Advertisement
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নদীখাতে নজরদারি চালাতে উদ্যোগ

গত সোমবার ঝাড়গ্রামের প্রশাসনিক সভায় বেআইনি খাদান বন্ধে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) রজত নন্দা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করে অবৈধ বালি খাদান রুখতে কড়া নজরদারি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বেনিয়ম: নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দ্বারকেশ্বর থেকে চলছে বািল লুট। গোঘাটের কুমারগঞ্জে। নিজস্ব চিত্র

বেনিয়ম: নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দ্বারকেশ্বর থেকে চলছে বািল লুট। গোঘাটের কুমারগঞ্জে। নিজস্ব চিত্র

পীযূষ নন্দী
আরামবাগ শেষ আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০১৮ ০৩:০৯
Share: Save:

দিনের পর দিন আরামবাগের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি ভাবে বালি খাদান চালানোর অভিযোগ উঠছিল। এ বার নড়ে বসল প্রশাসন।

Advertisement

গত সোমবার ঝাড়গ্রামের প্রশাসনিক সভায় বেআইনি খাদান বন্ধে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) রজত নন্দা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করে অবৈধ বালি খাদান রুখতে কড়া নজরদারি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, “যেখানে যেখানে অবৈধ বালি খাদান চলছে, সব বন্ধ করা হবে। অভিযান শুরু হয়ে গিয়েছে।”

জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর সূত্রে জানা যায়, নদীর নজরদারিতে ওই দফতর এবং পুলিশের পাশাপশি সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্লক প্রশাসন ও সেচ দফতর একসঙ্গে অভিযান চালাবে। লাগাতার নজরদারি জন্য মহকুমাশাসকদের নেতৃত্বে সরকারি কর্মীদের একটি দল তৈরির পরিকল্পনাও হয়েছে। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, “বুধবারের বৈঠকে কড়া পদক্ষেপের দিশা মিলেছে। বিশেষত মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পর। আশা করি আমরা সফল হব।’’ যা শুনে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দেরিতে ঘুম ভাঙল প্রশাসনের। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ওই ব্যবসা চলছে। কিন্তু পুলিশ দেখেও দেখে না। অনেক সময় অভিযান চালিয়েও প্রশাসন সফল হয় না।

হুগলি জেলার মধ্যে নদীঘেরা আরামবাগ মহকুমাতেই সবচেয়ে বেশি বালি খাদান রয়েছে। আর এখানেই বালি চুরির হিড়িক সবচেয়ে বেশি। পুরশুড়ার মারকুণ্ডা, ভাঙামোড়ো, খানাকুলের নতিবপুর, পলাশপাই, গোঘাটের কুমারগঞ্জ প্রভৃতি মৌজায় রমরমিয়ে অবাধে বালি খাদান চলে বলে অভিযোগ। মহকুমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দামোদর, মুণ্ডেশ্বরী এবং দ্বারকেশ্বরের উপর ১২টি বৈধ বালি খাদান রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, ওই ১২টি খাদ বাদ দিয়েও অন্তত ৩০-৪০টি জায়গা থেকে অবৈধ ভাবে বালি তোলা হয়। এ ছাড়া নদী সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রাম থেকে গরুর গাড়ি, মোষের গাড়ি, ভ্যান, সাইকেলে করেও বালি পাচার করা হয় একেবারে স্থানীয় ভাবে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাত ১২টা থেকে সকাল পর্যন্ত বেআইনি ভাবে বালি তুলে পাচার করা হয়। অনেকেই বলছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিলে কী হবে? শাসকদলের কিছু নেতার সক্রিয় মদতেই বছরভর বালি চুরি চলে।’’অনুমতি রয়েছে এমন কিছু বালি খাদানের মালিক বলছেন, “যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের নেতা-কর্মীরাই অবৈধ বালি খাদের অংশীদার হয়ে যান। আমাদের কিছু করার নেই।’’ এই অভিযোগ নিয়ে জেলা সভাধিপতি তৃণমূলের মেহবুব রহমান বলেন, “স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে, যা হওয়ার তা আইন অনুযায়ী হবে।” তৃণমূলের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি বালি খাদানের সঙ্গে দলের কিছু নেতা এমন ভাবে যুক্ত যে একে অপরের বিরুদ্ধে লুটের অভিযোগ তুলে নিজেরাই অনেক সময়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রভাব খাটিয়ে বৈধ খাদানের বখরাও দাবি করেন বলে অভিযোগ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গরুর গাড়ি বা সাইকেলে করে পাচার হওয়া বালি আটকানোর মতো লোকবল তাদের নেই। ফলে, সেই পরিকল্পনা করছেন না প্রশাসনের কর্তারা। তবে, বাঁশবেড়িয়া সংলগ্ন ত্রিবেণীর ৩-৪টি জায়গা থেকে যে বালি উঠত, তা গত জানুয়ারি মাসে অভিযান করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। বলাগড়ে খানতিনেক জায়গা থেকে যে অভিযোগ আসছিল, তা-ও বন্ধ করা হয়েছে। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের ব্লক আধিকারিকদের বক্তব্য, চুরি ধরা শুধু ভূমি দফতরের কাজ নয়। নদী সেচ বিভাগের সম্পদ, তাদেরও দেখভাল করতে হবে। পুলিশ, পঞ্চায়েত— সব বিভাগেরই দায়িত্ব বালি রক্ষা করার।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.