Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

জেলায় জেলায় বিজেপিতে যাচ্ছেন বামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৪ মে ২০১৪ ০৩:১১

বিজেপি হাওয়ায় এ রাজ্যে বাম কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে গেরুয়া শিবিরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

লোকসভা ভোটের নিরিখে এ বার রাজ্যে ফ্রন্টের ভরাডুবির মাঝে আরও কোণঠাসা হয়েছে শরিকদলগুলি। কোনও আসনেই জয়ী হতে পারেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে শরিকগুলির মধ্যেই দল ছাড়ার ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি, নদিয়ার কিছু আরএসপি নেতা-কর্মী যাচ্ছেন বিজেপিতে। তাঁদের মধ্যে বিধানসভার উপনির্বাচনে পরাজিত আরএসপি প্রার্থী যেমন আছেন, তেমন আছেন পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান। এই প্রবণতা অচিরেই বামফ্রন্টের অন্য শরিকদের মধ্যেও ছড়াবে কিনা, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়েছে।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটের আগে থেকেই সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে বামেরা। ভোটের পরে পরিস্থিতি কিছু জায়গায় আরও খারাপ হচ্ছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রে মজবুত সরকার গড়ায় এখন গেরুয়া শিবিরই শাসক দলের সন্ত্রাসের হাত থেকে তাঁদের পরিত্রাণ দিতে পারে বলে আশা বাম শরিকদলের কর্মী-সমর্থকদের। এই যুক্তি মেনে নিচ্ছেন দলের নেতারাও। সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিজেপিও চাইছে ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে জেলায় জেলায় তাদের সংগঠন মজবুত করে নিতে।

Advertisement

শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকের ঝড়খালি পঞ্চায়েত এলাকায় আরএসপি-র পঞ্চায়েত প্রধান, উপ-প্রধান সহ দেড় হাজার আরএসপি সমর্থক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই উপলক্ষে ঝড়খালি রাজারমোড়ে এক অনুষ্ঠানে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শমীক ভট্টাচার্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি (পূর্ব) দেবতোষ আচার্য প্রমুখ। সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া ঝড়খালি পঞ্চায়েতের প্রধান আরএসপি-র দিলীপ মণ্ডলের দাবি, এলাকায় আরও কয়েক হাজার আরএসপি সমর্থক বিজেপিতে গেছেন। পরে সকলকে এক জায়গায় এনে মিছিল করা হবে। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েতে জেতার পরে শাসক দল একের পর এক মিথ্যা মামলা করে চলেছে। জমি-বাড়ি লুঠ করছে। পুলিশও নির্বিকার।” এই পরিস্থিতিতে দলীয় নেতারা ভরসা জোগানোর বদলে তাঁদের এড়িয়ে চলছেন বলে অভিযোগ তাঁর। দিলীপবাবুর কথায়, “আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। এখন বিজেপিই ভরসা।” শমীকবাবুর বক্তব্য, “তৃণমূল যেখানে অত্যাচার করবে, আমরা প্রতিরোধ করব। বিজেপিতে যোগদানকারী আরএসপি সমর্থকদের শাসকদলের সন্ত্রাসের হাত থেকে বাঁচাতে আমরা অবশ্যই এগিয়ে আসব।”

শাসক দলের সন্ত্রাসের জেরেই যে তাঁদের সংগঠন ভাঙছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসন্তীর বিধায়ক তথা আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুভাষ নস্করও। তিনি বলেন, “সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সব সময় কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে পারিনি। নিরাপত্তার কারণেই ওঁরা বিজেপিতে গেলেন।” সন্ত্রাসের অভিযোগ মানেননি তৃণমূলের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, “ওখানে (বাসন্তী) আড়াইশো আরএসপি সমর্থক আছে কিনা সন্দেহ। এত লোক এল কোথা থেকে?”

এ দিনই জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি বিধানসভা উপনির্বাচনে হেরে আরএসপি প্রার্থী দীনবন্ধু রায় তাঁর অনুগামী ১০ পঞ্চায়েত সদস্যকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি জিতেন প্রামাণিক বলেন, “ভোটের ফলে বীতশ্রদ্ধ হয়েই ফ্রন্টের কর্মী-সমর্থকেরা আমাদের দলে আসছেন।” তাঁর দাবি, জেলা জুড়ে প্রায় দশ হাজার বাম কর্মী-সমর্থক তাঁদের দলে আসার আবেদন করেছেন। জলপাইগুড়ি সদর, ধূপগুড়ি ও রাজগঞ্জে হাজার তিনেক বাম কর্মী-সমর্থক এসেছেন। এ দিনও ৫ হাজার জন বিজেপিতে এসেছেন।

শরিকদের দল ছাড়ার প্রবণতায় ধাক্কা খেয়েছে ফ্রন্টও। ফ্রন্টের দখলে থাকা দোমহনি-২ পঞ্চায়েতটি তাদের হাতছাড়া হতে বসেছে। দীনবন্ধুবাবু দল ছাড়ার পরে বলেন, “আরএসপি আর নিরাপত্তা দিতে পারবে না বুঝেই অনুগামীদের নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তাঁর বক্তব্য, “এখন ফ্রন্টে থাকতে কেউ রাজি হচ্ছে না।” আরএসপি-র জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দেবব্রত ঘোষ বলেন, “বিষয়টি স্পষ্ট নয়। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” তবে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “অবাক হচ্ছি না। এই সময় অনেকে এক ডাল থেকে অন্য ডালে ঘুরে বেড়াবে।”

সিপিএমের নদিয়া জেলা সম্পাদক সুমিত দে-র এলাকা কল্যাণী থেকেও সিপিএম কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিতে শুরু করেছেন। করিমপুর-২ ব্লকের নারায়ণপুর-১ পঞ্চায়েতের সিপিএম প্রধান ও উপপ্রধানের স্বামী-সহ বহু সিপিএম সমর্থক এসেছেন বিজেপিতে। ওই ব্লকেরই মুরুটিয়া, দিঘলকান্দি ও চাপড়া ব্লকের আলফা-সহ নাকাশিপাড়া ও কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের কিছু পঞ্চায়েত এলাকায় বহু সিপিএম কর্মী তাঁদের দলে এসেছেন বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। জেলা সভাপতি কল্যাণ নন্দী বলেন, “শুধু সিপিএম নয়, ফ্রন্টের অন্য দলের অনেক নেতা-কর্মী আমাদের দলে আসতে চান।”

ময়ূরেশ্বরে বিজেপিতে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে এক ব্যবসায়ীর দোকান পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তৃণমূল অভিযোগ মানেনি। দাসপলশা পঞ্চায়েতের সিপিএমের প্রাক্তন উপপ্রধান হামাইল শেখের নেতৃত্বে জনা পঞ্চাশ সিপিএম কর্মী-সমর্থক বিজেপিতে যান। তাই উপরবেজা গ্রামের তিনজনের কর্মীর বাড়ি, দোকানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দোগাছিতে একটি দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন

Advertisement