Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

১৭ পুরসভার ভোট কবে, প্রশ্ন সরকারের গড়িমসিতে

লোকসভা ভোটের পর্ব মিটতে না মিটতেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এল রাজ্যের ১৭টি পুরসভার ভোট। আগামী ১৭ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই পুরসভাগুলির বোর্ডের ম

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২১ মে ২০১৪ ০৩:১০
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

লোকসভা ভোটের পর্ব মিটতে না মিটতেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এল রাজ্যের ১৭টি পুরসভার ভোট। আগামী ১৭ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই পুরসভাগুলির বোর্ডের মেয়াদ শেষ হবে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সূত্র জানাচ্ছে, সময়মতো ভোট করতে হলে জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সেখানে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। কিন্তু একাধিক বার বার্তা বিনিময় হলেও রাজ্য সরকারের তরফে এখনও কমিশনকে পুরভোটের ব্যাপারে কোনও সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়নি। বিজেপি-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, তা হলে কি আগে কয়েকটি পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোটের মতো এই ১৭টি পুরসভার ভোট নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে?

নিয়মানুযায়ী, রাজ্য সরকার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে জানালে তবেই নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কমিশন। জুন মাসে রাজ্যের ১৭টি পুরসভায় নির্বাচন করার জন্য ইতিমধ্যেই সরকারকে একাধিক বার চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে কমিশনের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রাজ্যের তরফে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। রাজ্য সরকার সবুজ সঙ্কেত দিতে যত দেরি করবে, নির্বাচন করার প্রক্রিয়াও তত পিছোনোর আশঙ্কা থাকছে।

Advertisement



সবিস্তার দেখতে ক্লিক করুন...

রাজ্য সরকার বা শাসক দলের তরফে কেউ আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পুরভোট নিয়ে মুখ খুলছেন না। তবে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ মহল সূত্রের ইঙ্গিত, জুলাইয়ে নয়, বরং পুজোর পরে নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদই ১৭টি পুরসভায় নির্বাচন করতে চায় রাজ্য সরকার। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা মঙ্গলবার বলেছেন, “প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সবেমাত্র একটি ভোট শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই ফের আর একটি ভোট প্রক্রিয়ায় যেতে চাইছে না সরকার। এত গরমের মধ্যে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের উপরে আরও একটি ভোট চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত হবে বলেই মনে করে সরকার।” সে ক্ষেত্রে গরম পেরিয়ে শীতের শুরুতে ১৭টি পুরসভার ভোট করতে আগ্রহী সরকার।

গরমে ভোট করতে না চাইলে পুরসভাগুলির মেয়াদ শেষ পর্যন্ত উত্তীর্ণ হয়ে যাবে। তখন ওই ১৭টি পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ (মেয়র ইস্তফা দেওয়ায় যেমন করা হচ্ছে শিলিগুড়ি পুরসভায়) করতে হবে রাজ্য সরকারকে। মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর পুরসভা চালানোর ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা থাকবে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী, ৬ মাসের বেশি প্রশাসক দিয়ে পুরসভা চালানো যায় না। রাজ্যের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, “আপাতত সরকার কয়েক মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ করতে পারে। তার পরে পুজোর পরে পছন্দমতো সময়ে ওই ১৭টি পুরসভার ভোট করতে পারবে রাজ্য সরকার।”

গত বছর পঞ্চায়েত ভোট পিছোনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এই গরমের কারণ সামনে রেখেই। এ বারও প্রশাসনিক সূত্রে গরমের কথা বলা হলেও রাজনৈতিক শিবিরের ধারণা কিন্তু ভিন্ন। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা ভোটে রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের আধিপত্যই ফের প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও যে ১৭টি পুরসভার মেয়াদ ফুরোতে চলেছে, লোকসভার ফলের নিরিখে তার মধ্যে আসানসোল, কুলটি, সাঁইথিয়া, ইসলামপুরের মতো পুরসভায় পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। লোকসভার ফলকে ওয়ার্ড-ভিত্তিক হিসাবে ভাঙলে এই পুরসভাগুলিতে এখন এগিয়ে বিজেপি। আবার উলুবেড়িয়া, মহেশতলা, রাজারহাট-গোপালপুরের মতো পুরসভায় তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও বিরোধীদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান বেশি নয়। এর প্রেক্ষিতে বিরোধী দলগুলির প্রশ্ন, তা হলে কি লোকসভা ভোটে নিরঙ্কুশ জয়ের পরে পুরসভায় অন্য রকম ফল হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কায় এখনই ভোট চাইছে না রাজ্য সরকার?

লোকসভা ভোটে রাজ্যে নজিরবিহীন ভাবে ভোটের হার বাড়িয়ে নিয়ে উজ্জীবিত বিজেপি-ই পুরভোটের ব্যাপারে সক্রিয় হয়েছে প্রথম। দলের নেতা অসীম সরকারের নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিজেপির এক প্রতিনিধি দল এ দিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করে জানতে চেয়েছেন, ১৭টি পুরসভায় ভোট কখন হবে? কমিশনার তাঁদের জানিয়েছেন, সরকার এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত তাঁকে জানায়নি। তাই তিনি এখন বলতে পারছেন না, কবে ভোট হবে। তার পরেই বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ সরাসরি বলেছেন, “একে তো তৃণমূল এখন বিজেপি-র ভয়ে ভীত! নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে আগামী কিছু দিনে বিজেপি-র অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তার উপরে মীরা পাণ্ডেকে কমিশনার রেখে ভোট করতেও ওদের একটু ভয় আছে!” গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে মীরার সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরোধ সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়িয়েছিল। আগামী ২১ জুলাই মেয়াদ শেষ হচ্ছে মীরার।

সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে না-চাইলেও তৃণমূলের শীর্ষ সূত্রে অবশ্য বিজেপি-র দাবিকে ‘অবান্তর’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য বিরোধীরা অবশ্য প্রকারান্তরে শাসক দলের অভিপ্রায় নিয়ে একই রকম প্রশ্ন তুলেছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা সাংসদ মহম্মদ সেলিমের প্রশ্ন, “তিন বছর আগে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মেনে চলার ব্যাপারে এই সরকারের অনীহা। এখন এত জনমত যাদের সঙ্গে আছে, তারা গণতান্ত্রিক রীতি মানতে চাইছে না কেন?” প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যেরও বক্তব্য, “লোকসভায় তো বিরাট জয় ওঁরা পেয়েছেন। তা হলে পুরসভার ভোট সময়ে করাতে কীসের অসুবিধা?” পাঁচ বছর আগে লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পরেও তৎকালীন বাম সরকার যে এই পুরসভাগুলির ভোট সময়েই করেছিল এবং তাতে বিরোধীরা বেশ কিছু সাফল্যও পেয়েছিল, সেই কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন বাম নেতারা।

কমিশন সূূত্রের বক্তব্য, ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি এবং ভোটগ্রহণের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ দিনের ব্যবধান রাখতে হয়। তার পরে আরও দিনদশেক লাগে গণনা এবং বোর্ড গঠনের জন্য। সেই হিসাবে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পুরভোট ঘোষণার সময় রয়েছে। তবে কমিশনের এক কর্তা জানাচ্ছেন, সরকার ভোটের দিনক্ষণ জানানোর পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ওই সব পুর এলাকায় নতুন করে ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে, নাকি লোকসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের তৈরি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই ভোট হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে কমিশনের তৈরি ভোটার তালিকা ওয়ার্ড-ভিত্তিক সাজিয়ে তা প্রকাশ করতে হবে। এর পরে সাত দিন রাজনৈতিক দলগুলিকে সময় দিতে হবে, সেই ব্যাপারে মতামত দেওয়ার জন্য। ফলে, অন্তত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানালে সময়মতো ১৭টি পুরসভায় নির্বাচন করা এক রকম অসম্ভব বলেই মনে করছেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা জানিয়েছেন, ১৭টি পুরসভা ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার জন্য গত ৬ মাস ধরেই রাজ্য সরকারকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিকে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, লোকসভা ভোটের আগে এ সব নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতেই চায় না তারা। তার পরেও বারবার সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রের খবর, চলতি মাসের শুরুতে পুরসচিব ভগবতীপ্রসাদ গোপালিকা দেখা করে জানিয়ে দেন, এখনই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানানো সম্ভব নয়। সপ্তাহখানেক আগে শেষ বার রাজ্যকে চিঠি দিয়ে মতামত জানতে চেয়েছে কমিশন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এখনও ওই চিঠি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি রাজ্য সরকার। তবে মীরার বক্তব্য, “যথা সময়েই ভোট করা উচিত। কারণ, প্রার্থী এবং ভোটার উভয়েরই এটি সাংবিধানিক অধিকার।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement