Advertisement
E-Paper

বিমানে রকমারি খাবার দেখলেই মন খাই খাই করে? কোন খাবার মাঝ-আকাশে এড়িয়ে যাওয়া ভাল?

বিমানে যাওয়া রোমাঞ্চকর, কিন্তু সেখানে বসে খাওয়া? মাঝ-আকাশে কোন খাবার খেলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, আপনার জন্য অস্বস্তিতে পড়তে পারেন সহযাত্রীরাও?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৯:৩০
Which kind of food you should never eat on a flight

বিমানে সফর করার সময় কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? ছবি: সংগৃহীত।

মেঘের উপর দিয়ে বিমান যাচ্ছে। অলস এই সময়ে আকাশ দেখতে দেখতে যদি পছন্দসই খাবার থাকে হাতের কাছে, তার চেয়ে ভাল বোধ হয় কিছুই হয় না। একঘেয়েমি কাটাতে শুধু মুখরোচক খাবার নয়, ওয়াইন বা পছন্দের সুরাও বেছে নেন অনেকে।

২৫-৩০ হাজার ফুট উঁচুতে, মেঘের উপর দিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে রোমাঞ্চকর। তবে এমন উচ্চতায় কিছু কিছু খাবার কিন্তু যাত্রীদের বিড়ম্বনাতেও ফেলতে পারে। বিশেষত, আচমকা অসুস্থ বোধ করলে ঝক্কির শেষ থাকবে না। দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন বিমান সংস্থায় কাজ করেছেন, এমন অভিজ্ঞ বিমানকর্মীরাই বলছেন, মাঝ-আকাশে কোন ধরনের খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল।

গ্যাস হতে পারে, এমন খাবার

বিমানে কোন ধরনের খাবার খাবেন, তা আগে থেকে ঠিক করা যায়। আবার কিছ কিছু মেনু নির্দিষ্ট থাকে। বিমান যখন অধিক উচ্চতায় থাকে, তখন কেবিনে বায়ুচাপের তারতম্য হয়। তার ফলেই কারও কারও শরীর আনচান করতে পারে। বিশেষত চলন্ত গাড়ি বা বিমানে বমির ধাত থাকলে, সমস্যা হয় আরও বেশি। সাত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন এক বিমানকর্মী জোসেফিন রেমো একটি সাক্ষাৎকারে বলছেন, গ্যাস হয় এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। শরীর একবার অসুস্থ হলে অত উচ্চতায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। যাত্রী নিজেও প্রচণ্ড কষ্ট পেতে পারেন। ডিম, দুধ জাতীয় খাবার বা কাঁচা স্যালাড— যে ধরনের খাবার খেলে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলি দায়িত্ব নিয়ে এড়িয়ে যাওয়া ভাল।

বিভিন্ন রকম মাছ

দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন বিমান সংস্থা যাত্রীদের জন্য মেনু ঠিক করে। বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থায় টুনা, সামুদ্রিক মাছের স্যান্ডউইচ, ডিমের স্যালাডের মতো খাবার দেওয়া হয়। জ্যাকলিন হোয়াইটমোর নামে এক বিমানকর্মীর কথায়, সামুদ্রিক মাছের নিজস্ব তীব্র গন্ধ থাকে। এই ধরনের খাবার কেউ খেলে বদ্ধ কেবিনে গন্ধ ছড়ায়, তা অন্য যাত্রীদের পক্ষেও অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বিশেষত মাছের গন্ধে যাঁদের অসুবিধা, তাঁরা আরও বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। ফলে, এই ধরনের খাবার বাদ দেওয়া যায় কি না যাত্রী, ভেবে দেখতে পারেন।

অ্যালার্জির ভয়

কারও বিশেষ বিশেষ খাবারে অ্যালার্জি থাকে। ফলে খাওয়ার আগে বুঝে নেওয়া জরুরি, সেই খাবারটি কোন উপকরণে তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া, বাদাম, বাদামের মাখন জাতীয় খাবারে অনেকের অ্যালার্জি থাকে। খাওয়ার সময় খেয়াল রাখা প্রয়োজন, সহযাত্রীর কোনও বিশেষ খাবার নিয়ে অসুবিধা হচ্ছে কি না।

মদ্যপান

যাত্রী পরিষেবার অঙ্গ হিসাবে বহু বিমান সংস্থাই উড়ানে অ্যালকোহল পরিবেশন করে থাকে। পছন্দের পানীয় পেয়ে অনেক যাত্রী তা উপভোগ করেন। ‘থোরাক্স’ নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার ফল বলছে, উড়ানে বসে মদ্যপান ও তার পর ঘুম হার্টের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘ বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে। আচমকা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে ও হৃদ্‌যন্ত্রের গতি বেড়ে গিয়ে ঘটতে পারে বিপদ। এমনকি, কমবয়সিদের ক্ষেত্রেও তা নিরাপদ নয়। অ্যালকোহল রক্তবাহগুলিকে শিথিল করে দেয়। মদ্যপানের পর হৃদ্‌যন্ত্রের গতি বেড়ে যায়। বাড়তি অক্সিজেনের দরকার হয়। মদ্যপানের পর কেউ ঘুমিয়ে পড়লে অক্সিজেনের অভাব বা কোনও কষ্ট হয়তো সেই মুহূর্তে তিনি বুঝতেও পারবেন না। এ ক্ষেত্রে উচ্চতাজনিত কারণে বিমানে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ক্ষেত্র বিশেষে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

কার্বোনেটেড পানীয়

বিমা,যাত্রার সময় ক্রমাগত এসিতে থাকার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। ঠিকমতো জল না খেলে শরীরে জলশূন্যতাও দেখা দিতে পারে। জলের বদলে অনেকেই বার বার কার্বোনেটেড পানীয়ে চুমুক দেন, বেছে নেন চা কিংবা কফি। কিন্তু এই ধরনের পানীয় উল্টে শরীরে জলের চাহিদা বাড়িয়ে দিতে পারে। সুস্থ থাকতে বার বার জল খাওয়া প্রয়োজন, চিনি দেওয়া পানীয় নয়।

সহজে হজম হয়, খেয়ে তৃপ্তি বোধ করেন, এমন ঘরোয়া খাবার বিমানে সঙ্গে রাখতে পারেন। বেশির ভাগে বিমান সংস্থাই ঘরোয়া কিছু খাবার নিয়ে যেতে দেয়। বিমানে চড়ার আগে জেনে নিন, যেটি সঙ্গে নেবেন, সেই খাবার নিয়ে যাওয়ার অনুমতি আছে কি না।

Travel Tips Flight Tips Foods
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy