগে অখিলেশ যাদবও জানিয়েছেন, কনৌজ থেকে এবার তিনি নিজেই লড়বেন। এই নির্বাচনকেন্দ্রে এখন লোকসভা প্রার্থী হলেন তাঁর স্ত্রী ডিম্পল। কিন্তু এবার নাকি ডিম্পল ভোট লড়বেন না!

কিন্তু কেন? কেন ডিম্পল ভোটে লড়বেন না?

সমাজবাদী পার্টির এক নেতা বললেন, মুলায়ম সিংহ যাদব যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন তাঁর স্ত্রী ও তাঁর পরিবার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। বিশেষত, মুলায়মের দুই স্ত্রী থাকায় সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায়।

এখন আধুনিক অখিলেশ পরিবারবাদের বিরুদ্ধে দলের মধ্যেই একটা বার্তা দিতে চাইছেন।

তাই এবার ঠিক হয়েছে ডিম্পল ভোট এ দাঁড়াবেন না। তিনি তাঁর দুই সন্তানের জন্য আরও সময় দেবেন। আর অখিলেশ হবেন লোকসভা প্রার্থী। কিন্তু লোকসভা প্রার্থী মানে তিনিও কি তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেসে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কুমারস্বামী, আই এম বিজয়ন ও চন্দ্রবাবু নায়ডু। —ফাইল চিত্র।

এদিকে রাহুল গাঁধী নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদেপ্রার্থী হতে পারেন,যদি তাঁর দল নির্বাচনে জিততে পারে। কংগ্রেস যদি সবচেয়ে বড় দল হয়! রাহুল গাঁধীর নিজে থেকে এ কথা বলা উচিত হয়েছে কি হয়নি, তাই নিয়ে দিল্লিতে বিতর্ক বেধে যায়। প্রতিপক্ষরা বলছেন, নিজে থেকে বলায় নিজেকে তিনি খেলো করেছেন। আবার কংগ্রেসের এক নেতা বললেন, রাহুল সচেতন ভাবেই এ কথা বলেছেন। কারণ, এতদিন তাঁকে নাবালক তকমা দিয়ে বিজেপি তাঁকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।এখন বোঝা যাচ্ছে, রাহুল নিজে একজন সিরিয়াস প্রার্থী। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে যে সরকার হতে পারেনা সে কথা বিরোধীরা সবাই জানেন।গোরক্ষপুর থেকে শুরু করে একের পর এক উপনির্বাচনে জেতার পর,কর্নাটক বিধানসভায় সরকার গঠন করার পর এখন রাহুলের ব্র্যান্ড ইকুইটি অনেক বেড়ে গিয়েছে। কাজেই প্রধানমন্ত্রী পদে তিনি নিশ্চয়ই অন্যতম দাবিদার।

প্রধানমন্ত্রী নিজে অবশ্য অন্য কথা বলছেন।তিনি বলছেন, মোদীকে হঠিয়ে সবাই প্রধানমন্ত্রী হতে চান।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হতে চান, তিনি রাহুলকে চান না। আবার বামেরা মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিছুতেই মেনে নেবেন না।

প্রধানমন্ত্রী কেন মমতার নাম নিজেই বলছেন?

মমতাকে মোদী বিরোধী প্রধান চরিত্র হিসেবে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ পত্রিকা তুলে ধরতে পারে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কেন বলছেন? বিজেপি সূত্র বলছে, এর মধ্যে আছে গভীর রাজনীতি। বিজেপির রাজনৈতিক লক্ষ্য হল, বিরোধী জোট ভেঙে দেওয়া। কাজেই মূল লড়াইটা হল মোদী বনাম সমস্ত আঞ্চলিক দলের নেতাদের লড়াই। এই বার্তাটা দিতে পারলে বিজেপির লাভ।বিরোধী নেতাদের এই খেয়োখেয়ি যত বাড়বে ততই মোদির সুবিধা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। —ফাইল চিত্র।

কাজেই ‘কোন বনেগা প্রধানমন্ত্রী’— এই লড়াই চলছে এবং চলছে। আপনার কি মনে হয়, চন্দ্রবাবু নায়ডুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বাসনা নেই? মমতার যদি মনে হয় ৪২টা লোকসভা আসন বাংলায়, তার মধ্যে প্রায় সবটাই তৃণমূল দখল করে নেবে, এমনটাই ভাবছেন তাঁরা। অন্যদিকে চন্দ্রবাবু ভাবছেন, এত দিন ধরে তিনি রাজনীতি করছেন। এর আগে দিল্লিতে তিনি জোটের আহ্বায়ক ছিলেন, এত সিনিয়র মানুষ। তাহলে তিনি কেন প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হতে পারবেন না?

আবার দেখুন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ব্যাপারটা। তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। সনিয়া গাঁধী তার পরিবর্তে মনমোহন সিংহকে প্রধানমন্ত্রী করলেন। অবশ্য তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পেরেছিলেন। কিন্তু আজও কি তাঁর জীবনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসবে? নাগপুরে আরএসএস-এর সদর দফতরে যাওয়ার পর এই জল্পনা দিল্লিতে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। অনেকের ধারণা, মোদী যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পান তাহলে প্রণব সর্বসম্মত প্রার্থী হতেও পারেন। আবার মোদীকে বাদ দিয়ে রাজনাথ সিংহের মতো লোক যদি প্রধানমন্ত্রী হন? সেক্ষেত্রে মমতার তৃণমূলের মতো আঞ্চলিক দলও কি সেই নতুন এনডিএ-কে সমর্থন করতে পারে?

কাজেই এখন মোদীকে সরানোর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে ‘কৌন বনেগা প্রধানমন্ত্রী’র রাজনীতি!