পদত্যাগের ধারা অব্যাহত। বিধাননগর ও কলকাতা পুরসভার পরে এ বার উত্তর দমদম পুরসভায় চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস-সহ মোট ২১ জন পুরপ্রতিনিধি পদত্যাগ করলেন। সোমবার দুপুরে তাঁরা একযোগে পুরসভার এগজ়িকিউটিভ অফিসারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন।
চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত ও শারীরিক কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। পুরসভার পক্ষ থেকেও একই কারণের কথা জানানো হয়েছে। যদিও পদত্যাগী পুরপ্রতিনিধিদের একাংশ ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করেছেন, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। সেই কারণেই তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউই কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
৩৪টি ওয়ার্ডের উত্তর দমদম পুরসভায় তিন দফায় তৃণমূল কংগ্রেসের বোর্ড ছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ পুরপ্রতিনিধির একযোগে পদত্যাগে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরবোর্ড।
সম্প্রতি চেয়ারম্যানের ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এক তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি আক্রান্ত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ওই ঘটনার পর থেকেই পুর বোর্ডের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছিল।
ঘটনাচক্রে, কয়েক দিন আগেই নিউ ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ও পুরপ্রতিনিধি পদ থেকে ইস্তফা দেন প্রবীর সাহা। উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুরসভায় পর পর পদত্যাগ ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীদের একাংশের দাবি, ভোটের পরে সংগঠনগত স্তরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলের বহু কর্মী এলাকাছাড়া। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও অভিমানও পদত্যাগের নেপথ্যে কারণ হতে পারে বলে তাঁদের অনুমান।
অন্য দিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুর পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। তাঁদের দাবি, পুরপ্রতিনিধিদের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা সময়ে।
এলাকার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বর্ষার মুখে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। যদিও উত্তর দমদমের বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, ‘‘পুর পরিষেবায় সমস্যা হবে না।’’ তিনি জানান, পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা হবে ও পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)