Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

মন্ত্রিসভা এড়াচ্ছেন পার্থ, সুব্রতের পিছনে বেচারাম

একের পর এক ঘটনার ধাক্কায় শাসক দলের হাল বেহাল। নেতৃত্ব দিশাহীন। দলের ভিতরের এই অস্থিরতার ছায়াই যেন এ বার এসে পড়ল রাজ্য মন্ত্রিসভায়। গুরুত্বপূ

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২৮ জানুয়ারি ২০১৫ ০৪:২৮
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

একের পর এক ঘটনার ধাক্কায় শাসক দলের হাল বেহাল। নেতৃত্ব দিশাহীন। দলের ভিতরের এই অস্থিরতার ছায়াই যেন এ বার এসে পড়ল রাজ্য মন্ত্রিসভায়। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে গেলেন। এই নিয়ে পরপর তিন বার! আবার আর এক বর্ষীয়ান মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দফতরের কাজে জুড়ে দেওয়া হল প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে। যা নিয়ে মন্ত্রিসভার বহু সদস্যই বিস্মিত! ঘনিষ্ঠ মহলে এক মন্ত্রীর ক্ষোভ, “এ তো যেমন খুশি চলো প্রতিযোগিতা চলছে! কোথায় গিয়ে এর শেষ হবে, কে জানে!”

নবান্নে মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সুব্রতবাবুর উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছেন বেচারামকে। মুখের উপরে সুব্রতবাবু কোনও আপত্তি করেননি ঠিকই। কিন্তু সুব্রতবাবুর পঞ্চায়েত দফতরের আধিকারিকদের একাংশ বলছেন, একটি প্রকল্পের কাজের জন্য অফিসার খুঁজছিলেন মন্ত্রী। অথচ চাপিয়ে দেওয়া হল এক প্রতিমন্ত্রীকে! যার রাজনৈতিক তাৎপর্য আলাদা। মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের সিদ্ধান্তের পরে দলের অন্দরে স্বভাবতই জল্পনা শুরু হয়েছে, সারদা-কাণ্ডের পর থেকে বেশ কিছু ঘটনায় সুব্রতবাবুর উপরে বিশেষ প্রসন্ন নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা হলে কি প্রতিমন্ত্রী বেচারামকে জুড়ে দিয়ে সুব্রতবাবুর ডানা ছাঁটার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী? যদিও রাত পর্যন্ত সরকারি স্তরে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তের কথাই জানানো হয়নি!

যে বৈঠকে সুব্রতবাবুকে চাপে ফেলার এমন চেষ্টা হয়েছে, সেখানে আবার গরহাজির ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবু। যাদবপুর-কাণ্ডের পর থেকে এই নিয়ে তিনটি বৈঠক এড়িয়ে গেলেন শাসক দলের মহাসচিব। দলের একাংশের বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্যে ‘মর্মাহত’ শিক্ষমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে চলছেন। প্রকাশ্যে পার্থবাবু অবশ্য এই নিয়ে মুখ খোলেননি। বরং তাঁর বক্তব্য, দলের কাজেই তিনি ব্যস্ত ছিলেন। কারণ যা-ই হোক, পার্থবাবু-সুব্রতবাবুর মতো বর্ষীয়ান মন্ত্রীদের নিয়ে টানাপড়েন দলের সার্বিক ডামাডোলকেই আরও প্রকট করে দিচ্ছে বলে তৃণমূল সূত্রের ব্যাখ্যা।

Advertisement

বস্তত, নবান্নে এ দিন যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রতবাবুর দফতরের একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন’ (এনআরএলএম)-এর কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন, শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবু সেই সময় ছিলেন তৃণমূল ভবনে। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে নিয়ে তিনি বসেছিলেন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে। সেখানেও অবশ্য কোনও অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়নি। দীনেশ ত্রিবেদীর মতো সাংসদ প্রকাশ্যে শৃঙ্খলা ভাঙার পরেও সংসদীয় দল যখন ব্যবস্থা নেয়নি, তখন বিধায়কদের ক্ষেত্রে পৃথক ফল হবে কেন এই প্রশ্নেই আটকে গিয়েছে সিদ্ধান্ত। দলের এক রাজ্য নেতা এ দিন বলেছেন, “দলনেত্রী ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণবঙ্গের সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে ফের বৈঠক ডেকেছেন। দেখা যাক না, সেখানে তিনি কী বলেন!”

দলে বিদ্রোহ রুখতে শাস্তি দেওয়া নিয়ে যেমন বিভ্রান্তি, একই অবস্থা বেচারাম-পর্বেও! মন্ত্রিসভায় এ দিন এনআরএলএম-এর কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পটি প্রথমে দেখতে বলেন অনগ্রসর কল্যাণমন্ত্রী উপেন বিশ্বাসকে।

কিন্তু তিনি বনগাঁ উপনির্বাচনের দায়িত্বে আছেন, এই কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে যান উপেনবাবু। তখন মুখ্যমন্ত্রীর নজর পড়ে কৃষি প্রতিমন্ত্রী বেচারামের দিকে। হরিপালের বিধায়কের কৃষি দফতরে নির্ধারিত দায়িত্ব তিনি নিজে দেখবেন আর বেচারাম পঞ্চায়েত দফতরের ওই প্রকল্প দেখবেন মুহূর্তে রফা করে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী! সুব্রতবাবুকে জিজ্ঞাসাও করেন, আপত্তি আছে? সুব্রতবাবু ‘না’ বলার সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্রকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্নের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো মুখ্যসচিব এ ব্যাপারে পরে বিজ্ঞপ্তি দেবেন। মুখ্যসচিব অবশ্য এ দিন এই সংক্রান্ত প্রশ্ন শুনে বলেছেন, “আমার কোনও ধারণা নেই!” যদিও সরকারি সূত্রের খবর, সুব্রতবাবুর দফতরের ওই দায়িত্ব বেচারামের হাতে যাওয়ার পিছনে মুখ্যসচিবের অবদান আছে! নদিয়ার তদানীন্তন জেলাশাসক অভিনব চন্দ্রাকে ২০১২ সালে এনআরএলএম-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় সর্বশিক্ষা মিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ছোটেন লামাকে। নবান্নের এক কর্তার কথায়, “সর্বশিক্ষার সঙ্গে এনআরএলএম-এ নজরদারি করা এক জন অফিসারের পক্ষে সম্ভব নয়। গত দু’বছরে এই বিভাগ ভাল কাজ করেনি। তাই মুখ্যসচিব এই বিভাগের দায়িত্বে এক জন অফিসার এবং মন্ত্রীকে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।” মুখ্যসচিবের সেই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের সিদ্ধান্ত।

আধিকারিকের বদলে মন্ত্রী এনে কি আসলে সুব্রতবাবুর উপরে ‘নজরদারি’র চেষ্টা হল? তৃণমূলে পঞ্চায়েতমন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠ নেতা বলছেন, “সুব্রতদা’র মতো পাকা খেলোয়াড়ের উপরে নজরদারি করবেন বেচারাম? এর চেয়ে পুলিশ ডাকলে ভাল হতো!”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement