×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

‘কনে’ দেখাতে রবীন্দ্র সদন এ বার পিজি-র প্রেক্ষাগৃহ

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
০৮ জুন ২০১৪ ০৩:৩১

এই প্রেক্ষাগৃহে নাটক হয়, নৃত্যনাট্য হয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এ বার রাজ্য সরকারের একমাত্র সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএমের অডিটোরিয়াম হিসেবেও দেখা যেতে পারে রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহকে! ‘মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া’ (এমসিআই)-র কাছে খোয়ানো এমবিবিএসের ৫০ আসন ফিরে পেতে আপাতত এটাই সরকারের দাওয়াই হতে চলেছে।

ডাক্তারি পড়ানোর জন্য যে কোনও হাসপাতালের নিজস্ব অডিটোরিয়াম থাকা বাধ্যতামূলক। যাঁরা এমবিবিএস পড়েন, বছরভর তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও অন্যান্য কাজের জন্য অডিটোয়াম থাকা জরুরি। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, নতুন মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতালের ক্ষেত্রে অডিটোরিয়াম না-থাকলেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে চার বছরের মধ্যে তাদের প্রেক্ষাগৃহ বানিয়ে নিতে হয়। এসএসকেএম মেডিক্যাল কলেজ বহু বছর আগে চালু হলেও তাদের অডিটোরিয়াম নেই। তাই পরিকাঠামোর মূল ঘাটতি হিসেবে অডিটোরিয়াম না থাকার কারণে সম্প্রতি ৫০ আসন কমিয়ে দিয়েছে এমসিআই।

সরকারি সূত্রে খবর, জানুয়ারির শেষের দিকে এসএসকেএম পরিদর্শন করে এমসিআই-এর প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, এত পুরনো মেডিক্যাল কলেজ, অথচ তার নিজস্ব প্রেক্ষাগৃহ নেই কেন? কলেজের কর্তারা তখন সাফাই দেন, রাস্তার উল্টো দিকেই রবীন্দ্র সদন। ছাত্রছাত্রীদের জন্য সেমিনার বা অন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হলে সেখানেই করা হয়, সমস্যা হয় না। রবীন্দ্র সদন যে তাদের অডিটোরিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তার প্রমাণ চান প্রতিনিধিরা। একএসকেএমের কর্তারা তা দেখাতে না পারায় দিল্লি ফিরে সরকারের এই ‘ভিভিআইপি’ হাসপাতালে ৫০ আসন বাতিলের সুপারিশ পাঠায় এমসিআই।

Advertisement

হারানো আসন ফিরে পেতে হলে ৩০ জুনের মধ্যে এমসিআইয়ের কাছে নিজেদের প্রেক্ষাগৃহ থাকার প্রমাণ খাতায়কলমে দাখিল করতে হবে। একমাত্র তা হলেই সুপারিশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে দিল্লি। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাকাডেমিক ভবনের একতলায় নির্মীয়মাণ প্রেক্ষাগৃহ তৈরির কাজ শেষ হতে অন্তত ৬-৮ মাস সময় লাগবে। তা হলে উপায়? এই অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহকেই নিজেদের অস্থায়ী অডিটোরিয়াম হিসেবে দেখিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে রাজ্যের শিক্ষা-স্বাস্থ্য অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে গত সপ্তাহে অর্থ দফতরে লিখিত ভাবে আবেদন জানানো হয়েছে।

কেন অর্থ দফতর? নবান্ন সূত্রের খবর, রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহ তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের অধীন হলেও বিষয়টি অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে বার দু’য়েক তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন স্বাস্থ্য-কর্তারা। অমিতবাবুর সঙ্গে কথাও হয়েছে এসএসকেএমের অধ্যক্ষ প্রদীপ মিত্রের।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এমসিআইয়ের প্রতিনিধিরা এর পরে পরিদর্শনে এসে যদি দেখেন রবীন্দ্রসদনে নাটক বা গানের অনুষ্ঠান হচ্ছে, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী করে পরিস্থিতি সামলাবেন? রাজ্য সরকারও কি তখন সাত তাড়াতাড়ি অনুষ্ঠান বাতিল বা মাঝপথে বন্ধ করে দেবেন? এসএসকেএমের অধ্যক্ষ প্রদীপ মিত্রের জবাব, “তা কেন? আমরা তো রবীন্দ্রসদনকে এসএসকেএমের নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে বা অ্যানেক্স হিসেবে দেখাচ্ছি না। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি যাতে মাঝেমাঝে যখন প্রয়োজন পড়বে তখন রবীন্দ্র সদনকে আমরা ব্যবহার করতে পারি। এই মর্মে একটা লিখিত অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে এমসিআইয়ের লোক এসে রবীন্দ্রসদনে অন্য অনুষ্ঠান হচ্ছে দেখলেও ক্ষতি নেই।”

প্রদীপবাবুর আরও বক্তব্য, “অমিতবাবু আমাদের প্রস্তাব মেনেছেন। রাজ্যের স্বার্থে রবীন্দ্রসদনকে কলেজের প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে দেখাতে হবে। দরকার পড়লে তার জন্য আমরা নগদে ভাড়া দেব।” তাঁর অভিযোগ, “এমসিআই পরিকাঠামোর নামে আজব দাবি করছে। তাই এ রকম পন্থা না নিলে কোনও আসনই বাঁচিয়ে রাখা যাবে না।” তাঁর যুক্তি, “এমসিআইকে বারবার বোঝালাম, নিজস্ব অডিটোরিয়াম আট মাসে তৈরি হয়ে যাবে। ওরা শুনল না। এ বার ওদের লিখিত দেব।” আর সুশান্তবাবুর কথায়, “এ ছাড়া কোনও পথ নেই। এসএসকেএমের সবচেয়ে কাছে রবীন্দ্রসদন। তাই ওটাকেই দেখাতে হবে।” তাঁর ক্ষোভ, “এই হাসপাতালের অডিটোরিয়াম ছাড়াই কত ডাক্তার তৈরি হল। অথচ, এতদিনে টনক নড়ল এমসিআইয়ের!”

অর্থ দফতর সূত্রের খবর, কয়েক মাসের জন্য রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহ এসএসকেএমের অডিটোরিয়াম হিসেবে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হবে। সরকার এতে অন্যায় দেখছে না। দফতরের এক কর্তা জানান, রবীন্দ্র সদন এবং এসএসকেএম— দু’টিই সরকারি। তাই আপত্তি ওঠার কথা নয়। ওই কর্তার মন্তব্য, “এতে ৫০টি আসন বাঁচলে ক্ষতি কী?”

Advertisement