Advertisement
E-Paper

ডিএ নিয়ে আলোচনা করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ডাক শুধুমাত্র চার সরকারি কর্মচারী সংগঠনকে, ক্ষোভ অন্য সংগঠনগুলিতে

প্রশাসন সূত্রে খবর, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ছাড়াও ওই বৈঠক ডাক পেয়েছেন কনফেডারেশন অফ গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ়, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ। মুখ্যমন্ত্রী কেবলমাত্র চারটি সংগঠনের নেতৃত্বকে নিয়ে ডিএ সংক্রান্ত বৈঠক করবেন কেন? এই প্রশ্ন তুলে সরব অন্য সরকারি সংগঠনগুলি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১২:০৫
Chief Minister Suvendu Adhikari calls only four government employee organizations for discussions regarding DA

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

আগামী ৩০ মে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে আলোচনা করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠক নিয়েই সরকারি কর্মচারীদের অন্য সংগঠনগুলির মনে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে। ওই দিন বেলা এগারোটা নাগাদ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী চার সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ছাড়াও ওই বৈঠক ডাক পেয়েছে কনফেডারেশন অফ গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ়, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ। মুখ্যমন্ত্রী কেবলমাত্র চারটি সংগঠনের নেতৃত্বকে নিয়ে ডিএ সংক্রান্ত বৈঠক করবেন কেন? এই সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যে সরব হয়েছে রাজ্যের অন্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি।

এ প্রসঙ্গে ক্ষোভের সুরে সিপিএম সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যে দলেরই হোন না কেন, তাঁকে সব সময় নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি রেখে কাজ করতে হবে। কিন্তু বৈঠক ডাকার ক্ষেত্রে আমরা সেই নিরপেক্ষতা দেখতে পেলাম না। ২০১১ সাল থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ, পে কমিশন এবং নানা দাবিদাওয়া নিয়ে বারবার তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল কো-অর্ডিনেশন কমিটি। এমনকি তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়ে আমাদের বহু সহকর্মীকে জেলে যেতে হয়েছিল। আমরা যারা এত দিন ধরে আন্দোলন করলাম, তাদের আন্দোলনের মর্যাদা দিল না সরকার। আমরা আশা করব, নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আমাদের মতামত শুনতেও আলোচনার দরজা খোলা রাখবেন।’’

বৈঠকে ডাক পাওয়া সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কাকে ডাকবেন, আর কাকে ডাকবেন না, এটা সম্পূর্ণ তাঁর সরকারের বিষয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের ডাকা হয়েছে, ডিএ নিয়ে আমরা যে দীর্ঘ দিন লড়াই করেছি তা মুখ্যমন্ত্রীর জানেন। যে কারণেই তাঁর এবং রাজ্য সরকারের মনে হয়েছে, ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও নিষ্পত্তি করতে গেলে আমাদের মতামত প্রয়োজন। তাই হয়তো আমাদের বৈঠকে রেখেছেন। তবে এটুকু বলতে পারি, আমরা রাজ্য সরকারের কাছে সমস্ত সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারের দাবি তুলে ধরব।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘বিগত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী তো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অস্পৃশ্য মনে করতেন। ডিএ ছাড়াও বহু অনেক বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের মতামত নেওয়া বিগত রাজ্য সরকারের উচিত ছিল। সে ক্ষেত্রে তারা তেমনটা করেনি, বর্তমান রাজ্য সরকার অন্তত আমাদের মতো লড়াকু সংগঠনের মতামত জানতে আলোচনার পরিসর খোলা রেখেছে। আমরাও বৈঠকে খোলা মনে আমাদের দাবি দাওয়ার কথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব।’’

তবে রাজ্য প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, যাঁরা ডিএ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে আইনি লড়াই করছিলেন, মূলত তাঁদের নেতৃত্বকে মুখ্যমন্ত্রী ওই বৈঠকে ডেকে পাঠিয়েছেন। কী ভাবে আইনি লড়াইকে পাশে রেখে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দাবিদাওয়া দ্রুত পূরণ যায়, সেই বিষয়ে বর্তমান রাজ্য সরকার সচেষ্ট। তাই ওই দিনের বৈঠকে ডিএ এবং পে কমিশন সংক্রান্ত আলোচনা তো হবেই, সঙ্গে আইনি লড়াইকে পাশ কাটিয়ে কী ভাবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দাবিদাওয়া মিটিয়ে দেওয়া যায় সেই বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী মতামত নেবেন ওই সংগঠনগুলির থেকে। বৈঠকে ডাক না পাওয়া বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘ডিএর দাবিতে আন্দোলন করতে বহু সরকারি কর্মচারী সংগঠন লড়াই করছিল। সরকার বদলের ক্ষেত্রে তাদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। তাদের বৈঠকে না ডেকে মুখ্যমন্ত্রী এমন বিভাজন তৈরি করছেন কেন?’’

Dearness allowance Suvendu Adhikari
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy