Advertisement
E-Paper

তৃণমূল নেতার অধ্যাপক ভাইপোর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগে প্রাক্তন প্রেমিকার! বর্ধমান শহরে শোরগোল

যে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যুবতীর এই অভিযোগ, তিনি বর্ধমান শহরের প্রভাবশালী এক কাউন্সিলরের ভাইপো। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, কলেজে পড়ার সময় ওই অধ্যাপকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ২২:১২
Bardhaman TMC Councillor\'s Nephew

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রাক্তন প্রেমিক পেশায় অধ্যাপক। তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন এক যুবতী। তাঁর দাবি, প্রাক্তন প্রেমিক তাঁর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেন। এত দিন সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে তাঁর উপর চাপ দিচ্ছিলেন। এ বার সুরাহা চেয়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন। ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমান। যে অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যুবতীর এই অভিযোগ, তিনি বর্ধমান শহরের প্রভাবশালী এক কাউন্সিলরের ভাইপো।

অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, কলেজে পড়াশোনার সময় ওই অধ্যাপকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কিছু দিন পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে প্রেমিকের কিছু আচরণে তিনি অবাক হয়ে যান। দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হেনস্থা সহ্য করেছেন। শেষমেশ ২ বছর আগে ওই সম্পর্কে ইতি টানেন।

তার পর থেকে প্রাক্তন প্রেমিক তাঁর পিছু ছাড়েননি বলে অভিযোগ যুবতীর। পুলিশকে লিখিত অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শুরু থেকে নির্যাতনের মাত্রা ‘চরম আকার’ নেয়। রাস্তাঘাটে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিতেন প্রাক্তন প্রেমিক। শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করেছেন। গত বছরের ২৩ মে কয়েক জনকে নিয়ে তাঁর বাড়িতেও চড়াও হন অভিযুক্ত। অভিযোগকারিণীর দাবি, প্রাক্তন প্রেমিক নিজেকে কাউন্সিলরের ভাইপো এবং তৃণমূল নেতাদের কাছের লোক বলে তাঁকে হুমকি দেন এলাকাছাড়া করার। অন্য কাউকে বিয়ে করলেও ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।

নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, গত বছরের ১২ জুন দুই বন্ধুর সঙ্গে বর্ধমানের একটি রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। সেখানেও দলবল নিয়ে উপস্থিত হন প্রাক্তন প্রেমিক। সকলের সামনে তাঁর চরিত্র নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। সম্পর্কে থাকাকালীন নিজেদের কিছু ছবি সকলকে দেখিয়ে হেনস্থা করেন। তার পরেও রাস্তাঘাটে, রেলস্টেশনে, কর্মক্ষেত্রে তাঁকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে। অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছে জানতে পেরে হবু স্বামী এবং তাঁর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন।

কিন্তু অভিযোগ জানাতে দেরি কেন? যুবতীর দাবি, প্রাক্তন প্রেমিক এবং তাঁর প্রভাবশালী কাকার চাপের মুখে পড়ে ভয়ে পুলিশের কাছে যাননি। এখন রাজ্যে নতুন সরকার। তাই সাহস করে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি জানান, অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠিয়েছেন।

অন্য দিকে, অভিযুক্ত পাল্টা দাবি করেছেন, ওই যুবতী তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। অধ্যাপক বলেন, ‘‘ওঁর বিএড পড়ার সমস্ত খরচ দিয়েছে আমার বাবা। এখন সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছেন উনি।’’ হেনস্থার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওই যুবক পাল্টা মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

tmc councillor Police case Bardhaman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy