Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

সিপিএম প্রার্থীকে তাক করে উড়ে এল ইট, অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা
গোঘাট ২৫ এপ্রিল ২০১৪ ০১:৩১

সিপিএমের মিছিলে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আরামবাগের সিপিএম প্রার্থী শক্তিমোহন মালিককে লক্ষ্য করে ইট মারা হয়। প্রার্থী শেষ মুহূর্তে মাথা সরিয়ে নেওয়ায় চোট পাননি। কিন্তু ইটের ঘায়ে জখম হন দলের দুই কর্মী। আরও কয়েক জনকে মারধর করা হয়েছে। আগুনের গোলা ছোড়া হয় মিছিলে। সিপিএমের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোঘাটের শ্যামবাজার এবং বদনগঞ্জ-ফলুই অঞ্চলে গোটা ঘটনা এমসিসি দল এবং পুলিশের সামনেই ঘটেছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব অবশ্য দাবি করেছেন, হামলায় দলের কেউ যুক্ত নয়। দীর্ঘ দিন এলাকায় উন্নয়ন না হওয়ায় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত এ দিন দুপুরে। ট্যাবলো নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা। সঙ্গে ছিলেন দলের প্রার্থী। সকাল থেকে নানা গ্রামে ঘুরে বেলা ১২টা নাগাদ শোভাযাত্রা পৌঁছয় বদনগঞ্জ-ফলুই অঞ্চলের কয়াপাটে। সিপিএমের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিতাই নন্দীর নেতৃত্বে জনা পনেরো যুবক সেখানে আগে থেকেই ঝাঁটা-জুতো নিয়ে জড়ো হয়েছিল। কালোপতাকা দেখায় তৃণমূলের লোকজন। শুরু হয় গালিগালাজ। মিছিলে পা মেলানো কয়েক জনকে ঝাঁটা-জুতো পেটা করা হয়। মিছিলের পিছনে পুলিশের গাড়ি ছিল। পরিস্থিতি তখনকার মতো আয়ত্তে আনে তারা।

কিন্তু খানিক দূরে বেলডিহা মোড়ে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। সিপিএমের অভিযোগ, সেখানে জমায়েত তৃণমূলের লোকজন শোভাযাত্রা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। খবর পেয়ে বেশি সংখ্যায় পুলিশ আসে। গোটা ঘটনায় সব মিলিয়ে সিপিএমের জনা দশেক কর্মী-সমর্থক জখম হয়েছেন। তাঁদের কামারপুকুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে সকলকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সিপিএমের প্রার্থী শক্তিমোহনবাবুর কথায়, “আমাকে তাক করে আধলা ইট ছুড়েছিল ওরা। আমি শেষ মুহূর্তে মাথা সরিয়ে নেওয়ায় লাগেনি। কিন্তু পিছনে থাকা দুই কর্মী চোট পান মাথায়।” সিপিএম প্রার্থীর আরও অভিযোগ, মিছিলের প্রথমে এমসিসি কর্মীদের গাড়ি ছিল। পুলিশের গাড়িও ছিল। তাদের সামনেই পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়েছে তৃণমূলের লোকজন। দলের হুগলি জেলা সম্পাদক সুদর্শন রায়চৌধুরীর কথায়, “তৃণমূল গুণ্ডামি করে নিজেদের অনুকূলে ভোট করাতে চাইছে। আরামবাগে প্রচারের শুরু থেকেই হামলা চালাচ্ছে ওরা।” দলের তরফে গোঘাটের ওসিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই তারকেশ্বরের ওসিকে সরানোর দাবি জানিয়েছে সিপিএম। সুদর্শনবাবু আরও জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে আরামবাগে ভোট করানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন তাঁরা।

গোঘাটের ঘটনায় পুলিশের কাছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিতাই নন্দী-সহ ১৫ জনের নামে লিখিত অভিযোগ করেছে সিপিএম। নির্বাচন কমিশনকেও জানানো হয়েছে। ওই এলাকায় প্রচার তখনকার মতো বন্ধ হলেও বিকেলের দিকে অবশ্য গোঘাটেরই কুমারগঞ্জ এলাকায় প্রচার চালিয়েছে সিপিএম। সে সময়ে অনেক বেশি সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তপন মণ্ডল বলেন, “দলীয় ভাবে কিছু ঘটেনি। এলাকায় উন্নয়ন হয়নি বলে মানুষের ক্ষোভ ছিল বিদায়ী সাংসদের (শক্তিমোহন) উপরে। তা ছাড়া, ২০০৬ সালে শ্যামপুর বাজার অঞ্চলের লালপুর গ্রামে তিন জনকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় সিপিএমের নাম জড়ায়। তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আছে। স্থানীয় মানুষই সে সবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত বলেন, “আমাদের দলের কারও এই ঘটনায় যোগ নেই। মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।” তিনি আবার সিপিএমের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এমন কাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেছেন। সে কথা অস্বীকার করেছেন বাম নেতৃত্ব।

হুগলির জেলাশাসক মনমীত নন্দা জানান, গোলমালের সময়ে মাত্র তিন জন পুলিশ কর্মী ছিলেন। তা-ও দু’জনের হাতে ছিল শুধুই লাঠি। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা হয়েছে। তাঁর আরও বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে এমসিসি-র কিছু করার ছিল না। অন্য দিকে, জেলার পুলিশ সুপার সুনীল চৌধুরী বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে। ভোটের কাজে নানা জেলায় অনেক পুলিশ কর্মী চলে গিয়েছেন। যত জন আছেন, তাঁদের মধ্যে থেকেই এক অফিসার-সহ দু’জন কনস্টেবলকে পাঠানো হয়েছিল।”

আরও পড়ুন

Advertisement