২০০ পারের স্লোগান দিয়ে থামতে হয়েছিল ৭৭-এ। দলবদলের হিড়িকে সেই সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৬৯-এ। বিজেপি শিবিরকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা মুকুল রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে হারের বিপর্যয় তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিজেপি। তারই মধ্যে ১১ জুন পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে নিয়ে মুকুল যোগদান করেন তৃণমূলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ঘর ওয়াপসি হয় মুকুলের। ওই বছরই ৩০ অগস্ট তৃণমূলে ফেরেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি বিধায়ক তন্ময় ঘোষ। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁকে যোগদান করান। বিষ্ণুপুরের যুব তৃণমূলের প্রাক্তন শহর সভাপতি ২০২১ সালের ৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। গত মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দ্বিতীয় বিজেপি বিধায়ক হিসেবে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।
৩১ অগস্ট বাগদা বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসকে তৃণমূলে যোগদান করান তৎকালীন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। খাতায়কলমে এখনও বিজেপি বিধায়ক হলেও, বিশ্বজিৎই আবার তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। ২০২১-এর ৪ সেপ্টেম্বর উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে কালিয়াগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন রায়কে তৃণমূলে যোগদান করান তৃণমূল মহাসচিব পার্থ। ২৭ অক্টোবর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী।
আরও পড়ুন:
আর রবিবার আলিপুদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল যোগদান করলেন তৃণমূলে। মুকুল, তন্ময়, বিশ্বজিৎ, সৌমেন, কৃষ্ণ এই ৫জনই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। সুমনই প্রথম বিধায়ক যিনি কখনও তৃণমূল করেননি। সাংবাদিকতা পেশা থেকে সরাসরি যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে। সে অর্থে এই প্রথম কোনও বিজেপি করা বিধায়ককে দলে নিল তৃণমূল।
এ হেন বিধায়কের দলবদলে বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘‘আমরা অনেক বার সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের যোগাযোগের চেষ্টায় উনি সাড়া দেননি। কেন তিনি দলবদল করেছেন, তাও আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’’
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় দেখা গিয়েছিল ৭৭টি আসনে জিতেছে বিজেপি। কিন্তু দিনহাটা থেকে সাংসদ নিশিথ প্রামাণিক ও শান্তিপুর থেকে সাংসদ জগন্নাথ সরকার জিতেছিলেন। কিন্তু বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে দুই সাংসদ বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই সময় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ছিল ৭৫। আর শাসকদল তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ছিল ২১৩। কিন্তু দিনহাটা ও শান্তিপুর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। সঙ্গে ভোট না হওয়া দুই কেন্দ্র জঙ্গিপুর ও শামসেরগঞ্জেও ভোটে জিতেছেন শাসকদলের প্রার্থীরা। তাতেই তৃণমূলের জয়ী বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২১৭। কিন্তু গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যান মানিকতলার বিধায়ক তথা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে। মানিকতলা আসনের ফলাফল নিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছে তাই সেখানে এখনও ভোট হয়নি। আর গত ডিসেম্বর মাসে প্রয়াত হয়েছেন রাজ্যের আরও এক মন্ত্রী সুব্রত সাহা। যিনি আবার সাগরদিঘির বিধায়ক ছিলেন। তাই বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ২১৫। আবার ৬ বিজেপি বিধায়কের দলবদলকে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত করলে শাসকদলের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়াবে ২২১।