E-Paper

জমি ‘কেড়েছেন’ মমতার ভাই, ১৫ বছর পরে শুভেন্দুকে চিঠি বৃদ্ধের

২০১১ সালের মে মাসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, ২০২৬-এর মে মাসে একই কারণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠালেন বৃদ্ধ ভোলানাথ সিংহ।

চিরন্তন রায়চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৬:১৬

— প্রতীকী চিত্র।

মাঝে কেটে গিয়েছে ১৫ বছর। ২০১১ সালের মে মাসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, ২০২৬-এর মে মাসে একই কারণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠালেন বৃদ্ধ ভোলানাথ সিংহ। তাঁর আর্জি একটাই, সদ্য প্রাক্তন হওয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতার মহল্লা, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে দখল হয়ে যাওয়া, তাঁর সাড়ে চার কাঠা জমির পুনরুদ্ধার। দখলের অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, তিনি মমতারই ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়।

আদতে ভবানীপুরের রাখাল মুখার্জি রোডের বাসিন্দা ভোলানাথ জানান, মমতার বাড়ির ঠিকানা ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট (প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি)। বাবুন থাকতেন ৩০এ-তে। পরে তিনি সেটির পিছন দিকে নতুন বাড়ি তৈরি করেন। সেই বাড়িরই পাশে ২৯/১ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সিংহ পরিবারের প্রায় সাড়ে চার কাঠা জমি। সমস্যা ওই জমি নিয়েই।

রাজ্যের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নবান্নের অফিসে রেজিস্টার্ড ডাকে পাঠানো চিঠিতে ভোলানাথ লিখেছেন, ‘আমি বর্তমানে ৭৭ বছরে পদার্পণ করেছি। এক বেলা কোনও রকমে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছি।’ চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৎকালীন রাজ্যপাল, স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি এবং কালীঘাট থানাতেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন। বৃদ্ধ লিখেছেন, ‘কারও কাছে সাহায্য না পেয়ে আমি বিজেপি অফিসেও যাই। সেখান থেকে বলা হয়, আমাদের দল যখন ক্ষমতায় আসবে, তখন আপনার জায়গা নিশ্চয়ই উদ্ধার করে দেব।’ সেই আশাতেই
শুভেন্দুর দ্বারস্থ হয়েছেন ভোলানাথ। চিঠিতে তাঁকে লিখেছেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। আমার অন্তিম দিনের শেষ ইচ্ছাটুকু আপনি পূর্ণ করবেন, এই আশা ও বিশ্বাস রেখে চিঠি পাঠালাম।’

অভিযোগ মানতে চাননি বাবুন। তিনি বলেন, ‘‘আমি কারও জিনিস আটকে রাখিনি। ভোলানাথবাবুর জায়গা তাঁরই রয়েছে। ওই জমিতে আমি পা-ও দিই না।’’

গত মঙ্গলবার কালীঘাট থানাতেও চিঠি পাঠান ভোলানাথ। তাতে লিখেছেন, ‘বহু বার আপনার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’ শনিবার দুপুরে কালীঘাট থানার ডাকে সেখানে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন ভোলানাথ। পরে তিনি জানান, ওই জমি সংক্রান্ত নথি দেখতে চেয়েছে পুলিশ। তার পরেই পদক্ষেপের বিষয়টি ঠিক হবে।

ভোলানাথের অভিযোগ, ওই জমিতে তাঁদের ইট-বালি-সুরকি সরবরাহের পারিবারিক ব্যবসার অফিস ছিল। তাঁর অভিযোগ, জমিটির উপরে বাবুনের নজর ছিল। মমতা মুখ্যমন্ত্রী হতেই ওই জমি কার্যত বেদখল হয়ে যায়। অভিযোগ, ২০১১ সালের মে মাসে রাজ্যে
তৃণমূল সরকার গঠনের দিন দুয়েক পরেই সিংহ পরিবারের জমিতে দলীয় অফিস ফেঁদে বসেন বাবুন। টিন-দরমা দিয়ে খাড়া করা অফিসঘরটি ভেঙেচুরে যাওয়ার পরে ওই কাঠামো সরিয়ে ফেলা হলেও জমি এখনও
হাতছাড়াই। ভোলানাথের দাবি, বাবুনের বাড়িতে পুরসভার জলের লাইন তাঁর জমির তলা দিয়েই টানা হয়েছে। তাঁর জমির নিকাশির সঙ্গে বাবুনের বাড়ির নর্দমাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, কয়েক বছর আগে ওই জমির উপর দিয়ে বাবুনের বাড়িতে যাতায়াতের পিচের রাস্তাও তৈরি করা হয়েছে।

এ নিয়েও বাবুনের দাবি, ওই জমি দিয়ে পিচের রাস্তা বা জলের লাইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও সত্যি নয়।

ভোলানাথের বক্তব্য, প্রতিবেশী তো বটেই, তাঁর বোনের সহপাঠিনী হওয়ার সুবাদেও মমতাকে তিনি ছোটবেলা থেকে চেনেন। নিরাপত্তার কড়াকড়িতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি এ নিয়ে মুখোমুখি নালিশ জানাতে পারেননি। তৃণমূল সরকারের শপথগ্রহণের দশ দিন বাদে, ২০১১-র ৩০ মে পাঠানো প্রথম চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বোন’ সম্বোধন করে প্রৌঢ় লিখেছিলেন, ‘তুমি ক্ষমতার আসনে বসেছ। কিন্তু তোমার ভাই বাবুনকে শাসন করো। ও আমার ব্যবসার জায়গা তছনছ করে দিল!
একটার পর একটা ঘর তুলছে! পুলিশ বাধা দিলে পুলিশকে ও বাধা দেয়! বাবুন জায়গাটা জবরদখল করতে চাইছে।’ সেই চিঠিতে কোনও ফল হয়নি।

এর পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ও তাঁর তখনকার মহাকরণের অফিসে চার বার চিঠি দেন ভোলানাথ। সেগুলির প্রাপ্তিস্বীকারের রসিদও তাঁর কাছে রয়েছে। সেখান থেকে কোনও সাড়া না-পেয়ে তিনি রাজভবনের দ্বারস্থ হন। ২০১১-র জুলাই ও ২০১৩-র জুনে রাজ্যপালকে চিঠি লিখে ভোলানাথ আবেদন করেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সাহায্য চেয়েছিলাম। না-পেয়ে আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।’ রাজভবনের সাড়াও তখন আসেনি। পরে ভোলানাথ বাবুনকেও চিঠি দেন। তাতে লেখেন, ‘তুমি মুখ্যমন্ত্রীর ভাই হয়ে এ সব করছ! এটা খুব নিন্দার বিষয়।’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suvendu Adhikari Land encroachment Mamata Banerjee

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy