Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

অনুদান পেতে ছোট পুরসভা জুড়ে হচ্ছে চার কর্পোরেশন

কলকাতার আশপাশের তিন বা তার বেশি মিউনিসিপ্যালিটি বা পুরসভাকে এক-একটি ছাতার তলায় এনে চারটি নতুন কর্পোরেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। একই

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২৭ মে ২০১৪ ০৩:৪২
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

কলকাতার আশপাশের তিন বা তার বেশি মিউনিসিপ্যালিটি বা পুরসভাকে এক-একটি ছাতার তলায় এনে চারটি নতুন কর্পোরেশন তৈরির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে এলাকা বাড়ানো হচ্ছে তিনটি বর্তমান কর্পোরেশনেরও। ওই কর্পোরেশনগুলির কলেবর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে বিধাননগরকেও কলকাতা পুরসভার আওতায় আনার কথা বলেছিলেন। পরে অবশ্য কিছু আইনি জটিলতার কারণ দেখিয়ে ওই বক্তব্য থেকে পিছিয়ে আসেন তিনি।

সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে মমতা নিজেই নতুন কর্পোরেশন তৈরির কথা জানান। তিনি বলেন, “পুরসভাগুলির সমস্যা অনেক গভীরে। সে-কথা এত দিন কেউ ভাবেনি। কর আদায় ছাড়া কিছুই করার নেই ওই সব পুরসভার। এলাকার উন্নয়ন ও মানবসম্পদকে ঠিক ভাবে কাজে লাগানোর জন্যই অনেক পুরসভাকে নিয়ে একাধিক কর্পোরেশন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।” নতুন কর্পোরেশনগুলির নাম কী হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ দিন কর্পোরেশন গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি কাজ ধাপে ধাপে হবে। নামও ঠিক হবে পরে।

প্রশাসনের মতে, রাজ্যের বহু পুরসভা অর্থকষ্টে ভুগছে। কর ছাড়া আয়ের অন্য পথ নেই। পুরসভাগুলিকে আয় বাড়িয়ে সম্পত্তি বৃদ্ধির কথা বারবার বললেও বহরে সেগুলি এতই ছোট যে, তাদের পক্ষে রোজকার খরচ চালানোই দায়। ওই পুরসভাগুলি কর্পোরেশনের আওতায় এলে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আসবে, আবার নাগরিকদের ন্যূনতম পরিষেবা দেওয়াটাও সহজ হবে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা।

Advertisement



১০ লক্ষ বা তার বেশি জনসংখ্যার শহর বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে এবং অর্থ কমিশনের কাছ থেকে বাড়তি অনুদান পায়। এ রাজ্যে এমন শহর আছে মাত্র দু’টি কলকাতা ও আসানসোল। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পে বাড়তি সুবিধা পেতেই কলকাতা শহরের এলাকা বাড়িয়ে কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকা (কেএমএ) তৈরি করা হয়েছিল বাম আমলে। এ বার ওই কেএমএ-কেই ছ’টি এলাকায় ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা হল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এগুলিকে মেগাসিটির মতো করা হচ্ছে। এর ফলে এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের ঋণ পেতে আমাদের সুবিধে হবে।”

বিরোধীরা অবশ্য বিষয়টিকে এত সহজ ভাবে দেখতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, পুরসভাগুলি আর্থিক ভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে বা কর্পোরেশন হলে কেন্দ্র বা ব্যাঙ্ক থেকে বাড়তি আর্থিক সহায়তা মিলবে, এই তথ্য নতুন নয়। তা হলে এখনই এই সিদ্ধান্ত কেন? যেখানে আগামী দেড় বছরে ৯০টিরও বেশি পুরসভার দরজায় কড়া নাড়ছে ভোট! তার আগে নতুন কর্পোরেশন গড়া যে সম্ভব নয়, সেই ব্যাপারে এক রকম নিশ্চিত পুরকর্তাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, নতুন চার কর্পোরেশনকে চূড়ান্ত রূপ দিতে রাজ্যের পুর আইন সংশোধন করতে হবে। বিধানসভায় সেই আইন পাশ হলে তবেই নতুন ও পুরনো মিলিয়ে সাতটি কর্পোরেশনের এলাকা বিন্যাসে হাত পড়বে। আগামী বছরের আগে সেগুলির নতুন চেহারা চূড়ান্ত না-হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

পুরভোট নিয়ে যখন সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতভেদ জোরালো হচ্ছে এবং তার জেরে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে ভোট, সেখানে এই সিদ্ধান্ত কি নিছকই প্রশাসনিক?

বিরোধীরা বলছেন, জুলাইয়ে যে-সতেরোটি পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা, তার সাতটিকে কর্পোরেশনের আওতায় আনার কথা এ দিন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে ওই সব পুরসভায় নির্ধারিত সময়ে ভোটের আশা আরও ক্ষীণ হয়ে গেল। নির্দিষ্ট সময়ে ভোট করতে রাজ্য সরকার যে মোটেই আগ্রহী নয়, এ দিনের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে তা আরও প্রকট হল বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

নির্দিষ্ট সময়ে পুরভোট চেয়ে রাজ্য সরকারের উপরে অবশ্য চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছেন বিরোধীরা। এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ চেয়ে বিজেপি ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের বহু পুর এলাকায় বিজেপি-ই এখন মূল শক্তি। লোকসভায় প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে ওই সব এলাকায় তৃণমূল অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এখনই ভোট করলে পাছে ফের মোদী-ঝড়ে পড়তে হয়, তাই নতুন কর্পোরেশন তৈরির প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে ১৭টি পুরসভায় ভোট পিছোতে চাইছে শাসক দল, অভিযোগ বিজেপি-র। সময়সীমার মধ্যে পুরভোটের প্রক্রিয়া শুরু না-করার জন্য রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে কংগ্রেস, সিপিএম-ও। তাদের অভিযোগ, হারের ভয়েই পুরভোট পিছোতে চাইছে তৃণমূল।

বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। নির্ধারিত সময়ে পুরভোট করানো যাদের দায়িত্ব, সেই পুর ও নগরোন্নন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ দিন বলেন, “নতুন কর্পোরেশন গঠনের সিদ্ধান্তে কোনও রাজনীতি নেই। পুরোটাই প্রশাসনিক। মানুষকে আরও বেশি পরিষেবা দিতেই একাধিক পুরসভাকে এক ছাতার তলায় আনা হচ্ছে।” তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় পুরসভা নির্বাচন হলে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হয়। আগামী বছরে একসঙ্গে রাজ্যের বেশির ভাগ পুরসভার নির্বাচন সেরে ফেলতে চান তিনি। তার মধ্যে নতুন কর্পোরেশন গঠনের কাজ অনেকটাই এগিয়ে যাবে।

এ দিন বিধাননগর পুর এলাকাকে কলকাতা কর্পোরেশনের আওতায় আনার কথা ঘোষণা করেও পরে তা বাতিল করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিক বৈঠকেই মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্রের সঙ্গে আলোচনার পরে মমতা বলেন, “সল্টলেককে কলকাতার মধ্যে আনার ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা আছে। ওটা এখন বাদ থাক।” প্রশাসনিক সূত্র বলছে, প্রথমে ঠিক ছিল, বিধাননগর ও রাজারহাট-গোপালপুর মিলে একটি কর্পোরেশন হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী চান, কলকাতার মধ্যেই আসুক সল্টলেক। তিনি এ দিন বলেন, “সল্টলেকের বাসিন্দাদের অভিমান আছে, তাঁরা কলকাতার মধ্যে নেই।” কিন্তু কলকাতা ও বিধাননগরের মধ্যে কর বিন্যাস-সহ নানা বিষয়ে পার্থক্য থাকায় প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে পিছিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী।

কর্পোরেশন হলে উন্নয়নে আরও বেশি সুসংহত পরিকল্পনাও নেওয়া যাবে বলে পুরকর্তাদের একাংশের অভিমত। এর ভিন্ন মত পোষণ করে পুরকর্তাদেরই অন্য একটি অংশ বলছেন, কর্পোরেশনের ব্যাপ্তি খুব বেশি হলে সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন মূল কলকাতায় যে-মানে ও যে-গতিতে উন্নয়ন হয়, বেহালা বা ঠাকুরপুকুরে তা হয় না। এক পুরকর্তা বলছেন, “চন্দননগর, চুঁচুড়া ও শ্রীরামপুরের নিজস্ব ঐতিহাসিক চরিত্র আছে। এক ছাতার তলায় এলে সেই ঐতিহ্য বেঁচে থাকবে কি না, সংশয় আছে।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement