বৈঠক চলাকালীন বিজেপি কর্মীদের উপরে হামলার অভিযোগে তেতে উঠল পূর্ব বর্ধমানের মেমারি। বিজেপি ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দলের ‘আদি’ ও ‘নব্য’ কর্মীদের মধ্যে শুক্রবার রাতে গোলমাল পাকে। মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘মেমারিতে গান্ধীগিরি শেষ, আজ থেকে যোগীগিরি শুরু’। পরে, এলাকার তিন জায়গায় তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চলে বলে অভিযোগ। পুলিশ দু’জনকেগ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মেমারির ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চাকতিপাড়ায় বিজেপির একটি বৈঠক চলছিল। ভোটে জেতার পরে, তৃণমূল থেকে বিজেপির দিকে আসতে চাওয়া লোকজন পাড়ায়-পাড়ায় দলের পুরনো কর্মীদের কটূক্তি করছে, এমন অভিযোগ ওঠে সেখানে। অভিযোগ, এর পরেই কয়েক জন সেখানে এসে গোলমাল শুরু করে। মারপিট বেধে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। আহত ছ’জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বৈঠকে থাকা বিজেপি নেত্রী কেকা সরকারের দাবি, “তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক কয়েক জন বৈঠকে ঢুকে আমাদের মারধর করেছে। আর কত সৌজন্য দেখাব? নেতৃত্বের নির্দেশে রোষ চেপেরাখতে হচ্ছে।”
সে রাতেই মেমারি শহর কার্যালয়-সহ তৃণমূলের গোটা তিনেক কার্যালয়ে ভাঙচুর চলে। তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলামের দাবি, ‘‘বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মারপিটের রোষ এসে পড়ল আমাদের কার্যালয়ের উপরে। এ ভাবে কি দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব লুকোতে পারবে ওরা?” কেকার পাল্টা দাবি, “ভাঙচুরে আমাদের কেউ যুক্ত নয়।” বিজেপি বিধায়ক মানব শনিবার ফোন ধরেননি, জবাব দেননি মোবাইল-বার্তার।
বিজেপির বৈঠকে হামলায় পুলিশ যোগেন্দ্র সাহানি ও তাঁর ছেলে রাকেশ সাহানিকে গ্রেফতার করেছে। যোগেন্দ্রর যদিও দাবি, তাঁরা ২০২১ থেকেই বিজেপি করেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)