Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

বান্ধবীর বিয়ে রুখল কন্যাশ্রীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা
বর্ধমান ১০ নভেম্বর ২০১৭ ০০:০০

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এক ছাত্রী স্কুলে জানিয়েছিল, আর ক্লাসে আসা হবে না। বিয়ের ঠিক হয়ে গিয়েছে। শেষমেশ অবশ্য স্কুলের কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ওই ছাত্রীর বাড়ি গিয়ে নাবালিকা বিয়ের কুফল বোঝালেন। ভাঙল বিয়েও। বৃহস্পতিবার দুপুরে বর্ধমানের বেলকাশ পঞ্চায়েতের মিলিকপাড়া গ্রামের ঘটনা।

কী ঘটেছিল এ দিন? স্কুল সূত্রে জানা যায়, এ দিন ওই গ্রামে, ছাত্রীটির বাড়িতে হাজির হয় উদয়পল্লি শিক্ষা নিকেতনের কন্যাশ্রী ক্লাবের ছয় সদস্য। সঙ্গে ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপাল ঘোষাল ও কন্যাশ্রী ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা কাকলি সরকার। বান্ধবীকে কাছে পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সুতপা মল্লিক, কেয়া খাতুন-সহ ক্লাবের সদস্যরা বলে, ‘‘আমাদের মতই তো ও পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেবেন না।’’ শিক্ষকেরা বলেন, ‘‘পড়ার খরচও তো সরকারের। তা হলে আর চিন্তা কেন?’’ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ কথা শুনে পেশায় চাষি ছাত্রীটির বাবা এবং বিড়ি শ্রমিক মা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আজ, শুক্রবার থেকে মেয়ে ফের স্কুলে যাবে। ছাত্রীটিও সবার সামনে জানায়, সে পড়তে চায়।

স্কুল সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহ দুয়েক আগে ওই ছাত্রীটি নিজের অবস্থার কথা জানায় প্রধান শিক্ষক গোপালবাবুর কাছে। বান্ধবীর বিয়ের খবর পেয়ে কন্যাশ্রী ক্লাবের দলনেত্রী প্রিয়া রায় বলে, “আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলি। উনিই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। তারপরে আমরা ঠিক করি, সহপাঠীর বাড়িতে গিয়ে নাবালিকা বিয়ের কুফল বুঝিয়ে বলব।’’

Advertisement

পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে, নাতনির বিয়েতে সব থেকে বেশি ‘উৎসাহ’ ছিলেন তার ঠাকুমা। সব দেখেশুনে শেষমেশ অবশ্য বলেন, ‘‘নাতনি অবশ্যই স্কুলে যাবে। বেআইন কিছু করা ঠিক না।’’ জেলাস্তরে কন্যাশ্রীর দায়িত্বে থাকা প্রকল্প আধিকারিক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, “কন্যাশ্রী ক্লাবের মেয়েদের জন্য আমরা জেলায় অনেক নাবালিকার বিয়ে আটকাতে পেরেছি।”

আরও পড়ুন

Advertisement