নির্বাচনী বিপর্যয়ের সঙ্গেই সঙ্গ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে। এ বার দলের দীর্ঘদিনের সঙ্গী, বাড়ির মালিক মন্টু সাহা তাঁর বাড়ি থেকে তৃণমূলের প্রধান দফতর সরিয়ে নিতে বললেন দলীয় নেতৃত্বকে। দলীয় সূত্রে খবর, ভোটের ফল প্রকাশের দিন কয়েকের মধ্যেই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন। দলীয় দফতর সরিয়ে নিতে তাঁর কাছে তৃণমূল দু’মাস সময় চেয়েছে।
তপসিয়ায় পুরনো তৃণমূল অফিস ভেঙে নতুন করে তৈরির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। সেই কাজের জন্য অস্থায়ী ভাবে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় দফতর সরিয়ে আনা হয় ইস্টার্ন বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকায়। সেখান থেকেই রাজ্য জুড়ে দলের কাজ পরিচালিত হতো। এ বার সেই বাড়িটি ছাড়তে হবে তাদের। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে সম্প্রতি দলীয় বৈঠকে সে কথা জানিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী নিজেই। দলীয় সূত্রে খবর, তারপর থেকেই নতুন অফিস নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন দলীয় নেতৃত্ব। দলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার অবশ্য বলেন, ‘‘এটা পূর্বনির্ধারিত ছিল। আমাদের অফিসের কাজ শেষ হয়নি। তাই ঠিক হয়েছিল ভোটের পরে ভাড়ায় নেওয়া অফিস ছেড়ে সেখানে যাওয়া হবে।’’
ক্ষমতা চলে যাওয়ার দিন থেকেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নানা সমস্যায় পড়েছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়া বা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন ব্লক, জেলা, রাজ্য স্তরের নেতারা। অভ্যন্তরীণ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভোটের দিন পর্যন্ত দলের নির্ভরযোগ্য যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত অনেকেই। জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগের আশঙ্কাও প্রতিনিয়ত চিন্তায় রেখেছে সদ্য বিরোধী আসনে যাওয়া দলীয় নেতাদের। নবনির্বাচিত বিধায়কদের একাংশ, লোকসভায় নির্বাচিত কয়েকজন সাংসদেরও গতিবিধিও দলের অন্দরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দিল্লির বিমানে কোন বিধায়কের টিকিট রয়েছে, রাজধানীর বঙ্গভবনে কোন সাংসদের আনাগোণা, সে সব এখন দলের অন্দরে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
শুধু তাই নয়, এ সবের মধ্যেই বারবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েও। গত পাঁচ- সাত বছরে দলের মধ্যে ক্ষমতার মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠা অভিষেক কেন বিপর্যয়ের দিনে নিজেকে ঘরবন্দি রেখেছেন, সে প্রশ্নও তুলেছেন পরিচিতি একাধিক নেতা। সব মিলিয়ে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে শনিবার তাতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন দলের মুখপাত্র তথা নবনির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সরাসরি নয়, তবে এ দিন ‘বিশ্ব কচ্ছপ দিবস’ উপলক্ষ্যে সমাজমাধ্যমে কুণালের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘ঝামেলা দেখলে খোলসে ঢুকে থাকুন। খোলসের ভিতর থেকে সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। বাইরের ঝামেলা একটু কমলে খোলস থেকে বেরোন। আগেমুখ বাড়িয়ে দেখে নিন, কোন দিকে হাঁটবেন। তারপর সুবিধামতো চলুন।’
অন্যদিকে, এ দিনও পার্ক সার্কাসে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সভা করে তৃণমূল। তাদের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া কলকাতায় হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। এই কর্মসূচিতে অংশ নেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়, বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুরপ্রতিনিধি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়রা।
হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে এ দিন একটি কবিতায় মমতা লিখেছেন, ‘কেনই বা সন্ধেতে নামছে মধ্যরাত? ভেবেছ কি এক বার?’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)