বেশির ভাগ সময়েই আমরা পুঁথিগত শিক্ষা, পেশাগত সাফল্য, পোশাক-আশাক এ সবের নিরিখে কোনও মানুষকে বিচার করে ফেলি। সমাজের তথাকথিত পিছিয়ে পড়া মানুষদেরও চিন্তাভাবনার স্বচ্ছতা থাকতে পারে, তাঁরাও যে মুক্ত চিন্তার শরিক হতে পারেন এ কথা অনেক সময়ই খেয়াল থাকে না। প্রচলিত সেই ভাবনাকেই সম্প্রতি ধূলিসাৎ করে দিলেন এক উলের তৈরি ফুলের বিক্রেতা। একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে সে কথা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়ো থেকে জানা গেছে, দিল্লির কনট প্লেসে উলের তৈরি ফুল বিক্রি করেন ওই ভদ্রলোক। তিনি প্রতিবন্ধী। ক্রাচ নিয়ে চলেন। ইনস্টাগ্রামে ‘সোনালি_সিংহ’ অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে একটি ভিডিয়ো। ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। এই ভাইরাল ভিডিয়োতে এক তরুণী উলের তৈরি ফুলের বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসা করেন, “সমাজে নারীরা অনেক নিপীড়নের শিকার হন। আপনি কি এর সঙ্গে একমত?” বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে ওই ব্যক্তি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন, “হ্যাঁ, একদম ঠিক।” আজকাল সমাজমাধ্যমে নারী স্বাধীনতা নিয়ে যে বড় বড় কথা বলা হয়, সে সবই লোকদেখানো বলে অভিমত ওই ব্যক্তির।
তিনি এ-ও বলেন যে অনেকেই মনে করেন, বিয়ে করেছেন মানে সংসারের যাবতীয় দায়দায়িত্ব স্ত্রীর একার। সমস্ত কাজ তিনি একার হাতে সামলাবেন। যেন তিনি বাড়ির পরিচারিকা। এই মনোভাবেরও নিন্দা করেছেন ওই বিক্রেতা। এ ছাড়াও, আরও একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “মা হওয়ার পর অনেক নারীই অস্ত্রোপচার ইত্যাদি কারণে মোটা হয়ে যান। সে সময় তাঁর স্বামীর উচিত ওই নারীর পাশে থাকা, শারীরিক গঠনের নিরিখে মেয়েটির বিচার না করা। কেউ মোটা হয়ে গেলেই যে ভালবাসা শেষ হয়ে যায়, তা হওয়া উচিত নয়।” ভদ্রলোকের তথাকথিত শিক্ষা হয়তো নেই। তা সত্ত্বেও তাঁর এই ভাবনা সকলকে মুগ্ধ করেছে। ভিডিয়োর শেষে ওই বিক্রেতার থেকে উলের তৈরি ফুল কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে নেটপাড়া। ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি পছন্দ-চিহ্ন রয়েছে তাতে। ৮,০০০-এরও বেশি মানুষ ওই ব্যক্তিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী আবেগাপ্লুত হয়ে লিখেছেন, “স্যর, এই নিন আপনার মুকুট। আপনি সত্যিই আমার মন জয় করে নিয়েছেন।”