Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৪ জুলাই ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

শিল্প চলবে শিল্পের মতোই, মত শ্রমমন্ত্রীর

শ্রমিক বিক্ষোভের নামে রাজ্যে জঙ্গি আন্দোলন ফের মাথাচাড়া দিলে নতুন শিল্প আসা তো বন্ধ হবেই। এখন যে শিল্প রয়েছে, তা-ও রাজ্য ছাড়তে পারে বলে সোমব

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৮ জুন ২০১৪ ০৩:২৯
Save
Something isn't right! Please refresh.
শেষযাত্রা। হরিকিষান মহেশ্বরীর মরদেহ কাঁধে শ্মশানের পথে স্বজনেরা। ছবি: তাপস ঘোষ

শেষযাত্রা। হরিকিষান মহেশ্বরীর মরদেহ কাঁধে শ্মশানের পথে স্বজনেরা। ছবি: তাপস ঘোষ

Popup Close

শ্রমিক বিক্ষোভের নামে রাজ্যে জঙ্গি আন্দোলন ফের মাথাচাড়া দিলে নতুন শিল্প আসা তো বন্ধ হবেই। এখন যে শিল্প রয়েছে, তা-ও রাজ্য ছাড়তে পারে বলে সোমবারই মুখ্যমন্ত্রীর সামনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল শিল্প ও বণিক মহল। মঙ্গলবারই সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু।

ভদ্রেশ্বরের ঘটনার প্রেক্ষিতে এ দিন শ্রম কমিশনার এবং শ্রম সচিবকে নিয়ে ৫২টি চটকলের আইএনটিটিইউসি-র প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন পূর্ণেন্দুবাবু। শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে এই বৈঠকের পরেই তিনি জানান, গত এক দশকে বরাহনগর, ডালহৌসি, হেস্টিংস-সহ মোট পাঁচটি চটকলে এই ধরনের শ্রমিক অসন্তোষে ম্যানেজমেন্ট স্তরের কর্মী মারা গিয়েছেন। তখনকার সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু তাতে রাজ্যে শিল্পের কোনও ক্ষতি হয়নি। এখনও শিল্প শিল্পের মতোই চলবে বলে এ দিন জানান শ্রমমন্ত্রী।

শিল্প ও বণিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, ‘শিল্প শিল্পের মতোই চলবে’ ধরে নিলে মূল সমস্যার আর কোনও সমাধান হবে না! বাম আমলেও এমন ঘটনার পরে তৎকালীন সরকার একই রকমের মনোভাব দেখাত। তাতে চটশিল্পে নৈরাজ্যই প্রশ্রয় পেত। রাজ্যে এখন শিল্পের যা দৈন্যদশা, তাতে রক্তশূন্য চটশিল্পকে বাঁচাতে আরও আন্তরিক মনোভাব দেখাতে হবে রাজ্য সরকারকে। ভদ্রেশ্বরের ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী যেখানে কড়া অবস্থান নিয়ে শিল্প মহলকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন, সেখানে কার্যক্ষেত্রে গয়ংগচ্ছ মনোভাব পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই বণিক মহলের আশঙ্কা।

Advertisement

শ্রমমন্ত্রী অবশ্য এ দিনও নর্থ ব্রুক জুটমিলের সিইও-র মৃত্যুকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনার জন্য বহিরাগতেরাই দায়ী। বিশেষত, যখন ত্রিপাক্ষিক বৈঠক চলছিল, সেই সময় এই ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্ত্রীর বক্তব্য। জঙ্গি আন্দোলনে আসলে শ্রমিকদেরই বেশি ক্ষতি হয়, এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে শ্রমিকদের প্রতি মন্ত্রী আর্জি জানিয়েছেন সুস্থ বাতাবরণ ও শান্তি বজায় রাখার জন্য। পূর্ণেন্দুবাবুর বক্তব্য, “অনেক সময়ই মালিক পক্ষ শ্রম আইন ভেঙে কাজ চালান, তেমনই আবার অনেক শ্রমিক ইউনিয়নও তাদের অবস্থানের সুযোগে আইন অমান্য করে।” তাই দু’পক্ষকেই নিজেদের দায়িত্ব পালনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। এরই সঙ্গে নর্থ ব্রুক যাতে দ্রুত খোলা যায়, তা নিয়েও সরকার কথাবার্তা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পূর্ণেন্দুবাবু। নর্থ ব্রুকের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে চটকলগুলিতে শিফ্ট বদলের সময় পুলিশি টহলদারির ব্যবস্থা সম্ভব কি না, তার জন্য মহকুমাশাসক এবং স্থানীয় থানার সঙ্গে আলোচনাও করবে শ্রম দফতর ও জেলা প্রশাসন।

