Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

হাওড়া

রাখার জায়গা নেই, বিপুল আলুর মজুত পেয়ে নাজেহাল স্কুল

প্রধান শিক্ষিকার বসার ঘর। কাগজপত্রে ডাঁই হয়ে আছে। এই ঘরেই আপাতত ঠাঁই হয়েছে অগুন্তি আলুর। ফেলে রাখা হয়েছে ঘরের মেঝেতে। ঠিক হয়েছে মিড ডে মিলে

নুরুল আবসার
কলকাতা ০২ এপ্রিল ২০১৫ ০১:৪২
Save
Something isn't right! Please refresh.
আলু বাছাইয়ে ব্যস্ত পড়ুয়ারা। দারোগাচক প্রাথমিক স্কুলে নিজস্ব চিত্র।

আলু বাছাইয়ে ব্যস্ত পড়ুয়ারা। দারোগাচক প্রাথমিক স্কুলে নিজস্ব চিত্র।

Popup Close

প্রধান শিক্ষিকার বসার ঘর। কাগজপত্রে ডাঁই হয়ে আছে। এই ঘরেই আপাতত ঠাঁই হয়েছে অগুন্তি আলুর। ফেলে রাখা হয়েছে ঘরের মেঝেতে। ঠিক হয়েছে মিড ডে মিলে তরকারি রান্নার কাজে আলু ব্যবহার করা হবে। কিন্তু স্কুলে চাল যে বাড়ন্ত! চালের অভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে মিড ডে মিল রান্না বন্ধে। এ দিকে গরম পড়ে যাওয়ায় আলু পচতে শুরু করেছে। দুর্গন্ধে টেকা দায়। অগত্যা ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে নিয়ম করে চলছে পচা আলু বেছে ফেলে স্কুলকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচানোর কাজ। এমনই ছবি দেখা গেল হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দারোগাচক বোর্ড প্রাথমিক স্কুলে।

রাজ্য জুড়ে আলুর এ বার রেকর্ড ফলন হয়েছে। হাওড়াও তার ব্যতিক্রম নয়। চাহিদা পড়ে যাওয়ায় চাষিরা দাম পাচ্ছেন না। এ হেন পরিস্থিতিতে চাষিদের সঙ্কট মোচনে এগিয়ে এসেছে রাজ্য কৃষি বিপণন দফতর। ন্যায্য দামে তারা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে আলু কিনছে। সেগুলি চলে যাচ্ছে স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের জন্য। আর বিপুল পরিমাণ সেই আলু মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্কুলগুলির কাছে।

বিভিন্ন স্কুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, একটি স্কুলে যদি ১০০ পড়ুয়া থাকে তাদের জন্য গড়ে রোজ পাঁচ কিলোগ্রামের মতো আলু লাগে। যে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি রান্না করে তারাই মুদিখানা থেকে আলু কেনে। ফলে আলু মজুত করতে হয় না।

Advertisement

কিন্তু চাষিদের থেকে যে আলু সরকার কিনছে, তা একসঙ্গে স্কুলগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও পাঁচ বস্তা, আবার কোনও স্কুলকে দেওয়া হয়েছে দু’বস্তা করে আলু। একসঙ্গে এত আলু রাখায় সমস্যা হচ্ছে বলে স্কুলগুলির তরফে জানানো হয়েছে। এই ছবি জেলার প্রায় সর্বত্র।

জগৎবল্লভপুরের সমস্যা আবার অন্য। এই ব্লকে মোট প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ১৭৪টি। তার মধ্যে প্রশাসনিক সমস্যার দরুন অর্ধেক স্কুলে মিড ডে মিলে চালের জোগান অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। কোথাও চাল একেবারেই নেই। কোথাও আবার চাল থাকলেও তাতে মাত্র কয়েকদিন মিড-ডে মিল চালানো যাবে।

দারোগাচক বোর্ড প্রাথমিক স্কুলে গত এক সপ্তাহ ধরে চাল না থাকার জন্য এমনিতেই মিড ডে মিল বন্ধ। তার উপরে সপ্তাহখানেক আগে ব্লক প্রশাসনের তরফে ১০০ কিলোগ্রাম আলু পাঠানো হয়েছে। আলু ছড়িয়ে রাখা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকার ঘরের মেঝেয় প্রধান শিক্ষিকা ঝুমা মণ্ডল বলেন, ‘‘চালের অভাবে মিড ডে মিল বন্ধ। তার উপরে এত আলু এসে গিয়েছে। মেঝেতেই বিছিয়ে রাখা হয়েছে। রাতে চুরি যাওয়ার ভয়ে সব জানালা বন্ধ রাখতে হয়। গরমে আলু পচে যাচ্ছে।’’ স্কুলে গিয়ে দেখা গেল পড়ুয়ারা পচা আলু বেছে ফেলে দিয়ে আসছে পাশের বাঁশবাগানে।

জগৎবল্লভপুরেরই মাজু গ্রাম পঞ্চায়েতের চোংঘুরালি বোর্ড প্রাথমিক স্কুলে আপাতত চালের সমস্যা নেই। এখানে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় দেড়শো। আলু এসেছে ২০০ কিলোগ্রাম। প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘‘গড়ে প্রতিদিন ৫ কিলোগ্রাম আলু লাগে। মুদিখানা থেকে তা আনা হয়। রেশন ডিলারের লোক এসে ২০০ কিলো আলু দিয়ে চলে গেল। এত আলু কোথায় রাখব বুঝতে পারছি না। আলু পচে দুর্গন্ধ ছাড়ছে। পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।’’

জেলা পরিষদের শিক্ষা সংক্রান্ত স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শ্রীধর মণ্ডল বলেন, ‘‘জেলায় এই ধরনের সমস্যা যে হচ্ছে তা আমিও শুনেছি। অনেক সমবায় সমিতির বাড়তি ঘর আছে। সেখানে আলু রেখে স্কুলগুলিতে বন্টন করা যায়। তা হলে সমস্যা হবে না।’’

জেলাশাসক শুভাঞ্জন দাশের অবশ্য দাবি, কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘‘স্কুলগুলির প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এক সপ্তাহ বা পনোরো দিনের মতো আলু পাঠানো হচ্ছে। স্কুলগুলিতে কত আলু লাগবে সেই হিসাব করতেই আমাদের অন্তত দু’দিন কেটে গিয়েছে।’’



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement