কার্গিল থেকে জাঁসকারের অভ্যন্তরে ঢুকতে হলে গাড়ি ভাড়া নিতে হবে কার্গিল থেকেই। কার্গিলের জিপ স্ট্যান্ডে পাওয়া যাবে পদম যাবার গাড়ি। দুপুরের মধ্যে কার্গিল পৌঁছলে সেখান থেকে এগিয়ে পানিখারে রাত কাটানো যেতে পারে। রয়েছে গেস্ট হাউস। কার্গিল থেকে এক রাত বা দু’রাত পানিখার ও রংদুমে কাটিয়ে ২৩০ কিলোমিটার দূরের পদম পৌঁছনো ভাল হবে। এ পথের দৃশ্যই প্রধান, তাই সেখানে তাড়াহুড়ো করলে বেড়ানোর মজাই মাটি। আর উচ্চতাজনিত সমস্যা এড়াতে হলে রয়েসয়ে যাওয়াই দস্তুর। বরং ফেরার সময় চাইলে খুব সকাল সকাল বেরিয়ে সারা দিন টানা পথ চলে বিকেল বিকেল কার্গিল ফিরে আসা যেতে পারে।

কার্গিল থেকে শঙ্কু প্রায় ৪০ কিলোমিটার। সেখান থেকে পাশের পথ ধরে খানিক গেলে সরু জলের ধারার পাশে খাড়া পাথরের গায়ে খোদিত আছে মুলবেকের মতোই একটি দণ্ডায়মান মৈত্রেয় মূর্তি, তবে এটি মুলবেকের মূর্তির থেকে কয়েক ফুট ছোট। সেটিকে দেখে মূল পথে ফিরে সুরু নদীর তীরে পানিখার প্রায় ২৪ কিলোমিটার। সুরু নদীর তীর বরাবর চলা। কখনও নদী নেমে যায় নীচের খাদে, কখনও বা চলে আসে পথের সমতলে। এই পথের অনেকখানি সময় মাথার ওপর দেখা যায় নুন কুন শৃঙ্গদ্বয়। কারপোকার আর সাংরা তে নদীকে দু’বার অতিক্রম করে পুরতিকচে পেরিয়ে পানিখারে পৌঁছতে সময় লাগে ঘণ্টাখানেক।

নারোপার ধ্যান ও সাধনস্থল জঙ্খুল গুম্ফা

গ্রামের এক ধারে রয়েছে ছিমছাম রেস্ট হাউস, ব্যবস্থা চলনসই, কিন্তু অবস্থান বেশ সুন্দর। আরও এগিয়ে টান গোলেও আছে বিশ্রামগৃহ। সুবিধামতো যে কোনও একটাতে রাত কাটিয়ে পর দিন সকাল সকাল রওনা দিয়ে অসাধারণ সুন্দর উপত্যকার দৃশ্য দেখতে দেখতে ছোট-বড় গ্রাম পেরিয়ে পারকাচিক হিমবাহের নিসর্গ উপভোগ করে পৌঁছন যায় নাবাল জমি আর রুক্ষ পর্বতের মধ্যে অবস্থিত অসাধারণ উপত্যকা রংদুম।

দ্বিতীয় রাত রংদুমে কাটানো যেতে পারে। রাত কাটাবার জন্য রয়েছে অতি সাধারণ মানের গেস্টহাউস, পথের পাশের দোকান বা ধাবা আর রয়েছে বেশ ভাল মানের বাসযোগ্য তাঁবুর সমারোহ। নাম নুন কুন ক্যাম্প। লাদাখের অন্যান্য জায়গাতেও রয়েছে এদের সুবন্দোবস্ত। চারিদিকে উঁচু পর্বতে ঘেরা প্রায় চাটুর মতো উপত্যকার দৃশ্য খুব সুন্দর। রয়েছে টিলার ওপর একটি মনেস্ট্রি, সূর্যাস্তের আলো পড়ে তার ওপর। তবে রয়েছে অক্সিজেনের স্বল্পতাজনিত অস্বস্তি আর দুপুরের পর থেকে তীব্র হাওয়ার দাপট। তাই এখানে রাত কাটাতে না চাইলে পানিখার থেকে একটু সকাল সকাল বেরিয়ে সে দিনই সোজা পদম পৌঁছন যায়। তবে রংদুমের সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় অসাধারণ সুন্দর।

সবুজে মোড়া পদম

রংদুম থেকে পথ ধীরে ধীরে ওপরে উঠেছে। স্ত্যাট সো আর লাম সো নামে দুটি হ্রদের পাশ দিয়ে পথ উঠে যাবে সোজা পেনজি লার ওপরে। পেনজি লার উচ্চতা ১৪৪৩৬ ফুট। পেন জি লা পেরিয়ে ডান দিকে পড়বে স্থির শান্ত সমাহিত নদীর মত সুবিশাল দ্রাং দ্রুং হিমবাহ। থামতেই হবে তার চোখ ধাঁধানো রূপ প্রত্যক্ষ করার জন্য। সেখান থেকে আরও এগোলে পৌঁছনো যাবে জাঁসকারের মূল উপনদী স্তোদ বা দোদা নদীর উপত্যকায়। আরও এগোলে পড়বে আবরান, হামিলিং, স্কায়াগাম, আটিং প্রভৃতি গ্রাম। সেগুলিকে পেরিয়ে সানি গ্রাম। এখান থেকে পদম প্রায় ৬ কিলোমিটার। জলা নাবাল জমিতে প্রায় হ্রদের মতো জলাশয়, হোমস্টে বিশিষ্ট এই জনপদের মূল খ্যাতি কিন্তু দ্বিতীয় শতকে কনিষ্ক প্রতিষ্ঠিত মূল স্তূপকে কেন্দ্র করে গড়া গুম্ফা ও মন্দিরের জন্য। কুশানদের বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতার এই অঞ্চলের একমাত্র নিদর্শন এটি। সানি গুম্ফা দেখে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে এগিয়ে চলুন পদম।

পাহাড়ের গায়ে মৌচাকের মতো কারসা গুম্ফা

পদমে অন্তত তিন রাত কাটানো উচিত। পৌঁছতেই প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। সে রাত হোটেল বা গেস্ট হাউসে কাটিয়ে পর দিন সকালে যাওয়া যেতে পারে সুন্দর পিবিতিং গ্রাম ও গুম্ফা, পদম বাজার থেকে হেঁটেই যাওয়া যায়। একটি ছোট্ট পাহাড়ের মাথায় এর অবস্থান। গুম্ফার উঠোন থেকে পদমের দৃশ্য মনোরম। স্থানীয় একটি গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছনো যায় প্রাচীন জাংলা গ্রামে। জাংলা এই এলাকার অনেকগুলি ট্রেক রুটের শুরু বা শেষ বিন্দু। রয়েছে কিছু হোমস্টে। জাংলা-তে একটি প্রাচীন নানেরি বা সন্ন্যাসিনীদের মঠ রয়েছে। মন্দির, প্রার্থনাকক্ষ, আবাসিকদের থাকার জায়গা রয়েছে এখানে। এই মঠের প্রাচীন কক্ষের দেওয়ালচিত্র দর্শনীয়। এখান থেকে একদম কাছে রুক্ষ পাথুরে টিলার মাথায় জাংলা দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। পুনরুদ্ধারের কাজ হয়েছে কিছু। প্রখ্যাত হাঙ্গেরীয় পণ্ডিত আলেক্সান্দার সিসোমা দি কো রস-এর ঘরটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৮২৩ থেকে ১৮২৪, এই এক বছর এখানে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন তিব্বতি থেকে ইংরেজি শব্দকোষ।

