Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

Prawn cultivation: রোগের প্রকোপ, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে চিংড়ি চাষিরা

নবেন্দু ঘোষ 
হাসনাবাদ ১৩ জুলাই ২০২১ ০৮:০৩
ক্ষতি: রোগের প্রকোপে ওজনে বাড়েনি চিংড়ি। লোকসানেই চিংড়ি বিক্রি করছেন হাসনাবাদের ধরমবেড়িয়ার এক চাষি। নিজস্ব চিত্র।

ক্ষতি: রোগের প্রকোপে ওজনে বাড়েনি চিংড়ি। লোকসানেই চিংড়ি বিক্রি করছেন হাসনাবাদের ধরমবেড়িয়ার এক চাষি। নিজস্ব চিত্র।

খারাপ আবহাওয়া, রোগের প্রাদুর্ভাবে একদিকে চিংড়ির বৃদ্ধি কমে গিয়েছে অন্যদিকে দাম কমেছে বাজারে। কমেছে রফতানিও। অথচ চাষের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে ভেনামি চিংড়ি চাষ করে এই বছর লক্ষধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন হিঙ্গলগঞ্জ ও হাসনাবাদ ব্লকের বহু চিংড়ি চাষি। এমনটাই দাবি এই দুই ব্লকের চিংড়ি চাষিদের।

হাসনাবাদ থানার শুধু বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চিংড়ি চাষ হয় প্রায় ৬৫০টি পুকুরে। মালিক রয়েছেন প্রায় ২৫০ জন। হিঙ্গলগঞ্জ ও হাসনাবাদ ব্লকে ছোট বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি মালিক রয়েছেন। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে এই চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। লোকসানের বোঝা এসে পড়েছে এঁদের সকলের উপর।

হাসনাবাদ থানার বিশপুর পঞ্চায়েতের ধরমবেড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি চাষ করছেন প্রবীর মণ্ডল। এই বছর তিনি ১১টা পুকুরে চিংড়ি চাষ করেছেন। তিনি জানালেন, মূলত এপ্রিল মাসের শেষে চিংড়ির মিন ছাড়া হয়। অগস্ট মাস থেকে বিক্রি শুরু হয়। চিংড়ি যত বড় হয়, তার দামও তত বেশি হয়। সাধারণত এক একটা চিংড়ির ওজন ২৫-৩০ গ্রাম হলে চাষিদের ভাল লাভ থাকে। এবছর প্রবীরবাবুর ৫টি পুকুরে চিংড়ির ওজন হয়েছে গড়ে মাত্র ৪ গ্রাম করে। একটি সংস্থা চিংড়ি কিনতে এসে কেজি প্রতি ৫০ টাকার বেশি দিতে রাজি হয়নি। পরে স্থানীয় বাজারে তিনি ১৫০ টাকা দরে ওই চিংড়ি বিক্রি করেন। তাতেও প্রবীরবাবুর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। তিনি বলেন, “ যদি বাজারে চিংড়ি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত না নিতাম, তা হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হত। চিংড়ি চাষ করে এমন অবস্থা আগে কখনও হয়নি।”

Advertisement

ধরমবেড়িয়ার আর এক চিংড়ি চাষি আনোয়ার শেখ ৩৬ লক্ষ টাকা খরচ করে ৭টি পুকুরে চিংড়ি চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, “এবছর চিংড়ির ওজন হয়েছে ১৮-১৯ গ্রাম করে। গত বছর এই ওজনের চিংড়ির দাম ছিল কেজি প্রতি ৩০৫ টাকা। এবার তা কমে হয়েছে ২৫৫ টাকা। ফলে সব মিলিয়ে আমার প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে।”


কয়েকটা পুকুরের চিংড়ির রোগ সারিয়ে ওজনে আর একটু বড় করার চেষ্টা করছি। এতে বাড়তি খরচও হচ্ছে। চিংড়ির রোগ সারাতে না পারলে আমার প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হবে।

- মনোজ ঘোষ, চিংড়ি চাষি,বিশপুর


বিশপুরের বাসিন্দা মনোজ ঘোষের কয়েকটা পুকুরে চিংড়ির রোগ দেখা দিয়েছে। ওজন দাঁড়িয়েছে গড়ে ৭-১০ গ্রাম। যার বাজারদর কেজি প্রতি ১২০-১৩০ টাকা। তিনি বলেন, “কয়েকটা পুকুরের মাছের রোগ সারিয়ে ওজনে আর একটু বড় করার চেষ্টা করছি। ফলে বাড়তি খরচও হচ্ছে। চিংড়ির রোগ সারাতে না পারলে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হবে।”

প্রায় একই কথা শোনালেন ধরমবেড়িয়ার চিংড়ি চাষি সুখেন দাস-সহ আরও চাষিরা। সুখেন প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা খরচ করে চিংড়ি চাষ শুরু করেছিলেন। তিনি জানান, এক একটা পুকুরে ২-৩টি করে মেশিন চলে দিনে ১৩ ঘণ্টা। এবছর তেলের খরচ বেড়েছে। কেরোসিন তেলের দাম ৪০ টাকা থেকে হয়েছে ৭২ টাকা লিটার। ডিজেল ৬০ টাকা থেকে হয়েছে ৯৫ টাকা লিটার। অন্যদিকে চিংড়ির খাবারের প্যাকেটের দাম গত বছর ছিল ১৮৫০ টাকা। এবছর তা হয়েছে ২২০০ টাকা। বেড়েছে শ্রমিকের বেতন। সব মিলিয়ে এই বছর ১ কেজি চিংড়ি চাষ করতে প্রায় ৬৫ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। অথচ চিংড়ির দাম কমে গিয়েছে। ফলে লোকসান বাড়ছে।

হাসনাবাদ ও হিঙ্গলগঞ্জ এলাকার চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ান তুলসী দাসের মতে, এবার মূলত আবহাওয়ার কারণে চিংড়ি চাষে এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। চিংড়ির মধ্যে রেড গার্ড আর হোয়াইট ফিকাল মেটার নামে দুই ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগে চিংড়ির খাওয়া কমে যায়, ওজন বাড়ে না, চিংড়ি মারাও যেতে পারে। এই রোগ প্রায় মহামারির আকার নিয়েছে। যে পুকুরে এই রোগ দেখা দেয় সেই এলাকার সব পুকুরে তা ছড়িয়ে পড়ে। ওষুধ প্রয়োগ করলেও তা কাজ করার জন্য রোদের দরকার। টানা মেঘলা আবহাওয়ার ফলে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে না। ২০১২ সালেও এই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, “আবহাওয়া যদি এমনই চলে এবং চিংড়ির রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রে চিংড়ি যে অবস্থায় আছে, সেভাবে বিক্রি করে দেওয়াই লাভজনক। এতে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমবে।”

আরও পড়ুন

Advertisement