×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৩ মে ২০২১ ই-পেপার

গণনাতেও সন্ত্রাস, গ্রাম জিতল তৃণমূলই, উত্থান বিজেপির

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৭ মে ২০১৮ ০৪:০০
কোলাঘাটে জয়ের উৎসব শুরু তৃণমূলের। ছবি: প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।

কোলাঘাটে জয়ের উৎসব শুরু তৃণমূলের। ছবি: প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাতেও গণনার মধ্যে সন্ত্রাস চলছে। গ্রাম পঞ্চায়েত মোটামুটি শেষ। সমিতিও অনেকটা শেষ। জেলা পরিষদ এখনও বাকি। এই অবস্থাতেও গ্রাম বাংলায় গণনাকেন্দ্রে ঢুকে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ আসছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। বালুরঘাটে সম্পূর্ণ গণনাকেন্দ্রই দখল করেছে নেয় অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীরা। তারা প্রত্যেকেই শাসকদলের আশ্রিত, এমনই অভিযোগ বিরোধীদের।
বিরোধীদের অভিযোগ, যে গুলোতে বিজেপি জয়ী হয়েছে, ভিতরে ঢুকে সেগুলোতেই রি-কাউন্টিং করাচ্ছে ওই দুষ্কৃতীরা। সবাইকে গণনাকেন্দ্রের বাইরে বার করে দিয়েছে তারা। ভিতরে গুলিও চলছে আর সেই গুলির আওয়াজ যাতে শোনা না যায় তার জন্য বাইরে পটকা ফাটানো হচ্ছে, অভিযোগ বিজেপির। ভিতরে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও আটকে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

অর্থাৎ দিনভর যে সন্ত্রাসের ছবিটা দেখা যাচ্ছিল, রাতেও তা খুব একটা বদলাল না। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে গণনা। আর তার পরই রাজ্যজুড়ে অশান্তির খবর আসতে শুরু হয়। অনেক জায়গাতেই বিরোধী এজেন্টদের গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও তাঁদের মেরে বার করে দেওয়া হয়েছে।

গণনার খুঁটিনাটি...

Advertisement

খেজুরিতে নির্দল এবং তৃণমূলের সমর্থকদের মধ্যে মারামারি। এলাকায় বোমাবাজিতে জখম একাধিক।

কৃষ্ণগঞ্জে দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের আসন বাদ দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর গণনা শুরু।

হাবড়াতে বিরোধী এজেন্টদের মারধর করে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বার করে দিল তৃণমূল, পথ অবরোধ বিজেপি-র।

বিনপুর-২ ব্লকের ২টি পঞ্চায়েত আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চের দখলে।

জঙ্গলমহলে পঞ্চায়েত গড়ছে নির্দলরা।

দিনহাটা বড় আটিয়াবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬/২২৭ নম্বর বুথে পোল হয়েছে ৮৭০টি। ব্যালট বাক্স থেকে ব্যালট বেরিয়েছে ৮৮৫টি।

কুলিয়ানা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন রয়েছে ১০টি। তার মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৮টিতে। তৃণমূল এবং নির্দল ১টি করে আসনে জয়লাভ করেছে।



দিলীপ ঘোষের গ্রাম কুলিয়ানায় বিজেপি সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। —নিজস্ব চিত্র।

রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি দিলীপ ঘোষের বাড়ি যে গ্রামে, ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের সেই কুলিয়ানা গ্রাম পঞ্চায়েত দখলে নিল বিজেপি।

নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে চলছে বোমাবাজি। পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস। ভোটগণনা স্থগিত।



রাজারহাটে উল্লসিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। ছবি তুলেছেন সুমন বল্লভ।

নিতুড়িয়া ও কাশীপুরে সন্ত্রাসের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

নওদাতে শাহিন শেখ যে বুথে খুন হয়, সেই বুথের কংগ্রেসের প্রার্থী জয়ী।

দৌলতাবাদের বারবাকপুরে শাসক দলের হামলায় জখম হয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থীর শ্বশুর এবং দেওর। ওই বুথে এ দিন কংগ্রেস প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। গত ২৭ এপ্রিল তাঁরা গুলিবিদ্ধ হয়ে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এক সপ্তাহ ভর্তি থাকার পর তাঁরা গ্রামে ফেরেন।

সন্দেশখালি ১ ও ২, হাসনাবাদ ১ এবং বসিরহাট ১ ব্লকে জয়ী তৃণমূল।



বীরভূমের মল্লারপুরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম।

“মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নকে রোখা যাবে না। এখনও উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। লোকসভাতে দেখাব।” জেলায় জেলায় তৃণমূলের জয়ের পর বললেন অনুব্রত মণ্ডল।

কৃষ্ণগঞ্জে গণনাকেন্দ্রের মধ্যে ঢুকে ছাপ্পা মারার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, গণনা বন্ধ।

দেখুন ভিডিয়ো

নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া গণনা স্থগিত করল কমিশন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল বাহিনী গেল ঘটনাস্থলে।

ঝাড়গ্রাম ব্লকের সরডিহা ও লোধাশুলি গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে।



ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়ী হলেন দুধকুমার মণ্ডল। ছবি: অর্ঘ্য ঘোষ।

সিঙ্গুরে গণনার গতি খুব ধীরে। বড়ায় বিজেপি এবং আনন্দনগরে সিপিএম-এর পঞ্চায়েত জয়ের সম্ভাবনা।

ভাঙড়ে ই-মনোনয়নের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া আট জনের মধ্যে পাঁচ জনই জয়ী।

ভাঙড়ে ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে দু’হাজারেরও বেশি ভোটে জিতলেন আরাবুল ইসলাম।

আরামবাগের যে ৪টি বুথে পুনর্নিবাচন হল সবকটিতেই জয়ী নির্দল।

নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ১০টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের দখলে।



আমের মালা পরে জয় উদ্‌যাপন করলেন কোলাঘাটের কেসাই গ্রামের নির্দল প্রার্থী। ছবি: প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।

মহিষাদল-১ ব্লকের ইটামগরা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে।

মহিষাদল ব্লকের কিসমত নাইকুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫টি আসনের মধ্যে সব ক’টি আসনে তৃণমূল জয়ী।

বাঁকুড়া-২ পঞ্চায়েত সমিতি প্রথম রাউন্ড শেষে তৃণমূল এগিয়ে ১৯টি আসনে, বিজেপি ১২, নির্দল ৩টি আসনে এগিয়ে।

ভাঙড়ে এগিয়ে আরাবুল, কমিটির দখলে পাঁচটি আসন



হলদিয়ায় জয়ের আনন্দে মাতলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। ছবি: আরিফ ইকবাল খান।

বাঁকুড়া-২ পঞ্চায়েত সমিতি প্রথম রাউন্ড শেষে তৃণমূল এগিয়ে ১৯টি আসনে, বিজেপি ১২, নির্দল ৩টি আসনে এগিয়ে।

মহিষাদল ব্লকের কিসমত নাইকুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫টি আসনের মধ্যে সব ক’টি আসনে তৃণমূল জয়ী।

কোলাঘাটে পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি পঞ্চায়েতের আসনে দাঁড়িয়ে পরাজিত হলেন বিক্ষুদ্ধ নির্দল প্রার্থীর কাছে।

চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের মাঙরুল গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হতে চলেছে তৃণমূলের। এখানে বিক্ষুদ্ধ তৃণমূল (নির্দল) প্রার্থীরা এগিয়ে।



বীরভূমের মল্লারপুরে বিজেপি-র উল্লাস। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম।

কোচবিহার জেলা পরিষদের ২টি আসনে গণনা চলছে, এগিয়ে তৃণমূল।

নলহাটি ১ পঞ্চায়েত সমিতির বাণীওড় গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরাজিত করলেন তৃণমূল প্রার্থীকে।

আটিয়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে ২ টি আসনে জিতল গোজ প্রার্থীরা। দিনহাহাটা-১ নম্বরে ১২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫০ টি আসনে গোজ এগিয়ে।

ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগেই সংঘর্ষ চোপড়ায়, কংগ্রেসের দাবি তাদের গাড়ি ভাঙচুর করে গুলি চালানোর পাশাপাশি মারধর করা হয়েছে।

ঘাটাল ব্লকের মোহনপুর অঞ্চলে চারটি আসনে বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হলেন। এখানেই ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দোলইয়ের বাড়ি। তবে পঞ্চায়েতটি তৃণমূলের দখলে থাকছে।



মুর্শিদাবাদের সুতির আহিরনে গননা শুরু। ছবি: অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়।

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় গুলিবিদ্ধ ২, অভিযুক্ত তৃণমূল। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর।

ঘাটাল ব্লকে ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত। মোট আসন ১৬৬। ৭৫টি আসনে ভোট হয়েছিল। দ্বিতীয় রাউন্ডের পর ৮টিতে নির্দল প্রার্থীরা এগিয়ে। বাকিগুলিতে এগিয়ে তৃণমূল।

ঝাড়গ্রাম জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ৮০৬টি। তৃণমূল-৭টি, সিপিএম-১টি, বিজেপি-৪টি।

নলহাটি ২ পঞ্চায়েত সমিতির ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনই পেল তৃণমূল।

