Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

এইমস যাওয়ায় বনধের পথে আরও দুই জেলা

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৩ জুন ২০১৪ ০৩:৫২

এইমসের ধাঁচের হাসপাতাল হাতছাড়া হওয়ায় উত্তরবঙ্গে ক্রমশ ক্ষোভ চড়ছে। আজ, সোমবার উত্তর দিনাজপুরে ২৪ ঘণ্টার বনধ ডেকেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স। উত্তরবঙ্গকে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সেই বন্ধকে সমর্থন করেছে মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ব্যবসায়ী সংগঠনও। তৃণমূল ছাড়া উত্তরবঙ্গের অন্য প্রায় সব রাজনৈতিক দলও এই বিষয়ে একজোট হয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।

উত্তর দিনাজপুরের বাস, মিনিবাস, অটো ও ট্রেকার মালিকদের সংগঠনগুলি বনধকে সমর্থন করেছে। তাই জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কাই করা হচ্ছে। প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে যা যা করার করা হবে। জোর করে ধর্মঘট করাতে গেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ দিন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা রয়েছে জেলার ৬টি কলেজে। চেম্বার অফ কমার্স পরীক্ষাকে বন্ধের আওতার বাইরে রাখলেও গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকলে পরীক্ষার্থীরা কী ভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

এ দিন বৃষ্টির মধ্যেই রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, হেমতাবাদ, করণদিঘি, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া ও চোপড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করে ব্যবসায়ীদের সংগঠন। চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর কুন্ডু বলেন, “রেল, দূরপাল্লার বাস অবরোধ হবে। আমরা উন্নয়নের জন্য লড়ছি।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি অমল আচার্য অবশ্য জানান, জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা মাথায় রেখে দলের কর্মী সমর্থকেরা রাস্তায় নামবেন না।” তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূলকে সমস্যায় ফেলতেই ব্যবসায়ীদের সামনে রেখে কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপি-র মহাজোট হয়েছে।” অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত।

Advertisement

রায়গঞ্জের পাশে দাঁড়িয়েছে মালদহও। মালদহ জেলা কংগ্রেস সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূর বলেন, “আমরা রায়গঞ্জের পাশে আছি। মালদহ জেলায় আমরা আন্দোলনে নামছি।” তাঁর কথায়, কল্যাণী নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু রায়গঞ্জে আগে এইমস হতে হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষকে তৃণমূলের জন্য বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা ও বালুরঘাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তিনু বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই দাবি করেন।

বিজেপি-র রাজ্য সহ-সভাপতি সুশান্তরঞ্জন পাল এ দিন রায়গঞ্জে জানান, রাজ্য কেন্দ্রকে রায়গঞ্জের বদলে কল্যাণীতে হাসপাতাল তৈরির জমি দিতে চাওয়ায় কেন্দ্র কল্যাণীতে হাসপাতাল গড়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। তবে বিজেপি চায় রায়গঞ্জেই এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল তৈরির জন্য রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে জমি দিক। সেই কারণে বন্ধকে বিজেপি নৈতিক সমর্থন করছে।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সিপিএম নেতা নারায়ণ বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি জানান, ১২ এপ্রিল করণদিঘির জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, শুধু রায়গঞ্জ নয় বালুরঘাট, শিলিগুড়ি, ইটাহার বা কালিয়াগঞ্জ, যে কোনও শহরে এইমসের ধাঁচে হাসপাতাল হতে পারে। তাহলে কেন ওই হাসপাতাল কল্যাণীতে হচ্ছে? নারায়ণবাবুর বক্তব্য, “শুধু উত্তরবঙ্গকে-ই নয়, অসম সহ গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী।” এই জেলার কংগ্রেস সভাপতি নীলাঞ্জন রায়ও বন্ধকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব এ দিন কোচবিহারে বলেন, “এইমস রাজ্যেই হচ্ছে। ১৭০০ কিমি দূরে দিল্লির চেয়ে কল্যাণী যাওয়া ভাল।” সেই সঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিকাঠামোর আরও উন্নতি করা হবে। তা ছাড়া উত্তরবঙ্গে একাধিক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন

Advertisement