অপূর্ব সুন্দর মুনে গুম্ফা

জাংলা থেকে পদম ফেরার পথে বাঁ দিকে পর্বতের ওপর সুন্দর স্তোংদে বা স্ত্রোংদে গুম্ফা। প্রখ্যাত ধর্মগুরু নারোপার শিষ্য লোৎসোআর প্রতিষ্ঠিত একাদশ শতকের এই গুম্ফা অধুনা গেলুকপা সম্প্রদায়ের। সেখান থেকে জাঁসকার উপত্যকার অসাধারণ দৃশ্য, গুম্ফার অভ্যন্তরে মুখোশের সংগ্রহ, ফ্রেস্কো ছবি অনবদ্য। এটি দেখে মধ্যাহ্নভোজনের জন্য পদম ফিরে আসা ঠিক হবে।

হাল্কা কিছু খেয়ে (বাকি দিন তুমুল ঘোরাঘুরির শক্তি রাখার জন্য) সারা দিনের জন্য ভাড়া করা গাড়িতে যাওয়া যেতে পারে বারদেন হয়ে মুনে গুম্ফার দিকে। সুন্দর উপত্যকা, নদীতীর হয়ে পথ। মাঝেসাঝে নালা বা ঝর্নার দৃশ্য দেখতে দেখতে পর্বতের গভীরে, লুংনাক নদীর কিনারে মোচার মতো আকৃতিবিশিষ্ট পাথরের পাহাড়ের একদম মাথায় বারদেন গুম্ফার অবস্থান রোমাঞ্চকর। প্রাচীন গুম্ফার অবশেষ দেখা যায় পর্বতের অনেক ওপরে, এখনকারটা তুলনামূলক ভাবে নতুন।

বারদেন গুম্ফা থেকে আরও প্রায় আট কিলোমিটার এগিয়ে গেলে পৌঁছনো যাবে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো গেলুকপা সম্প্রদায়ের গুম্ফা মুনে। এখানে চারদিকে রুক্ষ প্রকৃতির মাঝে সবুজ ক্ষেতের দৃশ্য চোখের আরাম এনে দেয়। এখানে নানা বয়সী লামা ও দ্রাপাদের বাস। রয়েছে শ্রেণিকক্ষ, প্রার্থনাকক্ষ এবং থাকার যায়গা। মুনে থেকে আরও প্রায় ৩০ কিলোমিটার এগিয়ে পুরনি। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছন যায় এই অঞ্চলের অন্যতম সুন্দর আর রহস্যময় গুম্ফা ফুকতাল।

চারিদিকে উঁচু পর্বতে ঘেরা রংদুম উপত্যকা

সন্ধ্যা নাগাদ পদমের বাজারে ঘোরাঘুরি করে দেখে নেওয়া যেতে পারে সময় থমকে থাকা প্রায় মধ্যযুগীয় জনপদের দোকানপাট, মানুষজন আর দৈনন্দিন জীবনের টুকরো-টাকরা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা তীব্র নিষ্প্রাণ ঝোড়ো হাওয়া বয় উপত্যকা জুড়ে, তাই বেশি ঘোরাঘুরি না করে হোটেলে ঢুকে পড়া উচিত।

পর দিন সকাল সকাল প্রাতঃরাশ করে বেরিয়ে পড়া যায় এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন জঙ্খুল গুম্ফা দেখতে। বিক্রমশীলা মহাবিহার ছিল প্রাচীন বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। নানান কিংবদন্তী বৌদ্ধ গুরু, উপাসক ও দার্শনিক এখানেরই ছাত্র। নারোপাও তার ব্যতিক্রম নন। তিব্বত ও লাদাখ চত্বরের বহু গুম্ফা হয় তার প্রতিষ্ঠিত অথবা আশীর্বাদপ্রাপ্ত। বিখ্যাত লামায়ুরু তার মধ্যে একটি। নারোপার ধ্যান ও সাধনস্থল এই জঙ্খুল গুম্ফা। পদম থেকে সানি পেরিয়ে, আটিং নালার গর্জ ছাড়িয়ে বন্ধুর পার্বত্যপথে এই গুম্ফার অবস্থান। এটি অতীতে ছিল উমাশি লা পেরিয়ে কিস্তোয়ার যাবার বাণিজ্যপথ। বাণিজ্যপথটি তার গুরুত্ব হারাতে জঙ্খুল-ও হয়ে পড়েছে আরও নিরালা নিঃসঙ্গ। দূর থেকে দেখে মনে হয় গুম্ফাটি ঝুলে আছে পর্বতের গা থেকে। কাছে এলে তবে সম্পূর্ণ দেখা যায় তাকে। ভেতরের আধো অন্ধকারে গুহার দৃশ্য, নারোপার মূর্তি আর দেওয়ালচিত্র সম্ভ্রম উদ্রেক করে। গুম্ফার পাশের সিঁড়ি দিয়ে অনেকটা ওপরে উঠে দেখা যায় আরও একটি ছোট গুহামন্দির, ভেতরে ফ্রেস্কোর কাজ আর উপবিষ্ট মূর্তি রয়েছে। এখানে সময় কাটিয়ে, সানি গুম্ফা দেখে ফিরে আসা যেতে পারে পদমে।

সূর্যাস্তের আলো পড়ে রংদুম গুম্ফায়

স্নান খাওয়া সেরে, সামান্য বিশ্রাম নিয়ে বিকেলের দিকে যাওয়া যেতে পারে এখানের অন্যতম বৃহৎ ও সুন্দর কারসা গুম্ফা দেখতে। পদম থেকে দূরে পাহাড়ের গায়ে মৌচাকের মতো লাগে তাকে। পদম থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের দোদা নদীর ওপরের সেতু পেরিয়ে পৌঁছন যায় কারসা গুম্ফার কাছে। আগের দড়ির সেতুর বদলে এখন মজবুত গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত স্থায়ী সেতু হয়েছে। এ দিকে বেশ ভালই চাষবাসের চিহ্ন রয়েছে। চাষের সময় সবুজের দৃশ্য সুন্দর। এই গ্রামের মানুষেরা মন সম্প্রদায়ের। বাকি এলাকার মতো ইন্দো মঙ্গোলীয়দের থেকে কিছুটা আলাদা এদের গড়ন। কুশান যুগে কনিষ্কের আমলে এরা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হয়। কারসা গুম্ফায় অনেক লামা ও দ্রাপার বাস। রয়েছে ধাপে ধাপে রান্নাঘর, হস্টেল, খাবারঘর, ক্লাসঘর, মন্দির, প্রার্থনাকক্ষ এবং বেশ বড় উঠোন। এই গুম্ফারও উঠোন বা উঁচু চত্বর থেকে সামনের পর্বতশৃঙ্গের পটভূমিকায় নদী, পদম জনপদ আর উপত্যকার দৃশ্য সম্ভবত এ অঞ্চলের সুন্দরতম। কারসা গুম্ফার দ্রাপাদের সঙ্গে বিকেল কাটিয়ে সন্ধ্যার পদমে ফেরা। পর দিন খুব সকালে রওনা দিয়ে শেষ বিকেলের মধ্যে পৌঁছন যাবে কারগিল।

আরও পড়ুনলেহ থেকে জাঁসকার-বাতালিক-কার্গিল

 

তথ্যপঞ্জি:

কার্গিলে জম্মু-কাশ্মীর পর্যটনের গেস্ট হাউস রয়েছে হাসপাতালের কাছে। তবে সেটি অগ্রিম বা স্পট বুকিং হবে কি না জেনে এলে ভাল। এ ছাড়া রয়েছে নানা মানের হোটেল, শহরের মধ্যে এবং বাইরে। সেগুলির মধ্যে কয়েকটি হল:

জোজিলা রেসিডেন্সি (প্রায় ৪০০০ টাকা দিনপ্রতি)

