Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

নালা জবরদখল, এখনও জমা জলই যন্ত্রণা

পীযূষ নন্দী
আরামবাগ ১৪ অগস্ট ২০১৫ ০১:৩৭
সংস্কারের অভাবে মজে যাচ্ছে কানা দ্বারকেশ্বর। প্রভাব পড়ছে এলাকার জল নিকাশিতে। ছবি: মোহন দাস।

সংস্কারের অভাবে মজে যাচ্ছে কানা দ্বারকেশ্বর। প্রভাব পড়ছে এলাকার জল নিকাশিতে। ছবি: মোহন দাস।

নিকাশি নালা উধাও হয়ে গিয়েছে। কোথাও জবরদখল করে দোকান-বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। আবার কোথাও নালা থাকলেও তা সংস্কার না হওয়ায় জল নিকাশির ক্ষমতা হারিয়েছে।

এই সবের কারণেই দুর্যোগ থেমে যাওয়ার কয়েক দিন পরেও বন্যার জল সহজে নামছে না বলে ক্ষোভ বাড়ছে গোটা আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার দুর্গত মানুষদের। মানুষের ক্ষোভের কারণ যে সঙ্গত, তা মানছে প্রশাসনের একাংশও।

মহকুমা পূর্ত দফতর দু’টি বিভাগের (রাস্তা এবং সাধারণ) দুই সহকারী বাস্তুকার জ্যোতিপ্রকাশ ধর এবং নিরঞ্জন ভড়ও নিকাশি-নালা দখল করে বেআইনি নির্মাণের কথা অস্বীকার করেননি। তাঁরা জানান, নালাগুলি বেআইনি ভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় এক দিকে যেমন বন্যার জল নামতে দেরি হচ্ছে, তেমনই পূর্ত দফতরের রাস্তাগুলিরও ক্ষতি বাড়ছে। দুই দফতরের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরেও রাজনৈতিক কারণে ওই সব বেআইনি দখল উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়নি।

Advertisement

আরামবাগের মহকুমাশাসক প্রতুলকুমার বসু বলেন, ‘‘যদি পূর্ত দফতরের জায়গা দখল হয়, তা হলে দখলকারীদের উচ্ছেদ করার আইন আছে ওই দফতরের। পূর্ত দফতর অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করতে চাইলে তাঁদের সহায়তায় পুলিশ পাঠানো হবে। নিকাশি নালা সংস্কারের জন্য পঞ্চায়েতগুলিকে সজাগ হতে বলা হচ্ছে। নালার উপর বেআইনি নির্মাণ নিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজও শুরু করতে হবে।’’

আরামবাগ মহকুমা রাজ্যের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলির অন্যতম বলে সরকারি ভাবেই চিহ্নিত। বন্যার জল দ্রুত নামার জন্য রয়েছে নিকাশি-নালা। বহু আগে বন্যার দিন তিনেকের মধ্যে খানাকুল-২ ব্লকের মতো মহকুমার সবচেয়ে নিচু এলাকা থেকেও জল নেমে যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু নিকাশি নালাগুলির অধিকাংশই এখন জবরজখল হয়ে গিয়েছে। তার জেরে যথাযথ সংস্কারের অভাবে অতিবৃষ্টির জলই বের হতে সময় লাগছে ১০ দিনেরও বেশি। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, জল না বের হওয়াতেই নষ্ট হচ্ছে চাষের ফসল। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে।

মহকুমা পূর্ত দফতরের অধীন আরামবাগ থেকে কামারপুকুর হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুর পর্যন্ত একটি ২২ কিলোমিটার হাইওয়ে-সহ মোট রাস্তা আছে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। যার অন্যতম মায়াপুর থেকে গড়েরঘাট, গৌরহাটি থেকে বন্দর, আরামবাগ থেকে তিরোল, পুড়শুড়া থেকে ডিহিভুরসুট, কাবলে থেকে মলয়পুর, পুড়শুড়ার কোটালপাড়া থেকে খুশিগঞ্জ, খানাকুলের জগত্‌পুর থেকে ধরমপোতার মতো প্রায় ত্রিশটি রাস্তার ধারের নিকাশি-নালাগুলির সব ক’টিতেই একাধিক জায়গা ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে।

পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি নালাগুলি বুজিয়ে দোকান, বাড়ি ছাড়াও আইসক্রিম কল, মুরগি খামার, করাত কল, এমনকী চালকলেরও সীমানা বাড়ানো হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় উচ্ছেদ করা সম্ভব হলেও অধিকাংশই থেকে গিয়েছে। অথচ, বন্যাপ্রবণ এলাকায় নিকাশি নালা সংস্কারে অনেক প্রকল্প আছে। তার মধ্যে অন্যতম ১০০ দিনের কাজ। বিভিন্ন পঞ্চায়েতে একটি অর্থবর্ষে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে যতটা কর্মদিবস সৃষ্টি হয়, তার ৮০ শতাংশই নিকাশি নালা সংস্কারে খরচ দেখানো হয়। বিশেষ করে আরামবাগ মহকুমার পঞ্চায়েতগুলিতে এমনই সরকারি হিসেব মেলে। তা সত্ত্বেও কাজের কাজ হয় না বলে অভিযোগ প্রশাসনেরই একাংশের। তাদের দাবি, এর পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। তদন্তে গিয়ে সরকারি কর্মীর মার খাওয়ারও নজির রয়েছে।

নালা সংস্কার এবং জবরদখল সরানো নিয়ে কী বলছে শাসকদল?

জেলা তৃণমূল সভাপতি তপন দাশগুপ্ত জানান, মহকুমার চার বিধায়কই জেলাশাসককে নালা দখলের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমিও বিষয়টি জানি। আমরা পর্যালোচনা করছি। সরকার প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নেবে।’’



Tags:

আরও পড়ুন

Advertisement