×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

মেয়ের নাম রেখো ‘মমতা’, প্রচারে বলে গেলেন শতাব্দী

নির্মল বসু
বসিরহাট ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০২:৫৩
শেষবেলার প্রচারে শতাব্দী রায়।

শেষবেলার প্রচারে শতাব্দী রায়।

অনুরোধটা ফেরাতে পারলেন না শতাব্দী।

রোড-শো চলাকালীন মাস খানেকের কন্যাসন্তান নিয়ে হাজির মা। অভিনেত্রী সাংসদের দিকে বাড়িয়ে দিলেন কোলের মেয়েকে। অনুরোধ করলেন, “দিদি, আশীর্বাদ করে একটা নাম রাখুন না মেয়েটার?”

“মমতা”— এক গাল হেসে বললেন তৃণমূলের অভিনেত্রী-সাংসদ শতাব্দী রায়। হই হই করে উঠল মিছিলে হাঁটা মানুষ। বাচ্চাটিকে মায়ের কাছ থেকে কোলে নিয়ে আদর করলেন শতাব্দী। সঙ্গে ছিলেন বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রের দলের প্রার্থী দীপেন্দু বিশ্বাস। তিনিও আশীর্বাদ করলেন সদ্যোজাতকে।

Advertisement

শনিবার ভোটের আগে বৃহস্পতিবারই ছিল শেষ প্রচার। ফলে সব দলগুলির মধ্যেই তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। হাসনাবাদের সভা মঞ্চে ওঠার আগে মুনমুন সেনকে ঘিরে দুই বৃদ্ধা বলেন, “মা, ঘর পড়ে যাচ্ছে। খাবার টাকা নেই। কী ভাবে ঘর সারাই করব একটু বলে দাও না আমাদের মমতাকে?”



শেষবেলার প্রচারের নানা মেজাজ। আছেন মুনমুন সেন, দীপেন্দু বিশ্বাস,
মৃণাল চক্রবর্তী, অসিত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য। সবিস্তার দেখতে ক্লিক করুন।

অভিনেতা-বিধায়ক চিরঞ্জিতের কাছে আবার জনতা ‘ডায়লগ’ বলার আবেদন করে। কংগ্রেসের অসিত মজুমদার, বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য, সিপিএমের মৃণাল চক্রবর্তীও প্রচারের শেষ দিনে মিছিল করেন। কেউ জনসভায় মন দেন। কেউ আবার বাড়ি-দোকান ঘুরে নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমেই জনসংযোগ সেরে নেন।

বুধবার তৃণমূলের অভিনেতা-সাংসদ দেবের রোড শো ঘিরে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ময়লাখোলা পর্যন্ত এগিয়ে রোড শো মাঝপথে থামিয়েই ফিরতে হয় তাঁকে। দলের তরফে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণেই বন্ধ করতে ফিরতে হয়েছে দেবকে। কিন্তু বাকি রাস্তায় তখনও হাজার হাজার মানুষ দেবকে চোখের দেখা দেখবেন বলে দাঁড়িয়ে। তাঁদের কথা মাথায় রেখে জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, শুক্রবার ওই পথে রোড-শো করবেন দলের আর এক অভিনেত্রী-সাংসদ শতাব্দী রায়। সেই মতোই এ দিন বসিরহাটে আসেন শতাব্দী।

তাঁকে দিয়ে মেয়ের নামকরণ করিয়ে খুশি মা টুম্পা হালদার। বললেন, “ওর আজ ষষ্ঠী পুজো হয়েছে। আমার প্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দীর দেওয়া আশীর্বাদ আর নামটার কথা কখনও ভুলব না।” কল্পনা মণ্ডল বলেন, “দেবকে দেখতে না পেয়ে খুব রাগ হয়েছিল। সেটা অনেকটাই কমল শতাব্দীকে দেখে।” আর শতাব্দীর কথায়, “এখানকার সুশৃঙ্খল মানুষকে দেখে আমি অভিভূত।’’



শনিবার ভোট। রুটমার্চ বসিরহাটে।

বসিরহাটের ভ্যবলা এলাকা থেকে এক বিশাল শোভাযাত্রা বের করেছিলেন বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য। ফুটবলার ষষ্ঠী দুলেও ছিলেন সেখানে। পরে বসিরহাট স্টেডিয়ামে জনসভায় হাজির ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ। তিনি বলেন, “সারদা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় মমতার সরকার মানুষের বিশ্বাস হারিয়েছে।”

ছোট ছোট পথসভা এবং দোকানে-বাড়িতে প্রচার শেষ করে কংগ্রেসের অসিত মজুমদার বলেন, “মানুষকে যদি ভোট দিতে দেওয়া হয়, তা হলে আমরাই ভাল ফল করব।” একই দাবি করেছেন মৃণালবাবু। তিনি বলেন, “মানুষ বুঝে গিয়েছেন, রাজ্য চালানোর মতো ক্ষমতা কিংবা স্বচ্ছতা নেই তৃণমূলের।

—নিজস্ব চিত্র।

Advertisement