[বিমাথাং, বারু, কার্গিল। দূরভাষ – ০৯৪১৯১৭৬২৪৯]

দি হাইল্যান্ড মাউন্টেন রিসর্ট অ্যান্ড স্পা (দিনপ্রতি ৫৫০০ টাকা)

[বারু সোক, মাইলস্টোন ২.৫, কার্গিল। দূরভাষ: ০৯৪১৯১৭৬৩০৫]

হোটেল ক্যারাভান সরাই কার্গিল (প্রায় ৪০০০ টাকা দিনপ্রতি)

[থাং, কার্গিল। দূরভাষ: ০৯৪১৯১৭৬৫৩৮]

সাকি হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ (প্রায় ২৫০০ টাকা দিনপ্রতি)

[বারু কলোনি, ডি সি অফিসের কাছে। দূরভাষ: ০৯৪১৯৮০৩৬১৬]

রয়্যাল ইনন কার্গিল (প্রায় ৩০০০ টাকা দিনপ্রতি)

[৫ জামস্তিং, কার্গিল। দূরভাষ: ০১৯৮৫-২৩২১১৪]

কার্গিল ট্যুরিস্ট ক্যাম্প (প্রায় ৩৫০০ টাকা দিনপ্রতি)

[কুরবাথাং, পাশকুম গ্রামের কাছে। দূরভাষ: ০৯৮১০৮ ২২৩৪৮]

কারসা গ্রাম

কার্গিল ছাড়া শঙ্কু, পানিখার, টানগোলে রয়েছে সাধারণ মানের গেস্ট হাউস। গেস্ট হাউস রয়েছে রাংদুমেও। ব্যবস্থাপনা অতি সাধারণ, কোনওমতে রাত কাটানোর মতো। রংদুমে রয়েছে নুন কুন ক্যাম্প, তাঁবুতে থাকার ব্যাবস্থা বেশ ভাল।

পদম, সানি গুম্ফা, কারসা, জাংলা-তে রয়েছে হোমস্টে। ইনস্পেকশন বাংলো এবং হোটেল আছে পদমে। কারসা গুম্ফা পরিচালিত হোটেল কৈলাস তার মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া রয়েছে:

হোটেল রিগ্যাল (দূরভাষ: ০৯৪৬৯২২৪৫০০)

[মনিরিংমো, পদম]

মার্ক হোটেল

[পদম]

হোটেল গাকি পদম (প্রায় ২৪০০-৪০০০ টাকা দিনপ্রতি)

কার্গিল থেকে সমস্ত পথ অতি দুর্গম। দোকানপাট, হোটেল নেই বললেই চলে। সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবারদাবার, পানীয় জল রাখা জরুরি। উচ্চতাজনিত হজমের সমস্যা, মাথা ধরা, বমি হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ সুসিদ্ধ ও মশলাহীন খাবার খেলে সুবিধা। শুষ্কতার জন্য জলীয় খাবার বেশি পরিমাণে খেতে হবে। কার্গিল ও পদমে হাসপাতাল রয়েছে। শ্বাসপ্রশ্বাসের কোনও অসুবিধায় সোজা হাসপাতালে গিয়ে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এই পথে পেন জিলা-তে বরফ পড়ে পথ বন্ধ হতে পারে, তাই খোঁজখবর নিয়ে নেবেন লেহ বা কার্গিল থেকে রওনা হওয়ার সময়।

কার্গিল থেকে স্করপিও ধরনের গাড়ি ভাড়া পদম পর্যন্ত ১৪০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা। আর ফিরতি পথের ভাড়া ১০০০০ থেকে ১২০০০ টাকা। পদম থেকে এ দিক-ও দিকে যাওয়ার ভাড়া পড়ে ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা।

মনে রাখবেন: মুরগি এই এলাকায় সাধারণত বাঁচে না। পেলে ছাগলের বা ভেড়ার মাংস পাওয়া যায়, নইলে নিরামিষ খাওয়াই ভাল হবে।

ছবি: লেখক