Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১০ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

মেডিক্যালে রাজ্যের আসনে ফের কোপ

সাড়ে সাতশো এমবিবিএস আসন হারানোর ক্ষতি কী ভাবে পূরণ হবে, তা এখনও ভেবে উঠতে পারেনি রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। আসন ফিরে পেতে দিল্লিতে দরবার করেছে

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা ০১ জুন ২০১৪ ০২:২১
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

সাড়ে সাতশো এমবিবিএস আসন হারানোর ক্ষতি কী ভাবে পূরণ হবে, তা এখনও ভেবে উঠতে পারেনি রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। আসন ফিরে পেতে দিল্লিতে দরবার করেছে তারা। এর মধ্যেই নতুন করে আরও ১০০ আসন বাতিলের সুপারিশ করল মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (এমসিআই)। স্বাভাবিক ভাবেই, কপালে হাত পড়েছে স্বাস্থ্য দফতরের।

শনিবার এমসিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, সঠিক পরিকাঠামো নেই বলেই আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ফলে চরম সঙ্কটের মুখে স্বাস্থ্য দফতর। একই সঙ্গে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বহু মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎও।

রাজ্যের স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, “কোনও মেডিক্যাল কলেজই সব দিক দিয়ে যথাযথ নয়, তা এমসিআই-ও জানে। তা সত্ত্বেও ওরা আসন বাতিলের সুপারিশ করেছে। বিষয়টা নিয়ে দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করেছি। কথা হয়েছে, জুনের প্রথমে ওরা ডাকবে। আশা করছি, সব ঠিক হয়ে যাবে। ৮৫০ আসনই ফেরত পাব।”

Advertisement

এমসিআই সূত্রের খবর, বাতিলের সুপারিশ করা ১০০ আসনই হলদিয়ার ‘আই কেয়ার ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ’ নামে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের। এক সময় এর ট্রাস্টি বোর্ডে ছিলেন সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত নেতা লক্ষ্মণ শেঠ। ডেন্টাল কলেজের সঙ্গে একই ভবনে মেডিক্যাল কলেজ চালানো হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ২০১২ সালে সেখানে ছাত্রভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। শেষে অনেক বিতর্কের পর লক্ষ্মণ শেঠ কলেজের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেন। দায়িত্ব নেয় একটি বেসরকারি সংস্থা। পরবর্তী কালে কলেজ পরিদর্শন করে, পরিকাঠামো দেখে সন্তুষ্ট হয়ে ২০১৩ সালে ছাত্রভর্তির অনুমতি দেয় এমসিআই। তখনই ঠিক হয়, ১০০ আসনের মধ্যে ৩৩টি জয়েন্ট এন্ট্রান্স পাশ করা ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।



গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে এমসিআইয়ের প্রতিনিধিরা ফের ওই মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করে অসন্তুষ্ট হন। তার জেরে ৯ মে ওই ১০০ আসন বাতিলের সুপারিশ করে তারা। ১৭ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েও দিয়েছে তারা। হলদিয়ার ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষা বাঁশরী গোস্বামী বলেন, “একমাত্র মর্গের পরিকাঠামোতেই সামান্য ত্রুটি থেকে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রচুর শিক্ষক। তা-ও বুঝতে পারছি না কেন আসন বাতিলের সুপারিশ।” কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই বিষয়ে কথা বলতে আগামী ৪ জুন তাঁরা দিল্লিতে যাবেন। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যে এমবিবিএস পাঠ্যক্রমের ৪০%-এর বেশি আসনের ভবিষ্যৎ এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের উপরে নির্ভরশীল।

রাজ্য এ বার কী করবে?

যেখানে ৫ জুনের মধ্যে জয়েন্টের ফল বেরোনোর কথা, সেখানে এত অল্প সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য দফতর কি বাতিল সব আসন ফিরিয়ে আনতে পারবে? সুশান্তবাবুর বক্তব্য, “এমসিআই যে পরিকাঠামো চায়, তা কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।” তাঁর অভিযোগ, ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’-এর পরিকাঠামোও যথাযথ নয়। কিন্তু সেটা কি বন্ধ হয়েছে? এমসিআই যদি সিদ্ধান্ত না বদলায়, তবে দেশে আর কোনও মেডিক্যাল কলেজই থাকবে না। কোনও ডাক্তারও তৈরি হবে না।”

তা হলে উপায়? রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এমসিআই তাদের সুপারিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রকে পাঠালে, তারা সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের কর্তাদের বক্তব্য শুনে সেই মতো সিদ্ধান্ত নেবে। এবং তা কার্যকর করবে এমসিআই।” অর্থাৎ নয়া সরকারের হাতেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের ভাগ্য।

এমসিআইয়ের এগজিকিউটিভ কমিটির এক পদস্থ কর্তা যেমন বললেন, “পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যকর্তারা কী বলছেন জানি না। আমরা সিদ্ধান্তে অনড়। বল নতুন সরকারের কোর্টে। তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

বাম আমলে রাজ্যে এমবিবিএসে আসন ছিল ১১০০। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর গত ২৬ মাসে তা দ্বিগুণ হয়েছিল। লোকসভা ভোটের প্রচারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমবিবিএস-এ আসন বৃদ্ধির উল্লেখ করেছেন। অথচ ৮৫০ আসন বাতিলের সুপারিশের ফলে সংখ্যাটা কমে দাঁড়াল ১৩৫০।

পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বুঝে এখন চিকিৎসক-শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদেরও চুক্তির ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। ভাবনা চিন্তা হচ্ছে অন্যান্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজার।

তবু দিল্লির দিকে তাকিয়ে রাজ্য। কিন্তু বাতিলের সুপারিশ হয়ে যাওয়ার পর দিল্লি কতটা নরম হবে, বা আদৌ হবে কি নাতা এখন দেখার।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement