আগে যেমন যেতেন, এখনও নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে সে ভাবেই পৌঁছে যাবেন তিনি। রবিবার সেখানে অভিনন্দন জ্ঞাপন সভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ-ও জানালেন সংবিধানের নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম ছাড়ছেন তিনি। কিন্তু সেখানকার মানুষের পাশে আগের মতোই দাঁড়াবেন। নন্দীগ্রামের জনগণ, প্রশাসন, পঞ্চায়েতের কাজের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ দায়িত্ব’ দিলেন ভাই, তথা বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে। শুভেন্দু এ-ও জানালেন, পূর্বতন সরকারের আমলে যে কাজ আটকে ছিল, এ বার তা গতি পাবে। সেই সঙ্গে জানান, বিজেপি কর্মীদের উপরে নির্যাতনের বিষয়টি তিনি ভোলেননি।
বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন শুভেন্দু। দুই কেন্দ্রেই তিনি জয়ী হয়েছেন। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসাবেই তিনি শপথ নিয়েছেন। জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেবেন। তার আগে সেখানে গিয়ে রবিবার মানুষজনকে ধন্যবাদ জানালেন শুভেন্দু। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই নন্দীগ্রামেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তৃতায় ফিরে এসেছে সে কথাও। তিনি নন্দীগ্রামের মানুষকে প্রণাম জানিয়ে বলেন, ‘‘২০০৩ সাল থেকে যে চোখে আমাকে দেখেছেন, যে ভাবে দেখেছেন নন্দীগ্রামের মানুষ, আগামী দিনেও একই ভাবে দেখতে পাবেন। এই আশ্বাস দিতে এসেছি।’’
এর পরেই শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি আগের মতোই আপনাদের কাছে পৌঁছে যাব। নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।’’ তিনি এ-ও জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে যে সব কাজ আটকে ছিল, এ বার তা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি জল এনেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাইপ বিছাতে দেয়নি। রেল আনতে গিয়েছিলাম। ছয় একর জায়গা আটকে রেললাইন সম্পূর্ণ করতে দেননি। প্রচারে যে কথা দিয়েছিলাম, সব কথা অক্ষরে অক্ষরে পালনের দায়িত্ব শুভেন্দু অধিকারীর। নিশ্চিন্তে থাকুন, কোনও অসুবিধা হবে না।’’ শুভেন্দু এ-ও জানান, যে কী ভাবে ২০০৬ সাল থেকে নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে তিনি রয়েছেন। সে সময় তিনি দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক হয়েও নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান শুভেন্দু।
গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে জয়ের কথাও শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর মুখে। তিনি বলেন, ‘‘যে স্বপ্ন দেখেছেন, আমাকে বা আমাদের কেন্দ্রে করে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে আমাকে ১,৯৫৬ ভোটে জিতিয়েছিলেন— আমি শুভেন্দু সেই ঋণ শোধ করব। ভরসা রাখবেন।’’ তার পরেই তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘যা পরিষেবা আমার দফতর থেকে দেওয়া হত, তা পাবেন। আমার পরিবর্তন আপনাদের চোখে পড়বে না।’’ ১০০ দিনের কাজের সুবিধাও সেখানকার মানুষ শীঘ্রই পাবেন, আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। সেজন্য তিনি পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে বলেছেন বলেও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘সংবিধানের নিয়ম মেনে একটি আসন রেখে আর একটি ছাড়তে হয়েছে। বিচলিত হবেন না, ভাববেন না, দূরত্ব তৈরি করবেন না। আপনাদের শুভেন্দু আপনাদের সঙ্গে ছিল, আছে, থাকবে।’’
আরও পড়ুন:
শুভেন্দু জানিয়েছেন, রাজ্যে বিবিধ কাজ থাকার কারণে তিনি সব সময় নন্দীগ্রামে যেতে না পারলেও সেখানকার ভার থাকবে সৌমেন্দুর উপরে। তিনি বলেন, ‘‘কাঁথির সাংসদ তথা ভাই সৌমেন্দুকে আপনাদের পঞ্চায়েত, প্রশাসন, জনগণের কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব দিলাম। তাঁকে পাঁচ জন বিধায়ক সাহায্য করবেন পাঁচটি মণ্ডলে— অরূপকুমার দাস, শান্তনু প্রামাণিক, চন্দ্রশেখর মণ্ডল, নির্মল খাঁড়া, তপন মাইতি।’’
এর পরেই শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালের ভোটের পরে বিজেপি কর্মীদের উপর নির্যাতনের কথা তিনি ভোলেননি। তাঁর কথায়, ‘‘পাঁচ বছরের মিথ্যা মামলা নিয়ে চিন্তিত? যা করার আইনি পথে করব। আমার ৪,০০০ কর্মীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন। হিসাব হবে।’’ এর পরেই শুভেন্দু নিদান দিয়ে বলেন, ‘‘হাতে আইন তুলবেন না। গুন্ডাগুলো বাড়িতে। চাইলে ইট খুলে নিতে পারেন। করবেন না। বিজেপি এ সব করে না। ওদের আসল জায়গা জেল। একটাকেও ছাড়ব না।’’ নন্দীগ্রাম বটতলা অস্থায়ী সভামঞ্চে রবিবার উপস্থিত ছিলেন ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারের সদস্যেরা।
শুভেন্দু এ-ও জানান, নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হবে। সেখানে বিজেপি প্রার্থী বিজয়ী করার আর্জি জানান তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এখানে উপনির্বাচন হবে। ফলতার মতো ব্যবধান করে দেবেন তো?’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আজ ফলতাতে ১ লক্ষ ৮ হাজার (প্রায়) ভোটে জিতেছে। কোথায় পুস্পা? কোথায় সোনাপাপ্পু? কোথায় রাজু নস্কর? যা যা চুরি করেছে, সব বার করব।’’