Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

পুর রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা
উলুবেড়িয়া ১৪ অগস্ট ২০১৫ ০১:৩৬

উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু পরিষেবা দিতে টাকা প্রয়োজন। অথচ, গত অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করতে পারেনি উলুবেড়িয়া পুরসভা। পুরসভা সূ্ত্রের খবর, ২০১৪-’১৫ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল এক কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৬৫ লক্ষ টাকা। এই খাতে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার ঘাটতি সামলাতে হচ্ছে। অভিযোগ, পুর-কর্তৃপক্ষের ‘গাফিলতিতেই’ রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে।

উলুবেড়িয়া পুরসভা এলাকায় গোটা দশেক চটকল এবং বড় কারখানা রয়েছে। কিছু ছোট কারখানা, নার্সিংহোম ও কমিউনিটি হলও আছে। রয়েছেন নথিভুক্ত করদাতারা। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এ সব সম্পত্তির মূল্যায়ন করা হয়। তার উপরে ভিত্তি করেই প্রতি বছর কর সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়।

এর আগে ২০১২-’১৩ এবং ২০১৩-’১৪ অর্থবর্ষেও কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির হয়েছিল ৬৫ লক্ষ টাকা করে মোট ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু ওই দুই আর্থিক বছরেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যায়নি বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও ২০১১-’১২ অর্থবর্ষে কর আদায় হয়েছিল ৭৫ লক্ষ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছু বেশি ছিল।

Advertisement

বিরোধীরা বলছেন, পুরসভায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে চার বছরে সম্পত্তির মূল্যায়ন-পর্ব মেটাতে পারেনি তৃণমূল। তার উপরে পারিবারিক কর আদায় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বর্তমান পুর-বোর্ডের বিরুদ্ধে। ফলে, রাজস্ব আদায়ে ক্ষতি হচ্ছে।

নিয়ম হচ্ছে, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সম্পত্তির মূল্যায়ন করা হবে। উলুবেড়িয়া পুরসভায় শেষ বার সম্পত্তির সম্পূর্ণ মূল্যায়ণ করা হয়েছিল ২০০৬ সালে। ন’বছরে পুর-এলাকায় ঘরবাড়ির সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

পুরসভা সূত্রের খবর, ২০০৬ সালে পুর-এলাকায় বাড়ির সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার। ২০১১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ হাজারে। কিন্তু মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় ২০০৬-এর পরে হওয়া বাড়িগুলির কর নির্ধারণ হয়নি। ওই সব বাড়ি থেকে রাজস্বও আদায় করা যায়নি।

বিরোধীদের আর এক অভিযোগ, বেছে বেছে কিছু বাড়ি থেকে কর আদায় করা হয় না। তাতেও পুরসভার আয়ে ঘাটতি হচ্ছে। পুরসভার বিরোধী দলনেতা সিপিএমের সাবিরুদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘‘বামফ্রন্ট আমলে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মূল্যায়ণ হতো। ফলে, রাজস্ব আদায় বাড়ত। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় এলেও তৃণমূল এখনও পর্যন্ত মূল্যায়ণ-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে উঠতে পারল না। তাদের সমস্যা তো হবেই।’’

বিরোধীদের অভিযোগ মােনন না বর্তমান পুরপ্রধান তৃণমূলের অর্জুন সরকার। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পুরসভার সম্পত্তি চিহ্নিত করা হচ্ছে। সে সব ক্ষেত্র থেকে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ের কাজ মসৃণ করতে কর্মী নিয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে।’’ কিন্তু ২০১১ থেকে ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল পরিচালিত পুর-বোর্ড মূল্যায়ন-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে উঠতে পারল না কেন? অর্জুনবাবুর জবাব, ‘‘সদ্য এ বছর পুরপ্রধান হয়েছি। তাই আগের বোর্ডের কোনও কাজের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।’’



Tags:

আরও পড়ুন

Advertisement