গড়বেতা ১ নম্বর ব্লকের গ্রাম পঞায়েতে ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৩৮টিতে নির্বাচন হয়। যে ২৪টি আসনে নির্বাচন হয় সেখানে প্রথম রাউন্ড গণনার শেষে ২৩টিতে এগিয়ে তৃণমূল।

নলহাটি ২ পঞ্চায়েত সমিতির ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনই পেল তৃণমূল



নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জে উৎসবের মেজাজ। ছবি: দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জে এখনও গণনা শুরু হয়নি। তা সত্ত্বেও গণনাকেন্দ্রের বাইরে উৎসবের মেজাজ।

ফুলিয়ায় গণনা কেন্দ্রে বিরোধী এজেন্টদের ঢুকতে বাধা। নদিয়ার জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হল।

ভাঙড়ের গণনাকেন্দ্রে কোনও নির্দল এজেন্ট নেই বলে দাবি। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলে দাবি করলেন নির্দল এজেন্টরা।

রাজারহাটে দু’জন বিরোধী এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

মেমারি ভোটগণনা কেন্দ্র থেকে সিপিএম এবং বিজেপি এজেন্ট ও প্রার্থীদের বার করে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযুক্ত শাসক দল।



ওন্দায় বুথের ভিতর চলছে তৃণমূলের এজেন্টদের খাওয়াদাওয়া। ছবি: শুভ্র মিত্র।

ভগবানগোলায় বাম এজেন্টদের মারধর। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

হাঁসখালিতে বিরোধী কাউন্টিং এজেন্টদের রাস্তা থেকেই ভয় দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হল। অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে কৃষ্ণনগরের ডি এম অফিসে অবস্থান শুরু বিরোধী কাউন্টিং এজেন্টদের।



হলদিয়ার চকদ্বীপা স্কুলে চলছে ভোট গণনা। ছবি: আরিফ ইকবাল খান।

ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের ভোটদান পর্ব মিটেছে সোমবার। কিন্তু, হিংসা শেষ হয়নি। বুধবার পুনর্নির্বাচনেও গণ্ডগোলের একাধিক খবর মিলেছে। আর এই অশান্তির আবহের মধ্যেই আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হল পঞ্চায়েত নির্বাচনের গণনা। স্পষ্ট হয়ে যাবে, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের কোন আসন কার দখলে যাচ্ছে।

পাঁচ বছর আগে পঞ্চায়েত ভোটের পরে বোর্ড গঠন হয়েছিল অগস্টে। তাই এ বার বোর্ডের মেয়াদ থাকছে অগস্ট পর্যন্ত। এ বার ভোটের আগেই ৩৪% আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে নিয়েছিল শাসক দল। আদালতে আবেদন হওয়ায় ওই আসনগুলির ফল ঘোষণা স্থগিত রাখতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতে ওই মামলার আবার শুনানি রয়েছে ৩ জুলাই। ওই ৩৪% বাদ দিয়ে বাকি আসনের ফল ঘোষণায় বাধা নেই। সেই ৬৬ শতাংশ আসনেই আজকে ফল ঘোষণা।

২০টি জেলা পরিষদের মোট আসন ৮২৫। ৮২৫ আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ৬২১টিতে। ২০ জেলায় মোট পঞ্চায়েত সমিতি বোর্ড ৩২৯টি। ৩২৯ পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট আসন ৯,২১৭। এর মধ্যে ভোট হয়েছে ৬,১১৯টি আসনে। ২০ জেলার মোট গ্রাম পঞ্চায়েত বোর্ড ৩,২১৫টি। ৩,২১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ৪৮,৬৫০। এর মধ্যে ভোট হয়েছে ৩১,৭৮৯টি আসনে।

আরও পড়ুন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, বোর্ড গঠনের সময় আরও রক্তপাত হবে

রাজ্যে এই নবম পঞ্চায়েত নির্বাচনই প্রথম ভোট, যখন বিরোধীদের হাতে একটিও জেলা পরিষদ নেই। গত বারের ভোটে বিরোধীদের জেতা তিনটি জেলা পরিষদও চলে গিয়েছে শাসকের হাতে। এ বার ভোটের আগে তিন দফায় এবিপি আনন্দ-সি ভোটারের জনমত সমীক্ষা তৃণমূলকেই এগিয়ে রেখেছে। সেই সঙ্গেই রাজ্যে সাম্প্রতিক সব নির্বাচনের প্রবণতা মেনে তৃণমূলের চেয়ে অনেকটা পিছনে থাকলেও তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজেপির উঠে আসার ইঙ্গিত রয়েছে। সমীক্ষার সঙ্গে বাস্তব কত দূর মিলছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে আজই।

Advertisement