কিন্তু নর্থ ব্রুকের মতো ভয়াবহ ঘটনার পরেও শিল্প শিল্পের মতো চলবে বলার মধ্যে কি বাম আমলের উদাসীন মনোভাবেরই ছায়া দেখা যাচ্ছে না? এই নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্যে না গিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা অবশ্য জোর দিচ্ছেন চটশিল্পের মূল সমস্যা সমাধানের উপরেই। সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু, সিপিআইয়ের এআইটিইউসি বা কংগ্রেস-প্রভাবিত ট্রেড ইউনিয়ন আইএনটিইউসি-র নেতাদের বক্তব্য, বরাত না পেয়ে চটশিল্প এমনিতেই ধুঁকছে। তার উপরে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি-সহ শ্রমিকদের বহু ন্যায্য পাওনা দীর্ঘ দিন ধরে আটকে। তার ফলে শ্রমিকদের ক্ষোভ থাকবেই। যে কোনও ঘটনায় শুধু শ্রমিকদের উপরে দোষারোপে কোনও ফল মিলবে না। বরং, চটশিল্পকে বাঁচানোর জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি স্তরে উদ্যোগই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে পারে।

সিটুর রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তীর বক্তব্য, “পশ্চিম ভারতের প্লাস্টিক লবি পূর্ব ভারতের জুট লবির চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এই অবস্থায় চটের বস্তার ব্যবহার বাড়িয়ে চটকলগুলিকে যাতে বাঁচানো যায়, তার জন্য বাম আমলে রাজ্য সরকারি স্তরে নিয়মিত দরবার করা হতো দিল্লিতে। এখনও তা-ই করতে হবে।” এআইটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি দেবাশিস দত্তের কথায়, “ভদ্রেশ্বরের ঘটনা কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু চট শ্রমিকেরাও নানা বর্বরতা সহ্য করে বেঁচে আছেন। তাঁদের সমস্যার সুরাহা না হলে শুধু শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় কী হবে?” শ্রমিক নেতাদের যুক্তি, চটশিল্পের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে পারলে তবেই শ্রমিকেরা জীবিকার নিশ্চয়তা পাবেন এবং তখনই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

আইএনটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্যের প্রস্তাব, ভদ্রেশ্বরের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত ত্রিপাক্ষিক শ্রম উপদেষ্টা কমিটি গড়ুন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “শ্রম-বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই সরকারের ভূমিকা একেবারেই উল্লেখযোগ্য নয়। বাম আমসে তা-ও একটা প্রক্রিয়া ছিল। এখন বিশেষ কিছু চোখে পড়ে না। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে কেন, সেটাই আগে দেখা দরকার।”

বস্তুত, শ্রমিক অসন্তোষের কারণ খুঁজে বার করার দিকেই এখন নজর দিতে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু নর্থ ব্রুকই নয়, রাজ্যের সবক’টি চটকলের বেতন ব্যবস্থা নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হয়েছে ২৫ জুন। সেখানে রাজ্যের ৫৯টি চটকলের মালিকপক্ষ, ২১টি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সরকারের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তবে তার আগে কাল, বৃহস্পতিবার চটকল রয়েছে, এমন সব এলাকার তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রীদের নিয়ে বিধানসভায় বৈঠক হবে। পরে সাংসদদের নিয়েও বৈঠক করার কথা ভাবছে রাজ্য।

বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকার নেপথ্যে অবশ্য রয়েছে শাসক দলের অন্দরেরই ভুল বোঝাবুঝি। শ্রমমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ দিনের বৈঠকে কেন তিনি ডাক পাননি, তা নিয়ে দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন আইএনটিটিইউসি নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, রাজ্যের অন্তত ৪০টি চটকলে তাঁর নেতৃত্বাধীন শ্রমিক সংগঠন আছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি শ্রমমন্ত্রীকে জানানোর পরে শেষ মুহূর্তে পূর্ণেন্দুবাবু বিধানসভায় এসে শোভনদেবকে ওই বৈঠকে যোগ দিতে বলেন। কিন্তু বাজেট-বিতর্কে অংশ নিতে হবে বলে তিনি তখন আর বৈঠকে যেতে পারেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী পরে আবার তাঁকে ফোন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শেই বৃহস্পতিবার চটকলের পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভায় তৃণমূলের মন্ত্রী-বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সরকারি মুখ্য সচেতক শোভনদেব বলেন, “চটকল শ্রমিকেরা অধিকাংশই পরিবার নিয়ে কারখানা সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন। তাঁদের অনেকেই আমাদের ভোটার। কেন তাঁরা উত্তেজিত হচ্ছেন, তাঁদের সমস্যা কী, তা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের খতিয়ে দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement