মুম্বইয়ে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ ওরফে বড়েকে ট্রানজ়িট রিমান্ডে নিয়ে আসা হল হাওড়ায়। রবিবার হাজির করানো হচ্ছে আদালতে।
শিবপুরের চওড়া বস্তিতে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হয় তৃণমূল নেতা শামিম-সহ তিন জন। এলাকায় ‘প্রভাবশালী’ বলে পরিচিত বড়ের স্ত্রী শামিমা বানু তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর। রাজ্যে পালাবদলের পর গত ৭ মে শিবপুরের চওড়া বস্তিতে বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। আরও অভিযোগ, বড়ে এবং তাঁর লোকজন এলাকায় বোমা ফাটান এবং গুলি চালানো হয়।
ওই ঘটনার পর থেকে শামিম পলাতক ছিলেন। শিবপুর থানার পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। দিন তিনেক আগে মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার হাতে মুম্বই থেকে গ্রেফতার হন শামিম। শনিবার রাতে শামিম-সহ তাঁর সঙ্গীদের ট্রানজিট রিমান্ডে হাওড়ায় আনা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে হিংসায় প্ররোচনা এবং অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
কিছু দিন আগে বড়ের তিনতলা বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। তার পর যে ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম), তাতে চোখ কপালে ওঠে অনেকের। দেখা যায় তিনতলা থেকে দোতলা নামার জন্য একটি গুপ্ত সিঁড়ি ব্যবহার করতেন বড়ে। সেই দোতলায় যে ক’টি ঘর রয়েছে, তাতে বিলাসব্যসনের প্রভূত উপাদান রয়েছে। তিনতলার ঘরগুলিতে সাধারণ সব আসবাবপত্র। কিন্তু দোতলায় দামি জিনিসপত্রে ঠাসা। বাড়িমালিক বড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এবং তাঁর দলবল বিধানসভা ভোটের পর শিবপুর থানা এলাকায় বোমাবাজি করেছেন। আগেও নানা অনৈতিক ঘটনায় তৃণমূলের এই নেতার নাম জড়িয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, বড়ের মদত এবং প্রশ্রয়ে তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ করেন বিজেপি নেতৃত্ব।