Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

দিল্লির ছায়ায় ‘নৈকট্য’ তৃণমূল-বাম-কংগ্রেসে

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২০ নভেম্বর ২০১৪ ০৩:৩৩

দু’দিন আগে দিল্লিতে সনিয়া গাঁধীর হাত ধরে যে বাতাবরণের সূচনা হয়েছে, প্রায় তারই ছবি এ বার দেখা যেতে চলেছে বিধানসভায়! শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় আলোচনার জন্য আসতে চলেছে দু’টি সর্বদল প্রস্তাব। একটি ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের পরিধি সঙ্কোচনের বিরোধিতা করে এবং অন্যটি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে। সর্বদল প্রস্তাব হলেও দু’টিরই লক্ষ্য আসলে বিজেপি! এবং সেই প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে মোটামুটি সহমত তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস!

এ বারের অধিবেশনের শুরুতেই প্রধান বিরোধী পক্ষ বামেদের দাবি ছিল, বেসরকারি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য একটি দিন ধার্য করতে হবে। বিস্তর টানাপড়েনের পরে শেষ পর্যন্ত দু’টি সর্বদল প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত হয়েছে। বিধানসভায় মঙ্গলবারই অনাস্থা প্রস্তাবের উপরে আলোচনায় রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে বামেরা। সরকার পক্ষের সঙ্গে ‘তিক্ততা’ এমনই পর্যায়ে যে, কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকও আপাতত বয়কট করছে তারা। অথচ সর্বদল আলোচনার জন্য তৈরি খসড়ায় বুধবার স্পিকারের ঘরে সর্বদল বৈঠকে সহমত হয়ে সই করেছে তৃণমূল ও বামেরা! একই পথে গিয়েছে কংগ্রেসও। বিজেপি-র একমাত্র বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য প্রত্যাশিত ভাবেই খসড়ায় স্বাক্ষর দেননি। তবে আজ আলোচনায় তিনি অংশ নেবেন। প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি-র আতঙ্কই কি রাজ্য রাজনীতির যুযুধান শিবিরকে এক জায়গায় এনে ঐকমত্য গড়ে দিচ্ছে?

গোটা ঘটনা থেকে অন্য একটি ‘স্বস্তি’ও পাচ্ছে বিজেপি শিবির। বিধানসভায় তাদের শক্তি এখন নামমাত্র। কিন্তু এমন দু’টি সর্বদল প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে, যেখানে বিজেপির মতামত আলাদা করে চোখে পড়তে বাধ্য। ফলে, যাদের মোকাাবিলায় বাকি দলগুলির সহমত হওয়া, তারাই শেষ বিচারে ফায়দা নিয়ে চলে যেতে পারে!

Advertisement

কোনও শিবিরই অবশ্য ‘সমঝোতা’র সমীকরণ মানতে নারাজ। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “১০০ দিনের কাজ গ্রামবাংলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও প্রয়োজন। রাজ্যের স্বার্থেই আলোচনায় রাজি হয়েছি।” কংগ্রেসের এক বিধায়কেরও বক্তব্য, “সনিয়ার সম্মেলনের সঙ্গে এর তুলনা টানা ঠিক নয়। কংগ্রেসের নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই আমরা আলোচনা করব।”

আপাতদৃষ্টিতে সহমতের ছবি থাকলেও দু’টি প্রস্তাবেই অবশ্য তৃণমূলকে নিশানা করার সুযোগ পাবে বাম-কংগ্রেস। রাজ্যে ১০০ দিনের কাজে প্রায় ৭৩৩ কোটি টাকার মজুরি বকেয়া আছে বলে সরকারি তথ্যেই জানানো হয়েছে। তাই রাজ্যের ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুলবেন বাম-কংগ্রেস বিধায়কেরা। এই আশঙ্কাতেই প্রস্তাবে গোড়ায় রাজি হচ্ছিলেন না পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। পরে ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ সরকার সে প্রস্তাব মেনেছে। সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নেও বামেদের বক্তব্য, “যে শুধু রাম-রাম করে, সে-ই সাম্প্রদায়িক নয়। রহিম-রহিম করে যে বিভাজনের চেষ্টা করে, তারাও সাম্প্রদায়িক।” এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করতে চান বিরোধীরা। ওই প্রস্তাবের খসড়া লিখেছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র। সেখানে ‘জঙ্গি কার্যকলাপ ঘিরে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা’ কথাটায় আপত্তি তোলে সরকার। আলোচনার সময়ে এ বার কী হয়, তা নিয়েই এখন কৌতূহল। বিজেপির শমীক অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদীরা সন্ত্রাসবাদীই।

বিতর্কে জর্জরিত সরকারের সঙ্গে একমত হয়ে প্রস্তাব এনে বামেরা কি নিজেদের বিরোধিতাকে লঘু করছে না? সূর্যবাবুর বক্তব্য, “কোনও বিষয়ে হয়তো সরকারের সঙ্গে একমত হতে পারি। আমরা সেই রকম বিরোধী নই, যা এখনকার শাসক দল অতীতে ছিল! শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা আর আমাদের বিরোধিতার মধ্যে গুণগত পার্থক্য আছে।” তাঁর মন্তব্য, “এখানে লঘু হয়ে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই আসছে না।”

আরও পড়ুন

Advertisement