Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

জমি তৈরিতে কলকাতার দায়িত্বে ভাগবতের সচিব

মোদী-ঝড়ে এ রাজ্যে লোকসভার দু’টো আসনের পাশাপাশি ১৭% ভোট পেয়েছে বিজেপি। পরের বছরই কলকাতা-সহ ৮২টি পুরসভার নির্বাচন। তার পরেই ২০১৬ সালে পরবর্তী

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা ২৬ মে ২০১৪ ০৩:৫২

মোদী-ঝড়ে এ রাজ্যে লোকসভার দু’টো আসনের পাশাপাশি ১৭% ভোট পেয়েছে বিজেপি। পরের বছরই কলকাতা-সহ ৮২টি পুরসভার নির্বাচন। তার পরেই ২০১৬ সালে পরবর্তী বিধানসভার ভোট। সম্ভাবনার বিচারে কলকাতা এখন পাখির চোখ সঙ্ঘ পরিবারের। তাই কলকাতাকে কেন্দ্র করে পূর্ব ভারতে নিজেদের কর্তৃত্ব বাড়াতে তৎপর হয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহনরাও ভাগবত। লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার সময়ে শহরে এসে এবং তার পরে কয়েক দিন রাজ্যে কাটিয়ে নিজের সচিব প্রশান্ত ভট্টকে কলকাতার দায়িত্বে বসিয়ে গিয়েছেন তিনি।

সঙ্ঘ সূত্রের খবর, প্রশান্ত আদতে গুজরাতের বাসিন্দা। গত আড়াই বছর ভাগবতের সচিব হিসাবে কাজ করছেন। তার আগে রাজকোটের বিভাগ প্রচারক ছিলেন। জুনাগড়ের বাসিন্দা প্রশান্ত ভাবনগর থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পরেই আরএসএসের প্রচারক হন। পারিবারিক জীবন ছেড়ে আসা সঙ্ঘের এই প্রচারকের হাতে গুজরাতের জামনগর, মোরবি, গোন্দল, সুরেন্দ্রনগর জেলা এবং রাজকোট শহরের আরএসএসের সংগঠনের ভার ছিল।

এ হেন এক ব্যক্তির হাতেই ভাগবত কলকাতা মহানগরের দায়িত্ব তুলে দিয়ে গিয়েছেন। যার থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, লোকসভা ভোটে যে সম্ভাবনার বীজ বপন হয়েছে, এ রাজ্যে তার থেকে ফসল তুলতে চেষ্টার ত্রুটি রাখতে চায় না সঙ্ঘ।

Advertisement

লোকসভা ভোটের ফলাফল যখন ঘোষণা হচ্ছে, সঙ্ঘ প্রধান তখন কলকাতার কেশব ভবনে। তার পরে গিয়েছিলেন রায়গঞ্জে। কলকাতায় সংগঠনে ঢেলে সাজাই যে তাঁর ওই সময়ে তাঁর এ রাজ্যে দিন চারেক কাটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল, জানাচ্ছেন এ রাজ্যের সঙ্ঘ কর্তারাই। এ রাজ্যে সঙ্ঘের সদর দফতর কেশব ভবনের কার্যালয় সম্পাদক প্রদীপ দে-র বক্তব্য, সরসঙ্ঘচালক নিজে কলকাতায় এসে গুজরাতের ওই প্রচারককে স্থানীয় আরএসএস নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। প্রাথমিক আলাপ-পর্বের পর প্রশান্ত জুনাগড় ফিরে গিয়েছেন। জুলাই মাসে এসে তিনি কলকাতার দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

কেন নিজের সচিবকে কলকাতায় দায়িত্বে বসালেন আরএসএস প্রধান? সঙ্ঘ সূত্রের বক্তব্য, যে প্রচারকদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা থাকে, তাঁদেরই নিজের সচিব হিসাবে বেছে নেন সরসঙ্ঘচালক। আড়াই-তিন বছর সমস্ত সাংগঠনিক কাজে সহায়তার পাশাপাশি তাঁরা আরএসএস প্রধানের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নীতিগত চর্চা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা প্রভৃতি বিষয় খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।

তার পরেই তাঁদের বিশেষ কোনও দায়িত্ব দিয়ে আবার আরএসএসের মূল কাজে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্ঘের এক নেতা জানাচ্ছেন, ভাগবত সরসঙ্ঘচালক হওয়ার পরে এ রাজ্যের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, সিকিমের ভারপ্রাপ্ত প্রচারক বিদ্যুৎ মুখোপাধ্যায়কে নিজের সচিব নিয়োগ করেছিলেন।

নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই বিদ্যুৎবাবুকে কলকাতার ভার দেওয়া হয় ২০১০ সালে। পরের বছর ২০১১-র বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই বিদ্যুৎবাবুকে দক্ষিণবঙ্গের (আরএসএসের সাংগঠনিক রাজ্য) সহ-প্রান্ত প্রচারকের পদে উন্নীত করা হয়েছে। বিদ্যুৎবাবুর মতে, “এটি একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে অভিনবত্ব কিছু নেই।”

যদিও আরএসএসের অন্য একটি সূত্রের বক্তব্য, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া ভাগবত কোনও কাজই করেন না। ফলে এক গুজরাতি প্রচারক যে ভবিষ্যতে এ রাজ্যে আরএসএসের মুখ হয়ে উঠবেন না, তা কে বলতে পারে? কলকাতায় সঙ্ঘের মাথা বদল প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি-র সংগঠন সম্পাদক অমলেন্দু চট্টোপাধ্যায়ও আশাবাদী। তাঁর কথায়, “নরেন্দ্র মোদী বছরখানেক আগে অমিত শাহকে গুজরাত থেকেই উত্তরপ্রদেশে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই বিশাল সাফল্য এসেছে সেখানে। এ বার কলকাতায় সঙ্ঘের দায়িত্ব যাচ্ছে সরসঙ্ঘচালকের সচিবের হাতে। ফলে আগামী পুরভোটে বিজেপি-ও এর সুফল পাবে।”

যদিও তাঁর এই নতুন পদ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন স্বয়ং প্রশান্ত। তাঁর কথায়, “আরএসএসে ব্যক্তির আলাদা কোনও গুরুত্ব নেই। কলকাতায় শাখার সংখ্যা বাড়ানোই হবে আমার একমাত্র কাজ।”

সঙ্ঘ সূত্রের খবর, কলকাতায় এখন আরএসএসের শাখার সংখ্যা ১২০। রাজ্যে প্রায় ১০০০। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে তারা। আরএসএস যে হেতু কোনও সদস্য সংগ্রহ অভিযান করে না, তাই নতুন নতুন শাখা খুলে সেখানে আগ্রহীদের যুক্ত করাই হবে তাদের কাজ।

সঙ্ঘ প্রধানও স্থানীয় নেতাদের আরও বেশি শাখা খুলে রাজ্য জুড়ে আরএসএসের উপস্থিতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন বলেই আরএসএস সূত্রের খবর। বিশেষত, সীমান্ত এলাকা এবং উদ্বাস্তুদের বসবাস রয়েছে, এমন শহর এলাকাকেই প্রাথমিক ভাবে সংগঠন ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে বেছে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্য বিজেপি-র এক নেতার কথায়, “মোদী-হাওয়ায় যে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছিল, তাকে সাংগঠনিক ভাবে সংহত করা এখন বিজেপি এবং সঙ্ঘের লক্ষ্য।”

আরও পড়ুন

Advertisement