Advertisement
E-Paper

তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা কাকলির! মমতাকে পরামর্শ: ভুঁইফোঁড় সংস্থার বদলে পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করুন

তৃণমূলের বারাসত জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কয়েক দিন আগেই তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরানো হয় তাঁকে। তার পরের দিনই সমাজমাধ্যমে কাকলি লিখেছেন, আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ পেয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৮:৫৮
বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। —ফাইল চিত্র।

আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ পাওয়া নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। এ বার তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বারাসতের সাংসদ। একই সঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তিনি অনুরোধ করেছেন কোনও ‘ভুঁইফোঁড় সংস্থার’ বদলে দলের পুরনো নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে চলার জন্য।

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরে গত ১৪ মে কালীঘাটে তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন মমতা। ওই বৈঠকেই স্থির হয় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক হবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন কাকলি। তাঁকে সরিয়ে কল্যাণকে সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক করার পরের দিনই, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন বারাসতের সাংসদ। লেখেন, ‘‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’’

কালীঘাটের বৈঠক, দলের সংসদীয় পদ থেকে সরে যাওয়া এবং সমাজমাধ্যমে কাকলির সেই পোস্টের পর থেকেই তাঁকে নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছিল। এ বার ওই পোস্টের ৯ দিনের মাথায় দলের রাজ্য সভাপতিকে চিঠি পাঠিয়ে বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাংসদ। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কাছে আমার আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে মনে হয়। ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।”

ঘটনাচক্রে, তৃণমূল একটি পেশাদার সংস্থার সঙ্গেই কাজ করেছে। সেটি আইপ্যাক। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের একাংশ। এ অবস্থায় দলীয় নেতৃত্বের কাছে তৃণমূল সাংসদের এই আর্জি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিকে পাঠানো চিঠিতে কাকলি আরও লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ ও দুর্নীতির কিছু উদ্বেগজনক ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ও আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, শিষ্টাচার এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব, মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।” সাংসদের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর এলাকায় দল আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। এর নৈতিক দায় তাঁর নিজের উপরেও বর্তায় বলে মনে করছেন কাকলি। সেই কারণেই তিনি জেলা সভাপতির পদ ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্য সভাপতিতে।

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy