জোড়া কেন্দ্রে জয়ের পরে নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন ছেড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাতে অবশ্য বিশেষ ক্ষোভ নেই নন্দীগ্রামবাসীর। বরং আজ, রবিবার ‘ঘরের ছেলে’কে সংবর্ধনা দেওয়া হবে সেখানে। নন্দীগ্রামে এই সংবর্ধনা ছাড়াও হলদিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। শনিবার দিনভর চলেছে তার প্রস্তুতি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরে এই প্রথম নন্দীগ্রামে আসছেন শুভেন্দু। বিকেলে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের নন্দীগ্রাম বাজার সংলগ্ন মাঠে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হবে। জেলা বিজেপি সূত্রের খবর, সভাস্থলে দু’টি হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয়েছে। করা হচ্ছে প্যান্ডেলও। নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লক থেকে অন্তত ২৫ হাজার বাসিন্দা মুখ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন বলে দাবি। স্থান সঙ্কুলান হবে না আশঙ্কা করে নন্দীগ্রাম বাজার এবং বাসস্ট্যান্ডের ব্যস্ত এলাকায় বড় পর্দা লাগানো হচ্ছে।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন কাঁথির বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। খুঁটিনাটি সব কিছু নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন জেলার পাঁচ পদ্ম-বিধায়ক। বিজেপির জেলা (তমলুক) সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী হলেও শুভেন্দু অধিকারীর কোনও দিন নন্দীগ্রামবাসীকে ভুলবেন না। নন্দীগ্রামবাসীও তাঁকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য মুখিয়ে রয়েছেন।’’
২০১৬ সাল থেকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক ছিলেন শুভেন্দু। তারও আগে তমলুকের সাংসদ (নন্দীগ্রাম বিধানসভা এই এলাকার অন্তর্ভুক্ত) ছিলেন তিনি। এ বার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র শুভেন্দু ছাড়লেও নির্বাচনের প্রচারের প্রতিশ্রুতি এক এক করে পূরণে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। শনিবার হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সংযোগকারী সেতু নির্মাণের জন্য জায়গা পরিদর্শন করেন হলদিয়ার মহকুমাশাসক সুরভী সিংলা, সেচ দফতরের এগ্জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার। এর আগে গোকুলনগরে ইংরেজি মাধ্যম কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের জন্য জমি জরিপ করা হয়েছে। সোনাচূড়ায় আইটিআই কলেজ তৈরির জন্য জায়গা পরিদর্শন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পা রেখে নন্দীগ্রামের জন্য শুভেন্দু নতুন কিছু ঘোষণা করেন কি না, সে দিকে নজর রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম থেকে হলদিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সন্ধ্যায় হলদিয়া ভবনে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি। তার প্রস্তুতিও সারা হয়েছে। হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ বিজলি ছাড়াও মহকুমাশাসক, শিল্প আধিকারিক, শ্রম আধিকারিককে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। সাংসদ এবং বিধায়ক থাকার সুবাদে হলদিয়ার সঙ্গেও শুভেন্দুর দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। তবে গত কয়েক বছর ধরে বন্দর আর শিল্প শহরে শ্রমিক অসন্তোষ, বন্ধ কারখানা চালু না হওয়া এবং বন্দরের নানা সমস্যা সামনে এসেছে। শিল্প এবং শ্রমিক মহলের আশা, নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী নতুন দিশা দিতে পারেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)